কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৩
নামাযের অধ্যায়
৮. সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের নামায আদায়ে বিলম্ব করা সম্পর্কে।
৪১৩. আল্-কানবী .... আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহরের নামায আদায়ের পর আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি আসরের নামায আদায় করছেন। তাঁর নামায সমাপ্তির পর আমরা তাকে বললাম, নামায বেশী আগে আদায় করা হয়েছে। অথবা (আনাস) নিজেই নামায আগে আদায়ের কারণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি (আনাস) বলেন, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায। এদের কেউ বসে থাকে অতঃপর সূর্যের রং যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের উভয় শিংয়ের উপর অবস্থান করে (সূর্য অস্তগামী হয়) তখন সে নামায আদায় করার জন্য দণ্ডায়মান হয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে থাকে (অতি দ্রুত নামায সম্পন্ন করে, যাতে রুকু-সিজদা ঠিক মত আদায় হয় না) এবং সে ঐ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলার যিক্র অতি সামান্যই করে থাকে।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلاَةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ فَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ أَوْ عَلَى قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)