কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
كتاب السنن للإمام أبي داود
২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১১৬৫ টি
হাদীস নং: ৫৭১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে।
৫৭১. আবু মামার .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি আমরা মসজিদে নববীর এই দরজাটি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতাম (তবে খুবই উত্তম হত)। রাবী নাফে বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত এই দরজা দিয়ে এ কারণে আর কোন দিন প্রবেশ করেন নি।
كتاب الصلاة
باب التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ تَرَكْنَا هَذَا الْبَابَ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ نَافِعٌ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ ابْنُ عُمَرَ حَتَّى مَاتَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَهَذَا أَصَحُّ .
হাদীস নং: ৫৭২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬০. দৌড়ে নামাযের জন্য যাওয়া।
৫৭২. আহমদ ইবনে সালেহ্ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হয় তখন তার জন্য (জামাআতে শরীক হওয়ার জন্য) তোমরা শান্ত ও স্বাভাবিক গতিতে হেটে যাও, দৌঁড়িয়ে যেয়ো না। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাও (যত রাকআত নামায পাও) তা আদায় কর এবং যা না পাও তা পরে পূরণ কর।
كتاب الصلاة
باب السَّعْىِ إِلَى الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ الزُّبَيْدِيُّ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَمَعْمَرٌ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ " وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " . وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَحْدَهُ " فَاقْضُوا " . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " فَأَتِمُّوا " . وَابْنُ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو قَتَادَةَ وَأَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُلُّهُمْ قَالُوا " فَأَتِمُّوا " .
হাদীস নং: ৫৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬০. দৌড়ে নামাযের জন্য যাওয়া।
৫৭৩. আবুল ওয়ালীদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা শান্তির সাথে নামাযের জন্য আস। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাবে তা আদায় করবে এবং যা না পাবে তা পরে পূর্ণ করবে। এছাড়া অন্যান্য বর্ণনায় সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে এরূপই বিবৃত হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب السَّعْىِ إِلَى الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ائْتُوا الصَّلاَةَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَصَلُّوا مَا أَدْرَكْتُمْ وَاقْضُوا مَا سَبَقَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا قَالَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " وَلْيَقْضِ " . وَكَذَا أَبُو رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبُو ذَرٍّ رُوِيَ عَنْهُ " فَأَتِمُّوا وَاقْضُوا " . وَاخْتُلِفَ عَنْهُ .
হাদীস নং: ৫৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬১. একই নামায দুইবার একই মসজিদে জামাআতে আদায় করা।
৫৭৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে (জামাআতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই কি- যে এই ব্যক্তিকে সাদ্কা দিয়ে তার সাথে একত্রে নামায পড়তে পারে?
كتاب الصلاة
باب فِي الْجَمْعِ فِي الْمَسْجِدِ مَرَّتَيْنِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْصَرَ رَجُلاً يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।
৫৭৫. হাফস ইবনে উমর ..... জাবের ইবনে ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা যৌবনের প্রারম্ভে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে জামাআতে নামায আদায় করেন। নামায শেষে দেখা যায় যে, দুই ব্যক্তি জামাআতে শরীক না হয়ে মসজিদের কোনায় বসে আছ। তখন তাদেরকে ডাকা হলে তারা নবী (ﷺ) এর খিদমতে ভীত প্রকম্পিত অবস্থায় হাযির হয়।
অতঃপর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে তোমাদের বাধা দিয়েছে? তারা বলে, আমরা আমাদের ঘরে নামায আদায় করেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা এইরূপ করবে না, বরং কেউ ঘরে নামায আদায়ের পর মসজিদে ইমামকে নামাযরত পেলে তার সাথে শরীক হয়ে নামায আদায় করবে এবং তা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।
অতঃপর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে তোমাদের বাধা দিয়েছে? তারা বলে, আমরা আমাদের ঘরে নামায আদায় করেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা এইরূপ করবে না, বরং কেউ ঘরে নামায আদায়ের পর মসজিদে ইমামকে নামাযরত পেলে তার সাথে শরীক হয়ে নামায আদায় করবে এবং তা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।
كتاب الصلاة
باب فِيمَنْ صَلَّى فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِأَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ غُلاَمٌ شَابٌّ فَلَمَّا صَلَّى إِذَا رَجُلاَنِ لَمْ يُصَلِّيَا فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَدَعَا بِهِمَا فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا فَقَالَ " مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا " . قَالاَ قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا . فَقَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فِي رَحْلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الإِمَامَ وَلَمْ يُصَلِّ فَلْيُصَلِّ مَعَهُ فَإِنَّهَا لَهُ نَافِلَةٌ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।
৫৭৬. ইবনে মুআয .... জাবের ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিনাতে নবী (ﷺ)-এর সাথে ফজরের নামায আদায় করি ......... হাদীসের অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
كتاب الصلاة
باب فِيمَنْ صَلَّى فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ بِمِنًى بِمَعْنَاهُ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।
৫৭৭. কুতায়বা ..... ইয়াযীদ ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে তাকে নামাযে রত পাই। আমি তাদের সাথে নামাযে শরীক না হয়ে বসে থাকি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) নামাযান্তে আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, ইয়াযীদ বসে আছেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে ইয়াযীদ! তুমি কি ইসলাম কবুল কর নাই? আমি বলি- হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তবে কিসে তোমাকে লোকদের সাথে জামাআতে শরীক হতে বাধা দিয়েছে? আমি বলি, আমার ধারণা ছিল যে, মসজিদের জামাআত সমাপ্ত হয়েছে, সে কারণে আমি বাড়িতে একাকী নামায আদায় করে এসেছি। তখন তিনি বলেনঃ যখন তুমি মসজিদে এসে লোকদের জামাআতে নামায আদায় করতে দেখবে, তখন তাদের সাথে তুমিও নামায পড়বে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে এবং আগে পড়া নামায ফরয হিসাবে গণ্য হবে।
كتاب الصلاة
باب فِيمَنْ صَلَّى فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ نُوحِ بْنِ صَعْصَعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ جِئْتُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَجَلَسْتُ وَلَمْ أَدْخُلْ مَعَهُمْ فِي الصَّلاَةِ - قَالَ - فَانْصَرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى يَزِيدَ جَالِسًا فَقَالَ " أَلَمْ تُسْلِمْ يَا يَزِيدُ " . قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَسْلَمْتُ . قَالَ " فَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَدْخُلَ مَعَ النَّاسِ فِي صَلاَتِهِمْ " . قَالَ إِنِّي كُنْتُ قَدْ صَلَّيْتُ فِي مَنْزِلِي وَأَنَا أَحْسِبُ أَنْ قَدْ صَلَّيْتُمْ . فَقَالَ " إِذَا جِئْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَوَجَدْتَ النَّاسَ فَصَلِّ مَعَهُمْ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ تَكُنْ لَكَ نَافِلَةً وَهَذِهِ مَكْتُوبَةً " .
হাদীস নং: ৫৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।
৫৭৮. আহমদ ইবনে সালেহ্ ..... বনু আসাদ ইবনে খুযাইমা গোত্রের এক ব্যক্তি আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমাদের কেউ ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, সেখানে জামাআত শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি জামাআতে শরীক হয়ে নামায আদায় করতে পারবে কিনা- এ ব্যাপারে আমি সন্দীহান। আবু আইয়ুব (রাযিঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেনঃ সে ঐ জামাআতে শরীক হলে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।
كتاب الصلاة
باب فِيمَنْ صَلَّى فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَفِيفَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ بَنِي أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ فَقَالَ يُصَلِّي أَحَدُنَا فِي مَنْزِلِهِ الصَّلاَةَ ثُمَّ يَأْتِي الْمَسْجِدَ وَتُقَامُ الصَّلاَةُ فَأُصَلِّي مَعَهُمْ فَأَجِدُ فِي نَفْسِي مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا . فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " ذَلِكَ لَهُ سَهْمُ جَمْعٍ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. জামাআতে নামায আদায়ের পর অন্যত্রে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে কি?
৫৭৯. আবু কামিল .... সুলাইমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনার নিকটবর্তী বিলাত নামক স্থানে আসি। আমি তাদেরকে নামাযে রত পাই। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কেন তাদের তাদের সাথে নামায আদায় করছেন না? তিনি বলেন, আমি ইতিপূর্বে জামাআতে নামায আদায় করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা একই ফরয নামায একই দিনে দু’বার আদায় করো না (অর্থাৎ একই নামায ফরয হিসেবে দু’বার আদায় করা যাবে না, বরং পরবর্তী নামাযটি নফল হিসাবে আদায় করা যেতে পারে)।
كتاب الصلاة
باب إِذَا صَلَّى ثُمَّ أَدْرَكَ جَمَاعَةً أَيُعِيدُ
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، - يَعْنِي مَوْلَى مَيْمُونَةَ - قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عُمَرَ عَلَى الْبَلاَطِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فَقُلْتُ أَلاَ تُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ قَدْ صَلَّيْتُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُصَلُّوا صَلاَةً فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ " .
হাদীস নং: ৫৮০
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. ইমামতির ফযিলত সম্পর্কে।
৫৮০. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করছে, এজন্য সে (ইমাম) নিজে এবং মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ সাওয়াবের অধিকারী হবে। অপরপক্ষে যদি কোন সময় ইমাম সঠিক সময়ে নামায আদায় না করে তবে এজন্য সে দায়ী হবে কিন্তু মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ সাওয়াবের অধিকারী হবে।
كتاب الصلاة
باب فِي جِمَاعِ الإِمَامَةِ وَفَضْلِهَا
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَمَّ النَّاسَ فَأَصَابَ الْوَقْتَ فَلَهُ وَلَهُمْ وَمَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعَلَيْهِ وَلاَ عَلَيْهِمْ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. ইমামতি করতে একে অপরের সাথে ঝগড়া করবে না।
৫৮১. হারূন ইবনে আরাদ ..... সালামা বিনতেল হুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এও একটি যে, যখন মসজিদের মুসল্লীগণ সকলেই নামাযের জন্য ইমামতি করতে রাযী না হওয়ায় পরিস্থিতি এমন হবে যে, কাউকেও ইমামতি করার যোগ্য হিসেবে পাওয়া যাবে না (আখেরী যামানায় তা লোকদের অজ্ঞতার কারণে হবে)।
كتاب الصلاة
باب فِي كَرَاهِيَةِ التَّدَافُعِ عَلَى الإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، حَدَّثَتْنِي طَلْحَةُ أُمُّ غُرَابٍ، عَنْ عَقِيلَةَ، - امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ مَوْلاَةٌ لَهُمْ - عَنْ سَلاَمَةَ بِنْتِ الْحُرِّ، أُخْتِ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ الْفَزَارِيِّ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَتَدَافَعَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ لاَ يَجِدُونَ إِمَامًا يُصَلِّي بِهِمْ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৮২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮২. আবুল ওয়ালীদ ...... আবু মাসউদ আল-বদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ উপস্থিত লোকদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (তার কিরাআত) সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাদের ইমামতি করবে। যদি এ বিষয়ে সকলে সমান যোগ্যতার অধিকারী হয়, তবে যিনি প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি তিনি ইমাম হবেন। যদি তাতেও সকলে সমান হয়, তবে যিনি অধিক বয়স্ক হবেন তিনিই ইমামতি করবেন। কোন ব্যক্তি যেন অন্য কোন স্থানে অথবা অন্যের আধিপত্যের স্থানে ইমামতি না করে। কারো জন্য নির্ধারিত আসনে তার অনুমতি ব্যতিরেকে যেন আসন গ্রহণ না করে। অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কারো জন্য নির্ধারিত বিছানায় যেন না বসে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَجَاءٍ، سَمِعْتُ أَوْسَ بْنَ ضَمْعَجٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ وَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَكْبَرُهُمْ سِنًّا وَلاَ يُؤَمُّ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ وَلاَ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ يُجْلَسُ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " . قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لإِسْمَاعِيلَ مَا تَكْرِمَتُهُ قَالَ فِرَاشُهُ .
হাদীস নং: ৫৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৩. ইবনে মুআয ..... শোবা (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বর্ণনায় আরও আছেঃ অন্যের ইমামতির স্থানে অনুমতি ব্যতীত যেন ইমামতি না করে। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইয়াহয়া-শোবা হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইমামতির জন্য যোগ্যতম হল কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ " وَلاَ يَؤُمُّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ عَنْ شُعْبَةَ " أَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً " .
হাদীস নং: ৫৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৪. আল-হাসান ইবনে আলী ...... আবু মাসউদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি সকলে কিরাআতের মধ্যে সমান হয় তবে যে ব্যক্তি সুন্নাহ্ (হাদীস) সম্পর্কে বেশী অভিজ্ঞ সেই ইমামতি করবে, এতেও যদি সকলে সমান হয় তবে প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ইমামতি করবে। এই হাদীসে “ফাআকদামুহুম কিরাআতান” শব্দের উল্লেখ নাই।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ الْحَضْرَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً " . وَلَمْ يَقُلْ " فَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: «وَلَا تَقْعُدْ عَلَى تَكْرِمَةِ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা লোকজনের সমবেত কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে। তাঁরা প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের পাশ দিয়ে গমনকালে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপ বলেছেন। রাবী বলেন, এ সময় আমার বয়স কম ছিল এবং স্মরণশক্তি ছিল প্রখর। ফলে এ সময়ে আমি কুরআনের অনেকাংশ কন্ঠস্থ করে ফেলি।
রাবী বলেন, একদা আমার পিতা তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যান। তখন তিনি তাদেরকে নামাযের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেন এবং এ কথাও বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যার অধিক কুরআন মুখস্ত আছে- সে যেন ইমামতি করে। আমি অধিক কুরআন মুখস্থকারী ও বিশুদ্ধরূপে পাঠকারী হিসেবে তারা আমাকেই ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করেন।
অতঃপর আমি তাদের ইমামতি করতে থাকি। এ সময় আমার গায়ে হলুদ বর্ণের একটি ছোট চাঁদর ছিল। নামাযের সময় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন তা খুলে যেত। মহিলাদের মধ্যে একজন বলেন, তোমরা তোমাদের ইমামের সতর ঢাকার ব্যবস্থা কর। অতঃপর তারা আমার জন্য একটি ইয়ামান দেশীয় জামা খরিদ করেন; যার ফলে ইসলাম গ্রহণের পর আমি এর চাইতে অধিক খুশী আর হই নাই। আমি এমন সময় হতে তাদের ইমামতি করতে আরম্ভ করি যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৭ বা ৮ বছর।*
* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী ফরয নামাযের জন্য নাবালকের ইমামতি জায়েয নয়। এটা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ঘটনা, যখন শরীআতের হুকুম-আহকাম পরিপূর্ণভাবে নাযিল হয়নি। - (অনুবাদক)
রাবী বলেন, একদা আমার পিতা তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যান। তখন তিনি তাদেরকে নামাযের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেন এবং এ কথাও বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যার অধিক কুরআন মুখস্ত আছে- সে যেন ইমামতি করে। আমি অধিক কুরআন মুখস্থকারী ও বিশুদ্ধরূপে পাঠকারী হিসেবে তারা আমাকেই ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করেন।
অতঃপর আমি তাদের ইমামতি করতে থাকি। এ সময় আমার গায়ে হলুদ বর্ণের একটি ছোট চাঁদর ছিল। নামাযের সময় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন তা খুলে যেত। মহিলাদের মধ্যে একজন বলেন, তোমরা তোমাদের ইমামের সতর ঢাকার ব্যবস্থা কর। অতঃপর তারা আমার জন্য একটি ইয়ামান দেশীয় জামা খরিদ করেন; যার ফলে ইসলাম গ্রহণের পর আমি এর চাইতে অধিক খুশী আর হই নাই। আমি এমন সময় হতে তাদের ইমামতি করতে আরম্ভ করি যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৭ বা ৮ বছর।*
* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী ফরয নামাযের জন্য নাবালকের ইমামতি জায়েয নয়। এটা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ঘটনা, যখন শরীআতের হুকুম-আহকাম পরিপূর্ণভাবে নাযিল হয়নি। - (অনুবাদক)
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ كُنَّا بِحَاضِرٍ يَمُرُّ بِنَا النَّاسُ إِذَا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكَانُوا إِذَا رَجَعُوا مَرُّوا بِنَا فَأَخْبَرُونَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَذَا وَكَذَا وَكُنْتُ غُلاَمًا حَافِظًا فَحَفِظْتُ مِنْ ذَلِكَ قُرْآنًا كَثِيرًا فَانْطَلَقَ أَبِي وَافِدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِهِ فَعَلَّمَهُمُ الصَّلاَةَ فَقَالَ " يَؤُمُّكُمْ أَقْرَؤُكُمْ " . وَكُنْتُ أَقْرَأَهُمْ لِمَا كُنْتُ أَحْفَظُ فَقَدَّمُونِي فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَعَلَىَّ بُرْدَةٌ لِي صَغِيرَةٌ صَفْرَاءُ فَكُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ تَكَشَّفَتْ عَنِّي فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ النِّسَاءِ وَارُوا عَنَّا عَوْرَةَ قَارِئِكُمْ . فَاشْتَرَوْا لِي قَمِيصًا عُمَانِيًّا فَمَا فَرِحْتُ بِشَىْءٍ بَعْدَ الإِسْلاَمِ فَرَحِي بِهِ فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَأَنَا ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ أَوْ ثَمَانِ سِنِينَ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৬. আন-নুফায়লী ....... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) হতে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের ইমামতি করতাম একটি চাঁদর পরিধাণ করে। যা ফাটা ও তালিযুক্ত ছিল। এমতাবস্থায় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন আমার পশ্চাৎদেশ অনাবৃত হয়ে যেত।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ فِي بُرْدَةٍ مُوصَلَةٍ فِيهَا فَتْقٌ فَكُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ خَرَجَتِ اسْتِي .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৭. কুতায়বা ..... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা প্রতিনিধি হিসাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হন। তাঁরা সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের নামাযে কে ইমামতি করবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ বা অধিক জ্ঞানী- সে ইমামতি করবে।
রাবী বলেন, এ সময় আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে আমিই অধিক অভিজ্ঞ ছিলাম। তাই তারা আমাকে ইমাম নিযুক্ত করেন, কিন্তু তখন আমার বয়স ছিল খুবই কম। তখন আমার পরনে একটি ছোট চাঁদর থাকত এবং বয়সের স্বল্পতা হেতু আমি তাদের সাথে উঠাবসা না করলেও আমি তাদের জামাআতে ইমামতি করতাম এবং জানাযার নামাযও পড়াতাম।
রাবী বলেন, এ সময় আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে আমিই অধিক অভিজ্ঞ ছিলাম। তাই তারা আমাকে ইমাম নিযুক্ত করেন, কিন্তু তখন আমার বয়স ছিল খুবই কম। তখন আমার পরনে একটি ছোট চাঁদর থাকত এবং বয়সের স্বল্পতা হেতু আমি তাদের সাথে উঠাবসা না করলেও আমি তাদের জামাআতে ইমামতি করতাম এবং জানাযার নামাযও পড়াতাম।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَلِمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُمْ وَفَدُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَرَادُوا أَنْ يَنْصَرِفُوا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ يَؤُمُّنَا قَالَ " أَكْثَرُكُمْ جَمْعًا لِلْقُرْآنِ " . أَوْ " أَخْذًا لِلْقُرْآنِ " . قَالَ فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ جَمَعَ مَا جَمَعْتُهُ - قَالَ - فَقَدَّمُونِي وَأَنَا غُلاَمٌ وَعَلَىَّ شَمْلَةٌ لِي فَمَا شَهِدْتُ مَجْمَعًا مِنْ جَرْمٍ إِلاَّ كُنْتُ إِمَامَهُمْ وَكُنْتُ أُصَلِّي عَلَى جَنَائِزِهِمْ إِلَى يَوْمِي هَذَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ قَالَ لَمَّا وَفَدَ قَوْمِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقُلْ عَنْ أَبِيهِ .
হাদীস নং: ৫৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৮. আল-কানবী .... নাফে (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাজিরদের প্রথম দলটি যখন কুবার নিকটবর্তী আসবাহ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর আগেই অবতরণ করেন-তখন তাঁদের ইমামতি করতেন সালেম (রাযিঃ), যিনি ছিলেন আবু হুযাইফা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম। তাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন কুরআন সম্পর্কে সমধিক অভিজ্ঞ।
রাবী হাইছামের বর্ণনায় আরও আছেঃ ঐ দলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদ প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীরাও ছিলেন।
রাবী হাইছামের বর্ণনায় আরও আছেঃ ঐ দলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদ প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীরাও ছিলেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الأَوَّلُونَ نَزَلُوا الْعَصْبَةَ قَبْلَ مَقْدَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَؤُمُّهُمْ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَكَانَ أَكْثَرَهُمْ قُرْآنًا . زَادَ الْهَيْثَمُ وَفِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الأَسَدِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৮৯. মুসাদ্দাদ ..... মালিক ইবনে হুয়ায়রিছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) তাকে অথবা তাঁর সাথীকে বলেনঃ নামাযের সময় উপস্থিত হলে আযান ও ইকামতের পর তোমাদের মধ্যেকার বয়স্ক ব্যক্তি নামাযে ইমামতি করবে। রাবী মাসলামার হাদীসে উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় আমরা সকলেই প্রায় সমান ইলমের অধিকারী ছিলাম।
ইসমাঈল হতে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাবী খালিদ বলেন, তখন আমি আবু কিলাবাকে বলি, ‘কুরআনে অধিক অভিজ্ঞ’ এ শব্দটি কেন উল্লেখ করা হয় নাই? তিনি বলেন, মালিক ও তাঁর সাথী উভয়ই কুরআনে সম-জ্ঞানের অধিকারী থাকায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (বরং বয়সের কথা বলেছেন)।
ইসমাঈল হতে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাবী খালিদ বলেন, তখন আমি আবু কিলাবাকে বলি, ‘কুরআনে অধিক অভিজ্ঞ’ এ শব্দটি কেন উল্লেখ করা হয় নাই? তিনি বলেন, মালিক ও তাঁর সাথী উভয়ই কুরআনে সম-জ্ঞানের অধিকারী থাকায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (বরং বয়সের কথা বলেছেন)।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ لِصَاحِبٍ لَهُ " إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا " . وَفِي حَدِيثِ مَسْلَمَةَ قَالَ وَكُنَّا يَوْمَئِذٍ مُتَقَارِبَيْنِ فِي الْعِلْمِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ قَالَ خَالِدٌ قُلْتُ لأَبِي قِلاَبَةَ فَأَيْنَ الْقُرْآنُ قَالَ إِنَّهُمَا كَانَا مُتَقَارِبَيْنِ .
হাদীস নং: ৫৯০
আন্তর্জাতিক নং: ৫৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।
৫৯০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেঃ তোমাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তি যেন আযান দেয় এবং বিশুদ্ধরূপে কুরআন পাঠকারী যেন তোমাদের ইমামতি করে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُؤَذِّنْ لَكُمْ خِيَارُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ قُرَّاؤُكُمْ " .
তাহকীক: