মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১৬১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬১) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, কিছু মু'মিন মহিলা মহানবী (ﷺ)-এর সাথে তাঁদের গোটা শরীরে চাদর আবৃত করে সকালের নামায আদায় করতেন। অতঃপর তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতেন, তখনও তাঁদেরকে কেউ চিনতে পারতেন না ভোরের অন্ধকারের আলো-আঁধারির কারণে।
(বুখারী, মুসলিম, ও চার সুনান গ্রন্থ।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(161) عن عائشة رضي الله عنها أن نساءً من المؤمنات كنَّ يصلين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم متلفِّحات بمروطهنَّ، ثمَّ يرجعن إلى أهلهنَّ وما يعرفهنَّ أحدٌ من الغلس.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬২) আবুররবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক জানাযায় ইবন উমরের সাথে ছিলাম। তখন তিনি এক লোকের চিৎকার শুনতে পেলেন, তখন তার কাছে লোক পাঠিয়ে তাকে চুপ করালেন। তখন আমি বললাম, হে আবদুর রহমানের বাবা, আপনি তাকে কেন চুপ করালেন? তিনি উত্তরে বললেন, এর কারণে মৃত ব্যক্তিকে কবর না দেয়া পর্যন্ত তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমি আপনার সাথেই সকালের নামায পড়ি। অতঃপর এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখি (আঁধার), আমার সাথে বসা লোকদের মুখ দেখতে পাই না। আবার কখনও দেখি যে, আপনি ফজরের নামায ফর্সা করে পড়েন। তিনি উত্তরে বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে এভাবে নামায পড়তে দেখেছি। তাই রাসূল (ﷺ)-কে যেভাবে নামায পড়তে দেখেছি সেভাবে নামায পড়তে আমিও পছন্দ করি।
(আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমান বলেন, হাদীসটি আমি অন্যত্র পাই নি। তবে হায়ছামী হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, ইমাম আহমদ এটা বর্ণনা করেছেন। তাতে বর্ণনাকারী আবূ রাবী' সম্বন্ধে দারাকুতনী অজ্ঞাত বলে মন্তব্য করেন।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(162) عن أبي الرَّبيع قال كنت مع ابن عمر في جنازةٍ فسمع صوت إنسان يصيح فبعث إليه فأسكته، فقلت يا أبا عبد الرَّحمن لم أسكته؟ قال إنَّه يتأذَّى به الميِّت حتَّى يدخل قبره، فقلت له إنِّي أصلِّي معك الصبح، ثمَّ ألتفت فلا أرى وجه جليسي، ثمَّ أحيانًا تسفر، قال كذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأحبت أن أصلِّيها كما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّيها.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬৩) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-কে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আনাস বলেন, ভোর হলে তিনি বেলালকে আযান দিতে আদেশ করেন। অতঃপর পরের দিন খুব ফর্সা করে আযানের কথা বললেন, তারপর বললেন, ফজরের নামায সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাকারী কোথায়? এতদুভয়ের মধ্যে অথবা বললেন, এ দুই-এর মধ্যেই হল ফজরের নামাযের সময়।
(বাযযার ও বায়হাকী। বাযযারের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(163) عن أنس بن مالكٍ رضى الله عنه قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن وقت صلاة الصُّبح، قال فأمر بلالًا حين طلع الفجر فأقام الصَّلاة، ثمَّ أسفر من الغد حتَّى أسفر، ثمَّ قال أين السَّائل عن وقت صلاة الغداة، ما بين هاتين أو قال هذين وقت.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬৪) রাফে' ইবন্ খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনলাম, তোমরা সকালের নামায প্রত্যুষে পড়। কারণ তাতে বেশী সওয়াব বা তাতে তোমরা বেশী সাওয়াব পাবে।
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক সূত্রে বর্ণিত আছে।) তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ফজরের নামায ফর্সা বা আলোকিত করে (ভোরের আলো এসে নামাযে ছড়িয়ে পড়ার পরে) পড়। কারণ তাতে বেশী সাওয়াব পাওয়া যায়।
(চার সুনান গ্রন্থ, ইবন্ হিব্বান, তবারানী, বায়হাকী, তিরমিযী বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবন্ হাজার বলেন, অনেকেই এ হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(164) عن رافع بن خديجٍ رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول أصبحوا بالصبح فإنَّه أعظم لأجوركم أو أعظم للأجر (وعنه
من طريق ثانٍ) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أسفروا بالفجر فإنَّه أعظم للأجر.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬৫) মাহমূদ ইবন লাবীদ আল আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ফজরের নামায আলোকিত করে পড়। কারণ তাতে বেশী সাওয়াব, বা তা সাওয়াবের জন্য উত্তম।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান বলেন, এ হাদীসটি আমি অন্যত্র পাই নি। এর সনদে একজন দুর্বল রাবী আছেন।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(165) عن محمود بن لبيد الأنصاريِّ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أسفروا بالفجر فإنَّه أعظم للأجر أو لأجرها.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১১) ফজরের নামাযের ওয়াক্ত এবং তা খুব ভোরে পড়া ও আলোকিত করে পড়া প্রসঙ্গে
(১৬৬) আবূ যিয়াদ উবাইদিল্লাহ ইবন যিয়াদ আল কিন্দি থেকে বর্ণিত, তিনি বেলাল (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, বেলাল (রা) তাঁকে বলেছেন, তিনি ফজরের নামাযের জন্য আহ্বান করতে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। এমতাবস্থায় আয়িশা (রা) বেলালকে একটা কাজ করতে বলে তাঁকে ব্যস্ত করে ফেললেন। ফলে খুব সকাল হয়ে গেল, তিনি বলেন, অতঃপর বেলাল তাঁকে নামাযের জন্য ডাকলেন এবং বারবার ডাকতে লাগলেন। কিন্তু রাসূল (ﷺ) বের হলেন না। যখন বের হয়ে লোকদের নিয়ে নামায পড়লেন তখন তিনি রাসূল (ﷺ)-কে জানালেন যে, আয়িশা (রা) তাঁকে একটা ফরমায়েশ করে ব্যস্ত করে ছিলেন। ফলে খুব দেরী হয়ে গেছে। তদুপরি তিনি (রাসূল সা) নিজেও বের হয়ে আসতে বিলম্ব করলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি ফজরের 'দু'রাকাত সুন্নাত পড়ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে খুব সকাল করে ফেললেন। তখন তিনি বলেন, আমি যে সকাল করেছি তার চেয়ে বেশী সকাল করলেও ও দু'রাকাত পড়তাম, উত্তমভাবে সুন্দর করে।
(নাসাঈ ইবন মাজাহ, আবু দাউদ। খাত্তাবী ও ইবন্ সাইয়্যেদুন্ নাস এর সনদ সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
(11) باب وقت صلاة الصبح وما جاء في التغليس بها والأسفار
(166) عن أبي زيادٍ عبيد الله بن زيادٍ الكنديِّ عن بلالٍ أنَّه حدَّثه أنَّه أتى النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يؤذنه بصلاة الغداة، فشغلت عائشة بلالًا بأمرٍ سألته عنه حتَّى أفضحه الصبح وأصبح جدًّا، قال فقام بلالٌ فآذنه بالصَّلاة وتابع بين أذانه فلم يخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فلمَّا خرج فصلَّى بالنَّاس أخبره أنَّ عائشة
شغلته بأمر سألته حتى أصبح جدًّا، ثم إنه أبطأ عليه بالخروج، فقال إني ركعت ركعتي الفجر، قال يا رسول الله إنك قد أصبحت جدًّا، قال لو أصبحت أكثر مما أصبحت لركعتهما وأحسنتهما وأجملتهما.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১২) ফজর ও ইশার নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৬৭) ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়লো তার দায়িত্ব আল্লাহর, সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মা বা দায়িত্ব ভঙ্গ করো না। কারণ, যে আল্লাহর দায়িত্ব নষ্ট করে আল্লাহ তাকে তলব করবেন এমনকি তাকে জাহান্নামে উল্টা করে নিক্ষেপ করবেন।
(বাযযার, তবারানী এর সনদে ইবন্ লাহিয়া আছেন। তবে সামনের হাদীসগুলো তাকে শক্তিশালী করেছে।)
كتاب الصلاة
(12) باب في فضل صلاة الصبح والعشاء
(167) عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من صلى صلاة الصبح فله ذمَّة الله فلا تخفروا الله ذمته، فإنه من أخفر ذمته طلبه الله
حتى يكبَّه على وجهه.
হাদীস নং: ১৬৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১২) ফজর ও ইশার নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৬৮) জুন্দুব ইবন্ সুফিয়ান আল বাজালী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে সকালের নামায পড়ে সে আল্লাহর যিম্মায় থাকে। সুতরাং তোমরা আল্লাহ যিম্মা নষ্ট করো না। আল্লাহ যেন তাঁর যিম্মার কিছুর বিষয়ে তোমাদেরকে তলব না করেন।
(মুসলিম, ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(12) باب في فضل صلاة الصبح والعشاء
(168) عن جندب (بن سفيان البجليِّ) رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من صلى صلاة الفجر فهو في ذمة الله، فلا تخفروا ذمة الله عز وجل ولا يطلبنَّكم بشيءٍ من ذمته.
হাদীস নং: ১৬৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১২) ফজর ও ইশার নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৬৯) সামুরা ইবন্ জুন্দুব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করে বলেন, যে সকালের নামায পড়ে সে আল্লার যিম্মায় থাকে, সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মা ভঙ্গ করো না।
(ইবন্ মাজাহ। এর সনদ সহীহ।)
كتاب الصلاة
(12) باب في فضل صلاة الصبح والعشاء
(169) عن سمرة بن جندب رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من صلى صلاة الغداة فهو في ذمة الله، فلا تخفروا الله تبارك وتعالى في ذمته.
হাদীস নং: ১৭০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১২) ফজর ও ইশার নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৭০) আবূ উমাইর ইবন্ আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর কতিপয় চাচা থেকে -যাঁরা ছিলেন রাসূলের সাহাবী- বর্ণনা করেন। তাঁরা নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, এতদুভয় নামাযে অর্থাৎ ফজর ও ইশার নামাযে মুনাফিকরা উপস্থিত হয় না। আবু বিশর (এক রাবী) বলেন অর্থাৎ তারা এতদুভয় নামাযে নিয়মিতভাবে উপস্থিত হয় না।
(আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমান বলেন, এ হাদীসটি আমি অন্যত্র পাই নি। মুহাদ্দিসদের বক্তব্য হতে হাদীসটি গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়।)
كتاب الصلاة
(12) باب في فضل صلاة الصبح والعشاء
(170) حدثنا عبد الله حدثني أبى ثنا محمد بن جعفر ثنا شعبة عن أبي بشر عن أبي عمير بن أنس عن عمومةٍ له من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لا يشهدهما منافق، يعنى صلاة الصبح والعشاء قال أبو بشر
الصفحة ممسوحة غير واضحة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১২) ফজর ও ইশার নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৭১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাদের কাউকে অথবা তোমাদের কাউকে যদি ছাগলের দুইটি পা বা একটা মোটা তাজা ছাগলের হাড়ও দেয়া হয় তাহলেও সকলেই (তা নেয়ার জন্য) আসবে। তারা যদি জানত এতদুভয় নামাযের অর্থাৎ ইশা ও ফজরের নামাযের কী ফযীলত তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত। আমার ইচ্ছা হয়ে ছিল, এক লোককে লোকদের ইমামতী করার আদেশ করি, তারপর ঐসব লোকদের কাছে যাই যারা এর থেকে বা নামায থেকে পশ্চাতে থাকে, অতঃপর তাদের উপর আগুন জ্বালিয়ে দিই।
(বুখারী, মুসলিম ও চার সুনান গ্রন্থ।)
كتاب الصلاة
(12) باب في فضل صلاة الصبح والعشاء
(171) عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : لَوْ جُعِلَ لأَحَدِهِمْ ، أَوْ لأَحَدِكُمْ - مِرْمَاتَانِ حَسَنَتَانِ ، أَوْ عَرْقٌ مِنْ شَاةٍ سَمِينَةٍ لأَتَوْهَا أَجْمَعُونَ ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا - يَعْنِي الْعِشَاءَ وَالصُّبْحَ - لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا ، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ ، ثُمَّ آتِيَ أَقْوَامًا يَتَخَلَّفُونَ عَنْهَا ، أَوْ عَنِ الصَّلاَةِ - فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ..
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ ফজরের নামাযের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে থাকার ফযীলত
(১৭২) সাহল ইবন্ মু'আয তাঁর বাবা থেকে, তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ে তার নামাযের স্থানে দোহা (ইশরাকের) নামায পড়া পর্যন্ত বসে থাকে তাতে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু বলে না তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়, এমনকি তা সমুদ্রের ঢেউয়ের সমপরিমাণ হলেও।
(আবু ইয়ালা, আবু দাউদ ও বাইহাকী। মুনযিরী হাদীসটি হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل فِي فضل الجلوس بعد صلاة الصبح حتّى ترتفع الشَّمس
(۱۷۲) عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حِينَ يُصَلِّي الصُّبْحَ حَتَّى يُسَبِّحَ الضُّحَى ، لاَ يَقُولُ إِلاَّ خَيْرًا غُفِرَتْ لَهُ خَطَايَاهُ ، وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ ফজরের নামাযের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে থাকার ফযীলত
(১৭৩) জাবির ইবন্ সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন ফজরের নামায পড়তেন তখন তার নামাযের স্থানে বসে থাকতেন, ভাল করে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। অথবা বলেন, সুন্দরভাবে সূর্য উঠা পর্যন্ত।
(মুসলিম, তবারানী, ইবন্ খুযাইমা, আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
فصل فِي فضل الجلوس بعد صلاة الصبح حتّى ترتفع الشَّمس
(173) عن جابر بن سمرة رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى الغداة جلس في مصلاه حتى تطلع الشمس حسناء أو ترتفع الشمس حسناء.
হাদীস নং: ১৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৩) যে এক রাকা'আত নামায পেল সে যেন পুরা নামাযই পেল
(১৭৪) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এক রাকা'আত নামায পেল সে পুরা নামাযটাই পেল।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ্ ইত্যাদি।)
كتاب الصلاة
(13) باب من أدرك من الصلاة ركعة فقد أدركها كلها
(174) عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من أدرك من الصلاة ركعة فقد أدركها كلها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৩) যে এক রাকা'আত নামায পেল সে যেন পুরা নামাযই পেল
(১৭৫) তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের এক রাক'আত নামাযও সূর্য উঠার আগে পড়ে তার নামায কাযা হয় না, আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের নামাযের দু'রাক'আতও পড়তে পারে, তার সে নামায কাযা হয় না। (ভিন্ন শব্দে বলা হয়েছে সে তা পেয়েছে।)
كتاب الصلاة
(13) باب من أدرك من الصلاة ركعة فقد أدركها كلها
(175) وعنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من صلى ركعةً من صلاة الصبح قبل أن تطلع الشمس فلم تفته، ومن صلى ركعتين من صلاة العصر قبل أن تغرب الشمس لم تفته "وفي لفظ فقد أدركها"
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৩) যে এক রাকা'আত নামায পেল সে যেন পুরা নামাযই পেল
(১৭৬) তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের এক রাক'আতও সূর্য উঠার আগে পড়লো অতঃপর সূর্য উদয় হয়, তখন যেন সে তার সাথে বাকি রাক'আতটি পড়ে নেয়।
(বাইহাকী, হাকিম, এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(13) باب من أدرك من الصلاة ركعة فقد أدركها كلها
(176) وعنه أيضًا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من صلى من صلاة الصبح ركعةً قبل أن تطلع الشمس، ثم طلعت فليصلِّ إليها أخرى.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৩) যে এক রাকা'আত নামায পেল সে যেন পুরা নামাযই পেল
(১৭৭) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আসরের নামাযের একটি সিজদাও সূর্য ডুবার পূর্বে দিতে পারল, আর ফজরের (একটি সিজদাও) সূর্য উদিত হবার পূর্বে দিতে পারল সে নামাযটি পেল।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ ও ইবন্ মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(13) باب من أدرك من الصلاة ركعة فقد أدركها كلها
(177) عن عائشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من أدرك سجدة من العصر قبل أن تغرب الشمس ومن الفجر قبل
أن تطلع الشمس فقد أدركها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে

(১) পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
(১৭৮) আমর ইবন্ আবাসা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যা জানিয়েছেন তার থেকে আমাকে কিছু জানান। রাসূল (ﷺ) বলেন, ফজরের নামায শেষ করে সূর্য না উঠা পর্যন্ত নামায থেকে বিরত থাকবে। আর যখন সূর্য উঠবে তখন নামায পড়বে না, সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত। কারণ সূর্য যখন উঠে তখন তা শয়তানের দু'শিং-এর মধ্যেই উঠে আর তখনই কাফিররা তাকে সিজদা করে। যখন সূর্য এক বর্শা সমপরিমাণ উঠে বা দু'বর্শা সমপরিমাণ উপরে উঠে যাবে তখন নামায পড়বে। কারণ নামাযের সময় (ফেরেস্তারা) উপস্থিত থেকে দেখতে থাকেন। তাদের এ অবস্থা অব্যাহত থাকে ছায়া আলাদা না হওয়া পর্যন্ত। (অর্থাৎ মধ্য আকাশে সূর্য থাকাবস্থায়।) অতঃপর নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সে সময় জাহান্নামকে প্রজ্জ্বলিত করা হয়। আর যখন ছায়া পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে তখন নামায পড়তে পার। কারণ, নামাযের সময় (ফেরেশতারা) উপস্থিত থেকে দেখতে থাকেন। এ অবস্থা চলতে থাকে আসরের নামায না পড়া পর্যন্ত। যখন আসর-এর নামায পড়ে নিবে তখন (অন্য) নামায থেকে বিরত থাকবে, সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত। কারণ তা শয়তানের দু'শিং-এর মধ্যেই অস্ত যায়। আর তখনই কাফিররা তাকে সিজদা করে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ও ইবন্ মাজাহ্।)
كتاب الصلاة
أبواب الأوقات المنهى عن الصلاة فيها

(1) باب جامع أوقات النهي
(178) عن عمرو بن عبسة رضى الله عنه قال قلت يا رسول الله علِّمني مما علمك الله عز وجلَّ، قال إذا صليت الصبح فاقصر عن الصلاة حتى تطلع الشمس، فإذا طلعت فلا تصلِّ حتى ترتفع، فإنها تطلع حين تطلع بين قرني شيطان وحينئذ يسجد لها الكفَّار، فإذا ارتفعت قيد رمحٍ أو رمحين فصلِّ فإن الصلاة مشهودة محضورة حتى يعنى يستقلَّ الرمح بالمظلِّ ثم أقصر عن الصلاة فإنها حينئذ تسجر جهنَّم فإذا فاء الفيء
فصل فإن الصلاة مشهودة محضورةٌ حتى تصلى العصر فإذا صليت العصر فاقصر عن الصلاة حتى تغرب الشمس فإنها تغرب بين قرني شيطان فحينئذ يسجد لها الكفَّار.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে

(১) পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
(১৭৯) কা'ব ইবন্ মুররা আল্ বাহযী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের কোন সময়ের দু'আ ও নামায আল্লাহ বেশী শুনেন ও কবুল করেন? তিনি বললেন, মধ্য রাতের পর। তারপর বলেন, অতঃপর ফজরের নামায না পড়া পর্যন্ত নামায কবুল হয়। তারপর আর নামায পড়া যায় না সূর্য এক বর্শা বা দু'বর্শা সমপরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর নামায আবার কবুল হয় ছায়া বর্শার মত দাঁড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত, অতঃপর সূর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত নামায পড়া যায় না। অতঃপর নামায সূর্য পশ্চিম আকাশে এক বা দুই বর্শা পরিমাণ আবার কবুল হয়, অতঃপর আবার নামায পড়া যায় না সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, তুমি যখন মুখমণ্ডল ধোও তখন তোমার মুখ থেকে তোমার গুনাহগুলো বের হয়ে যায়। আর যখন তোমার দু'হাত ধোও তখন তোমার দু'হাত থেকে তোমার গুনাহ বের হয়ে যায়, আর যখন তোমার পা দু'টি ধোও তখন তোমার দু' পা হতে তোমার গুনাহগুলো বের হয়ে যায়।
(তবারানী। এ হাদীসের সনদে একজন অপরিচিত রাবী আছেন। তবে পূর্বের হাদীসগুলো এ বক্তব্য সমর্থন করে।)
كتاب الصلاة
أبواب الأوقات المنهى عن الصلاة فيها

(1) باب جامع أوقات النهي
(179) عن كعب ابن مرَّة البهزيِّ رضى الله عنه قال قلت يا رسول الله أيُّ الليل أسمع؟ قال جوف الليل الآخر، ثم قال ثم الصلاة مقبولة حتى يصلي الفجر، ثم لا صلاة حتى تكون الشمس قيد رمحٍ أو رمحين، ثم الصلاة مقبولة حتى يقوم الظِّل قيام الرمح، ثم لا صلاة حتى تزول الشمس، ثم الصلاة مقبولة حتى تكون الشمس قيد رمح أو رمحين، ثم لا صلاة حتى تغرب الشمس، قال وإذا غسلت وجهك خرجت خطاياك من وجهك، وإذا غسلت يديك خرجت خطاياك من يديك، وإذا غسلت رجليك خرجت خطاياك من رجليك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে

(১) পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
(১৮০) আবু আব্দুল্লাহ আসসুনাবিহী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, শয়তানের দু' শিং-এর মধ্যেই সূর্য উদিত হয়। যখন উপরে উঠে যায় তখন তাকে ছেড়ে চলে যায়। আবার যখন মধ্য আকাশে থাকে তখনও শিং-এর মধ্যে নেয়। আর যখন ঢলে পড়ে বা মধ্য থেকে চলে যায় তখন শয়তান তাকে ছেড়ে চলে যায়। আবার যখন অস্ত যাবার সময় হয় তখন তাকে শিং-এর মধ্যে নেয়। আর অস্ত গেলে ছেড়ে দেয়। সুতরাং এ তিন সময়ে নামায পড়ো না।
(মালিক, নাসাঈ, ও ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
أبواب الأوقات المنهى عن الصلاة فيها

(1) باب جامع أوقات النهي
(180) عن أبي عبد الله الصُّنابحيِّ رضى الله عنه قال قال رسول الله
صلى الله عليه وسلم إن الشَّس تطلع بين قرني شيطان، فإذا ارتفعت فارقها، فإذا كانت في وسط السَّماء قارنها، فإذا دلكت أو قال زالت فارقها، فإذا دنت للغروب قارنها، فإذا غربت فارقها، فلا تصلُّوا هذه الثَّلاث ساعات.
tahqiq

তাহকীক: