মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে

(১) পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
(১৮১) উকবা ইবন্ আমির আল্ জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন সময় রাসূল (ﷺ) আমাদের নামায পড়তে অথবা আমাদের মৃত লোকদের কবর দিতে নিষেধ করতেন। (এক) যখন সূর্য, উদয় হয়, উপরে না উঠা পর্যন্ত। (দুই) যখন মধ্য দুপুরে (মধ্য আকাশে) অবস্থান করে, ঢলে না পড়া পর্যন্ত। (তিন) যখন অস্ত যাবার উপক্রম হয়, অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
أبواب الأوقات المنهى عن الصلاة فيها

(1) باب جامع أوقات النهي
(181) عن عقبة بن عامرٍ الجهنيِّ رضى الله عنه قال ثلاث ساعاتٍ كان ينهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نصلِّي فيهنَّ أو أن نقبر فيهنَّ موتانا، حين تطلع الشَّمس بازعةً حتَّى ترتفع، وحين يقوم قائم الظَّهيرة حتَّى تميل الشَّمس، وحين تضيَّف للغروب حتَّى تغرب.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে

(১) পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
(১৮২) সাফওয়ান ইবন্ মুআত্তিল আস্সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, বললেন, হে আল্লাহর নবী আমি আপনাকে এমন একটা প্রশ্ন করছি যার উত্তর আপনার জানা আর আমার অজানা। (নবী সা) বললেন, প্রশ্নটা কি? তিনি বললেন, রাত দিনের মধ্যে এমন কোন সময় আছে কি যাতে নামায পড়া অপছন্দনীয় বা মাকরূহ। রাসুল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আছে। ফজরের নামায পড়ার পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। উদয় হবার পর পড়তে পার। কারণ নামাযে (ফেরেশতারা) উপস্থিত থাকেন এবং তা কবুল করা হয় তোমার মাথার উপর সূর্য তীরের ন্যায় স্থির হওয়া পর্যন্ত। যখন তোমার মাথার উপর স্থির হবে ঐ সময় জাহান্নামকে প্রজ্জ্বলিত করা হয়। আর তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় (তখন নামায পড়বে না) যতক্ষণ তা তোমার ডান পাশ দিয়ে পশ্চাতের দিকে চলে যায়। (অর্থাৎ যখন তুমি পূর্ব দিকে মুখ করে থাকবে তখন এ অবস্থা হবে, আর এটা হল সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার আলামত।) যখন তোমার ডান ভ্রুর পাশ দিয়ে চলে যাবে তখন তুমি পুনরায় নামায পড়তে পার। কারণ, নামাযের সময় ফেরেশতা উপস্থিত থাকেন এবং তা কবুল করা হয়, এভাবে আসর-এর নামায আদায় না করা পর্যন্ত।
(ইবন মাজাহ। এর সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب الأوقات المنهى عن الصلاة فيها

(1) باب جامع أوقات النهي
(182) عن صفوان بن المعطِّل الساميِّ رضى الله عنه أنَّه سأل النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم فقال يا نبيَّ الله إنِّي أسألك عمَّا أنت به عالم وأنا به جاهلٌ، قال وما هو؟ قال
هل من ساعات اللَّيل والنَّهار ساعة تكره فيها الصَّلاة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم، إذا صلَّيت الصُّبح فأمسك عن الصَّلاة حتَّى تطلع الشَّمس، فإذا طلعت فصلِّ فإنَّ الصَّلاة محضورة متقبَّلة حتَّى تعتدل على رأسك مثل الرُّمح، فإذا اعتدلت على رأسك فإنَّ تلك السَّاعة تسجر فيها جهنم وتفتح فيها أبوابها حتَّى تزول عن حاجبك الأيمن فإذا زالت عن حاجبك الأيمن فصلِّ فإن الصَّلاة محضورةٌ متقبَّلةٌ حتَّى تصلِّى العصر.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের পরে নামায পড়তে নিষেধাজ্ঞা
(১৮৩) সা'দ ইবন্ আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, দু'টি নামাযের পরে আর কোন নামায পড়া যায় না। (এক) ফজরের নামাযের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (দুই) আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত।
(ইবন্ হিব্বান ও আবু ইয়ালা। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(2) باب في النهي عن الصلاة بعد صلاتي الصبح والعصر
(183) عن سعد بن أبي وقَّاص رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول صلاتان لا يصلى بعدهما، الصبح حتى تطلع الشمس، والعصر
حتى تغرب الشَّمس.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের পরে নামায পড়তে নিষেধাজ্ঞা
(১৮৪) আবু সাঈদ খুদরীও (রা) নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম, ও বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(2) باب في النهي عن الصلاة بعد صلاتي الصبح والعصر
(184) وعن أبي سعيد الخدريِّ رضى الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مثله.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের পরে নামায পড়তে নিষেধাজ্ঞা
(১৮৫) ইবন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়তে নেই। আর ফজরের নামাযের পরও সূর্য আকাশে কিছু দূর ঊর্ধ্বে না যাওয়া বা রৌদ্র না উঠা পর্যন্ত নামায পড়তে নেই।
(বুখারী ও মুসলিমে হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(2) باب في النهي عن الصلاة بعد صلاتي الصبح والعصر
(185) عن ابن عمر رضى الله عنهما مرفوعًا لا صلاة بعد العصر حتَّى تغيب الشَّمس، ولا بعد الصُّبح حتَّى ترتفع الشَّمس أو تضحى.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের পরে নামায পড়তে নিষেধাজ্ঞা
(১৮৬) নাসর ইবন আবদুর রহমান তাঁর দাদা মু'আয ইবন আফ্রা (রা) আল কুরাশী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আসরের নামাযের পর অথবা ফজরের নামাযের পর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন মু'আয ইবনু আফরার (রা) সাথে। যখন তিনি (মু'আয ইবন্ আফরা, তাওয়াফের পরের সুন্নাত) নামায পড়লেন না। তখন আমি তাঁকে জিল্ডাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, দু'টি নামাযের পর অন্য কোন নামায পড়তে নেই। ফজরের নামাযের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত। আর আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত।
(তিরমিযী হাদীসটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(2) باب في النهي عن الصلاة بعد صلاتي الصبح والعصر
(186) عن نصر بن عبد الرَّحمن عن جدِّه معاذ بن عفراء القرشيِّ أنَّه طاف بالبيت مع معاذ بن عفراء بعد العصر أو بعد الصبح فلم يصلِّ فسألته، فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا صلاة بعد صلاتين، بعد الغداة حتى تطلع الشَّمس وبعد العصر حتى تغرب الشَّمس.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের পরে নামায পড়তে নিষেধাজ্ঞা
(১৮৭) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য লোক আমার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিশ্বাসযোগ্য হলেন আমার কাছে উমর ইবন খাত্তাব (রা), নবী (ﷺ) বলতেন, আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত (অন্য) নামায পড়তে নেই। আর ফজরের নামাযের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত অপর কোন নামায পড়তে নেই।
(বুখারী, মুসলিম বায়হাকী, তিরমিযী, আবু দাউদ ও নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
(2) باب في النهي عن الصلاة بعد صلاتي الصبح والعصر
(187) عن ابن عبَّاسٍ رضى الله عنهما قال شهد عندي رجالٌ مرضيون
وأرضاهم عندي عمر (بن الخطَّاب) أنَّ نبيَّ الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم كان يقول لا صلاة بعد صلاة العصر حتَّى تغرب الشَّمس، ولا صلاة بعد صلاة الصُّبح حتَّى تطلع الشَّمس.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৮৮) আলী (রা) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আসরের নামাযের পর (নফল) নামায পড়ো না, তবে সূর্য যদি উপরে থাকে তবে (নফল) নামায পড়তে পার।
(আবু দাউদ, নাসাঈ। হাফিয ইবন্ হাজার ফতহুল বারীতে হাদীসটির সনদ একস্থানে হাসান ও অন্যস্থানে সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(188) ز عن عليٍ رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لا تصلَّوا بعد العصر إلاَّ أتصلُّوا والشَّمس مرتفعة.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৮৯) মু'আবিয়া ইবন্ আবু সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা একটা নামায পড়, আমি রাসূল (ﷺ)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলাম কিন্তু তাঁকে সে নামাযটি পড়তে কখনো দেখি নি, তিনি সে নামায পড়তে বারণ করেছিলেন। অর্থাৎ আসরের পরে দু'রাক'আত নফল নামায।
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(189) عن معاوية (بن أبي سفيان) رضى الله عنه قال إنَّكم لتصلُّون صلاة، لقد صحبنا رسول اله صلى الله عليه وسلم فما رأيناه يصلِّيها، ولقد نهى عنها، يعني الركعتين بعد العصر.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৯০) রাবিয়া ইবন্ দাররাজ থেকে বর্ণিত যে, আলী ইবন্ আবু তালিব মক্কা যাবার পথে আসরের পর দু'রাক'আত নফল নামায পড়লেন। উমর (রা) তাঁকে এ নামায পড়তে দেখে তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি জানেন যে, রাসূল (ﷺ) এ নামাযটি পড়তে বারণ করেছিলেন।
(তাহাবী। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(190) عن ربيعة بن دراجٍ أنَّ عليَّ بن أبي طالبٍ رضى الله عنه سبَّح بعد العصر ركعتين في طريق مكَّة فرآه عمر فتغيَّظ عليه، ثمَّ قال أما والله لقد علمت أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عنهما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৯১) যায়েদ ইবন্ খালিদ আল জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। উমর ইবন্ খাত্তাব যখন খলীফা, তখন তিনি একদিন যায়েদকে আসরের পর দু'রাক'আত নফল নামায পড়তে দেখলেন। তখন উমর (রা) তাঁর দিকে গেলেন এবং তাঁকে নামাযরত অবস্থাতেই বেত দিয়ে মারলেন। তিনি যেমন নামায পড়ছিলেন তেমনি নামায পড়তে থাকলেন। নামায শেষ করে যায়েদ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন, আল্লাহর কসম আমি এ দু'রাক'আত নামায কখনো ছাড়ব না। কারণ আমি রাসূল (ﷺ)-কে তা পড়তে দেখেছি। তিনি বলেন, তখন তাঁর কাছে উমর (রা) বসলেন এবং বললেন, হে যায়েদ ইবন্ খালিদ, আমার যদি ভয় না হত যে, লোকেরা এ নামাযকে রাত পর্যন্ত নফল নামায পড়ার জন্য সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে, তাহলে আমি এ দু'রাক'আত পড়ার জন্য মারতাম না।
(তবারানী। এর সনদ হাসান।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(191) حدّثنا عبد الله حدَّثني أبي ثنا عبد الرَّزَّاق وابن بكر قالا أنا ابن جريج قال سمعت أبا سعيد الأعمى يخبر عن رجلٍ يقال له السَّائب مولى الفارسِّيين وقال ابن بكرٍ مولى لفارس وقال حجَّاج مولى الفارسيِّين عن زيد بن خالد الجهنيِّ رضى الله عنه أنَّه رآه عمر بن الخطَّاب وهو خليفةٌ ركع بعد العصر ركعتين فمشى إليه فضربه بالدِّرة وهو يصلِّي كما هو، فلمَّا انصرف قال زيد يا أمير المؤمنين فوالله لا أدعهما أبدًا بعد أن رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّيهما، قال فجلس إليه عمر وقال يا زيد بن خالدٍ لولا أنِّي أخشى أن يتَّخذها النَّاس سلَّمًا إلى الصلاَّة حتَّى اللَّيل لم أضرب فيهما.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৯২) কবীসা ইবন্ যুয়াইব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা (রা) যুবাইর পরিবারের লোকদের সংবাদ দিয়েছিলেন যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর কাছে আসরের পর দু'রাক'আত নফল নামায পড়েছিলেন। তাই তারাও তা পড়তেন। কবীসা বলেন, যায়েদ ইবন্ সাবিত বলেন আল্লাহ আয়িশা (রা)-কে ক্ষমা করুন। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আয়িশার চেয়ে বেশী জানি। আসলে এর কারণ ছিল যে, দুপুরের সময় কিছু বেদুঈন মহানবী (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। তারা মহানবী (ﷺ) কি কিছু প্রশ্ন করতে বসেছিলেন আর তিনি তার জবাব দিচ্ছিলেন, অবশেষে জোহরের নামায পড়লেন, কিন্তু জোহরের পরের দু'রাক'আত সুন্নাত পড়তে পারেন নি। অতঃপর আবার তাদের প্রশ্নের জবাব দানের উদ্দেশ্যে বসে গেলেন। পরিশেষে আসরের নামায পড়ে বাড়ি গেলেন। তখন তাঁর মনে পড়ল যে, তিনি জোহরের পরের সুন্নাত পড়তে পারেন নি। তাই এতদুভয় দু'রাকা'আত নামায আসরের পর পড়লেন। আল্লাহ আয়িশা (রা)-কে ক্ষমা করুন, আমরা আয়িশার চেয়ে রাসূল (ﷺ)-কে বেশী জানি। রাসূল (ﷺ) আসরের পর নামায পড়তে বারণ করেছেন।
(তবারানী, এর সনদে ইবন্ লাহিয়া আছেন। মুহাদ্দিসরা তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(192) عن قبيصة بن ذؤيبٍ قال إنَّ عائشة أخبرت آل الزُّبير أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم صلَّى عندها ركعتين بعد العصر فكانوا يصلُّونها قال قبيصة فقال زيد بن ثابت يغفر الله لعائشة نحن أعلم برسول الله صلى الله عليه وسلم من عائشة إنَّما كان ذلك لأن أناسًا من الأعراب أتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بهجير فقعدوا يسألونه ويفتيهم حتَّى صلَّى الظُّهر ولم يصلِّ ركعتين، ثمَّ قعد يفتيهم حتَّى
صلَّى العصر فانصرف إلى بيته فذكر أنَّه لم يصلِّ بعد الظُّهر شيئاً فصلاهما بعد العصر، يغفر الله لعائشة نحن أعلم برسول الله صلى الله عليه وسلم من عائشة، نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصَّلاة بعد العصر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৯৩) 'আতা ইবনুস-সায়িব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন্ মুগাফফাল আল্ মুযানীর সাথে বসা ছিলাম, তখন উমরের বংশের দুই যুবক সেখানে প্রবেশ করলেন, তারপর তারা আসরের পর দু'রাকা'আত নামায পড়লেন। তখন তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারপর তাদেরকে বললেন, তোমরা এ কি নামায পড়লে? অথচ তোমাদের বাবা এ নামায পড়তে নিষেধ করতেন। তারা উভয়ে বললেন, আমাদেরকে আয়িশা (রা) বলেছেন যে, নবী (ﷺ) এ দু'রাকা'আত নামায তাঁর কাছে পড়েছিলেন। তখন (আব্দুল্লাহ ইবন্ মুগফ্ফাল) চুপ থাকলেন, তাদেরকে আর কিছুই বললেন না।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান বলেন, এ হাদীসটি আমি অন্যত্র পাই নি। এর সনদেও অজ্ঞাত অপরিচিত রাবী আছেন।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(193) عن عطاء بن السائب قال كنت جالسًا مع عبد الله بن مغفلٍ المزنيِّ فدخل شابَّان من ولد عمر فصلَّيا ركعتين بعد العصر، فأرسل إليهما فدعاهما فقال ما هذه الصَّلاة الَّتي صلَّيتماها وقد كان أبوكما ينهى عنها، قالا حدَّثنا عائشة رضى الله تعالى عنها أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم صلاَّهما عندها فسكت فلم يردَّ عليهما شيئاً.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আসরের নামাযের পর দু'রাকাত নফল নামায প্রসঙ্গে
(১৯৪) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা) ভুল করেছেন। রাসূল (ﷺ) শুধুমাত্র ঠিক সূর্যাস্তের সময় ও ঠিক সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
(মুসলিম, নাসাঈ, বায়হাকী।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الركعتين بعد العصر
(194) عن عائشة رضى الله عنها أنَّها قالت وهم عمر، إنَّما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصَّلاة أن يتحرَّى طلوع الشَّمس وغروبها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ ফজরের নামাযের পর নফল নামায পড়া প্রসঙ্গে
(১৯৫) আব্দুল্লাহ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার ইবন্ উমর (রা) আমাকে প্রভাত (ফজরের ওয়াক্ত) হবার পর নামায পড়তে দেখলেন, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে ইয়াসার কয় রাকা'আত পড়েছ। আমি বললাম, মনে নেই, তিনি বলেন তোমার যেন মনে না থাকে। রাসূল (ﷺ) একবার আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন, তখন আমরা এ নামায পড়ছিলাম তখন তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে যারা এখানে আছ তারা, যারা নেই তাদেরকে জানিয়ে দিবে প্রভাত হবার পর (ফজরের সুন্নাত) দু'রাকা'আতের বেশী নামায পড়তে নেই।
(আবু দাউদ, দারাকুতনী ও তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব।)
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الصلاة بعد الصبح
(195) عن يسارٍ مولى عبد الله بن عمر قال رآني ابن عمر رضى الله عنهما وأنا أصلِّي بعد ما طلع الفجر، فقال يا يسار كم صلَّيت؟ قلت لا أدري، قال لا دريت، إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج علينا ونحن نصلِّي هذه الصَّلاة فقال ألا ليبلغ شاهدكم غائبكم إن لا صلاة بعد الصبح إلا سجدتين.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ ফজরের নামাযের পর নফল নামায পড়া প্রসঙ্গে
(১৯৬) মুহাম্মদ ইবন্ হাই ইবন্ ইয়া'লা ইবন্ উমাইয়্যা তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি ইয়া'লাকে দেখলাম, তিনি সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বে নামায পড়ছেন। তখন তাঁকে এক লোক বললেন, বা বলা হল, আপনি রাসূলের একজন সাহাবী, আপনিও সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বে নামায পড়ছেন? ইয়ালা বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি সূর্য শয়তানের দু'শিং-এর মধ্যে উদিত হয়। ইয়ালা তাঁকে বলেন, সূর্য উদিত হবার পূর্বেই যদি তুমি আল্লাহর কাজে ব্যস্ত হও, তাহলে তাই উত্তম, সূর্য উদিত হবার সময় নামায থেকে তোমার গাফিল থাকার চেয়ে।*
*টিকা: অর্থাৎ সূর্য উদিত হবার পূর্বে এক রাকা'ত পড়া সম্ভব হলেও তাই করে বাকি রাকাত সূর্য উদিত হবার পর শেষ করা উত্তম, উদিত হবার সময় নামায থেকে বিরত ও গফিল থাকার চেয়ে।
(এ হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ উত্তম।
كتاب الصلاة
فصل فيما جاء في الصلاة بعد الصبح
(196) عن محمد بن حي بن يعلى بن أمية عن أبيه قال رأيت يعلى يصلِّي قبل أن تطلع الشَّمس، فقال له رجل أو قيل له أنت رجلٌ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تصلِّي قبل أن أن تطلع الشَّمس قال يعلى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول، إنَّ الشَّمس تطلع بين قرني شيطان، قال له يعلى فإن تطلع الشَّمس وأنت في أمر الله خيرٌ من أن تطلع وأنت لاهٍ
.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ সূর্য উদয়, অস্ত ও মধ্য আকাশে থাকাবস্থায় নামায পড়া নিবিদ্ধ
(১৯৭) আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সূর্য উদয়ের সময় নামায পড়বে না। কারণ, সূর্য শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যে উদিত হয়। তখন প্রত্যেক কাফির তাকে সিজদা করে। আর না মধ্য দুপুরে নামায পড়বে। কারণ তখন জাহান্নামকে প্রজ্জ্বলিত করা হয়।
(মুসলিম, বাইহাকী, ইবন মাজাহ্।)
كتاب الصلاة
(3) باب في النهي عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها وعند الاستواء
(197) عن أبى أمامة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تصلُّوا عند طلوع الشَّمش، فإنَّها تطلع بين قرنى شيطان ويسجد لها كلُّ كافر، ولا عند غروبها فإنَّها تغرب بين قرنى شيطان ويسجد لا كلُّ كافر، ولا نصف النَّهار فإنه عند سجر جهنَّم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ সূর্য উদয়, অস্ত ও মধ্য আকাশে থাকাবস্থায় নামায পড়া নিবিদ্ধ
(১৯৮) ইবন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সূর্য উদয় ও অস্ত যাবার সময় নামায পড়ো না, কারণ তা শয়তানের দু'শিং-এর মধ্যে উদিত হয়। যখন সূর্যের কিনারা উদিত হতে আরম্ভ করবে তখন পূর্ণ উদিত না হওয়া পর্যন্ত নামায পড়বে না। আর যখন সূর্যের কিনারা অস্ত যাওয়া আরম্ভ করবে তখনও সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়ো না।
(মালিক, নাসাঈ, এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(3) باب في النهي عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها وعند الاستواء
(198) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تتحرَّوا
بصلاتكم طلوع الشمس ولا غروبها، فإنَّها تطلع بين قرنى شيطان، فإذا طلع حاجب الشَّمس فلا تصلُّوا حتَّى تبرز، وإذا غاب حاجب الشمَّس فلا تصلُّوا حتَّى تغيب.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ সূর্য উদয়, অস্ত ও মধ্য আকাশে থাকাবস্থায় নামায পড়া নিবিদ্ধ
(১৯৯) সামুরা ইবন্ জুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন সূর্য উদিত হতে থাকে এবং যখন অস্ত যেতে থাকে তখন তোমরা নামায পড়ো না। কারণ সূর্য শয়তানের দু'শিং-এর মধ্যে উদয় হয় ও অস্ত যায়।
(আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, হাদীসটি আমি অন্যত্র পাই নি। তবে এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(3) باب في النهي عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها وعند الاستواء
(199) عن سمرة بن جندب رضي الله عنه عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال لا تصلُّوا حين تطلع الشمس ولا حين تسقط، فإنَّها تطلع بين قرنى الشَّيطان وتغرب بين قرنى الشيَّطان.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ সূর্য উদয়, অস্ত ও মধ্য আকাশে থাকাবস্থায় নামায পড়া নিবিদ্ধ
(২০০) যায়েদ ইবন্ সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন সূর্যের শিং (কিনারা) উদয় হতে থাকে অথবা অস্ত যেতে আরম্ভ করে তখন নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। কারণ তা শয়তানের দু' শিং-এর মধ্যেই উদিত হয়, অথবা দু' শিং-এর মধ্যস্থান হতে উদিত হয়।
(তবারানী, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(3) باب في النهي عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها وعند الاستواء
(200) عن زيد بن ثابت رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يصلَّى إذا طلع قرن الشَّمس أو غاب قرنها وقال أنَّها تطلع بين قرنى شيطان أو من بين قرنى شيطان.
tahqiq

তাহকীক: