মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১৫১০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর নামায ও সে দিনের ফযীলত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অধ্যায়

(১) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনের ফযীলত
(১৫০৬) সা'আদ ইবনে উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত, আনসারদের এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), জুমু'আর দিনে কি কি কল্যাণ রয়েছে, আপনি আমাদের তা বলুন। তিনি বললেন, জুমু'আর দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একথা বলে উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেন।
(মুসনাদে বাযযার, উক্ত হাদীসে মুহাম্মদ ইবনে আকীল-এর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মতভেদ আছে। বাকী বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الجمعة وفضل يومها وكل ما يتعلق بها

(1) باب فى فضل يوم الجمعة
(1510) عن سعد بن عبادة رضى الله عنه أنَّ رجلًا من الأنصار أتى النبيَّ صلى الله عليه وسلَّم فقال أخبرنا عن يوم الجمعة ماذا فيه من الخير؟ قال فيه خمس خلالٍ فذكر مثله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর নামায ও সে দিনের ফযীলত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অধ্যায়

(১) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনের ফযীলত
(১৫০৭) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'তুর' পাহাড়ের দিকে বের হলাম। পথে তাবিয়ী কাব-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলো, সেখানে আমি তাঁর সাথে বসলাম। তখন তিনি আমাকে তাওরাত থেকে বর্ণনা করলেন, আমি তাঁকে রাসুল (ﷺ)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করলাম। আমি বললাম, রাসুল (ﷺ) বলেছেন, যে দিনসমূহে সূর্য উদিত হয় তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিন হলো জুমু'আর দিন। সেই দিনে আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেদিনই তাঁকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃর্ত্যু হয়েছে, সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে জ্বিন ও মানুষ ছাড়া এমন কোন জীব জন্ত নেই, জুমু'আর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে কান পেতে না থাকে। সে দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে কোন মু'মিন সালাতে রত থাকা অবস্থায় আল্লাহর কাছে সে সময় কোন কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ নিশ্চয় তাকে তা দিবেন। কা'ব বলেন, সে দিনটি প্রতি বৎসর একবার আসে, তখন আমি বললাম, না, সে মুহূর্তটি প্রত্যেক জুমু'আর দিনই হয়। আমার কথা শুনে কা'ব পুনরায় তাওরাত পড়লেন। তখন তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) সত্যই বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তারপর আমি আবুদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাঁকে কাবের সাথে জুমু'আর দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে যে সব কথা হয়েছে তা বর্ণনা করি। আমি তাঁকে বললাম, কা'ব বলেছেন, সে দিনের মুহূর্ত প্রতি বছর একবার আসে, তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বলেন, কা'ব সঠিক বলেন নি। তারপর কা'ব তাওরাত পড়লেন, তখন বললেন, সে মুহূর্তটি প্রত্যেক জুমু'আর দিনই। সে সময় আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম (রা) বললেন, কা'ব সত্য বলেছেন।
(মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, বুখারী ও মুসলিম হাদীসটির কিছু অংশ সংকলন করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الجمعة وفضل يومها وكل ما يتعلق بها

(1) باب فى فضل يوم الجمعة
(1511) عن أبى هريرة رضى الله عنه أنَّه قال خرجت إلى الطُّور (1) فلقيت كعب الأحبار (2) فجلست معه فحدثنى عن التَّوراة وحدَّثته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان فيما حدَّثته أن قلت إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خير يومٍ طلعت فيه الشمس يوم الجمعة (3) فيه خلق آدم وفيه أهبط (4) وفيه تيب عليه وفيه مات (1) وفيه تقوم السَّاعة، وما من دابَّة إلا وهى مسيخةٌ (2) يوم الجمعة من حين تصبح حتَّى تطلع الشَّمس شفقًا من السَّاعة (3) إلَّا الجنَّ والإنس (4) وفيه ساعة لا يصادفها عبدٌ مسلمٌ وهو يصلِّى يسأل الله شيئًا إلَّا أعطاه إياه، قال كعبٌ ذلك فى كلِّ سنةٍ مرةً، فقلت بل فى كلِّ جمعةٍ، فقرأ كعب التَّوراة فقال صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو هريرة ثمَّ لقيت عبد الله ابن سلامٍ فحدَّثته بمجلسى مع كعب وما حدَّثته فى يوم الجمعة فقلت له قال كعب ذلك فى كلِّ سنةٍ يومٌ، قال عبد الله بن سلامٍ كذب كعبٌ، ثمَّ قرأ كعبٌ التَّوراة فقال بل هى فى كلِّ جمعة، قال عبد الله بن سلامٍ صدق كعبٌ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর নামায ও সে দিনের ফযীলত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অধ্যায়

(১) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনের ফযীলত
১৫০৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, যে কোন মুসলমান যদি জুমু'আর দিনে অথবা জুমু'আর রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ কবরের ফিতনা থেকে তাকে হিফাজত করেন।
(তিরমিযী, হাফেয সুয়ূতী ও অন্যরা হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الجمعة وفضل يومها وكل ما يتعلق بها

(1) باب فى فضل يوم الجمعة
(1512) عن عبد الله بن عمرو (بن العاص) عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال ما من مسلم يموت يوم الجمعة أو ليلة الجمعة إلَّا وقاه الله فتنة القبر (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর নামায ও সে দিনের ফযীলত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অধ্যায়

(১) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনের ফযীলত
১৫০৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, জুমু'আর দিন নামকরণ কেন করা হয়েছে? তিনি বললেন, তার কারণ, সে দিন তোমাদের পিতা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিন সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। সেদিন কবর থেকে উঠানো হবে, সেদিন পাকড়াও করা হবে। সেদিনের শেষের তিন প্রহরের মধ্যে এমন একটি প্রহর রয়েছে সে মুহূর্তে কেউ যদি আল্লাহকে ডাকে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিবেন।
(আহমদ ছাড়া হাদীসটি কেউ বর্ণনা করেন নি, মুনযিরী তারগীব ও তারহীব গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, সননের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য তবে সনদে ইনকিতা বা বিচ্ছিন্নতা আছে।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الجمعة وفضل يومها وكل ما يتعلق بها

(1) باب فى فضل يوم الجمعة
(1513) عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قيل للنَّبيِّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم لأي شيء سمِّي يوم الجمعة؟ قال لأنّ فيها طبعت (2) طينة أبيك آدم وفيها الصًّعقة (3) والبعثة وفيها البطشة وفى آخر ثلاث ساعاتٍ منها ساعةٌ من دعا الله عزَّ وجلَّ فيها (1) استجيب له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর নামায ও সে দিনের ফযীলত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অধ্যায়

(১) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনের ফযীলত
১৫১০. আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, হে আবু দারদা, অন্যান্য রাত ব্যতীত শুধু জুমু'আর রাত্রিতে খাস করে নফল নামায পড়বে না এবং অন্যান্য দিন বাদ দিয়ে শুধু জুমু'আর দিনে খাস করে নফল রোযা রাখবে না।
(তবারানী। হায়ছামী বলেন, হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الجمعة وفضل يومها وكل ما يتعلق بها

(1) باب فى فضل يوم الجمعة
(1514) عن أبى الدَّرداء رضى الله عنه قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم يا أبا الدَّرداء لا تختص ليلة الجمعة بقيام دون اللَّيالي ولا يوم الجمعة بصيامٍ دون الأيَّام (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনে নবী করীম (ﷺ)-এর উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার প্রতি উৎসাহিত করা।
১৫১১. আউস ইবনে আবূ আউস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের সকল দিনের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিন হল জুমু'আর দিন। সে দিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়, সেদিনই শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, এবং সে দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। অতএব এই দিনে তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পড়বে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরূদ আপনার কাছে পেশ করা হবে? আপনি তো মাটিতে মিশে যাবেন, অর্থাৎ তাঁরা বললেন, আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা যমীনের জন্য নবীদের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকী সুনানে কুবরা, সহীহ ইবনে হিব্বান মুসতাদরাকে হাকিম। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل منه فى الحث على الاكثار من الصلاة على النبى صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة
(1515) عن أوس بن أبى أوس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم من أفضل أيَّامكم يوم الجمعة فيه خلق آدم وفيه قبض، وفيه النَّفخة (1) وفيه الصَّعقة، فأكثروا علىَّ من الصَّلاة فيه فإن صلاتكم معروضةٌ علىَّ (2) فقالوا يا رسول الله وكيف تعرض عليك صلاتنا وقد أرمت (3) يعنى وقد بليت، قال إنَّ الله عزَّ وجلَّ حرَّم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء صلوات الله عليهم (4)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনে নবী করীম (ﷺ)-এর উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার প্রতি উৎসাহিত করা।
১৫১২, য আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (ﷺ) বলেন, জুমু'আর রাত উদ্ভাসিত এবং জুমু'আর দিন প্রস্ফুটিত। এ তার যমীনে অধিক ফেরেশতা অবতরণ করেন, আর জুমু'আর দিন সন্ত্রাহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিন।
كتاب الصلاة
فصل منه فى الحث على الاكثار من الصلاة على النبى صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة
(1516) عن أنس بن مالك رضى الله عنه أنَّ النَّبي صَّلى الله عليه وآله وسلَّم كان يقول ليلة الجمعة غرَّاء (1) ويومها أزهر (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৩. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেন, জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময়ে দাঁড়িয়ে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ চায় তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করবেন। (এই বলে) তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।
(বুখারী, মুসলিম, ও সুনানে আরবাআ)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1517) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم إنَّ في الجمعة لساعةً لا يوافقها عبدٌ مسلمٌ قائمٌ يصلِّى يسأل الله خيرًا إلَّا أعطاه الله إيَّاه، وقال بيده (1) قلنا يقلِّلها يزهِّدها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৪, আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে মুহূর্তে কোন মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে নিশ্চয় আল্লাহ তাঁকে তা দিবেন। সে মুহূর্তটি আসরের পরে হবে।
(মুসনাদে বাযযার, ইরাকী ও হায়ছামী বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1518) عن أبى سعيدٍ الخدري وأبى هريرة رضى الله عنهما أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم قال إن فى الجمعة ساعة لا يوافقها عبدٌ مسلمٌ يسأل الله عزَّ وجلَّ فيها إلَّا أعطاه إيَّاه وهى بعد العصر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫১৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৫. তাবিয়ী আবু সালমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা) রাসূল (ﷺ)-এর নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জুমু'আর দিনে একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলমান বান্দা যদি এসময়ে নামায় পড়া অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ চায় তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করবেন। আবু হুরায়রা হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা)-এর মৃত্যুর পর আমি চিন্তা করলাম, আমি আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর নিকট গিয়ে এ মুহূর্তটি সম্পর্কে প্রশ্ন করি না কেন। এবিষয়ে কিছু জানা আছে। অতঃপর আমি তাঁর নিকট আসলাম। এরপর বলেন, তাঁর আগমন সম্পকে লম্বা কাহিনী বর্ণনা করেন। আমি বললাম, হে আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা (রা) জুমু'আর দিনের মুহূর্তটি সম্পর্কে আমাদেরকে বলেছেন, আপনার এ বিষয়ে কিছু জানা আছে? তিনি বললেন, আমি রাসুল (ﷺ)-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, তখন তিনি বললেন, আমাকে এই মুহূর্তটির কথা জানানো হয়েছিল, অতঃপর ভুলিয়ে দেওয়া হয়। আবু সালামা (রা) বলেন, তারপর আমি তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)-এর নিকট খেলাম।
(সহীহ ইবনে খুযাইমা ও মুসতাদরাক হাকিম,ইরাকী, হাফিয যাহাবী, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1519) عن أبى سلمة (بن عبد الرحمن) قال كان أبو هريرة رضى الله عنه يحدِّثنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال إنَّ فى الجمعة ساعة لا يوافقها مسلم وهو فى صلاةٍ سأل الله خيرًا إلَّا آتاه إيَّاه، قال وقلَّلها (1) أبو هريرة بيده، قال فلمَّا توفي أبو هريرة قلت والله لو جئت أبا سعيدٍ الخدريَّ (رضي الله عنه) فسألته عن هذه السَّاعة أن يكون عنده منها علمٌ، فأتيته (فذكر حديثًا طويلًا (1) ثمَّ قال) قلت يا أبا سعيد إنَّ أبا هريرة حدَّثنا عن السَّاعة الَّتي في الجمعة فهل عندك منها علمٌ؟ فقال سألت النَّبيَّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم عنها فقال إنَّى كنت قد أعلمتها ثمَّ أنسيتها كما أنسيت ليلة القدر، قال ثمَّ خرجت من عنده فدخلت على عبد الله بن سلامٍ (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৬. আবু সালামা (রা) পূর্বের হাদীসের সনদ ও শব্দ উল্লেখ করে বলেন, আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর কাছ থেকে বের হয়ে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। অতঃপর তাকে জুমু'আর দিনের মুহূর্তটি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেন, জুমু'আর দিন আল্লাহ আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন জুমু'আর দিন তাঁকে যমীনে অবতরণ করানো হয়েছে, জুমু'আর দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। সে মুহূর্তটি হল- সে দিনের শেষ অংশ, সুরাইজ বলেন, সে মুহূর্তটি জুমু'আর দিনের শেষ মুহূর্ত। তখন আমি বললাম, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সে সময়টি যদি কোন মু'মিন ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় পায় (তাহলে সে সময়ের দুয়া আল্লাহ কবুল করবেন) তুমি কি জান, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সালাতের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি সালাতেই থাকেঃ আছি বললাম হ্যাঁ। আল্লাহর শপথ! একথাই সত্য।
(সহীহ ইবনে খুযাইমা, মুসতাদরাকে হাকীম।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1520) وعنه أيضًا بسنده ولفظه (2) وفيه ثمَّ خرجت من عنده فدخلت على عبد الله بن سلامٍ فسألت عنها، فقال خلق الله آدم يوم الجمعة، وأهبط إلى الأرض يوم الجمعة، وقبضه يوم الجمعة، وفيه تقوم السَّاعة، فهي آخر ساعةٍ، وقال سريجٌ (3) فهي آخر ساعته، فقلت إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فى صلاةٍ وليست بساعة صلاةٍ (4) قال أو لم تعلم أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال منتظر الصَّلاة فى صلاةٍ؟ قلت بلى هى والله هى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৭. আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলের বসা অবস্থায় আমি তাঁকে বললাম, আমরা তাওরাত কিতাবে দেখেছি, জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় তা পায়, অতঃপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, সে যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাঁকে নিশ্চিত তা দিবেন। রাসুল (ﷺ) হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। তখন আমি বললাম রাসূল (ﷺ) সত্য কথা বলেছেন। আবু নাদর (রা) বলেন, আবু সালামা বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, সে মুহূর্তটি কখন? তিনি উত্তর দিলেন, দিনের শেষ অংশ। আমি বললাম, সে সময় তো কোন সালাত নেই, তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে মুসলিম বান্দা সালাত আদায় করে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষায় সালাতের স্থানে বসে থাকে সে সালাতেই থাকে।
(ইবনে মাজাহ, বুসিরী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1521) عن أبى النّضر عن أبى سلمة بن عبد الرَّحمن عن عبد الله ابن سلامٍ رضى الله عنه قال قلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالسٌ إنَّا نجد فى كتاب الله (1) فى يوم الجمعة ساعةً لا يوافقها عبدٌ مسلم وهو فى الصَّلاة فيسأل الله عزَّ وجلَّ شيئًا إلَّا أعطاه ما سأله، فأشار رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بعض ساعةٍ (2) قال فقلت صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال أبو النَّضر قال أبو سلمة سألته (3) أيَّة ساعةٍ هي؟ قال آخر ساعات النهار، فقلت إنَّها ليست بساعة صلاةٍ، فقال بلى، إنَّ العبد المسلم فى صلاةٍ إذا صلَّى ثمَّ قعد فى مصلَّاه لا يحبسه إلَّا انتظار الصَّلاة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদ: জুমু'আর দিনের দু'আ কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৫১৮, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়াতে আসলাম। তথায় কা'ব (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। সেখানে আমি তাঁকে রাসুল (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম, আর তিনি আমাকে তাওরাত থেকে বর্ণনা করতেন, এক পর্যায়ে আমরা জুমু'আর দিনের আলোচনায় আসলাম, তখন আমি তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম, রাসুল (ﷺ) বলেছেন, জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে সে সময়ে কোন মুসলিম কোন কল্যাণের প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে নিশ্চিত তা দেবেন।
তখন কা'ব বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) সত্য বলেছেন সে মুহূর্তটি প্রতি বছর একবারই আসে? আমি বললাম, না, কা'ব এক মুহূর্ত চিন্তা করে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) সত্য বলেছেন, সে মুহূর্তটি প্রতি মাসে একবারই আসে, আমি পুনরায় বললাম, না। তিনি এক মুহূর্ত চিন্তা করে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) সত্য বলেছেন, তা প্রত্যেক জুমু'আর দিনেই থাকে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন কা'ব (রা) বললেন, আপনি কি জানেন, সে দিন কোন দিন।আমি বললাম, সেদিন কোন দিন? সে দিনই সকল সৃষ্টি জীন ও মানুষ সম্প্রদায় ছাড়া সকল সৃষ্টি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে থাকে
অতঃপর আমি মদীনায় ফিরে এসে কাবের কথাগুলো আবদুল্লাহ ইবনে সালাম এর কাছে বললাম। উনি বললেন, কা'ব ঠিক বলে নি, আমি বললাম, তিনি আমার কথার সাথে একমত হয়েছেন। তখন ইবনে সালাম বললেন, তুমি সে মুহূর্তটি সম্পর্কে জান? আমি বললাম, তখন আমি তাকে সবিনয় অনুরোধ করতে লাগলাম ইবনে সালাম আমাকে বলুন, আপনি আমাকে বলুন। তখন ইবনে সালাম বললেন, সে মুহূর্তটি আসর ও মাগরিবের মাঝখানের সময়। আমি বললাম, কিভাবে? সে সময়তো নামায নেই। ইবনে সালাম বললেন, তুমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনোনি, যে বান্দা যতক্ষণ নামাযের স্থানে বসে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষা করে ততক্ষণ সে সালাতেই থাকে।
(আবু হুরায়রা (রা)-এর দ্বিতীয় বর্ণনা) তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং আমার কথা ও প্রতি বছর এক দিন? এ মর্মে কা'বের কথা তাঁকে বলি। ইবনে সালাম বললেন, কা'ব ঠিক বলেনি। যেভাবে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সে মুহূর্ত প্রত্যেক জুমু'আর দিনই হয়ে থাকে। আমি বললাম, তিনি তাঁর কথা থেকে ফিরে এসেছেন। ইবনে সালাম বলেন, যাঁর হাতে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের জীবন, তাঁর শপথ করে বলছি। আমি সে মুহূর্তটি সম্পর্কে অবগত আছি। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি বললাম, হে আব্দুল্লাহ! আমাকে সে মুহূর্তটির সংবাদ দিন। ইবনে সালাম বললেন, সে মুহূর্তটি জুমু'আর দিনের শেষ সময়। আমি বললাম, তিনি তো বলেছেন, যে বান্দা সালাতরত অবস্থায় এই মুহূর্ত পাবে? (সে সময় তো কোন সালাত পড়া হয় না।) আবদুল্লাহ বলেন, তুমি কি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুন নি, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষা করে, সালাত আদায় না হওয়া পর্যন্ত সে সালাতেই থাকে? আমি বললাম, হ্যাঁ, কেন নয় নিশ্চয়ই। তিনি বললেন, এটাও সে রকমই।
(একই সূত্রে তাঁর তৃতীয় বর্ণনা) আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন, সে মুহূর্তটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আবু হুরায়রা বললেন, আমি তাঁকে বললাম, সে মুহূর্তটি সম্পর্কে আমাকে বলেন, এ ক্ষেত্রে কোন কৃপণতা করবেন না। আবদুল্লাহ (রা) বললেন, সে মুহূর্তটি জুমু'আর দিনের শেষ সময়। আবূ হুরায়রা (রা) বললেন, কিভাবে সে মুহূর্তটি জুমু'আর দিনের শেষ সময় হবে, কারণ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় তা পায়, অথচ এই সময় কোন সালাত পড়া হয় না? আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) বললেন, রাসূল (ﷺ) কি বলেন নি, যে ব্যক্তি বসে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষা করে সালাত না হওয়া পর্যন্ত সে সালাতেই থাকে। আমি বললাম, কেন নয় নিশ্চয়ই! তিনি বললেন, এটাও সে রকমই। (এবং সে সময় কোন দু'আ করলে আল্লাহ কবুল করেন)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما ورد فى ساعة الاجابة ووقتها من يوم الجمعة
(1522) عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قدمت الشَّام فلقيت كعبًا فكان يحدثنى عن التَّوراة وأحدِّثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتَّى أتينا على ذكر يوم الجمعة فحدَّثته أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إنَّ فى الجمعة ساعةً لا يوافقها مسلمٌ يسأل الله فيها خيرًا إلَّا أعطاه إيَّاه، فقال كعبٌ صدق الله ورسوله، هي فى كلِّ سنةٍ مرَّةً، قلت لا، فنظر كعبٌ ساعةً ثمَّ قال صدق الله ورسوله هي فى كلِّ شهر مرَّة، قلت لا، فنظر ساعةً فقال صدق الله ورسوله فى كلِّ جمعةٍ مرةً، قلت نعم (4) فقال كعبٌ أتدرى أي يومٍ هو قلت وأيُّ يومٍ هو؟ قال فيه خلق الله آدم، وفيه تقوم السَّاعة والخلائق فيه مصيخةٌ إلَّا الثَّقلين الجنَّ والإنس خشية القيامة، فقدمت المدينة فأخبرت عبد الله بن سلامٍ بقول كعبٍ، فقال كذب كعب، قلت إنَّه د رجع إلى قولى، فقال أتدرى أيَّ ساعةٍ هي؟ قلت لا وتهالكت عليه (1) أخبرنى أخبرنى، فقال هى فيما بين العصر والمغرب، قلت كيف ولا صلاة (2) قال أما سمعت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول لا يزال العبد في صلاةٍ ما كان في مصلَّاه ينتظر الصلَّاة (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (3) قال فلقيت عبد الله بن سلامٍ فحدَّثته حديثى وحديث كعبٍ فى قوله كلِّ سنةٍ، قال كذب كعبٌ، هو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في كلِّ يوم جمعةٍ، قلت إنَّه قد رجع، قال أما والَّذى نفس عبد الله بن سلامٍ بيده إنَّى لأعرف تلك السَّاعة، قال قلت يا عبد الله فأخبرنى بها، قال هى آخر ساعةٍ من يوم الجمعة، قال قلت قال لا يوافق مؤمنٌ وهو يصلِّى (4) قال أما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من انتظر صلاةً فهو فى صلاةٍ حتَّى يصلِّى، قلت بلى، قال فهو كذلك (وعنه من طريقٍ ثالثٍ (5) بنحوه وفيه) قال عبد الله بن سلامٍ قد علمت أيَّة ساعةٍ هي، قال أبو هريرة فقلت له فأخبرنى ولا تضنَّ علىَّ (1) قال عبد الله هى آخر ساعةٍ من يوم الجمعة، قال أبو هريرة كيف تكون آخر ساعةٍ من يوم الجمعة وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يصادفها عبدٌ مسلمٌ يصلِّى، وتلك ساعةٌ لا يصلَّى فيها؟ قال عبد الله بن سلام ألم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم "من جلس مجلسًا ينتظر فيه الصَّلاة فهو فى الصَّلاة حتَّى يصلِّى" فقلت بلى، قال فهو ذاك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫১৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, আমরা (দুনিয়াতে (আগমনের ক্ষেত্রে পশ্চাৎবর্তী। কিন্তু কিয়ামতের দিন (মর্যাদা ও জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে) অগ্রবর্তী। যদিও আমাদের পূর্বেই প্রত্যেক উম্মতকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের তা তাদের পরে দেওয়া হয়েছে এবং এই জুমু'আর দিন, যে দিনের সম্মান করা আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর ফরয করেছিলেন, তারা তাতে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছিল। তারপর আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে জুমু'আর দিনের বিষয়ে সঠিক পথ দেখালেন। অতএব, সে দিনের ব্যাপারে অন্যান্য মানুষ হবে আমাদের অনুসারী। (ইয়াহুদী ও নাসারাগণ) ইয়াহুদীগণ আগামীকাল (শনিবার) এবং নাসারাগণ তার পরবর্তী দিন (রবিবার) সম্মান করবে।)
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে তারা জুমু'আর দিনের ব্যাপারে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছিল। তখন আল্লাহ আমাদের জন্য সেদিন ঈদের দিন বানিয়েছেন, সুতরাং জুমু'আর দিন আমাদের জন্য, আগামীকাল (শনিবার) ইয়াহুদীদের জন্য এবং তার পরবর্তী (রবিবার) নাসারাদের জন্য।
(তাঁর তৃতীয় বর্ণনায়) আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জুমু'আর দিনের সম্মান ফরয, আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করেছিলেন, তারা তাতে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছিল, তারপর আল্লাহ আমাদেরকে সে দিন সম্পর্কে সঠিক পথ দেখালেন। অতএব, সে দিনের ব্যাপারে অন্যান্য মানুষ হবে আমাদের অনুসারী। ইয়াহুদীগণ আগামীকাল (শনিবার) এবং নাসারাগণ তার পরবর্তী দিন (রবিবারে)।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1523) عن أبى هريرة رضى الله عنه يبلغ به النَّبيَّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم نحن الآخرون ونحن السَّابقون يوم القيامة (1) بيد أنَّ كلَّ أمَّةٍ أوتيت الكتاب من قبلنا وأوتيناه من بعدهم، ثمَّ هذا اليوم الذى كتبه الله عزَّ وجلَّ عليهم (2) فاختلفوا فيه فهدانا الله له (3) فالنَّاس لنا فيه تبعٌ (1) فلليهود غدًا (2) وللنَّصارى بعد غدٍ، قال أحدهما بيد أنَّ، وقال آخرون بأيدٍ (3) (وعنه من طريقٍ ثانٍ (4) بنحوه وفيه) فاختلفوا فيه فجعله الله لنا عيدًا، فاليوم لنا (5) وغدًا لليهود، وبعد غدٍ للنَّصارى (وعنه من طريقٍ ثالثٍ) (6) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنَّ الله كتب الجمعة على من قبلنا فاختلفوا فيها وهدانا الله لها فالنَّاس لنا فيها تبعٌ، غدًا لليهود، وبعد غدٍ للنَّصارى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২০. ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁরা রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে মিম্বরের ধাপের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় বলতে শুনেছেন, হয় মানুষ জুমু'আ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, না হয় আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(নাসাঈ, ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (রা) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1524) عن ابن عمر وابن عبَّاسٍ رضي الله عنهم أنَّهما شهدا على رسول الله صلى الله عليه وسلم أنَّه قال وهو على أعواد منبره لينتهينَّ أقوامٌ عن ودعهم (1) الجمعات أو ليختمنَّ الله عزَّ وجلَّ على قلوبهم (2) وليكتبنَّ من الغافلين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২১. আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসুল (ﷺ) বলেছেন, আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমি নামাযের নির্দেশ দেব এবং নামায কায়েম করা হবে। এরপর কাঠের গোছাসহ আমার যুবকদেরকে নিয়ে বের হব এবং আযান শুনার পর যারা জামাতে হাযির হয় নি তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিব। তখন ইয়াযীদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল সেটা কি জুমু'আর সালাত না অন্য সালাত। তিনি বললেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-কে জুমু'আ ও অন্যান্য সালাত উল্লেখ করতে শুনিনি। বরং তিনি এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(মুসলিম।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1525) عن جعفرٍ ثنا يزيد بن الأصمِّ عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم لقد هممت أن آمر بالصَّلاة فتقام ثمَّ أخرج بفتيانى معهم حزم الحطب فأحرق على قوم فى بيوتهم يسمعون النِّداء ثمَّ لا يأتون الصَّلاة، فسئل يزيد أفى الجمعة هذا أم فى غيرها، قال ما سمعت أبا هريرة يذكر جمعة ولا غيرها إلَّا هكذا (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২২. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) বলেন, যে সকল মানুষ জুমু'আর সালাত থেকে অনুপস্থিত থাকে আমি সংকল্প করেছি, এক ব্যক্তিকে হুকুম দিব সে লোকদের সালাত পড়াবে। এরপর যারা হুমুআর সালাতে অনুপস্থিত ছিল আমি তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিব।
(মুসলিম। হাকেম মুসতাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1526) عن عبد الله (يعنى ابن مسعود رضى الله عنه) أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال لقوم يتخلَّفون عن الجمعة لقد هممت أن آمر رجلًا يصلى بالنَّاس ثمَّ أحرِّق على رجالٍ يتخلَّفون عن الجمعة بيوتهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২৩. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ওযর ব্যতীত পর পর তিনটি জুমু'আ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।
(নাসাঈ, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাকেম মুসতাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1527) عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما عن النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال من ترك الجمعة ثلاث مرارٍ (1) من غير عذرٍ طبع الله على قلبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২৪, আবুল জা'দ যামরী (রা) যিনি নবী করীম (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেন, যে বাক্তি তিনটি জুমু'আ ওযর ব্যতীত অবহেলা করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ইবনে মাজাহ, হাকেম মুসতাদরাক গ্রন্থে তিনি বলেন, মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী হাদীসটি সহীহ।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1528) عن أبى الجعد الضَّمريِّ رضى الله عنه وكانت له صحبةٌ قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم من ترك ثلاث جمعٍ تهاونًا من غير عذرٍ طبع الله تبارك وتعالى على قلبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ওয়াজিব হওয়া। উহা পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং কার উপর জুমু'আ ওয়াজিব
১৫২৫. আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) থেকে অন্যজন অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(হাকিম হাদীস সহীহ, উত্তম।)
كتاب الصلاة
(3) باب وجوب الجمعة والتغليظ فى تركها وعلى من تجب
(1529) عن عبد الله بن أبى قتادة عن أبيه رضى الله عنه عن النَّبيَّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم مثله
tahqiq

তাহকীক: