মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৭২৪ টি
হাদীস নং: ১৩৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৮৬) কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই নবী (ﷺ) বলেছেন যে আমি সালাত শুরু করার পর স্থির করলাম যে, তা দীর্ঘ করব, অতঃপর ছোট বাচ্চার কান্না শুনতে পেলাম, সে জন্য আমি তা সংক্ষিপ্ত করলাম। কেননা আমি জানি বাচ্চার কান্না তার মায়ের জন্য কত কষ্টদায়ক।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে।)
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1390) عن قتادة عن أنسٍ رضى الله عنه أنَّ نبي الله صلَّى الله عليه وسلَّم قال إنِّى لأدخل الصَّلاة وأنا أريد ان أطيلها فاسمع بكاء الصَّبيِّ
فأتجاوز في صلاتي مَّما أعلم من شدَّة وجد أمِّه من بكائه
فأتجاوز في صلاتي مَّما أعلم من شدَّة وجد أمِّه من بكائه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৮৭) আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ অর্থবোধক (হাদীস) বর্ণনা করেছেন।
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1391) وعن عبد الله بن أبى قتادة عن أبيه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم نحوه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৮৮) আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আফফান আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়িদ আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, আলী ইবন যায়িদ এবং হুমাইদ আমাদেরকে খবর দিয়েছেন তিনি আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) ফজরের সালাতকে সংক্ষিপ্ত করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত সংক্ষিপ্ত করলেন কেন? তিনি জবাব দিলেন, আমি এক বালকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। আর আমার মনে হয়েছে যে, তার মা আমাদের সাথে সালাত আদায় করছে। এই জন্য তার মাকে আমি দ্রুত সালাত থেকে অবসর দিতে চেয়েছি।
(হাদীসটি তবারানী মু'জামুল কাবীরে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
(হাদীসটি তবারানী মু'জামুল কাবীরে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1392) حدّثنا عبد الله حدَّثنى أبى ثنا عفَّان ثنا حمَّاد بن زيدٍ قال أنا علىُّ بن زيد وحميدٌ عن انس بن مالكٍ رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم جوَّز ذات يومٍ فى صلاة الفجر فقيل يا رسول الله لم جوَّزت؟ قال سمعت بكاء صبىّ فظننت أنَّ أمُّه معنا تصلِّى، فأردت أن أفرغ له أمه، وقد قال حَّمادٌ أيضًا فظننت أنَّ أمَّه تصلِّى معنا فأردت أن أفرغ له أمَّه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৮৯) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাতের মধ্যে বালকের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন অতঃপর তিনি সালাতকে সংক্ষিপ্ত করলেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীস মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এ হাদীসের সনদে মুহাম্মদ ইবন আজলান রয়েছে।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীস মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এ হাদীসের সনদে মুহাম্মদ ইবন আজলান রয়েছে।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1393) عن أبى هريرة رضي الله عنه سمع النَّبيُّ صلَّى الله عليه
وآله وسلَّم صوت صبيٍ فى الصلَّاة فخفّف الصَّلاة
وآله وسلَّم صوت صبيٍ فى الصلَّاة فخفّف الصَّلاة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯০) আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (ওয়ালিদ ইবন আব্দুল মালিকের শাসনামলে। মদীনায় উমর ইবন আব্দুল আযীযকে বললেন, আমি তোমাদের কাউকেই রাসূল (ﷺ)-এর ইমামতির ন্যায় ইমামতি করতে দেখি নাই। অথচ উমর ইবন আব্দুল আযীয দীর্ঘ কিরাতে সালাত আদায় করতেন না, (অর্থাৎ উমর ইবনু আবদুল আযীয দীর্ঘ আবার সংক্ষিপ্ত নয় এমন কিরাআতে সালাত আদায় করতেন।)
(হাদীসটি আবু দাউদ এবং নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
(হাদীসটি আবু দাউদ এবং নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1394) عن عبد الله بن الزُّبير عن أنس رضى الله عنه قال ما رأيت إمامًا أشبه بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من إمامكم هذا لعمر بن عبد العزيز وهو بالمدينة يومئذٍ وكان عمر لا يطيل القراءة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯১) জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) আমাদের ফরয সালাতের ইমামতি করছেন এবং তাতে কিরাআত লম্বা করতেন না আবার সংক্ষিপ্তও করতেন না বরং এর মাখামাঝি কিরাআত পড়তেন। তিনি রাতের খাবার বিলম্বে খেতেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ শব্দে এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। তবে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বুখারী ও মুসলিমে এসেছে।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ শব্দে এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। তবে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বুখারী ও মুসলিমে এসেছে।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1395) عن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال كان رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم يصلِّي بنا الصلَّاة المكتوبة ولا يطيل فيها ولا يخفِّف، وسطًا من ذلك، وكان يؤخرِّ العتمة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯২) উক্ত জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় শেষে জায়নামাযে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। আর তিনি ফজরের সালাতে ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ ক্বাফ ওয়াল কুরআনুল মাজীদে (সুরা ক্বাফ) পড়তেন। তাঁর সালাতের পরবর্তী রাকা'আত ছিল আরো সংক্ষিপ্ত।
(হাদীসটি মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে।)
(হাদীসটি মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1396) وعنه أيضًا قال كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم إذا صلَّى الفجر قعد فى مصلَّاة حتى تطلع الشَّمس، قال وكان يقرأ فى صلاة الفجر بقاف والقرآن المجيد، وكانت صلاته بعد تخفيفًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯৩) আব্দুর রাযযাক এবং ইবন বাকর আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তারা বলেন ইবন জুরাইজ আমাদেরকে খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন উসমান আমাকে খবর দিয়েছেন তিনি নাফি ইবনু সারজিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- আমরা আবু ওয়াকিদ আল বাকরী (রা)-এর নিকটে গেলাম, রাসুল (ﷺ) যে রোগে ওফাত বরণ করেন সে সম্পর্কে জানার জন্য। রাবী ইবন বাকর আল বদরী বলেন, (কোন বর্ণনায় তাঁকে লাইসী অথবা কিন্দি উল্লেখ করা হয়েছে বদরীর বদলে।) যে তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) মানুষের মাঝে সংক্ষিপ্ত সালাত আদায়কারী ছিলেন, যখন তিনি তাঁদের সালাত আদায় করিয়ে দিতেন। আর তিনি মানুষের মাঝে দীর্ঘ সালাত মাদায়কারী ছিলেন যখন নিজে নিজে সালাত আদায় করতেন।
(হাদীসটি তবারানী তার মুজামুল কাবীরে এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি তবারানী তার মুজামুল কাবীরে এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1397) حدّثنا عبد الرزَّاق وابن بكرٍ أنا جريجٍ أخبرنى عبد الله بن عثمان عن نافع بن سرجس قال عدنا أبا واقد البكرىِّ رضى الله عنه وقال ابن بكرٍ البدرىِّ "وفى روايةٍ اللَّيثىِّ وفى أخرى الكندىِّ" فى وجعه الَّذى مات فيه فسمعه يقول كان النَّبيُّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم أخفَّ النَّاس صلاة على النَّاس وأطول النَّاس صلاةً لنفسه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৫৯৪) মালিক ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুল (ﷺ)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। রুকু সিজদা পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তাঁর চেয়ে সংক্ষিপ্ত কোন সালাত আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করিনি।
(হাইসামী বলেন, হাদীসটি তবারানী মুজামুল কাবীরে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
(হাইসামী বলেন, হাদীসটি তবারানী মুজামুল কাবীরে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1398) عن مالك بن عبد الله رضي الله عنه قال غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم أصلِّ خلف إمامٍ كان أوجز منه صلاةً فى تمام الرُّكوع والسُّجود
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯৫) সালিম থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে সালাত সংক্ষিপ্ত করণের নির্দেশ দিতেন যদিও তিনি সালাতে সূরা সাফফাত তিলাওয়াত করতেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এর সনদ উত্তম।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1399) قر عن سالمٍ عن أبيه (يعنى عبد الله ابن عمر رضى الله عنهما) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا بالتَّخفيف وإن كان ليؤمُّنا بالصَّافَّات
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯৬) ইবন আবূ খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাকে সংক্ষিপ্তরূপে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (ﷺ)-এর সালাত কি এরূপ ছিল? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ এবং আরো সংক্ষিপ্ত ছিল।
(উক্ত ইবন্ আবূ খালিদ থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত হয়েছে) তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (ﷺ) কি এমনভাবে আপনাদের সালাত পড়িয়ে দিতেন। তিনি বলেন, তুমি কি আমার সালাত অস্বীকার করছ? তিনি বললেন, আমি বললাম, না। আমি এ ব্যাপারে আপনার থেকে জানতে চাচ্ছি। তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আরো সংক্ষিপ্তরূপে। আর তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল মুয়াযযিন মিনার থেকে নেমে সালাতে যোগ দেবার সমপরিমাণ সময়।
(উক্ত ইবন আবু খালিদ থেকে তৃতীয় সনদে বর্ণিত হয়েছে) তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, যে, আবু হুরায়রা (রা) মদীনায় সালাতের ইমামতি করতেন তিনি কায়েসের মতই ইমামতি করতেন। আর কায়েস সালাত দীর্ঘ করতেন না। তিনি বলেন, আমি বললাম, রাসূল (ﷺ) কি এইভাবে (সংক্ষিপ্তরূপে) সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আরো সংক্ষিপ্তরূপে।
(হাদীসটি বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ উত্তম।)
(উক্ত ইবন্ আবূ খালিদ থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত হয়েছে) তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (ﷺ) কি এমনভাবে আপনাদের সালাত পড়িয়ে দিতেন। তিনি বলেন, তুমি কি আমার সালাত অস্বীকার করছ? তিনি বললেন, আমি বললাম, না। আমি এ ব্যাপারে আপনার থেকে জানতে চাচ্ছি। তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আরো সংক্ষিপ্তরূপে। আর তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল মুয়াযযিন মিনার থেকে নেমে সালাতে যোগ দেবার সমপরিমাণ সময়।
(উক্ত ইবন আবু খালিদ থেকে তৃতীয় সনদে বর্ণিত হয়েছে) তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, যে, আবু হুরায়রা (রা) মদীনায় সালাতের ইমামতি করতেন তিনি কায়েসের মতই ইমামতি করতেন। আর কায়েস সালাত দীর্ঘ করতেন না। তিনি বলেন, আমি বললাম, রাসূল (ﷺ) কি এইভাবে (সংক্ষিপ্তরূপে) সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আরো সংক্ষিপ্তরূপে।
(হাদীসটি বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1400) عن ابن أبي خالد عن أبيه قال رأيت أبا هريرة رضى الله عنه صلَّي صلاةً تجوَّز فيها فقلت له هكذا كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال نعم وأوجز (وعنه من طريقٍ ثانٍ) عن ابيه قال قلت لأبى هريرة أهكذا كان رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم يصلِّى لكم؟ قال وما أنكرت من صلاتى؟ قال قلت أردت أن أسألك عن ذلك، قال نعم وأوجز، قال وكان قيامه قدر ما ينزل المؤذَّن من المنارة وصل إلى الصَّف (وعنه من طريقٍ ثالثٍ) عن أبيه أنَّ أبا هريرة كان يصلِّى بهم بالمدينة نحوًا من صلاة قيسٍ وكان قيس لا يطوِّل، قال قلت هكذا كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يصلّم؟ قال نعم وأوجز
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ রাসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণতার সাথে সালাতের ইমামতির সংক্ষিপ্ততা
(১৩৯৭) হায়্যান আল বারেকী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবন উমর (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হল, আমাদের ইমাম সালাতকে দীর্ঘ করেন, ইবন উমর (রা) জবাবে বললেন, রাসূল (ﷺ)-এর দু'রাকা'আত সালাত এই ইমামের এক রাক'আত-এর মত বা তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এর সনদ উত্তম।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب تخفيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس مع اتمامها
(1401) عن حيَّان (يعنى البارقىَّ) قال قيل لابن عمر رضي الله عنهما
إنَّ إمامنا يطيل الصلَّاة، فقال ابن عمر ركعتان من صلاة رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم أخفُّ أو مثل ركعةٍ من صلاة هذا
إنَّ إمامنا يطيل الصلَّاة، فقال ابن عمر ركعتان من صلاة رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم أخفُّ أو مثل ركعةٍ من صلاة هذا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) অধ্যায়: সালাত শুরুর পরে ইমামের অপবিত্রতার কথা মনে হলে তার হুকুম
(১৩৯৮) আলী ইবন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করতাম, একদিন হঠাৎ করে তিনি সালাত থেকে চলে গেলেন। তখনও আমরা দাঁড়িয়েই ছিলাম, অতঃপর তিনি আসলেন এমতাবস্থায় তাঁর চুল থেকে পানি টপটপ করে (ফোঁটায় ফোঁটায়) পড়ছিল। অতঃপর তিনি আমাদের সালাত আদায় করিয়ে দিলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, আমি যখন সালাতে দাঁড়ালাম তখন আমার মনে হল যে, আমি নাপাকী হয়েছিলাম কিন্তু গোসল করি নি। (সে জন্যই সালাত থেকে ভিতরে গেলাম এবং গোসল সেরে আসলাম।)
অতএব, তোমাদের যে গণ্ডগোল মনে হবে (পায়খানার প্রয়োজন হবে) অথবা আমার মত অবস্থা হবে তার উচিত সালাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া। অতঃপর তার প্রয়োজন পূরণ করবে কিংবা গোসল করে পুনর্বার সালাতে যোগ দিবে।
(হাদীসটি বাযযার ও তবারানী মু'জামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে ইবন লাহিয়া নামক রাবী রয়েছেন, যিনি দুর্বল। তবে হাদীসটিকে অন্যান্য হাদীস শক্তিশালী করে।)
অতএব, তোমাদের যে গণ্ডগোল মনে হবে (পায়খানার প্রয়োজন হবে) অথবা আমার মত অবস্থা হবে তার উচিত সালাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া। অতঃপর তার প্রয়োজন পূরণ করবে কিংবা গোসল করে পুনর্বার সালাতে যোগ দিবে।
(হাদীসটি বাযযার ও তবারানী মু'জামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে ইবন লাহিয়া নামক রাবী রয়েছেন, যিনি দুর্বল। তবে হাদীসটিকে অন্যান্য হাদীস শক্তিশালী করে।)
كتاب الصلاة
(7) باب حكم الأمام اذا ذكر أنه محدث
(1402) عن علىَّ بن أبى طالبٍ رضى الله عنه قال بينما نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نصلِّى إذ انصرف ونحن قيامٌ ثمَّ أقبل ورأسه بقطر فصلَّى لنا الصَّلاة، ثمَّ إنِّى ذكرت أنِّي كنت جنبًا حين قمت إلى الصَّلاة لم
أغتسل، فمن وجد منكم فى بطنه رزًّا أو كان مثل ما كنت عليه فلفينصرف حتَّى يفرغ من حاجته أو غسله ثمَّ يعود إلى صلاته
أغتسل، فمن وجد منكم فى بطنه رزًّا أو كان مثل ما كنت عليه فلفينصرف حتَّى يفرغ من حاجته أو غسله ثمَّ يعود إلى صلاته
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) অধ্যায়: সালাত শুরুর পরে ইমামের অপবিত্রতার কথা মনে হলে তার হুকুম
(১৩৯৯) আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাত শুরু করলেন, অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বাঁধলেন, এরপর তিনি সাহাবীদের ইঙ্গিত করে বলে দিলেন তোমরা তোমাদের স্থানে ঠিক থাক (অর্থাৎ সালাতের হালতেই দাঁড়িয়ে থাকা) অতঃপর তিনি (ভিতরে) প্রবেশ করলেন-কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসলেন এমতাবস্থায় তাঁর মাথা থেকে পানি টপটপ করে পড়ছিল। এরপর তিনি সালাত সম্পন্ন করে দিলেন। এবার তিনি বললেন, আমিও তো মানুষ এবং আমিও নাপাক হয়ে থাকি।
(উক্ত আবূ বাকরা (রা) থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত তিনি বলেন,) নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) একদিন ফজরের সালাতে প্রবেশ করলেন, (শুরু করলেন) অতঃপর হাদীসটি পুরোপুরি উল্লেখ করলেন।
(হাদীসটি ইমাম মালিকের মুয়াত্তায়, বাইহাকীতে এবং আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে।)
(উক্ত আবূ বাকরা (রা) থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত তিনি বলেন,) নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) একদিন ফজরের সালাতে প্রবেশ করলেন, (শুরু করলেন) অতঃপর হাদীসটি পুরোপুরি উল্লেখ করলেন।
(হাদীসটি ইমাম মালিকের মুয়াত্তায়, বাইহাকীতে এবং আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(7) باب حكم الأمام اذا ذكر أنه محدث
(1403) عن أبى بكرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم استفتح الصَّلاة فكبَّر ثمَّ أومأ إليهم أن مكانكم ثمَّ دخل فخرج وراسه يقطر فصلَّى بهم فلمَّا قضى الصَّلاة قال إنَّما أنا بشرٌ وإنِّى كنت جنبًا (وعنه من طريقٍ ثانٍ) أنَّ النبيَّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم دخل في صلاة الفجر فذكر الحديث
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) অধ্যায়: সালাত শুরুর পরে ইমামের অপবিত্রতার কথা মনে হলে তার হুকুম
(১৪০০) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, অতঃপর যখন তাকবীরে তাহরীমা বলা হল, এরপর তিনি সালাত থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং সাহাবীদের ইঙ্গিত করলেন অর্থাৎ তোমরা স্বস্থানে বহাল থাকো। এরপর বেরিয়ে গেলেন অতঃপর গোসল করলেন এরপর আসলেন। এমতাবস্থায় তাঁর মাথা থেকে পানি টপটপ করে ঝরছিল। এরপর তিনি (ইমামতি) সালাত সম্পন্ন করিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন সালাত শেষ হল, তিনি বললেন, আমি নাপাক হয়েছিলাম। অতঃপর গোসল করতে ভুলে গিয়েছি।
(উক্ত আবূ হুরায়রা থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত) তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত বলা হলো মানুষেরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেল এবং রাসূল (ﷺ) বেরিয়ে গেলেন এবং সাহাবীদের হাতের ইশারায় বলে গেলেন স্বস্থানে অবস্থান করতে। তিনি বাইরে এলেন, গোসল করলেন এবং তাঁর মাথা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছিল, এমনি অবস্থায় তাঁদের সালাত আদায় করিয়ে দিলেন।
(হাইসামী বলেন, হাদীসটি তবারানী মু'জামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরো বলেন, এ হাদীসের রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবীদের ন্যায় গুণাবলী সম্পন্ন।)
(উক্ত আবূ হুরায়রা থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত) তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত বলা হলো মানুষেরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেল এবং রাসূল (ﷺ) বেরিয়ে গেলেন এবং সাহাবীদের হাতের ইশারায় বলে গেলেন স্বস্থানে অবস্থান করতে। তিনি বাইরে এলেন, গোসল করলেন এবং তাঁর মাথা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছিল, এমনি অবস্থায় তাঁদের সালাত আদায় করিয়ে দিলেন।
(হাইসামী বলেন, হাদীসটি তবারানী মু'জামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরো বলেন, এ হাদীসের রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবীদের ন্যায় গুণাবলী সম্পন্ন।)
كتاب الصلاة
(7) باب حكم الأمام اذا ذكر أنه محدث
(1404) عن ابى هريرة رضى الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم خرج إلى الصَّلاة فلمَّا كبَّر انصرف وأومأ إليهم أي كما أنتم ثمَّ خرج فاغتسل ثمَّ جاء ورأسه يقطر فصلَّى بهم فلمَّا صلَّى قال إنِّى كنت جنبًا فنسيت أن أغتسل (وعنه من صريقٍ ثانٍ) قال أقيمت الصَّلاة وصفَّ النَّاس صفوفهم وخرج رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلم فقام مقامه ثمَّ أومأ إليهم بيده أن مكانكم فخرج وقد اغتسل ورأسه ينطف فصلَّى بهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অধ্যায়: সালাতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর উপস্থিতিতে প্রতিনিধির স্থানত্যাগ জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে
(১৪০১) সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বানী আমর ইবন আউফের মাঝে বিবাদ ছিল। এ সংবাদ রাসুল (ﷺ)-এর কাছে এসে পৌছলে রাসূল (ﷺ) যোহরের পরে তাদের বিবাদ নিরসনের জন্য তাদের গোত্রে আসলেন। (আসবার প্রাক্কালে) তিনি বললেন, হে বেলাল, সালাতের সময় যদি হয়ে যায় আর আমি না আসি তবে আবু বকরকে বলবে সে যেন সালাত পড়িয়ে দেয়। রাবী বলেন, অতঃপর আসরের সময় সমাগত হলে বেলাল সালাতের একামাত বললেন, (কোন কোন বর্ণনায় আছে তিনি আযান দিলেন, অতঃপর একামাত বললেন) এবং আবু বকরকে সালাত পড়িয়ে দেয়ার কথা বললেন। তিনি (ইমামের স্থানে) অগ্রগামী হলেন, সালাত পড়ানোর উদ্দেশ্যে। আবু বকর সালাত আরম্ভ করার পরে রাসূল (ﷺ) আসলেন, অতঃপর তিনি যখন দেখলেন মুক্তাদীরা হাততালি দিচ্ছে। আর রাসূল (ﷺ) জামা'আত ঠেলে সামনে এগুচ্ছেন এমনকি ঠিক আবূ বকরের পিছনের সারিতে দাঁড়ালেন। আর আবু বকরের অভ্যাস ছিল যে, তিনি যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। অতঃপর তিনি লক্ষ্য করলেন হাততালি অনবরত চলছেই। তিনি তৎপ্রতি খেয়াল করলেন, দেখলেন রাসূল (ﷺ)-কে তাঁর পিছনে দাঁড়ানো। তখন রাসূল (ﷺ) তাঁকে হাতের ইশারায় সালাত চালিয়ে যেতে বললেন। অতঃপর আবু বকর শান্ত চিত্তে দাঁড়ালেন এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি সালাতকে ধীরগতি করলেন। রাবী বলেন, এরপর রাসূল (ﷺ) সামনে গেলেন এবং সালাত পড়িয়ে দিলেন। অতঃপর যখন রাসূল (ﷺ) সালাত সম্পন্ন করলেন। তখন বললেন, হে আবু বকর। আমি তোমাকে ইশারা করার পরেও সালাত চালিয়ে যেতে কে তোমাকে বারণ করল? রাবী বলেন, আবু বকর বললেন, ইবন আবু কুহাফার (আবু বকর) জন্য রাসূলের ইমামতি করা সমীচিন নয়। অতঃপর তিনি সকল মানুষকে লক্ষা করে বললেন, যখন তোমাদের সালাতে কোন কিছু ঘটে যাবে তখন পুরুষরা তাসবীহ বলবে আর মহিলারা হাত তালি দিবে।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা হাততালি দিলে কেন? তাঁরা জবাব দিলো, আবু বকরকে জানান দেয়ার জন্য (আপনার আগমন)। তিনি বললেন, হাততালি মহিলাদের জন্য আর তাসবীহ পুরুষদের জন্য।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম। আবু দাউদ ও নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে।)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা হাততালি দিলে কেন? তাঁরা জবাব দিলো, আবু বকরকে জানান দেয়ার জন্য (আপনার আগমন)। তিনি বললেন, হাততালি মহিলাদের জন্য আর তাসবীহ পুরুষদের জন্য।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম। আবু দাউদ ও নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(8) باب جواز الاستخلاف فى الصلاة وجواز انتقال الخليفة مأموما اذا حضر مستخلفة
(1405) عن سهل بن سعدٍ رضى الله عنه قال كان قتالٌ بين بنى عمرو ابن عوف فبلغ النَّبىَّ صلى الله عليه وسلم فأتاهم بعد الظُّهر ليصلح بينهم وقال يابلال إن حضرت الصَّلاة ولم آت فمر أبا بكرٍ يصلِّ بالنَّاس، قال فلمَّا حضرت العصر أقام بلالٌ الصلَّاة (وفى روايةٍ أذَّن ثمَّ أقام) ثمَّ أمر أبا بكرٍ فتقدَّم بهم وجاء رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم بعد ما دخل أبو بكرٍ في الصلَّاة فلمَّا رأوه صفَّحوا وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم يشقُّ النَّاس حتَّى قام خلف أبى بكرٍ قال وكان أبو بكرٍ إذا دخل الصَّلاة لم يلتفت فلما رأى التَّصفيح لا يمسك عنه التفت فرأى النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم خلفه فأومأ إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده أن أمضه فقام أبو بكر هنيَّة فحمد الله على ذلك ثم مشى القهقري قال فتقدَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلَّى بالنَّاس، فلمَّا قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قال يا أبا بكرٍ مامنعك إذ أومأت إليك أن لا تكون مضيت "وفى رواية أن تمضى" فى صلاتك، قال فقال أبو بكرٍ لابن أبى قحافة أن يؤمَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال للنَّاس إذانا بكم في صلاتكم شيءٌ فليسبِّح الرِّجال وليصفِّح "وفى روايةٍ وليصفِّق" النِّساء "وفي روايةٍ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنتم لم صفَّحتم؟ قالوا لنعلم أبا بكرٍ، قال إنَّ التَّصفيح للنِّساء والتَّسبيح للرِّجال
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অধ্যায়: সালাতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর উপস্থিতিতে প্রতিনিধির স্থানত্যাগ জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে
(১৪০২) আব্বাস ইবনু আব্দুল মোত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) জীবনের শেষ অসুস্থতার সময় বলেছেন, তোমরা আবূ বকরকে বল, সে যেন মানুষের সালাত পড়িয়ে দেয়। আবু বকর বের হলেন (একামাতের) তাকবীর বলা হলো (অর্থাৎ সালাত আরম্ভ করলেন) এমতাবস্থায় রাসূল (ﷺ) একটু সুস্থতাবোধ করলেন। এরপর তিনি দুইজন ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে বের হলেন। অতঃপর তিনি যখন দেখলেন যে. আবু বকর বিলম্ব করছে তখন তিনি তাঁকে তাঁর স্থানে থাকবার ইশারা দিলেন। অতঃপর রাসুল (ﷺ) আবু বকরের পাশে বসলেন এবং আবু বকর (রা) যেখানে সূরার ক্বিরাত পড়ছিলেন রাসুল (ﷺ) সেখান থেতেই কিরাত গুরু করলেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, আমি আব্বাস ইবন আব্দুল মোত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, আমি আব্বাস ইবন আব্দুল মোত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাই নি। এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(8) باب جواز الاستخلاف فى الصلاة وجواز انتقال الخليفة مأموما اذا حضر مستخلفة
(1406) عن العبَّاس بن عبد المطَّلب رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في مرضه مروا أبا بكرٍ صلِّى بالنَّاس، فخرج أبو بكرٍ فكبَّر، ووجد النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم راحةً فخرج يهادى بين رجلين، فلمَّا رآه أبو بكرٍ تأخَّر، فأشار إليه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم مكانك، ثمَّ جلس رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم إلى جنب أبى بكرٍ فاقترأ من المكان الذَّى بلغ أبو بكرٍ رضي الله عنه من السورة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অধ্যায়: সালাতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর উপস্থিতিতে প্রতিনিধির স্থানত্যাগ জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে
(১৪০৩) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল (ﷺ) (শেষ বারের মত) অসুস্থ হলেন তিনি আবু বকর (রা)-কে সালাতের ইমামতির নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি কিছুটা সুস্থতা বোধ করলেন, তখন সালাতের উদ্দেশ্যে তিনি বের হলেন, তাঁর উপলব্ধি হল যে, আবু বকর ইমামতি বাদ দেয়ার ইচ্ছা করছে তখন রাসূল (ﷺ) তাঁকে (ইমামতি চালিয়ে যেতে) ইঙ্গিত দিলেন। এরপর তিনি আবু বকরের বাম পাশে বসলেন এবং সে যেখান থেকে তিলাওয়াত শেষ করেছে সেই আয়াত থেকে তিলাওয়াত শুরু করলেন।
(উক্ত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) দ্বিতীয় সনদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন এবং বসলেন, রাবী বলেন, আর আবু বকর রাসূল (ﷺ)-এর ডান পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন। নবী (ﷺ) তখন আবু বকর-এর ইমামতি করেন আর সবাই আবু বকরের ইমামতিতে (সালাত আদায় রত) ছিল। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন, আর রাসূল (ﷺ) আবু বকর যেখান থেকে কিরাআত শেষ করেছেন সেখান হতে তিলাওয়াত শুরু করলেন। রাসূল (ﷺ) এই অসুখেই ওফাতবরণ করেন।
(হাদীসটি ইবন মাজাহয় বর্ণিত হয়েছে।)
(উক্ত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) দ্বিতীয় সনদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন এবং বসলেন, রাবী বলেন, আর আবু বকর রাসূল (ﷺ)-এর ডান পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন। নবী (ﷺ) তখন আবু বকর-এর ইমামতি করেন আর সবাই আবু বকরের ইমামতিতে (সালাত আদায় রত) ছিল। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন, আর রাসূল (ﷺ) আবু বকর যেখান থেকে কিরাআত শেষ করেছেন সেখান হতে তিলাওয়াত শুরু করলেন। রাসূল (ﷺ) এই অসুখেই ওফাতবরণ করেন।
(হাদীসটি ইবন মাজাহয় বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(8) باب جواز الاستخلاف فى الصلاة وجواز انتقال الخليفة مأموما اذا حضر مستخلفة
(1407) عن ابن عبَّاس رضي الله عنهما قال لماَّ مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أبا بكرٍ أن يصلَّى بالنَّاس، ثمَّ وجد خفَّة فخرج، فلمَّا أحس به أبو بكرٍ أراد أن ينكص فأومأ إليه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم فجلس إلى جنب أبى بكرٍ عن يساره واستفتح من الآية الَّتى انتهى إليها أبو بكر (وعنه من طريقٍ ثانٍ بنحوه وفيه) فجاء النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم حتَّى جلس، قال وقام أبو بكرٍ عن يمينه وكان أبو بكرٍ يأتمُّ بالنَّبيَّ صلى الله عليه وسلم والنَّاس يأتمُّون بأبى بكرٍ قال ابن عبَّاسٍ وأخذ النَّبيُّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم من القراءة من حيث بلغ أبو بكرٍ، ومات فى مرضه ذاك عليه الصَّلاة والسَّلام
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অধ্যায়: সালাতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর উপস্থিতিতে প্রতিনিধির স্থানত্যাগ জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে
(১৪০৪) আয়িশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময়ে আবূ বকর (রা)-কে সালাতের ইমামতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূল (ﷺ) আবু বকরের পাশে বসে বসে ইমামতি করতেন আর আবূ বকর (রা) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাতের ইমামতি করতেন। আর মানুষরা তাঁর পিছনে থাকতো। (অন্য শব্দে) আবূ বকর (রা) নবী (ﷺ)-এর ইমামতিতে এবং মানুষ আবূ বকর-এর ইমামতিতে সালাত আদায় করতেন।
(হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(8) باب جواز الاستخلاف فى الصلاة وجواز انتقال الخليفة مأموما اذا حضر مستخلفة
(1408) عن عائشة رضى الله عنها أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أبا بكرٍ أن يصلَّى بالنَّاس في مرضه الَّذى مات فيه، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بين يدى أبى بكرٍ يصلِّى بالنَّاس قاعدًا وأبو بكرٍ يصلِّى بالنَّاس والنَّاس خلفه (وفي لفظٍ) كان أبو بكرٍ يأتمُّ بالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم والنَّاس يأتمُّون بأبي بكرٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৯) অধ্যায়: একাকী বাক্তি সালাত আদায় করার পর ইমামতি জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে
(১৪০৫) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) রমযান মাসে সালাত আদায় করছিলেন, আমি এলাম অতঃপর তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম, রাবী বলেন, অতঃপর একব্যক্তি এল এবং আমার পাশে দাঁড়াল এরপর আরেকজন। এভাবে আমরা কয়েকজন (ছোট একটা দল) হয়ে গেলাম। অতঃপর রাসূল (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরাও তাঁর পিছনে (সালাতে যোগ দিয়েছি) তখন তিনি সালাতকে সংক্ষিপ্ত করলেন, এখন সালাত শেষে বাড়ি গিয়ে এমনভাবে সালাত শুরু করলেন যেমনটি আমাদের সামনে করেন নাই। রাবী বলেন, অতঃপর যখন আমরা সকাল করলাম অর্থাৎ পরদিন সকালে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি গতরাতে আমাদের জন্য বিরক্তবোধ করেছেন। রাসূল (ﷺ) জবাব দিলেন, হ্যাঁ। তোমাদের কারণে বিরক্তবোধ করার কারণেই আমি অনুরূপ (সংক্ষিপ্ত সালাত আদায়) করেছি।
(বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী।)
(বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
(9) باب جواز انتقال المنفرد إماماً
(1409) عن أنس (بن مالكٍ) رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلَّى فى رمضان فجئت فقمت خلفه، قال وجاء فقام إلى جنبى، ثمَّ جاء آخر حتَّى كنَّا رهطًا، فلمَّا أحسَّ رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم أنَّا خلفه تجوَّز فى الصَّلاة، ثمَّ فدخل منزله فصلَّى صلاةً لم يصلِّها عندنا، قال فلمَّا أصبحنا قال قلنا يا رسول الله أفطنت بنا اللَّيلة؟ قال نعم، فذاك الَّذى حملنى على الَّذي صنعت "الحديث"
তাহকীক: