মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৭২৪ টি
হাদীস নং: ১২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২১) আনাস ইবন্ মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আসরের নামায আদায় করার পর বসবে এবং ভাল কথা বলতে থাকবে, (যিকির ইত্যাদি) এভাবে সন্ধ্যা হবে, সে ব্যক্তির এ আমল ইসমাঈল গোত্রের আটজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করার চেয়েও উত্তম।
(অন্য কোনো গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে বলে জানা যায় না। এর সনদ উত্তম।)
(অন্য কোনো গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে বলে জানা যায় না। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(121) عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
من صلى العصر فجلس يملى خيرًا حتى يمسى كان أفضل من عتق ثمانيةٍ م ولد إسماعيل
من صلى العصر فجلس يملى خيرًا حتى يمسى كان أفضل من عتق ثمانيةٍ م ولد إسماعيل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২২) আবু বসরা আল-গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদের সাথে আসরের নামায আদায় করলেন, অতঃপর নামায শেষে বলেন, এই নামায তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিকট পেশ করা হয়েছিল, তারা এই নামাযকে অবহেলা করে ছেড়ে দিয়েছিল, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ নামায আদায় করবে তাকে এর দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তারকা দেখা না যাওয়া পর্যন্ত এরপরে আর কোন নামায নেই।
(মুসলিম ও নাসাঈ।)
(মুসলিম ও নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(122) عن أبى بصرة الغفارىِّ رضى الله عنه قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة العصر فلما انصرف قال إن هذه الصلاة عرضت على من كان قبلكم فتوانوا فيها وتركوها، فمن صلاها منكم ضعِّف له أجرها ضعفين، ولا صلاة بعدها حتى يرى الشَّاهد، والشاهد النَّجم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৩) আবূ হুরায়রা (রা) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ফজর ও আসরের নামাযের সময় দিন ও রাতের ফেরেশতারা একত্রিত হয়। তিনি বলেন, ফজরের নামাযের সময় তারা একত্রিত হয় অতঃপর রাত্রের ফেরেশ্তারা চলে যায় এবং দিনের ফেরেশতারা স্থলাভিষিক্ত হয়। তিনি বলেন, এরপর আসরের সময় তারা একত্রিত হয় এবং দিনের ফেরেশতারা চলে যায় এবং রাতের ফেরেশতারা তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তিনি বলেন, তাঁদের রব তখন তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাহদের কি অবস্থায় ছেড়ে আসলে? ফেরেশতারা তখন বলেন আমাদের যাওয়া এবং আসা উভয় অবস্থায় তারা নামায আদায় করতো।
সুলাইমান (অর্থাৎ আ'মাশ বর্ণনাকারীদের একজন) বলেন, আমার জানা মতে তিনি (অর্থাৎ আবূ হুরায়রা (রা)) বলেন যে, (ফেরেশতারা তখন আরো বলে হে আল্লাহ) কিয়ামতের দিন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েন।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ।)
সুলাইমান (অর্থাৎ আ'মাশ বর্ণনাকারীদের একজন) বলেন, আমার জানা মতে তিনি (অর্থাৎ আবূ হুরায়রা (রা)) বলেন যে, (ফেরেশতারা তখন আরো বলে হে আল্লাহ) কিয়ামতের দিন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েন।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(123) عن أبى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال تجتمع ملائكة الليل والنهار فى صلاة الفجر وصلاة العصر، قال فيجتمعون فى صلاة الفجر، قال فتصعد ملائكة الليل وتثبت ملائكة النهار، قال ويجتمعون فى صلاة العصر، قال فيصعد ملائكة النهار وتثبت ملائكة الليل، قال فيسألهم ربهم كيف تركتم عبادى؟ قال فيقولون أتيناهم وهم يصلون وتركناهم وهم يصلون، قال سليمان "يعنى الأعمش أحد الرواة" ولا أعلمه إلا قد قال فيه فاغفر لهم يوم الدِّين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৪) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন রাসূল (ﷺ) বলেন, ওরা (কাফিররা) আমাদেরকে আসরের নামায আদায় করা থেকে বিরত রাখল, আল্লাহ্ তাদের কবর ও ঘরবাড়ী আগুনে পূর্ণ করুন।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) উক্ত নামায দুই ইশার মধ্যবর্তী সময়ে অর্থাৎ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) উক্ত নামায দুই ইশার মধ্যবর্তী সময়ে অর্থাৎ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(124) عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الأحزاب شغلونا عن الصلاة الوسطى صلاة العصر، ملأ الله قبورهم وبيوتهم نارًا، قال ثم صلَّاتها بين العشاءين بين المغرب والعشاء، وقال أبو معاوية (أحد الرواة مرة يعنى بين المغرب والعشاء
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৫) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ফজরের নামাযকে 'উসতা' মধ্যবর্তী নামায মনে করতাম। রাসূল (ﷺ) বলেন, আসরের নামাযই হচ্ছে সালাতুল উসতা অর্থাৎ মধ্যবর্তী নামায।
(হাদীসটির সনদ উত্তম।)
(হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(125) زوعنه أيضًا رضى الله عنه قال كنا نراها الفجر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هى صلاة العصر، يعنى صلاة الوسطى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৬) আব্দুল্লাহ্ ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের সাথে লড়াই করার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে রাসূল (ﷺ) আসরের নামায আদায় করেন। অনুরূপ অবস্থার কারণে রাসূল (ﷺ) বলেন, হে আল্লাহ, যারা নির্ধারিত সময়ে 'সালাতুল উসতা' আদায় করতে বাধার সৃষ্টি করেছে তুমি তাদের কবর ও ঘরবাড়ী আগুনে পূর্ণ করে দাও অথবা অনুরূপ কিছু কর।
(হায়ছামী বলেন হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং তবারানী কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(হায়ছামী বলেন হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং তবারানী কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(126) عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قاتل النبى صلى الله عليه وسلم عدوًّا فلم يفرغ منهم حتى أخَّر العصر عن وقتها، فلما رأى ذلك، قال اللهم من حبسنا
عن الصلاة الوسطى فاملأ بيوتهم نارًا واملأ قبورهم نارًا ونحو ذلك
عن الصلاة الوسطى فاملأ بيوتهم نارًا واملأ قبورهم نارًا ونحو ذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৭) সামুরা ইবন্ জুনদুর (রা) থেকে, বর্ণিত রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'সালাতুল উসতা' হলো আসরের সালাত।
(তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইলম অধ্যায়ের ৭ম পরিচ্ছেদে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।)
(তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইলম অধ্যায়ের ৭ম পরিচ্ছেদে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(127) عن سمرة بن جندبٍ رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الصلاة الوسطى صلاة العصر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৮) যায়েদ ইবন্ সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, 'সালাতুল উসতা' সম্পর্কে মারওয়ান জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'সালাতুল উসতা' হচ্ছে যোহর। যায়েদ ইবন্ সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ান তাঁকে মধ্যবর্তী নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তা হচ্ছে যোহরের নামায।
(হাদীসটি ইলম অধ্যায়ের ৭ম পরিচ্ছেদে বিস্তারিত উল্লেখ হয়েছে।)
(হাদীসটি ইলম অধ্যায়ের ৭ম পরিচ্ছেদে বিস্তারিত উল্লেখ হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(128) عن زيد بن ثابت رضى الله عنه وقد سأله مروان عن الصلاة الوسطى فقال هى الظهر
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: আসর নামাযের মর্যাদা ও আসরই যে মধ্যবর্তী নামায তার বর্ণনা
(১২৯) আয়িশা (রা)-এর গোলাম আবূ ইউনূস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আয়িশা (রা) আমাকে কুরআনের একটি কপি লিখতে বলেন, তিনি (আয়িশা রা) বলেন, তুমি যখন কুরআনের "তোমরা নামাযের হিফাযত কর বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের” এই আয়াত পর্যন্ত পৌছবে তখন আমাকে জানাবে। আমি যখন উক্ত আয়াত পর্যন্ত পৌঁছালাম তখন তাঁকে অবহিত করলে তিনি আমাকে লিখালেন "তোমরা নামাযসমূহের হিফাযত কর বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের (আসরের নামাযের) আর তোমরা আল্লাহর সামনে দাঁড়াও একান্ত আদবের সাথে।” তিনি (আয়িশা রা) বলেন, আমি ইহা রাসূল (ﷺ)-এর নিকট থেকে এরূপ শুনেছি।
(মুসলিম শরীফ, ইমাম মালিক ও শাফেঈ (রহ) ও আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।)
(মুসলিম শরীফ, ইমাম মালিক ও শাফেঈ (রহ) ও আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
(5) باب فضل صلاة العصر وبيان أنها الوسطى
(129) عن أبى يونس مولى عائشة رضى الله عنها قال أمرتنى عائشة أن اكتب لها مصحفًا، قالت إذا بلغت إلى هذه الآية (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى) فآذنى، فلما بلغها آذنتها فأملت علىَّ (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى وصلاة العصر وقوموا لله قانتينً) قالت سمعتها
من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم
من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩০) ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের নামায আদায় করলো না, শেষ পর্যন্ত সূর্য অস্ত গেল, (অর্থাৎ আসরের নামায আদায় করলো না) সে যেন তার সম্পদ এবং পরিবারকে ধ্বংস করলো। অপর এক বর্ণনায়, শাইবান (বর্ণনাকারীদের একজন) অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে বলেন, অর্থাৎ সে তার ধন ও পরিবার পরিজনকে খুইয়ে দিয়েছে।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।)
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(130) عن ابن عمر رضى الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من ترك العصر (وفى لفظ الذى تفوته صلاة العصر) متعمدًا حتى تغرب الشمس فكأنما وتر أهله وماله زاد فى روايةٍ وقال شيبان (أحد الرواة)
يعني غلب على أهله وماله
يعني غلب على أهله وماله
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩১) আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের নামায ছেড়ে দিল সে তার যাবতীয় আমল ধ্বংস করলো।
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(131) عن أبى الدرداء رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من ترك صلاة العصر متعمِّدًا حتى تفوته فقد أحبط عمله
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩২) 'আলা ইবন আব্দুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আনসারদের এক ব্যক্তি যোহরের নামায পড়ে আনাস (রা)-এর নিকট গেলাম, তিনি তখন দাসীকে ওযূর পানি দিতে বললেন, আমরা তখন বললাম, আপনি কোন নামায় পড়বেন? তিনি বললেন, আসরের নামায। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আমরা এইমাত্র যোহরের নামায পড়েছি। তখন তিনি বলেন আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, এ জাতীয় নামায হচ্ছে মুনাফিকের। কেননা তারা সূর্য শয়তানের দুইশিং-এর মধ্যবর্তী স্থানে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে নামায পড়ে এবং এতে তারা আল্লাহর যিকিরের সুযোগ খুব কমই পায়।
(অন্য বর্ণনায় আনাস (রা) বলেন) ইহা হচ্ছে মুনাফিকের নামায। তিনবার বলেন। তাদের মধ্যে কেউ সূর্য হরিদ্রবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আসরের নামায না পড়ে বসে থাকে এবং সূর্য যখন শয়তানের শিংয়ের মধ্যে চলে যায় তখন সে দাঁড়িয়ে চারবার ঠোকর মারে অর্থাৎ খুব তড়িঘড়ি করে চার রাক'আত নামায আদায় করে তাতে সে আল্লাহর যিকিরের খুব কম সময়ই পেয়ে থাকে।
(মুসলিম, বায়হাকী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ ।)
(অন্য বর্ণনায় আনাস (রা) বলেন) ইহা হচ্ছে মুনাফিকের নামায। তিনবার বলেন। তাদের মধ্যে কেউ সূর্য হরিদ্রবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আসরের নামায না পড়ে বসে থাকে এবং সূর্য যখন শয়তানের শিংয়ের মধ্যে চলে যায় তখন সে দাঁড়িয়ে চারবার ঠোকর মারে অর্থাৎ খুব তড়িঘড়ি করে চার রাক'আত নামায আদায় করে তাতে সে আল্লাহর যিকিরের খুব কম সময়ই পেয়ে থাকে।
(মুসলিম, বায়হাকী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ ।)
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(132) عن العلاء بن عبد الرحمن قال دخلنا على أنس بن مالك أنا ورجل من الأنصار حين صلينا الظهر، فدعا الجارية بوضوء، فقلنا له أىَّ صلاة تصلى؟ قال العصر، قال قلنا إنما صلينا الظهر الآن، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تلك صلاة المنافق، يترك الصلاة حتى إذا كانت فى قرنى الشيطان أو بين قرنى الشيطان صلى لا يذكر الله فيها إلا قليلًا (وعنه من
طريقٍ ثانٍ بنحوه وفيه قال أنسٌ) تلك صلاة المنافقين ثلاث مرَّاتٍ يجلس أحدهم حتَّى إذا اصفرَّت الشَّمس وكانت بين قرني شيطانٍ قام نقر أربعًا لا يذكر الله فيها إلاَّ قليلًا.
طريقٍ ثانٍ بنحوه وفيه قال أنسٌ) تلك صلاة المنافقين ثلاث مرَّاتٍ يجلس أحدهم حتَّى إذا اصفرَّت الشَّمس وكانت بين قرني شيطانٍ قام نقر أربعًا لا يذكر الله فيها إلاَّ قليلًا.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩৩) আনাস ইবন্ মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন যে, আমি কি তোমাদেরকে মুনাফিকের নামায সম্পর্কে বলবো? মুনাফিকের নামায হচ্ছে, তারা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী হওয়া পর্যন্ত আসরের নামায বিলম্ব করতে থাকে এবং মোরগের ন্যায় ঠোকর মারে অর্থাৎ তড়িঘড়ি করে নামায সেরে ফেলে। যাতে তারা আল্লাহর স্মরণের খুব কম সময়ই পেয়ে থাকে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(133) عن أنس بن مالكٍ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا أخبركم بصلاة المنافق، يدع العصر حتَّى إذا كانت بين قرني الشَّيطان أو على قرني الشَّيطان قام فنقرها نقرات الدِّيك لا يذكر الله فيها إلاَّ قليلًا.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাযের সময় এবং মাগরিবের নামায যে দিনের বিতর তার বিবরণ
(১৩৪) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায পড়তাম। অতঃপর আমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি বনী সালামায় আসতো এমতাবস্থায় যে, সে তাঁর তীরের পতিত স্থান দেখতে পেত।
(হাদীসটির সনদ ভালো।)
(হাদীসটির সনদ ভালো।)
كتاب الصلاة
(7) باب وقت المغرب وأنها وتر صلاة النهار
(134) عن أنس بن مالكٍ رضى الله عنه قال كنَّا نصلِّى مع رسول الله
صلى الله عليه وسلم الغرب ثمَّ يجيُّ أحدنا إلى بني سلمة وهو يرى مواقع نبله.
صلى الله عليه وسلم الغرب ثمَّ يجيُّ أحدنا إلى بني سلمة وهو يرى مواقع نبله.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাযের সময় এবং মাগরিবের নামায যে দিনের বিতর তার বিবরণ
(১৩৫) আসলাম গোত্রের জনৈক সাহাবী থেকে, তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায পড়তেন। অতঃপর নামায শেষে তারা শহরের উপকণ্ঠে তাদের পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে গিয়ে তীর নিক্ষেপ করে তীর পতিত হবার স্থান দেখতে পেতেন।
(নাসায়ী।)
(নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
(7) باب وقت المغرب وأنها وتر صلاة النهار
(135) عن حسَّان بن بلالٍ يحدِّث عن رجلٍ من أسلم من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم كانوا يصلُّون مع النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم المغرب، ثمَّ يرجعون إلى أهليهم أقصى المدينة يرتمون يبصرون وقع سهامهم.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাযের সময় এবং মাগরিবের নামায যে দিনের বিতর তার বিবরণ
(১৩৬) সালমা ইবন্ আকওয়াহা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সূর্যের কিনারা দিগন্তের অন্তরালে যাওয়ার সময় (সূর্যাস্তের সাথে সাথে) মাগরিবের নামায পড়তেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(7) باب وقت المغرب وأنها وتر صلاة النهار
(136) عن سلمة بن الأكوع رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّي المغرب ساعة تغرب الشَّمس إذا غاب حاجبها.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাযের সময় এবং মাগরিবের নামায যে দিনের বিতর তার বিবরণ
(১৩৭) আবূ আইয়ূব আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন যে, রোযাদারদের ইফতারের সময়, তারকারাজি দেখা যাওয়ার পূর্বেই তোমরা মাগরিবের নামায আদায় কর। (অপর বর্ণনায় একই বর্ণনাকারী বলেন আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তারকারাজি উদিত হবার পূর্বেই তোমরা তাড়াতাড়ি মাগরিবের নামায আদায় কর।
(তবারানী। সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(তবারানী। সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(7) باب وقت المغرب وأنها وتر صلاة النهار
(137) عن أبي أيُّوب الأنصاريِّ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلُّوا المغرب لفطر الصَّائم وبادروا طلوع النُّجوم (وعنه من طريقٍ ثانٍ)
قال سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول، بادروا بصلاة المغرب قبل طلوع النَّجم.
قال سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول، بادروا بصلاة المغرب قبل طلوع النَّجم.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাযের সময় এবং মাগরিবের নামায যে দিনের বিতর তার বিবরণ
(১৩৮) ইবন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাগরিবের নামায হচ্ছে দিনের বিতর নামায। সুতরাং তোমরা রাতের বিতর নামায আদায় কর আর রাতের নামায হচ্ছে দু'দু'রাকা'আত বিশিষ্ট এবং বিতর হচ্ছে রাতের শেষাংশে এক রাক'আত।
(মালিক, দারাকুতনী, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ও অন্যান্য।)
(মালিক, দারাকুতনী, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(7) باب وقت المغرب وأنها وتر صلاة النهار
(138) عن ابن عمرو رضي الله عنهما عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال صلاة المغرب وتر صلاة النَّهار فأوتروا صلاة اللَّيل، وصلاة اللَّيل مثنى مثنى، والوتر ركعة من آخر اللَّيل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) পরিচ্ছেদ মাগরিবের নামায দ্রুত আদায় এবং মাগরিবকে ইশা নামকরণের আপত্তি
(১৩৯) সায়িব ইবন্ ইয়াযিদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমার উপজের উপর কল্যাণ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তারকারাজি উদিত হবার পূর্বে মাগরিবের নামায আদায় করবে।
(হায়ছামী বলেন, হাদীসটি আহমদ ও তবারানী 'কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
(হায়ছামী বলেন, হাদীসটি আহমদ ও তবারানী 'কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(8) باب ما جاء في تعجيلها وكراهة تسميتها بالعشاء
(139) عن السَّائب بن يزيد رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تزال أمَّتي على الفطرة ما صلَّوا المغرب قبل طلوع النُّجوم.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) পরিচ্ছেদ মাগরিবের নামায দ্রুত আদায় এবং মাগরিবকে ইশা নামকরণের আপত্তি
(১৪০) আবূ আব্দুর রহমান ইবন্ সুনাবেহী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মত কল্যাণের ওপর থাকবে যতদিন পর্যন্ত তারা তিনটি কর্ম না করবে, ইহুদীদের অনুকরণে মাগরিবের নামায অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না; খ্রিস্টানদের ন্যায় তারকা নিষ্প্রভ না হওয়া পর্যন্ত ফজরের নামাযের অপেক্ষা করবে না এবং জানাযার দায়িত্ব মৃতের পরিবারের ওপর ছেড়ে দেবে না।
(হায়ছামী বলেন, হাদীসটি তবারানী কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
(হায়ছামী বলেন, হাদীসটি তবারানী কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(8) باب ما جاء في تعجيلها وكراهة تسميتها بالعشاء
(140) عن أبي عبد الرَّحمن الصُّناجيِّ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لن تزال أمَّتي في مسنكة ما لم يعملوا بثلاثٍ، ما لم يؤخِّروا لمغرب بانتظار الإظلام مضاهاة اليهود، وما لم يؤخِّروا الفجر إمحاق النَّجوم
مضاهاة النَّصرانية، وما لم يكلوا الجنائز إلى أهلها.
مضاهاة النَّصرانية، وما لم يكلوا الجنائز إلى أهلها.
তাহকীক: