মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১২৭০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৬৬) যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে হাদীসটি শুনেছেন, তিনি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার নবী (সা) ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে ডান পাশে চোট পেলেন, তখন আমরা তাঁর কাছে গেলাম তাকে দেখতে, তখন সালাতের সময় হল, তিনি বসে বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও বসে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতান্তে তিনি বললেন, ইমাম নিয়োগ করা হয় যেন তার অনুকরণ করা হয়। অতএব তিনি যখন তাকবীর বলবেন তোমরাও তাকবীর বলবে। যখন রুকু করবেন তোমরাও রুকু করবে। (রাবী) সুফিয়ান একবার বলেছেন, তিনি যখন সিজদা করবেন তোমরাও সিজদা করবে। আর তিনি যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَه (যে প্রশংসা করে আল্লাহ্ তা শ্রবণ করেন) বলবে, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমারই) বলবে, তিনি যদি বসে বসে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও সবাই বসে বসে সালাত আদায় করবে।
(বুখারী মুসলিম ও চার সুনানে বর্ণিত।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1270) حدّثنا عبد الله حدَّثنى أبى ثنا سفيان عن الزُّهرىِّ سمعه من أنس بن مالك رضى الله عنه قال سقط النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم من فرس فجحش شقه الأيمن فدخلنا عليه نعوده فحضرت الصَّلاة فصلَّى قاعدًا وصلَّينا قعودًا، فلمَّا قضي الصَّلاة قال إنَّما جعل الإمام ليؤتمَّ به فإذا كبَّر فكبِّروا وإذا رحع فاركعوا، وقال سفيان مرَّة، فإذا سجد فاسجدوا، وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا
ربنا ولك الحمد وإن صلَّى قاعدًا فصلوا قعودًا أجمعون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৬৭) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী (সা) তাঁর ঘোড়ার পিঠ থেকে খেজুরের ডালের উপর পড়ে গেলেন, ফলে তাঁর পায়ের হাড়ের জোড়ায় চোট লাগল। আমরা তাঁকে দেখতে গেলাম। আমরা তাঁকে সালাতরত অবস্থায় পেলাম। আমরাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করলাম। যখন তাঁর সালাত শেষ হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, ইমাম নিয়োগ করা হয় যেন তাকে অনুসরণ করা হয়। অতএব, তিনি যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর। আর তিনি যদি বসে সালাত আদায় করেন তোমরাও বসে আদায় কর। আর তিনি বসে থাকলে তোমরা দাঁড়িয়ে থাকবে না, যেমনটি পারস্যবাসীরা তাদের নেতাদের সম্মানার্থে করে থাকে।
(আবু দাউদ ইত্যাদি। অন্যসূত্রে মুসলিম, নাসায়ী ও ইবন মাজাহতেও বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1271) عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال صرع النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم من فرش على جذع نخلة فانفكت قدمه فدخلنا عليه نعوده فوجدناه يصلِّى، فصلَّينا بصلاته ونحن قيام فلمَّا صلَّى قال إنما جعل الإمام ليؤتمَّ به فإن صلَّى قائمًا فصلُّوا قيامًا، وإن صلَّى جالسًا فصلُّوا جلوسًا، ولا تقوموا وهو جالس كما يفعل أهل فارس بعظمائها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৬৮) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর অসুস্থতার সময় তাঁকে দেখতে লোকেরা (তাঁর গৃহে) এল। তখন তিনি তাঁদের নিয়ে বসে বসে সালাত আদায় করলেন। তাঁরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে থাকল, তখন তিনি তাদেরকে ইঙ্গিত করলেন যেন তাঁরা বসে যায়। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বললেন, ইমাম নিয়োগ করা হয় যেন তার অনুকরণ করা হয়। অতএব তিনি যখন রুকু করবেন তোমরাও রুকু করবে, তিনি যখন (রুকু সিজদা থেকে) উঠবেন তোমরাও উঠবে। আর তিনি যদি বসে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।
(বুখারী ও মুসলিম।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1272) عن عائشة رضي الله عنها أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليه النَّاس فى مرضه يعودونه فصلَّى بهم جالسًا فجعلوا يصلُّون قيامًا فأشار إليهم أن أجلسوا، فلمَّا فرغ قال إنَّما جعل الإمام ليؤتمَّ به، فإذا ركع فاركعوا، وإذا رفع فارفعوا، وإذا صلَّي جالسًا فصلُّوا جلوسًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৬৯) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর সর্বশেষ সালাতটি ছিল চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায়- বসে বসে।
(এ হাদীসটি এ ভাষায় অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1273) عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال آخر صلاة صلاَّها رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم عليه برد متوشِّحًا به وهو قاعد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৭০) মুখতার ইবন্ ফুলফুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা তিনি আনাসকে অসুস্থ ব্যক্তির সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, ফরয সালাত বসে বসে রুকু সিজদা করে আদায় করবে।
(হাদীসটি হাইছামী বর্ণনা করে বলেন, এটা আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদের রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1274) عن المختار بن فلفل أنَّه سأل أنسًا عن صلاة المريض، فقال يركع ويسجد قاعدًا في المكتوبة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৭১) উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (সা) যে অসুখে ইন্তেকাল করেছেন সে অসুখের সময় বললেন, তোমরা আবু বকরকে বল যেন সে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়েশা বললেন, যে আবু বকর তো সংবেদনশীল মনের অধিকারী। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবে তখন দয়ার্দ্রতা তাঁকে পেয়ে বসবে। এ কথা শুনে নবী (সা) বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মত। আবু বকরকে বল, সে যেন মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তখন আবূ বকর সালাত পড়ালেন, আর নবী (সা) তাঁর পিছনে বসে বসে সালাত আদায় করলেন।
(বুখারী ও মুসলিম।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1275) عن عروة عن عائشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم فى مرضه الَّذى مات فيه مروا أبا بكر يصلِّى بالنَّاس، قالت عائشة إنَّ أبا بكر رجل أسيف فمتى يقوم مقامك تدركه الرِّقة، قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم إنَّكنَّ صواحب يوسف مروا أبا بكر فليصلِّ بالنَّاس، فصلَّي أبو بكر وصلَّى النَّبيُّ صلَّى الله عليه وسلَّم خلفه قاعدًا
হাদীস নং: ১২৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও বসা ব্যক্তির সালাত সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: যে বাক্তি অসুস্থতা কিংবা অনুরূপ কোন কারণে দাঁড়াতে অক্ষম সে যেভাবে সম্ভব সালাত আদায় করবে, এতে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর মত সাওয়াব পাবে
(১২৭২) ইবন্ বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল (সা) অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন তিনি বললেন, তোমরা আবূ বকরকে বল, সে যেন মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তখন আয়েশা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা তো নরম দিলের মানুষ। রাসূল (সা) পুনরায় বললেন, তোমরা আবূ বকরকে বল, সে যেন মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে, আর তোমরা তো ইউসুফের সাথীদের মত। তখন আবূ বকর মানুষের ইমামতি করলেন, এমতাবস্থায় যে রাসূল (সা) জীবিত।
(এ হাদীসটি বুরাইদার হাদীস হিসেবে মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে বুখারী, মুসলিমে আয়েশা ও আনাস (রা) থেকে এরূপ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة المريض وصلاة القاعد

(1) باب من لم يقدر على القيام لمرض ونحوه يصلى كيفما يستطيع وله مثل أجر القائم
(1276) عن ابن بريدة عن أبيه قال مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال مروا أبا بكر يصلِّى بالنَّاس، فقالت عائشة يا رسول الله إنَّ أبى رجل رقيق فقال مرا أبا بكر يصلِّي بالنَّاس فإنَّكنَّ صواحبات يوسف، فأمَّ أبو بكر الَّنَّاس ورسول الله صلَّي الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم حيّ
হাদীস নং: ১২৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যারা ফরয কিংবা নফল সালাতে কষ্ট করে দাঁড়াতে পারে (এতদসত্ত্বেও তারা যদি বসে বসে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাতের সাওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সমপরিমাণ হবে।)
(১২৭৩) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) মদিনায় আগমন করলেন। সে সময় মদীনায় জ্বরের প্রকোপ চলছিল, তখন অনেক মানুষ জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়ল। এমতাবস্থায় নবী (সা) মসজিদে (নববীতে) প্রবেশ করলেন, তখন মানুষেরা বসে বসে সালাত আদায় করছিল। তখন নবী (সা) বললেন, বসা ব্যক্তির সালাত-এর সাওয়াব দাঁড়ানো ব্যক্তির সালাতের অর্ধেক। তখন মানুষেরা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।
(হাদীসটি শুধুমাত্র ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর রাবীগণ বিশ্বস্ত। তবে মুআত্তা মালিকে এরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(2) باب من قدر على القيام بمشقة فى الفرض أو النفل. وصلى قاعدا فصلانه على النصف من صلاة القائم
(1277) عن انس بن مالكٍ رضى اّلله عنه قال قدم النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم المدينة وهي محمَّةٌ فحمَّ الٌنَّاس فدخل النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم المسجد والنَّاس قعودٌ يصلُّون، فقال النَّبيُّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم صلاة القاعد نصف صلاة القائم فتجشَّم النَّاس الصلاة قيامًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যারা ফরয কিংবা নফল সালাতে কষ্ট করে দাঁড়াতে পারে (এতদসত্ত্বেও তারা যদি বসে বসে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাতের সাওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সমপরিমাণ হবে।)
(১২৭৪) উক্ত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) (মানুষের অবস্থা দর্শনে) বের হলেন (তিনি দেখলেন যে) তারা অসুস্থতার দরুন বসে বসে সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেন, বসা ব্যক্তির সালাত দাঁড়ানো ব্যক্তির সালাতের অর্ধেকের সমান।
كتاب الصلاة
(2) باب من قدر على القيام بمشقة فى الفرض أو النفل. وصلى قاعدا فصلانه على النصف من صلاة القائم
(1278) وعنه أيضًا قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على ناسٍ وهم يصلُّون قعودًا من مرضٍ فقال إنَّ صلاة القاعد على النِّصف من صلاة القائم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যারা ফরয কিংবা নফল সালাতে কষ্ট করে দাঁড়াতে পারে (এতদসত্ত্বেও তারা যদি বসে বসে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাতের সাওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সমপরিমাণ হবে।)
(১২৭৫) ইমরান ইবন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি অনেক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলাম, সে জন্য আমি রাসূল (সা)-কে আমার বসে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তোমার বসা অবস্থার সালাত তোমার দাঁড়ানো অবস্থার সালাতের অর্ধেক আর ব্যক্তির শোয়া অবস্থার সালাত তার বসা অবস্থার সালাতের অর্ধেক।
(বুখারী ও চার সুনানে বর্ণিত।)
كتاب الصلاة
(2) باب من قدر على القيام بمشقة فى الفرض أو النفل. وصلى قاعدا فصلانه على النصف من صلاة القائم
(1279) عن عمران بن حصينٍ رضى الله عنه قال كنت رجلًا ذا أسقامٍ كثيرةٍ فسألت رسول الله صلَّي الله وعلى آله وصحبه وسلَّم عن صلاتى قاعدًا قال صلاتك قاعدًا على النِّصف من صلاتك قائمًا، وصلاة الرجَّل مضطجعًا على النِّصف من صلاته قاعدًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যারা ফরয কিংবা নফল সালাতে কষ্ট করে দাঁড়াতে পারে (এতদসত্ত্বেও তারা যদি বসে বসে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাতের সাওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সমপরিমাণ হবে।)
(১২৭৬) আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পারস্যে অসুস্থ ছিলাম, সে কারণে বসে বসে সালাত আদায় করতাম। এ প্রসঙ্গে আমি আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূল (সা) দীর্ঘরাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন আবার কখনও দীর্ঘ রাত পর্যন্ত বসে বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন তিলাওয়াত করতেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তখন রুকুও করতেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। (এখানে রাবী رُكُع না خُشُع বলেছেন এ ব্যাপারে সন্দেহ করেছেন।) আর যখন তিলাওয়াত করতেন বসে বসে তখন রুকুও করতেন বসে বসে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(2) باب من قدر على القيام بمشقة فى الفرض أو النفل. وصلى قاعدا فصلانه على النصف من صلاة القائم
(1280) عن عبد الله بن شقيقٍ قال كنت شاكيًا بفارس فكنت أصلَّى قاعدًا، فسألت عن ذلك عائشة رضى الله عنها، فقالت كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يصلِّى ليلًا طويلًا قائمًا وليلًا طويلًا قاعدًا، فإذا قرأ قائمًا ركع أو خشع قائمًا، وإذا قرأ قاعدًا ركع قاعدًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যারা ফরয কিংবা নফল সালাতে কষ্ট করে দাঁড়াতে পারে (এতদসত্ত্বেও তারা যদি বসে বসে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাতের সাওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সমপরিমাণ হবে।)
(১২৭৭) মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইব (রা) আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমি তো বসে ব্যতীত সালাত আদায় করতে সক্ষম নই। এ ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন? তিনি বললেন, আমি রাসুল (সা)-কে বলতে শুনেছি, ব্যক্তির বসে বসে আদায় করা সালাত তার দাঁড়িয়ে আদায় করা সালাতের অর্ধেকের মত।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(2) باب من قدر على القيام بمشقة فى الفرض أو النفل. وصلى قاعدا فصلانه على النصف من صلاة القائم
(1281) عن مجاهدٍ أنَّ السَّائب سأل عائشة فقال إنِّى لا أستطيع أن أصلِّى إلاَّ جالسًا فكيف ترين؟ قالت سمعت رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يقول صلاة الرَّجل جالسَّا مثل نصف صلاته قائمًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদ: কোন কারণ ব্যতীত বসে বসে নফল সালাত আদায়ে বৈধতা (এবং নবী (সা) ব্যতীত অন্যদের জন্য তার প্রতিদান অর্ধেক হওয়া প্রসঙ্গে)
(১২৭৮) আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা রাসূল (সা)-কে বসে বসে সালাত আদায় করতে দেখলাম। আমি তাঁকে বললাম, আমাকে হাদীস বলা হয়েছে যে, আপনি বলে থাকেন, বসে বসে সালাত আদায়কারীর (সাওয়াব) দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের মত নই।
(বুখারী, মুসলিম মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ, নাসায়ী ও দারেমী।)
كتاب الصلاة
(3) باب جواز التطوع من جلوس لغيرعذر (وتنصيف أجره لغير النبى صلى الله عليه وسلم)
(1282) عن عبد الله بن عمرٍو رضى الله عنهما رأيت رسول الله صلىَّ الله عليه وآله وسلَّم يصلِّى جالسًا، قلت له حدِّثت أنَّك تقول صلاة القاعد على نصف صلاة القائم قال إنِّى لست كمثلكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদ: কোন কারণ ব্যতীত বসে বসে নফল সালাত আদায়ে বৈধতা (এবং নবী (সা) ব্যতীত অন্যদের জন্য তার প্রতিদান অর্ধেক হওয়া প্রসঙ্গে)
(১২৭৯) সাইব ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বসে আদায়কারীর সালাত দাঁড়িয়ে আদায়কারীর সালাতের অর্ধেক।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি, তবে অন্য হাদীস এর সমর্থন করে।)
كتاب الصلاة
(3) باب جواز التطوع من جلوس لغيرعذر(وتنصيف أجره لغير النبى صلى الله عليه وسلم)
(1283) عن السَّائب بن عبد الله رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم قال صلاة القاعد على النِّصف من صلاة القائم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদ: কোন কারণ ব্যতীত বসে বসে নফল সালাত আদায়ে বৈধতা (এবং নবী (সা) ব্যতীত অন্যদের জন্য তার প্রতিদান অর্ধেক হওয়া প্রসঙ্গে)
(১২৮০) উক্ত সাইব ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করে বললেন, নবী (সা) বলেছেন, বসে বসে আদায়কারীর সালাত দাঁড়িয়ে আদায়কারীর অর্ধেক।
(হাইছামী বলেন, এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর রাবীগণ সহীহ শর্তে উত্তীর্ণ।)
كتاب الصلاة
(3) باب جواز التطوع من جلوس لغيرعذر(وتنصيف أجره لغير النبى صلى الله عليه وسلم)
(1284) وعنه أيضًا قال دخلت على عائشة رضى الله عنها فحدَّثتنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال صلاة القاعد على النِّصف من صلاة القائم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: নবী (সা)-এর বসে বসে নফল সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
(১২৮১) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) তাঁর অনেক সালাত বসে বসেই আদায় করতেন।
(মুসলিম।)
كتاب الصلاة
(4) باب تطوع النبى صلى الله عليه وسلم قاعدا
(1285) عن عائشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يصلِّى كثيرًا من صلاته وهو جالسٌ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: নবী (সা)-এর বসে বসে নফল সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
(১২৮২) উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সেই সত্তার কসম, যিনি তাঁকে (মহানবীকে) ইন্তিকাল করিয়েছেন, তিনি যখন ইন্তিকাল করেন তখন তাঁর ফরয সালাত ব্যতীত অধিকাংশ সালাতই ছিল বসে বসে, আর তাঁর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে বান্দা যা স্থায়ীভাবে করে থাকে, যদিও তা কম হোক।
(নাসায়ী ও মুসলিম এ ধরনের আরও হাদীস বর্ণনা করেছেন আয়েশা (রা) থেকে।)
كتاب الصلاة
(4) باب تطوع النبى صلى الله عليه وسلم قاعدا
(1286) عن أمِّ سلمة رضى الله عنها قالت والَّذى توفىَّ نفسه تعنى النَّبيَّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم ما توفيَّ حتَّى كانت أكثر صلاته قاعدًا إلاَّ المكتوبة، وكان أعجب العمل إليه الَّيه الَّذي يدوم عليه العبد وإن كان يسيرًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: নবী (সা)-এর বসে বসে নফল সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
(১২৮৩) আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা) দাঁড়িয়ে, বসে, খালি পায়ে, জুতা পায়ে সালাত আদায় করতেন। (অপর বর্ণনায় আছে) তিনি ডান দিক হতে ও বাম দিক হতে ফিরে যেতেন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস আবূ দাউদ ইবন মাজাহ ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(4) باب تطوع النبى صلى الله عليه وسلم قاعدا
(1287) عن أبي هريرة رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّى قائمًا وقاعدًا وحافيًا ومنتعلًا (زاد فى روايةٍ) وينفتل عن يمينه وعن يساره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: নবী (সা)-এর বসে বসে নফল সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
(১২৮৪) হিশাম ইবন উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে তিনি নবী-পত্নী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাকে খবর দিয়েছেন যে, তিনি রাসূল (সা)-কে বয়োবৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাতের সালাত বসে বসে আদায় করতে দেখেন নি। তিনি বসে বসে তিলাওয়াত করতেন, যখন রুকু করবার মনস্থ করতেন তখন দাঁড়িয়ে যেতেন। অতঃপর ত্রিশ চল্লিশ আয়াতের মত তিলাওয়াত করতেন অতঃপর রুকুতে যেতেন।
(উক্ত আয়েশা (রা) থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) যে, রাসূল (সা) বসে বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি বসে বসে তিলাওয়াত করতেন, যখন (তাঁর তিলাওয়াতের) ত্রিশ চল্লিশ আয়াত পরিমাণ অবশিষ্ট থাকত তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। এরপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকু করতেন, সিজদা করতেন, এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ করতেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب تطوع النبى صلى الله عليه وسلم قاعدا
(1288) عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ورضى عنها أنَّها أخبرته أنَّها لم تر رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يصلِّى صلاة اللَّيل قاعدًا حتَّى أسنَّ، فكان يقرأ قاعدًا حتَّى إذا أراد أن يركع قام فقرأ نحوًا من ثلاثين أو أربعين آيًة ثمَّ ركع (وعنها من طريقٍ ثانٍ) أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم كان يصلَّى جالسًا فيقرأ وهو جالسٌ، فإذا بقي عليه من قراءته قد ما يكون ثلاثين أو أربعين آيةً قام فقرأ وهو قائمٌ ثمَّ ركع ثمَّ سجد، ثمَّ يفعل فى الرَّكعة الثَّانية مثل ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: নবী (সা)-এর বসে বসে নফল সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
(১২৮৫) আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আয়েশা (রা) বলেছেন, রাসূল (সা) যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন তখন রুকুও করতেন দাঁড়িয়ে, আর যখন বসে সালাত আদায় করতেন তখন রুকু করতেন বসে বসে।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবন মাজাহ ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(4) باب تطوع النبى صلى الله عليه وسلم قاعدا
(1289) عن عبد الله بن شقيقٍ أنَّ عائشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلَّى قائمًا ركع قائمًا، وإذا صلَّى ركع قاعدًا
tahqiq

তাহকীক: