মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১১৭০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদ: সফরে সাথী নেয়া এবং তার কারণ প্রসঙ্গে
(১১৬৬) আব্দুল্লাহ ইবন উমর ইবন ফানওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা) আমাকে ডেকে পাঠালেন, তিনি আমাকে কিছু মালসহ আবু সুফিয়ানের নিকট পাঠাতে চাচ্ছিলেন, যে মাল তিনি মক্কার কুরাইশদের মাঝে বণ্টন করবেন। ঘটনাটি ছিল মক্কা বিজয় পরবর্তী। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল (সা) তাকে বললেন, তুমি একজন সাথী তালাশ কর। তিনি বলেন, তখন আমর ইবন উমাইয়া আদ দামারী (রা) আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন, আমার নিকট এ সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি সফরে যাচ্ছ এবং সাথী খুঁজছ। রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, তাই তো। তিনি বললেন, আমি-ই তোমার সাথী হব, রাবী বলেন, অতঃপর আমি রাসূল (সা)-এর কাছে এলাম, এবং বললাম আমি সাথী পেয়েছি। রাসূল (সা) বলেছিলেন, তুমি যখন সাথী পাবে তখন আমাকে অবগত করবে, তিনি বলেন, রাসূল তখন বললেন, কে সে? আমি বললাম, আমর ইবন উমাইয়া আদ দামারী রাবী বলেন, তখন রাসূল (সা) বললেন, যখন তুমি তার জাতির দেশে অবতরণ করবে তখন তাকে এড়িয়ে চলবে। কেননা (বহুকাল থেকে) কথকরা বলে আসছে أَخُوكَ الْبِكْرِيُّ وَلاَ تَأْمَنْه "তোমার বড় ভাই থেকেও সতর্ক থাকবে। তার উপরও পূর্ণ আস্থা রাখবে না।"
তিনি বলেন, অতঃপর আমরা বেরিয়ে পড়লাম, যখন আরওয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছলাম তখন তিনি আমাকে বললেন, উদ্যানে আমার কাওমের কাছে আমার কিছু প্রয়োজন পূরণের ইচ্ছা করছি, সুতরাং তুমি আমার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। তিনি বললেন, আমি বললাম, যাও সতর্ক থেক। সে যখন প্রস্থান করল, তখন আমি রাসূলের (সা) কথা স্মরণ করলাম, অতঃপর আমি আমার উটে আরোহণ করলাম এবং দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। এমনকি আছাফির উপত্যকার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে গেলাম। এমতাবস্থায় সে তার দলসহ আমার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করল। রাবী বলেন, আর আমি অতি দ্রুত চলে তার আগেই চলে গেছি, যখন দেখল যে, আমি আগেই তাদের মীমাংসার বাইরে চলে গেছি। তখন তারা ফিরে গেল, আর সে আমার নিকট এল। সে বলল, আমার সম্প্রদায়ের সাথে আমার প্রয়োজন ছিল। তিনি বললেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, এরপর আমরা চলতে থাকলাম অবশেষে মক্কায় পৌঁছে গেলাম। এবং সম্পদগুলো আবু সুফিয়ানের কাছে প্রত্যর্পণ করলাম।
(হাদীসটি আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। সনদের সকল রাবী বিশ্বস্ত। তবে ঈসা ইবনে মুআম্মার সম্বন্ধে ইবনে হাজার বলেন, তিনি অগ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণনায়।)
كتاب الصلاة
(3) باب اتخاذ الرفيق فى السفر وسببه
(1170) عن عبد الله بن عمرو بن الفغواء عن أبيه رضي الله عنه
قال دعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أراد أن يبعثنى بمال إلى أبى سفيان يقسمه فى قريش بمكَّة بعد الفتح قال فقال التمس صاحبًا، قال فجاءنى عمرو بن أميَّة الضَّمرىُّ "رضى الله عنه" قال بلغنى أنَّك تريد الخروج وتلتمس صاحبًا، قال قلت أجل قال فأنا لك صاحب، قال فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت قد وجدت صاحبًا، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا وجدت صاحبًا فآذِّنى قال فقال من؟ قلت عمرو بن أميَّة الضَّمرىُّ، قال فقال إذا هبطت بلاد قومه فاحذره فإنَّه قد قال القائل "أخوك البكرىُّ ولا تأمنه" قال فخرجنا حتَّى إذا جئت الأبواء فقال لى إنِّى أيد حاجةً إلى قومى بودَّان فتلبث لى، قال قلت راشدًا، فلمَّا ولىَّ ذكرت قول رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم فسرت على بعيرى ثمَّ خرجت أوضعه حتَّى إذا كنت بالأصافر إذا هو
يعارضني في رهطه قال وأوضعت فسبقته فلمَّا رآنى قد فتُّه انصرفوا وجاءنى، قال كانت لى إلى قومى حاجة، قال قلت أجل، فمضينا حتَّ قدمنا مكَّة فدفعت المال إلى أبى سفيان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৬৭) আলী ইবন রাবী'আ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রা)-কে দেখেছি তার আরোহণের জন্য একটি চতুষ্পদ জন্তু আনা হল অতঃপর তিনি যখন পাদুকাদানীতে তার পা রাখলেন তখন বললেন بِسْمِ اللَّه অতঃপর যখন তাতে উপবেশন করলেন তখন বললেন الحَمْدُ لِلَّه অতঃপর এ দু'আ পড়লেন - سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ (পবিত্র তিনি যিনি এদেরকে বশীভূত বহর দিয়েছেন এবং আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করব।) অতঃপর তিনি তিনবার الحَمْدُ لِلَّه বললেন, পুনরায় তিনবার اللَّهُ أَكْبَر বললেন অতঃপর বললেন- سُبْحَانَكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي
(তোমারই পবিত্রতা, তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। আমি আমার নিজের উপর জুলুম করছি। অতএব আমাকে ক্ষমা কর।) এরপর তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, হে আমিরুল মু'মিনীন আপনি হেসে দিলেন কেন? তিনি বললেন, আমি যেমনটি করলাম রাসূল (সা)-কেও এমনটি করতে দেখেছি। এরপর তিনি হেসে দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি হেসে দিলেন কেন? তিনি বললেন বান্দা যখন বলে, হে আমার রব আমাকে ক্ষমা করে দিন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে যান এবং বলেন, আমার বান্দা তো জানেই যে আমি ব্যতীত কেউ কোন পাপরাশি ক্ষমা করতে পারে না।
(আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী। শেষোক্তজন বলেন, হাদীসটি হাসান এবং কোন কোন পাণ্ডুলিপিতে আছে হাসান সহীহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1171) عن علىِّ بن ربيعة قال رأيت عليًّا رضي الله عنه أتي بدابَّة ليركبها فلمَّا وضع رجله في الرِّكاب قال بسم الله، فلمَّا استوى عليها قال الحمد لله، سبحان الَّذى سخَّر لنا هذا وما كنَّا له مقرنين وإنَّا إلى ربِّنا لمنقلبون، ثمَّ حمد الله ثلاثًا، ثمَّ قال سبحانك لا إله إلاَّ أنت قد ظلمت نفسي
فاغفر لي ثمَّ ضحك، فقلت ممَّ ضحكت يا أمير المؤمنين؟ قال رأيت رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم فعل مثل ما فعلت، ثمَّ ضحك فقلت ممَّ ضحكت يا رسول الله؟ قال يعجب الرَّب من عبده إذا قال ربِّ اغفر لى، ويقول علم عبدى أنَّه لا يغفر الذُّنوب غيرى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৬৮) আলী ইবন তালহা থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা রাসুল (সা) তাকে বাহনের পিছনে আরোহণ করালেন। যখন তিনি রাসূল (সা) উপবেশন করলেন তখন তিনি তিনবার اللَّهُ أَكْبَر বললেন, তিনবার الحَمْدُ لِلَّه বললেন, তিনবার سُبْحَانَ اللَّهِ বললেন এবং একবার لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বললেন। এরপর তিনি গা এলিয়ে দিলেন এবং হেসে দিলেন। অতঃপর তিনি আমার সামনে এলেন। এরপর বললেন, কোন লোক তার বাহনে উঠার প্রাক্কালে আমি যেমনটি করলাম তেমনটি করে তবে আল্লাহ তৎপ্রতি এগিয়ে আসেন। অনন্তর তিনি তৎপ্রতি হেসে দেন। যেমন আমি তোমার প্রতি হেসে দিলাম।
(মুসনাদে আহমাদ ছাড়া অন্যাত্র এ হাদীসটি পাওয়া যায় নি, এ হাদীসের সনদে আবু বকর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবন আবু মারইয়াম আছেন হাফিজ ইবনে হাজার তাকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1172) عن علىِّ بن طلحة عن عبد الله بن عبَّاس رضى الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أردفه على دابَّته فلمَّا استوى عليها كبَّر رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثًا، وحمد الله ثلاثًا، وسبَّح الله ثلاثًا، وهلَّل الله واحدةً، ثمَّ استلقي عليه فضحك، ثمَّ أقبل علىَّ فقال ما من امرئ يركب دابَّته فيصنع كما صنعت الإَّ أقبل الله تبارك وتعالى فضحك إليه كما ضحكت إليك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৬৯) আবূ তামীমা আল-হুজাইমী থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (সা)-এর বাহনের পশ্চাতে আবস্থানকারী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর বাহনের পিছনের আসনে গাধার পিঠে ছিলাম তখন গাধাটি হোঁচেট খেল, তৎক্ষণাৎ আমি বললাম, শয়তান নিপাত যাক। তখন নবী (সা) আমাকে বললেন, তুমি শয়তান নিপাত যাক।' এমন কথা বলিও না, কেননা তুমি যখন 'শয়তান নিপাত যাক' কথাটি বল। তখন শয়তান নিজেকে খুব বড় ভাবে, এবং সে বলে আমি আমার শক্তি দিয়ে তাকে আছাড় দিয়েছি। আর যখন তুমি বলবে بِسْمِ اللَّه তখন সে নিজেকে ছোটভাবে এমনকি কীট পতঙ্গের চেয়েও ছোটভাবে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, সে নিজেকে এতটাই ছোট ভাবে যেন সে মাছির মত হয়ে যায়।
(আবু দাউদ, তবারানী, হাইছামী বলেন, ইমাম আহমাদের সনদের রাবীগণ সহীহ হাদীসের শর্তেউত্তীর্ণ।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1173) عن أبى تميمة الهجيمىِّ عمَّن كان رديف النَّبيّ صلى الله عليه وسلم قال
كنت رديفه على حمار فعثر الحمار فقلت تعس الشَّيطان فقال لى النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لا تقل تعس الشَّيطان، فإنَّك إذا قلت تعس الشَّيطان تعاظم الشَّيطان فى نفسه وقال صرعته بقوَّتى فإذا قلت بسم الله تصاغرت إليه نفسه حتَّى يكون أضغر من ذباب (وفى لفظ) تصاغر حتَّى يصير مثل الذُّباب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭০) মুহাম্মদ ইবন হামজা আল-আসলামী থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, প্রতিটি বাহনের পিঠেই একটি শয়তান থাকে। অতএব তোমরা যখন তাতে আরোহন করবে তখন আল্লাহর নাম নিবে, আর তোমাদের প্রয়োজনে ব্যবহারে কমতি করবে না।
(হাদীসটি আহমাদ ও তাবরানী বর্ণনা করেছেন এর সনদের সকল রাবী বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1174) عن محمد بن حمزة الأسلمىِّ أنَّه سمع أباه يقول سمعت رسول
الله صلَى الله عليه وآله وسلَّم يقول على ظهر كلِّ بعير شيطان فإذا ركبتموها فسمُّوا الله عزَّ وجلَّ ولا تقصِّروا عن حاجاتكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭১) আলী আল উজদী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, আব্দুল্লাহ্ উবনু উমর তাঁকে শিখিয়েছেন যে, রাসূল (সা) যখন তাঁর বাহনে উপবেশন করতেন সফারোদ্দেশ্যে তখন তিনি তিনবার اللَّهُ أَكْبَر বলতেন, অতঃপর বলতেন,

سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ

(পবিত্রতা ঐ মহান সত্তার যিনি আমাদের জন্য তাদেরকে বশীভূত করে দিয়েছেন। তাদেরকে বশীভূত করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয়ই আমাদের সবাইকে আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। হে আল্লাহ সফরে আমরা তোমার নিকট পুণ্য এবং তাকওয়া কামনা করছি এবং তুমি সন্তুষ্ট থাক এমন আমলের প্রত্যাশা করছি। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরকে আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং সফরের দূরত্বকে নিকটতর করে দাও। হে আল্লাহ! এই সফরে তুমিই সাথী এবং পরিবার-পরিজনের তুমিই প্রতিনিধি, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সফরের কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের অনিষ্টতা থেকে এবং পরিবার পরিজন ও সম্পদের প্রতি অনিষ্ট থেকে)। (কোন কোন বর্ণনায় এসেছে اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا وَاخْلُفْنَا فِي أَهْلِنَا (হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের সফরের সাথী হয়ে যাও। এবং পরিবারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাও।) এরপর তিনি যখন প্রত্যাবর্তন করতেন তখন ঐ বাক্যগুলো বলতেন এবং তাতে আরও বলতেন آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী তাওবাকারী ইবাদতকারী আমাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে প্রশংসা- কারীগণ।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1175) عن علىّ الأزدىِّ أنَّ ابن عمر رضي الله عنهما علَّمه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا استوى على بعيره خارجًا إلى سفر كبَّر ثلاثًا، ثمَّ قال سبحان الَّذي سخَّر لنا هذا وما كنَّا له مقرنين وإنَّا إلى ربِّنا لمنقلبون، اللَّهمَّ إنَّا نسألك فى سفرنا هذا البرَّ والتَّقوى ومن العمل ما ترضى، اللَّهمَّ هوِّن علينا سفرنا هذا واطوعنَّا بعده اللَّهمَّ أنت الصَّاحب فى السَّفر والخليفة فى الأهل، اللَّهمَّ إنِّى أعوذ بك من وعثاء السَّفر وكآبة المنقلب وسوء المنظر في الأهل
والمال (وفي رواية اللَّهم اصحبنا فى سفرنا، واخلفنا في أهلنا) وإذا رجع قالهنَّ وزاد فيهنَّ آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭২) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী (সা) যখন সফরে বের হতেন এরপর তিনি তাঁর বাহনে আরোহণ করতেন, বলতেন اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ (হে আল্লাহ! তুমিই সফরের সাথী এবং পরিবারের প্রতিনিধি) অতঃপর তিনি পূর্বানুরূপ কথাগুলো বলেন।
(আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের সনদে জনৈক অপরিচিত রাবী আছেন, আর আবু দাউদের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1176) عن أبى هريرة رضي الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلَّى الله عليه وسلَّم كان إذا خرج سفرًا فركب راحلته قال، اللَّهمَّ أنت الصَّاحب في السَّفر، والخليفة فى الأهل فذكر نحوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭৩) আবু লাস আল খুজায়ী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূল (সা) আমাদেরকে সাদকার উট থেকে একটি দুর্বল, উটের সিটে বহন করে নিচ্ছিলেন, রাবী বলেন, আমরা তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এই সাদকার উটটি দুর্বল, আমরা ভয় পাচ্ছি এটা আমাদের বহন করতে পারবে না, তিনি বলেন, তখন রাসূল (সা) বললেন, প্রতিটি বাহনেরই মাথায় থাকে শয়তান। অতএব, তোমরা তাতে আরোহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ কর। যেমন তোমরা আদিষ্ট হয়েছ। অতঃপর বাহনগুলোকে তোমরা নিজেদের কাছে লাগাও। কেননা আল্লাহই শক্তি যোগান।
(হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও তাবরানী বর্ণনা করেছেন। তাদের একজনের সনদ সহীহ, অন্যজনের নয়।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1177) عن أبى لاس الخزاعىِّ رضي الله عنه قال حملنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على إبل من إبيل الصَّدقة ضعاف إلى الحجِّ، قال فنقلنا له يا رسول الله إنَّ هذه الإبل ضعاف نخشى أن لا تحملنا، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من بعير إلاَّ في ذروته شيطان فاركبوهنَّ واذكروا اسم الله عليهنَّ كما أمرتم ثمَّ امتهنوهنَّ لأنفسكم فإنَّما يحمل الله عزَّ وجلَّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭৪) আব্দুর রহমান ইবন উমাইয়্যা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাবীব ইবন মাসলামা একদা কায়স ইবন্ সা'দ ইবন উবাদা এর নিকট প্রথম ফিৎনার (উষ্ট্রীর যুদ্ধের) সময় এল এমতাবস্থায় তিনি ঘোড়ায় আরোহিত ছিলেন। তখন তিনি জিনের পিছনের দিকে গেলেন এবং বললেন (সামনে উঠ)। কিন্তু তিনি (কাইস ইবনে সা'দ) আরোহণ করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর কায়স ইবন সা'দ তাঁকে বললেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, বাহনের মালিক সামনে বসার ক্ষেত্রে অধিক হকদার। তখন হাবিব ইবন মাসলামা তাঁকে বললেন, রাসূল (সা) যা বলেছেন সে সম্পর্কে আমি অনঅবহিত নই। কিন্তু আমি আপনার ব্যাপারে আশংকা মুক্ত নই।
(তাবরানী, হাদীসের রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1178) عن عبد الرَّحمن بن أميَّة أنَّ حبيب بن مسلمة أبى قيس ابن سعد بن عبادة فى الفتنة الأولى وهو على فرس فتأخَّر عن السَّرج وقال اركب فأبى، فقال له قيس بن سعد إنِّى سمعت رسول الله صلَّي الله عليه وآله وسلَّم يقول صاحب الدَّابَّة أولى بصدرها فقال له حبيب إنِّى لست أجهل ما قاله رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم ولكنِّي
لا أخشى عليك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭৫) আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা আল-আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, একদা রাসূল (সা) হেঁটে যাচ্ছিলেন, ইত্যবসরে এক ব্যক্তি এলো যার সাথে ছিল একটি গাধা, অতঃপর সে বলল হে আল্লাহর রাসূল! আপনি উঠুন আর সে পিছনে সরে গেল। তখন রাসূল (সা) বললেন, না। তোমার বাহনের সামনে বসার অধিকার তোমারই বেশী। তবে তার মালিক যদি আমাকে বানিয়ে দাও তখন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমি ওটা আপনাকে দিয়ে দিলাম। রাবী বলেন, এবার তিনি উঠে পড়লেন।
(আবু দাউদ ও ইবন হিব্বান-এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1179) عن عبد الله بن بريدة الأسلمىِّ قال سمعت أبى يقول بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يمشى إذ جاءه رجل معه حمار، فقال يا رسول الله اركب فتأخر الرَّجل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا، أنت أحقُّ بصدر دابَّتك منِّي إلاَّ أن تجعله لى، قال فإنِّى قد جعلته لك، قال فركب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদঃ মুসাফির বাহনে উঠবার সময় এবং বাহন হোঁচট খেলে কি বলবে? এবং বাহনের পিছনে বসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে
(১১৭৬) উমর উবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (সা) ফায়সালা দিয়েছেন যে, বাহনের মালিক বাহনের সামনে বসার অধিক হকদার।
(মুসনাদে আহমদ ব্যতীত অন্যত্র হাদীসটি পাওয়া যায় নি, এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يقوله المسافر عند ركوب دابته وعند عثرتها وما جاء فى الارتداف
(1180) عن عمر بن الخطَّاب رضى الله عنه قال قضى النَّبيُّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه سلَّم أنَّ صاحب الدَّابَّة أحقُّ بصدرها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদঃ শত্রুভূমিতে কুরআনসহ সফর করা নিষেধ
(১১৭৭) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, তোমরা কুরআন নিয়ে সফরে যাইও না। কেননা আমি তা শত্রুর হস্তগত হবার আশংকা করছি।
তাঁর (ইবন উমর (রা)) থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত। আমি রাসূল (সা)-কে শত্রুভূমিতে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করতে শুনেছি।
(বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ ইবন মাজাহ্ প্রভৃতি।)
كتاب الصلاة
(5) باب النهي عن السفر بالمصحف الى أرض العدو
(1181) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تسافروا بالقرآن فإنِّى أخاف أن يناله العدوُّ (وعنه من طريق ثان) سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى أن يسافر بالمصحف إلى أرض العدوِّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৭৮) উসমান ইবন আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যখন কোন মুসলমান সফরের উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কোন কারণে নিজবাড়ী থেকে বের হয় তখন বের হবার কালে বলে: آمَنْتُ بِاللَّهِ اعْتَصَمْتُ بِاللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّه (আমি আল্লাহর প্রতি ইমান আনলাম, আমি আল্লাহর রুজু শক্ত করে ধারণ করলাম, আমি আল্লাহর উপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ব্যতীত কোন শক্তি বা প্রতিবন্ধক নেই) তখন উক্ত সফরে তাকে যাবতীয় কল্যাণ দেয়া হয় এবং ঐ সফরে তার থেকে যাবতীয় অকল্যাণ দূর করে দেয়া হয়।
(মুসনাদে আহমদ ছাড়া হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এ হাদীসের সনদে একজন রাবী আছেন যার নাম জানা যায় নি। অন্যরা বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1182) عن عثمان بن عفَّان رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مسلم يخرج من بيته يريد سفرًا أو غيره فقال حين يخرج آمنت بالله، اعتصمت بالله، توكَّلت على الله، لا حول ولا قوَّة إلاَّ بالله، إلاَّ رزق خير ذلك المخرج، وصرف عنه شرُّ ذلك المخرج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৭৯) য. আলী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা) যখন সফরের নিয়ত করতেন তখন বলতেন, (হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই প্রভাবিত করতে পারি তোমারই জন্যই নড়তে পারি এবং তোমারই নামে পথ চলছি।
(হাইছামী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বাজ্জার জারীর ও আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং উভয়ের রাবীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1183) ز عن علي رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم كان إذا أراد سفرًا قال اللَّهمَّ بك أصول وبك أحول وبك أسير
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮০) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল (সা) সফরের উদ্দেশ্যে বের হবার নিয়্যত করতেন তখন বলতেন, হে আল্লাহ! এই সফরে তুমিই সাথী এবং পরিবারের প্রতিনিধি, হে আল্লাহ। সফরকালীন অতিরিক্ত চাহিদা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং বিফলে পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, যমীনকে আমাদের জন্য প্রাঞ্জল করে দাও, সফরেকে সহজ করে দাও। আর তিনি যখন সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতে চাইতেন তখন বলতেন آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُون (অর্থাৎ আমরা প্রতিপালকের প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী এবং ইবাদতকারী। আমাদের রবের জন্য প্রশংসাকারী।) আর যখন গৃহে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন تَوْبًا تَوْبًا لِرَبِّنَا أَوْبًا لاَ یُغادِرُ عَلَیْنَا حَوْبًا (আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে তাওবাকারী, তাঁর কাছে প্রত্যাগমনকারী, তিনি যেন আমাদের কোন পাপ অমার্জিত না রাখেন।
(হাদীসটি আবু ইবন বাযযার এবং তিবরানী তাঁর কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সনদের রাবীগণ সহীহ সনদের শর্তে উত্তির্ণ।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1184) عن ابن عبَّاس رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن يخرج إلى سفر قال اللهمَّ أنت الصاحب فى السفَّر، والخليفة في الأهل، اللَّهمَّ إنِّى أعوذ بك من الضُّبنة فى السَّفر والكآبة فى المنقلب اللَّهمَّ اطولنا الأرض وهوِّن علينا السَّفر، وإذا أراد الرُّجوع قال آيبون تائبون عابدون لربِّنا حامدون، وإذا دخل أهله قال توبًا توبًا لربِّنا أوبًا لا يغادر علينا حوبًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮১) আব্দুল্লাহ ইবন্ সার্জিস (রা) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে, তাতে আরও আছে "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সফরের কাঠিন্যতা থেকে, গৃহে অশোভনীয় প্রত্যাবর্তন থেকে, সমৃদ্ধির পরে সংকীর্ণতা থেকে, মাযলুমের দু'আ থেকে এবং সম্পদ ও পরিবারের প্রতি কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর যখন প্রত্যাবর্তন করতেন তখনও অনুরূপ কথাই বলতেন, শুধুমাত্র, سُوْءُ الْمَنْظَرِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْل এর স্থলে سُوْءُ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ বলতেন। অর্থাৎ أَهْلٌ শব্দটি আগে বলতেন।
(উক্ত আব্দুল্লাহ ইবন সার্জিস থেকে দ্বিতীয় সূত্রেও) অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। সেখানে আরো রয়েছে, আছিমকে জিজ্ঞেস করা হল اَلْحَوْرُ بَعْدَ الْكَوْرِ এর অর্থ কি? তিনি বললেন, সমৃদ্ধির পরে সংকীর্ণতা।
(নাসায়ী, ইবন মাজাহ ও তিরমিযী, তিনি বলেন এ হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1185) عن عبد الله بن سرجس رضى الله عنه بنحوه وفيه، اللهمَّ إنِّي أعوذ بك من وعثاء السَّفر، وكآبة المنقلب، والحور بعد الكور، ودعوة المظلوم، وسوء المنظر فى المال والأهل، وإذا رجع قال مثلها إلاَّ أنَّه يقول وسوء المنظر فى الأهل والمال فيبدأ بالأهل (وعنه من طريق ثان) بنحوه وفيه وسئل عاصم عن الحور بعد الكور قال حار بعد ما كان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮২) ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) যুদ্ধে অথবা সফরে গেলে তথায় রাত হয়ে গেলে বলতেন, যে যমীন! আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ্। আমি আল্লাহর নিকটে তোমার ও তোমাতে যা কিছু আছে তার অনিষ্টতা থেকে এবং তোমাতে যা কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে তার অনিষ্টতা থেকে এবং তোমাতে যা কিছু চলাচল করে তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রতিটি সিংহ, কাল, সাপ ও বিচ্ছুর অনিষ্টতা থেকে এবং জিন, ইবলিস ও ইবলিসের বংশধরদের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(আবু দাঊদ ইত্যাদি, এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1186) عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا غزا أو سافر فأدركه اللَّيل قال يا أرض ربِّى وربُّك الله، أعوذ بالله من شرِّك وشرِّ ما فيك، وشرِّ ما خلق فيك، وشرِّ ما دبَّ عليك، أعوذ بالله من شرِّ كلِّ أسد وأسود وحيَّة وعقرب، ومن شرِّ ساكن البلد، ومن شرِّ والد وما ولد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮৩) সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাওলা বিনতে হাকীম আল-সুলামীয়া (রা)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, আমি রাসুল (সা)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সফরে কোন স্থানে যাত্রা বিরত দেয় অতঃপর বলে যে, "আমি আল্লাহ তা'আলার পরিপূর্ণ কালিমা দ্বারা তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ঐ স্থান থেকে চলে যাওয়া পর্যন্ত কোন বস্তুই তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
(মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবন মাজাহ্ ও সহীহ ইবনে খুযাইমা।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1187) عن سعد بن أبي وقاص رضى الله عنه قال سمعت خولة بنت حكيم السُّلميَّة رضى الله عنها تقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من نزل منزلًا ثمَّ قال أعوذ بكلمات الله التَّامَّات كلِّها من شرِّ ما خلق لم يضره شئ حتَّى يرتحل من منزله ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮৪) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা নবী (সা)-এর সাথে সফর করতাম। আমরা যখন উপরে আরোহণ করতাম তখন اللَّهُ أَكْبَرُ আর যখন নীচে অবতরণ করতাম তখন سُبْحَانَ اللَّه বলতাম।
(বুখারী ও নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1188) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنَّا نسافر مع النَّبيِّ صلَّى الله عليه وسلَّم فإذا صعدنا كبَّرنا وإذا هبطنا سبَّحنا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) অনুচ্ছেদ: মুসাফির সফরের নিয়তকালে সফরের মধ্যে যাত্রাবিরতিতে এবং নিজ দেশে ফেরার সময় যে সব দু'আ পড়বে
(১১৮৫) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) যখন কোন টিলা ও উঁচু স্থানে আরোহণ করতেন তখন বলতেন, হে আল্লাহ! সকল মর্যাদা শুধুমাত্র তোমারই জন্য এবং সকল প্রশংসাও শুধুমাত্র তোমারই জন্য। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, সর্বাবস্থায় তোমারই প্রশংসা।
(হাইছামী বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে জিয়াদ আল নুমাইরী ব্যতীত সকল রাবীই বিশ্বস্ত।)
كتاب الصلاة
(6) باب أذكار يقولها المسافر عند ارادة السفر
(وفى أثنائه عند النزول وعند الرجوع الى وطنه)
(1189) عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم إذا صعد أكمة أو نشزًا قال اللَّهمَّ لك الشَّرف على كلِّ
شرف، ولك الحمد على كلِّ حمد (وفى لفظ) ولك الحمد على كلِّ حال
tahqiq

তাহকীক: