মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৭২৪ টি
হাদীস নং: ১০৩০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০২৬) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) রাত্রিকালে যখন নামায পড়ার জন্য জেগে উঠতেন তখন তিনি হালকা দু'রাকা'আত নামায দিয়ে (রাতের নামায) শুরু করতেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1030) عن عائشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم إذا قام من الليل يصلى افتتح الصلاة ركعتين خفيفتين (1)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০২৭) তাঁর (আয়েশা (রা)) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা) ইশার নামায থেকে ফজর নামাযের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত এগার রাকা'আত নামায আদায় করতেন। প্রতি দু'রাকা'আতে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকা'আতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। তিনি সিজদা থেকে মাথা উঁচু করার আগে তোমাদের কারো পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার সমপরিমাণ সময় সিজদাবস্থায় থাকতেন। তারপর মুয়াযযিন যখন তার প্রথম আযান থেকে নিরব হতেন, তখন তিনি দাঁড়াতেন এবং হালকাভাবে দু'রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। এমনকি যখন (দ্বিতীয় আযান দেয়ার জন্য) মুয়াযযিন তাঁর কাছে আসতেন তখন তার সাথে (ফজরের নামাযের জন্য) বেরিয়ে পড়তেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকী, ইবন মাজাহ।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকী, ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1031) وعنها أيضًا قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي ما بين صلاة العشاء الآخرة إلى الفجر إحدى عشرة ركعة، يسلم في كل اثنتين ويوتر بواحدةٍ (2) ويسجد في سبحته (1) بقدر ما يقرأ أحدكم بخمسين آية قبل أن يرفع رأسه (2) فإذا سكت المؤذن بالأولى من أذانه (3) قام فركع ركعتين خفيفتين (4) ثم اضطجع على شقه الأيمن حتى يأتيه المؤذن فيخرج معه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০২৮) হাসান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি সা'দ ইবন্ হিশাম (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা)-এর নিকট প্রবেশ করেন। অতঃপর তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (রাত্রিকালীন নফল) নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি (উত্তরে) বলেছেন: তিনি (নবী সা) রাতে আট রাকা'আত নামায আদায় করতেন এবং নবম বাকা'আত-এর মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। তারপর বসা অবস্থায় তিনি আরো দু' রাকা'আত নামায আদায় করতেন। তিনি ওযুর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি যখন নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি ও মিসওয়াক দিতে আদেশ করতেন। তারপর যখন বয়সের কারণে শরীর ভারী হয়ে গেল তখন তিনি ছয় রাকা'আত নামায আদায় করতেন এবং সপ্তম রাকা'আতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। এরপর তিনি বসা অবস্থায় আরও দু' রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। তিনি (আয়েশা) বলেন, মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এভাবেই রাতের নামায পড়তেন। আমি বললাম, আমি আপনাকে বিবাহ পরিহার করে ইবাদতে মশগুল থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাই, এ প্রসঙ্গে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, না। তুমি তা করবে না। তুমি কি মহান আল্লাহকে বলতে শোন নি? আল্লাহ বলেন, ( وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ) (তোমার পূর্বেও কিছু রাসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের জন্য স্ত্রী ও বংশধরের ব্যবস্থা করেছি।) সুতরাং বিবাহ করা থেকে বিরত থেকো না। তিনি বলেন, তারপর তিনি বেরিয়ে পড়েন এবং অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি বসরায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি কিছু সময় অবস্থান করেন। পরিশেষে মিকরানের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন এবং সেখানে উত্তম আমল নিয়েই নিহত হন।
(আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। হাদীসটির সনদ উত্তম এবং সহীহ।)
(আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। হাদীসটির সনদ উত্তম এবং সহীহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1032) عن الحسن عن سعد بن هشام أنه دخل على أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها فسألها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قالت كان يصلى من الليل ثمان ركعات (5) ويوتر بالتاسعة ويصلي ركعتين وهو جالس (1) وذكرت الوضوء أنه كان يقوم إلى صلاته فيأمر بطهره وسواكه فلما بدن (2) صلى ست ركعات وأوتر بالسابعة وصلى ركعتين وهو جالسٌ، قالت فلم يزل على ذلك حتى قبض، قلت إني أريد أن أسألك عن التبتل (3) فما ترين فيه، قالت فلا تفعل، أما سمعت الله عز وجل يقول (ولقد أرسلنا رسلًا من قبلك وجعلنا لهم أزواجًا وذرية) فلا تبتل، قال فخرج وقد فقه (4) فقدم البصرة فلم يلبث إلا يسيرًا حتى خرج إلى أرض مكران (5) فقتل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০২৯) আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আসওয়াদ ইবন ইয়াযিদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সা)- এর (নফল) নামায সম্পর্কে আয়েশা (রা) তাঁকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সা) রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমাতেন এবং তার শেষ প্রহরে জেগে থাকতেন। তারপর যদি তাঁর পরিবারের সাথে কোন প্রয়োজন থাকতো তবে তা সেরে নিতেন। অতঃপর পানি স্পর্শ করা (গোসল) ব্যতীতই ঘুমিয়ে পড়তেন। তারপর যখন প্রথম আযানের সময় ঘনিয়ে আসতো-আয়েশা (রা) বলেন যে, তখন তিনি লাফ দিয়ে উঠে পড়তেন। আল্লাহর কসম! তিনি বলেন নি যে, তিনি (স্বাভাবিকভাবে) জেগে উঠতেন। তারপর তিনি তাঁর (শরীরের) উপর (খুব দ্রুত) পানি ঢেলে দিতেন। আল্লাহর কসম! তিনি বলেন নি যে, তিনি স্বাভাবিক গোসল করতেন। আমি জানি যে, তিনি এর দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন। আর তিনি যদি নাপাকী অবস্থায় না থাকতেন তবে তিনি নামাযের জন্য পুরুষের ন্যায় ওযু করে নিতেন। তারপর দু' রাকা'আত নামায আদায় করতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1033) عن أبي إسحاق قال سألت الأسود بن يزيد عما حدثته عائشة رضى الله عنها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت كان ينام أول الليل ويحيى آخره، ثم إن كانت له حاجةٌ إلى أهله (1) قضى حاجته ثم نام قبل أن يمس ماء، فإذا كان عند النداء الأول قالت وثب ولا والله ما قامت قام فأفاض عليه الماء ولا والله ما قالت اغتسل وأنا أعلم بما تريد، وإن لم يكن جُنُبًا توضأ وضوء الرجل للصلاة ثم صلى الركعتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩০) মাসরুক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা)-কে নবী (সা)-এর রাত্রিকালীন (নফল) নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, যখন তিনি মোরগের ডাক শুনতেন তখন উঠে নামায পড়তেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী ও অন্যান্য।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1034) عن مسروقٍ قال سألت عائشة رضى الله عنها عن صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل: فقالت كان إذا سمع الصارخ (1) قام فصلى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩১) যুরারাহ ইবন্ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে নবী (সা)-এর রাত্রকালীন (নফল) নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন যে, তিনি ইশার নামায আদায় করার পর পরই আরও দু'রাকা'আত নামায আদায় করতেন। তারপর ঘুমিয়ে পড়তেন। এরপর তিনি যখন জেগে উঠতেন তখন তাঁর নিকট ওযুর পানি ঢাকা থাকতো, তাঁর মিসওয়াকও থাকতো। তিনি মিসওয়াক করতেন অতঃপর ওযু করতেন। তারপর আট রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন যাতে তিনি সূরা ফাতিহাসহ পবিত্র কুরআন থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় যে কোন অংশ পাঠ করতেন। এতে তিনি অষ্টম রাকা'আত ছাড়া অন্য কোন রাকা'আতে বৈঠক করতেন না। অষ্টম রাকা'আতে বৈঠক করতেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করতেন। তারপর তিনি সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর তিনি আরও এক রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। এতে তিনি বসে যেতেন তারপর তাশাহহুদ পড়তেন এবং দু'আ করতেন। তারপর তিনি السَّلاَمُ عَلَيْكُم বলে এক সালাম ফিরাতেন। এতে তিনি তাঁর কণ্ঠস্বর এতো জোরে করতেন যে, আমাদেরকে জাগিয়ে তুলতেন। অতঃপর তিনি বসা অবস্থায় তাকবীর দিয়ে নামায আরম্ভ করতেন তারপর তেলাওয়াত করতেন এবং বসাবস্থাতেই রুকু ও সিজদা আদায় করতেন। এভাবে তিনি বসা অবস্থায় দু' রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। এই হলো এগার রাকা'আত নামায। এরপর যখন তাঁর মাংস বৃদ্ধি পেল এবং শরীর স্থুল (ভারী) হয়ে গেল তখন তিনি এ নয় রাকা'আতকে সাতে পরিণত করলেন। এতেও তিনি কোন বৈঠক করতেন না প্রথমবারের ন্যায় এক বৈঠক ছাড়া। তারপর দু' রাকা'আত নামায বসে বসে আদায় করে নিতেন। মহান আল্লাহ উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত এই ছিলো রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (রাত্রিকালীন) নামায।
(উক্ত রাবী হতে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) সা'দ ইবন্ হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামায কেমন ছিল? তিনি (উত্তরে) বললেন, তিনি ইশার নামায আদায় করতেন, অতঃপর উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তারপর দাঁড়িয়ে দু' রাকা'আত নামায আদায় করতেন। এতে তিনি এতো জোরে শব্দ করে তাকবীর বলতেন যে, মনে হতো আমাদেরকে জাগিয়ে দিবেন। বরং আমাদেরকে জাগিয়েই দিত। তারপর তিনি এতো জোরে দু'আ করতেন যে, আমাদেরকে শুনানো হতো। এরপর তিনি উচ্চস্বরে সালাম ফিরাতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকী ও অন্যানা।)
(উক্ত রাবী হতে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) সা'দ ইবন্ হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামায কেমন ছিল? তিনি (উত্তরে) বললেন, তিনি ইশার নামায আদায় করতেন, অতঃপর উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তারপর দাঁড়িয়ে দু' রাকা'আত নামায আদায় করতেন। এতে তিনি এতো জোরে শব্দ করে তাকবীর বলতেন যে, মনে হতো আমাদেরকে জাগিয়ে দিবেন। বরং আমাদেরকে জাগিয়েই দিত। তারপর তিনি এতো জোরে দু'আ করতেন যে, আমাদেরকে শুনানো হতো। এরপর তিনি উচ্চস্বরে সালাম ফিরাতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকী ও অন্যানা।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1035) عن زرارة بن أوفى قال سألت عائشة رضي الله عنها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل، فقالت كان يصلي العشاء ثم يصلي بعدها ركعتين ثم ينام، فإذا استيقظ وعنده وضوءه مغطى وسواكه استاك ثم توضأ فقام فصلى ثمان ركعات يقرأ فيهن بفاتحة الكتاب وما شاء الله من القرآن، فلا يقعد في شيء منهن إلا في الثامنة فإنه يقعد فيها فيتشهد ثم يقوم ولا يسلمن فيصلي ركعةً واحدةً ثم يجلس فيتشهد ويدعو، ثم يسلم تسليمةً واحدةً السلام عليكم يرفع بها صوته حتى يوقظنا، ثم يكبر وهو جالس فيقرأ، ثم يركع ويسجد وهو جالسٌ، فيصلي جالسًا ركعتين، فهذه إحدى عشرة ركعةً، فما كثر لحمه وثقل جعل التسع سبعًا لا يقعد إلا كما يقعد في الأولى (2) ويصلي الركعتين قاعدًا، فكانت هذه صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قبضه الله (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (3) عن سعد بن هشامٍ قال قلت لأم المؤمنين عائشة رضي الله عنهما كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل؟ قالت كان يصلي العشاء فذكر الحديث (1) ويصلي ركعتين قائمًا يرفع صوته كأنه يوقظنا (2) بل يوقظنا، ثم يدعو بدعاءٍ يسمعنا، ثم يسلم تسليمةً يرفع بها صوته
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩২) ইব্রাহীম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আলকামাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)- কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নামায কেমন ছিল? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যেমন পারতেন তোমাদের কেউ কি তা পারবে? তাঁর আমল তো ছিল অবিরাম (নিয়মিত)।
(দ্বিতীয় সূত্রে আছে) ইব্রাহীম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, আমি তাঁকে এক রাতের ওপর অপর রাতকে গুরুত্ব দিতে দেখি নি (অর্থাৎ প্রতি রাতে একইভাবে একাধারে ইবাদত করতেন)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, বায়হাকী ও অন্যান্য।)
(দ্বিতীয় সূত্রে আছে) ইব্রাহীম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, আমি তাঁকে এক রাতের ওপর অপর রাতকে গুরুত্ব দিতে দেখি নি (অর্থাৎ প্রতি রাতে একইভাবে একাধারে ইবাদত করতেন)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, বায়হাকী ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1036) عن إبراهيم (3) عن علقمة قال سألت عائشة كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأيكم يستطيع ما كان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يستطيع، كان عمله ديمةً (1) (ومن طريق ثانٍ) (2) عن إبراهيم قال سألت عائشة (3) رضي الله عنها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، قالت ما رأيته كان يفضل ليلةً على ليلةٍ (4)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৩) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) রাত্রিকালে (নিয়মিত) নামায আদায় করতেন। তারপর তিনি যখন তাঁর নামায থেকে অবসর হতেন তখন ঘুমিয়ে পড়তেন। তখন আমি যদি জেগে থাকতাম তাহলে তিনি আমার সাথে গল্প করতেন আর আমি যদি ঘুমিয়ে থাকতাম তাহলে তিনিও ঘুমিয়ে পড়তেন। এমনকি তাঁর নিকট মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত (তিনি ঘুমাতেন)।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও বায়হাকী।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও বায়হাকী।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1037) عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم كان يصلي من الليل فإذا فرغ من صلاته (5) اضطجع، فإن كنت يقظانةً (1) تحدث معي وإن كنت نائمةً نام حتى يأتيه المؤذن (2)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৪) মুসলিম ইবন্ মিখরাক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে বললাম, হে উন্মুল- মু'মিনীন! জনগণের মধ্যে কেউ কেউ রাত্রিবেলা দু'বার, তিনবার করে কুরআন পাঠ করে। আয়েশা (রা) বললেন: তারা (কুরআন) পাঠ করুক আর না করুক রাসূলুল্লাহ (সা) সারারাত জেগে সূরা বাকারাহ, সূরা আল-ইমরান ও সূরা নিসা পাঠ করতেন। সুসংবাদমূলক কোন আয়াত পাঠ করার সময় মহান আল্লাহর নিকট দু'আ করা ব্যতীত অতিক্রম করতেন না। ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এমন কোন আয়াতই আবার তিনি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ও পানাহ চাওয়া ব্যতীত অতিক্রম করতেন না।
(বায়হাকী, এ হাদীসের সনদে একজন বিতর্কিত রাবী আছেন।)
(বায়হাকী, এ হাদীসের সনদে একজন বিতর্কিত রাবী আছেন।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1038) عن مسلم بن مخراقٍ قال قلت لعائشة يا أم المؤمنين إن ناسًا يقرأ أحدهم القرآن في ليلةٍ مرتين أو ثلاثًا، فقالت أولئك قرءوا ولم يقرءوا (3)، كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم الليلة التمام فيقرأ سورة البقرة وسورة آل عمران وسورة النساء، ثم لا يمر بآيةٍ فيها استبشارٌ إلا دعا الله عز وجل ورغب ولا يمر بآيةٍ فيها تخويفٌ إلا دعا الله عز وجل واستعاذ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৫) আব্দুল্লাহ (র) বলেন, আমাকে আমার পিতা বলেছেন যে, আমাদেরকে রওহ বলেছেন আর তাঁকে শু'বা বলেছেন, তিনি আবদু রব্বিহি ইবন সাঈদ থেকে তিনি আবু আনাস থেকে, আবূ আনাস আব্দুল্লাহ ইবন নাফে' ইবন আল-'আময়া থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন হারিছ থেকে এবং তিনি মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা) বলেছেন, (রাতের) নামায দু' দু' রাকা'আত করে। প্রতি দু'রাকা'আতে তাশাহ্হুদ পড়বে, কান্নাকাটি করবে, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে এবং তোমার দু'হাত তুলে প্রার্থনা করবে। বলবে, ( اللَّهُمَّ اللَّهُمَّ ) হে আল্লাহ! হে আল্লাহ।( যে ব্যক্তি ঐ রূপ করবে না (তার ইবাদত হবে) অপূর্ণাঙ্গ। শু'বা বলেন, আমি (আমার উর্ধ্বতন রাবীকে) বললাম, তাঁর নামায কি তাহলে অপূর্ণাঙ্গই হবে? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। তখন আমি তাঁকে বললাম, তাহলে । ইকনা' বলতে কি বুঝানো হচ্ছে? তখন তিনি তার হস্তযুগল এমনভাবে প্রসারিত করলেন যেন তিনি প্রার্থনা করছেন।
(দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) মুত্তালিব ইবন রাবীয়াহ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, রাত্রিকালীন নামায দুই-দুই রাকা'আত করে (পড়তে হয়)। তোমাদের কেউ যখন নামায পড়বে তখন যেন সে প্রতি দু'রাকা'আত পরপর তাশাহহুদ পাঠ করে। অতঃপর তার প্রার্থনার মধ্যে অনুনয়-বিনয় করে আর যখন দু'আ করবে তখন ধীরস্থিরভাবে করবে এবং নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করবে। যে ব্যক্তি ঐরূপ করবে না, তবে ঐটাই হবে (তার নামাযের) অপূর্ণাঙ্গতা বা অপূর্ণাঙ্গতার ন্যায়।
(তাঁর থেকে তৃতীয় সূত্রে) নবী (সা) থেকে বর্ণিত যে, (রাতের) নামায দুই দুই রাকা'আত করে। প্রতি দু'রাকা'আত পরপর তাশাহ্হুদ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে। হাদীসের বাকি অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(আবু দাউদ, বায়হাকী, ইবন মাজাহ, তিরমিযী ও দারু-কুতনী।)
(দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) মুত্তালিব ইবন রাবীয়াহ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, রাত্রিকালীন নামায দুই-দুই রাকা'আত করে (পড়তে হয়)। তোমাদের কেউ যখন নামায পড়বে তখন যেন সে প্রতি দু'রাকা'আত পরপর তাশাহহুদ পাঠ করে। অতঃপর তার প্রার্থনার মধ্যে অনুনয়-বিনয় করে আর যখন দু'আ করবে তখন ধীরস্থিরভাবে করবে এবং নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করবে। যে ব্যক্তি ঐরূপ করবে না, তবে ঐটাই হবে (তার নামাযের) অপূর্ণাঙ্গতা বা অপূর্ণাঙ্গতার ন্যায়।
(তাঁর থেকে তৃতীয় সূত্রে) নবী (সা) থেকে বর্ণিত যে, (রাতের) নামায দুই দুই রাকা'আত করে। প্রতি দু'রাকা'আত পরপর তাশাহ্হুদ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে। হাদীসের বাকি অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(আবু দাউদ, বায়হাকী, ইবন মাজাহ, তিরমিযী ও দারু-কুতনী।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1039) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا روحٌ ثنا شعبة عن عبد ربه ابن سعيدٍ عن ابن أبي أنسٍ (1) عن عبد الله بن نافع بن العمياء عن عبد الله بن الحارث عن المطلب (1) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال الصلاة مثنى مثنى (3) تشهَّد في كل ركعتين وتبئس (4) وتمسكن وتقنع يديك (5) وتقول اللهم اللهم، فمن لم يفعل ذلك فهي خداجٌ (1) قال شعبة فقلت صلاته خداجٌ؟ قال نعم، فقلت له ما الإقناع؟ فبسط يديه كأنه يدعو (ومن طريقٍ ثانٍ) (2) عن المطلب ابن ربيعة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال صلاة الليل مثنى مثنى، وإذا صلى أحدكم فليتشهد في كل ركعتين ثم ليلحف (3) في المسألة، ثم إذا دعا فليتساكن وليتبئس وليتضعف (4) فمن يفعل ذلك فذاك الخداج أو كالخداج (وعنه من طريق ثالثٍ) (5) عن النبي صلى الله عليه وسلم الصلاة مثنى مثنى وتشهد وتسلم في كل ركعتين الحديث بنحو ما تقدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৬) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রাত্রিকালে নামায আদায় করতে আরম্ভ করে তখন তার উচিৎ হালকা দু' রাকা'আত নামায দিয়ে আরম্ভ করা।
(মুসলিম, আবু দাউদ ও বায়হাকী।)
(মুসলিম, আবু দাউদ ও বায়হাকী।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1040) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه سلم إذا قام أحدكم يصلي بالليل فليبدأ (وفي رواية فليفتتح صلاته) بركعتين خفيفتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৭) শুরাহবীল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুদায়বিয়ার যুদ্ধ হতে তাদের ফিরে আসার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁর (নবী (সা)-এর) উটের লাগাম ধরে ফেললাম এবং তা উল্লেখ্য যে, বসিয়ে ফেললাম। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং 'আতামাহ' বা ইশার নামায আদায় করে নিলেন। এ সময় জাবির (রা) তাঁর পাশেই ছিলেন। অতঃপর তিনি ইশার পর তের সিজদা (রাকা'আত) আদায় করলেন।
(এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। হাদীসটি সীরাতুন্নবী অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে।)
(এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। হাদীসটি সীরাতুন্নবী অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1041) عن شرحبيل بن سعدٍ عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما في قصة رجوعهم من غزوة الحديبية (1) قال ثم أخذت بزمام ناقته (2) صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم فأنختها فقام فصلى العتمة وجابرٌ فيما ذكر إلى جنبه (3) ثم صلى بعدها ثلاث عشرة سجدةً
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৮) য, সাফওয়ান ইবন মু'আত্তাল আস-সালামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোন এক ভ্রমণে আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ছিলাম, এক রাত্রে আমি তাঁর নামায পড়া পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, তিনি ইশার নামায আদায় করলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রি যখন অর্ধেক হলো তখন তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং সূরা আল-ইমরানের শেষের দশটি আয়াত পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি মিসওয়াক করার পর ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে দু' রাকা'আত নামায আদায় করলেন। আমি জানি না (অনুমান করতে পারি নি) যে, তাঁর দাড়ানো বেশী লম্বা ছিল, না কি রুকু, না কি সিজদা বেশী দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি (নামায থেকে) অবসর হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং উক্ত দশটি আয়াত পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি মিসওয়াক করার পর ওযু করলেন এবং দাঁড়িয়ে দু' রাকা'আত নামায আদায় করলেন। আমি জানি না (অনুমান করতে পারি নি) যে, তাঁর দাঁড়ানো বেশী লম্বা ছিল, না কি রুকু, না কি সিজদা বেশী দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি (নামায থেকে) অবসর হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এভাবে তৃতীয় বারও তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং ঐ একই কর্ম করলেন।
এভাবে এগার রাকা'আত নামায পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রথম বারের ন্যায় করতে থাকলেন।
(এ হাদীসটি ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ কর্তৃক মুসনাদে সংযোজিত একটি হাদীস। হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে পূর্বোক্ত ইবন আব্বাসের হাদীস একে সমর্থন করে।)
এভাবে এগার রাকা'আত নামায পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রথম বারের ন্যায় করতে থাকলেন।
(এ হাদীসটি ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ কর্তৃক মুসনাদে সংযোজিত একটি হাদীস। হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে পূর্বোক্ত ইবন আব্বাসের হাদীস একে সমর্থন করে।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1042) ز عن صفوان بن المعطل السلمي رضي الله عنه قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفرٍ فرمقت صلاته ليلةً، فصلى العشاء الآخرة ثم نام، فلما كان نصف اليل استيقظ فتلا الآيات العشر، آخر سورة آل عمران، ثم تسوك ثم توضأ ثم قام فصلى ركعتين، فلا أدري أقيامه أم ركوعه أم سجوده أطول (1) ثم انصرف فنام، ثم استيقظ فتلا الآيات ثم تسوك ثم توضأ ثم قام فصلى ركعتين لا أدري أقيامه أم ركوعه أم سجوده أطول، ثم انصرف فنام ثم استيقظ ففعل ذلك، ثم لم يزل يفعل كما فعل أول مرةٍ (2) حتى صلى إحدى عشرة ركعةً
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩৯) আবূ আইয়্যুব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) রাত্রিকালে দুই থেকে তিনবার মিসওয়াক করতেন এবং যখন তিনি রাতে (নফল) নামাযে দাঁড়াতেন তখন চার রাকা'আত নামায আদায় করতেন এর মাঝে তিনি কথাও বলতেন না, কোন বিষয়ের আদেশও করতেন না। (তবে) প্রতি দু' রাকা'আত পর পর সালাম ফিরতেন
(তাবরানী এর সনদে ওয়াসিল ইবন সায়েব" নামক এক দুর্বল রাবী আছেন।)
(তাবরানী এর সনদে ওয়াসিল ইবন সায়েব" নামক এক দুর্বল রাবী আছেন।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1043) عن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم كان يستاك من الليل مرتين أو ثلاثًا (1) وإذا قام يصلي من الليل صلى أربع ركعاتٍ (2) لا يتكلم ولا يأمر بشيءٍ، ويسلم بين كل ركعتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৪০) ইয়ালা ইবন মামলাক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উন্মু সালামাহ-কে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামায ও তাঁর কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাঁর (নবী সা-এর) নামায ও কিরাআত সম্পর্কে তোমাদের কি হলো? তিনি যে পরিমাণ ঘুমাতেন সে পরিমাণ নামায আদায় করতেন। আবার যে পরিমাণ নামায আদায় করতেন সে পরিমাণ ঘুমাতেন। আর তিনি তাঁর কিরাআতের যে বিবরণ দিলেন তা ছিল প্রতি অক্ষর অক্ষর ব্যাখ্যা সম্বলিত।
(আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গরীব।)
(আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গরীব।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1044) عن يعلى بن مملكٍ قال سألت أم سلمة رضي الله عنها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل وقراءته، فقالت ما لكم ولصلاته ولقراءته (3)، كان يصلي قدر ما ينام، وينام قدر ما يصلي، وإذا هي تنعت (4) قراءة مفسرةً حرفًا حرفًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৪১) য. আসিম ইবন্ দামরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ফরয নামায ছাড়াই রাত্রিকালে ষোল রাকা'আত নামায আদায় করতেন।
(উক্ত রাবী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ফরয নামায ছাড়াই রাত্রিকালে ষোল রাকা'আত নামায আদায় করতেন।
(এ হাদীসটি ও আবদুল্লাহর অতিরিক্ত সংযোজিত হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তার সনদ উত্তম।)
(উক্ত রাবী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ফরয নামায ছাড়াই রাত্রিকালে ষোল রাকা'আত নামায আদায় করতেন।
(এ হাদীসটি ও আবদুল্লাহর অতিরিক্ত সংযোজিত হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তার সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1045) ز عن عاصم بن ضمرة قال سئل عليٌّ رضي الله عنه عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي من الليل ست عشرة ركعةً (1) (وعنه من طريقٍ ثانٍ) عن عليٍ رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ست عشرة ركعةً سوى المكتوبة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৪২) য. উক্ত (আসিম ইবন্ দাময়াহ) থেকে বর্ণিত, তিনি আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী (সা) রাত্রিকালে আট রাকা'আত এবং দিনে বার রাকা'আত নফল নামায আদায় করতেন।
(আবু ইয়ালী ও হাইছামী। হাইছামী বলেন, এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে আমিন ইবন দামরাহ ছাড়া বাকি সকলেই সহীহ হাদীসেরই রাবী, তিনিও নির্ভরযোগ্য।)
(আবু ইয়ালী ও হাইছামী। হাইছামী বলেন, এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে আমিন ইবন দামরাহ ছাড়া বাকি সকলেই সহীহ হাদীসেরই রাবী, তিনিও নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1046) ز وعنه أيضًا عن عليٍ ري الله عنه قال كان النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم يصلي من التطوع ثمان ركعاتٍ وبالنهار ثنتي عشرة ركعة (1)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৪৩) হুমায়দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস (রা)-কে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর রাতের নামায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেন: রাত্রিকালে আমরা যখনই তাঁকে নামাযরত অবস্থায় দেখতে চাইতাম তখনই তাঁকে নামাযরত অবস্থায় দেখতাম। আবার যখনই তাঁকে ঘুমন্তাবস্থায় দেখতে চাইতাম, তখনই তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতাম। আর তিনি মাসের অধিকাংশ সময় এমন ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি কেন ইফতার করছেন না। আবার অনেক সময় এমনভাবে ইফতার করতেন (রোযা ছেড়ে দিতেন) যে, আমরা বলাবলি করতাম, হয়তো তিনি আর কখনও রোযাই রাখবেন না।
(বুখারী, নাসায়ী ও অন্যান্য।)
(বুখারী, নাসায়ী ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1047) عن حميدٍ قال سئل أنسٌ رضي الله عنه عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل فقال ما كنا نساء أن نراه من الليل مصليًا إلا رأيناه وما كنا نشاء أن نراه قائمًا إلا رأيناه وكان يصوم من الشهر حتى نقول لا يفطر منه شيئًا ويفطر حتى نقول لا يصوم منه شيئًا (2)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) অনুচ্ছেদ: উক্ত দু'জন ব্যতীত (অন্যান্য রাবীদের থেকে) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৪৪) রবী'আহ ইবন কা'ব আল-আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (হুজরার) দরজার নিকট রাত্রি যাপন করতাম, তাঁকে ওযুর পানি দিতাম। (অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, আমি নবী (সা)- এর হুজরায় ঘুমাতাম) রাত্রির দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি তাঁকে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَه বলতে শুনতাম। রাত্রির আরও কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি বলতেন الحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (অন্য এক বর্ণনায় আছে) আরও গভীর রাতে তিনি দীর্ঘক্ষণ বলতেন, سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِوَبِحَمْدِهِ
(এ হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ উত্তম।)
(এ হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب ما روي عن غيرهما في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1048) عن ربيعة بن كعبٍ الأسلمي (3) قال كنت أبيت عند باب رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطيه وضوءه (وفي روايةٍ كنت أنام في حجرة النبي صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم فأسمعه بعد هوىٍ (1) من الليل يقول سمع الله لمن حمده، وأسمعه بعد هوىٍ من الليل يقول الحمد لله رب العالمين (وفي روايةٍ) ثم يقول سبحان الله العظيم وبحمده الهوى (2)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিতর (সম্পর্কিত) অধ্যায়সমূহ
(১) অনুচ্ছেদ: বিতর নামাযের ফযীলত,তার গুরুত্ব ও হুকুম সম্পর্কিত বর্ণনা
(১) অনুচ্ছেদ: বিতর নামাযের ফযীলত,তার গুরুত্ব ও হুকুম সম্পর্কিত বর্ণনা
(১০৪৫) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন: হে কুরআনের অধিকারীরা! তোমরা বিতর (বেজোড়) নামায আদায় কর। কেননা মহান আল্লাহ নিজে বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।
(আবূ দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। তিনি হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেন। আর হাকিম তা সহীহ বলে দাবী করেন।)
(আবূ দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী। তিনি হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেন। আর হাকিম তা সহীহ বলে দাবী করেন।)
كتاب الصلاة
أبواب الوتر
(1) باب ما جاء في فضل الوتر وتأكيده وحكم
(1) باب ما جاء في فضل الوتر وتأكيده وحكم
(1049) عن عليٍ رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يا أهل القرآن أوتروا (3) فإن الله عز وجل وترٌ (3) يحب الوتر
তাহকীক: