মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ৬৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২. দু'সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক ও তার দু'আ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৮৭) 'আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) যখন প্রথম সিজদা থেকে মস্তক উত্তোলন করতেন, তখন সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সিজদায় যেতেন না।
(বর্ণিত হাদীসটি আয়িশা (রা) বর্ণিত একটি বৃহৎ হাদীসের অংশ বিশেষ। পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি أبواب صفة الصلاة অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(12) باب الجلسة بين السجدتين وما يقال فيها
(691) عن عائشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رفع أسه من السُّجود لم يسجد حتَّى يستوى قاعداً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২. দু'সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক ও তার দু'আ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৮৮) 'আব্দুর রহমান ইবন্ আবযা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের বৈশিষ্ট্যানুয়ায়ী সালাত আদায় করলেন; তিনি সিজদা করলেন সকল অঙ্গ তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত, তারপর সিজদা থেকে ওঠে বসলেন, সব অঙ্গ তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত। তারপর আবার সিজদা করলেন, সকল অঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত; তারপর উঠলেন এবং দ্বিতীয় রাকা'আতেও প্রথম রাকা'আত-এর ন্যায় (সবকিছু) করলেন। অতঃপর বললেন: এটাই রাসূল (ﷺ)-এর সালাত।
(এটি একটি সুবৃহৎ হাদীস-এর অংশ বিশেষ। পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি باب جامع صفة الصلاة অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(12) باب الجلسة بين السجدتين وما يقال فيها
(692) عن عبد الرَّحمن بن أبزى رضي الله عنه أنًّه صلَّى يصف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فسجد حتَّى أخذ كلُّ عضوٍ مأخذه، ثمَّ رفع حتَّى أخذ كلُّ عظمٍ مأخذه، ثمَّ سجد حتَّى أخذ كلُّ عظمٍ مأخذه، ثمَّ رفع فصنع فى الرَّكعة الثَّانية كما صنع فى الرَّكعة الأولى، ثمَّ قال هكذا صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২. দু'সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক ও তার দু'আ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৮৯) 'আব্দুল্লাহ ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাতুত্তাহাজ্জুদ-এ দু' সিজদার মাঝে বলতেন,
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وارْحَمْنِيْ وارْفَعْنِىْ وَارْزُقْنِيْ وَاهْدِنِيْ
হে প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে উন্নত করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমাকে হিদায়াত দান করুন।
(হাকিম মুস্তাদরাকে এবং বায়হাকী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ স্ব স্ব হাদীসগ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
(12) باب الجلسة بين السجدتين وما يقال فيها
(693) عن ابن عبِّاس رضي الله عنهما أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بين السَّجدتين فى صلاة الليل ربِّ اغفر لى وارحمني (1) وارفعنى وارزقني واهدني
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৩) প্রশান্তিমূলক বৈঠক সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯০) আবু কিলাবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সুলাইমান মালিক ইবন্ হুয়াইরিছ (রা) আমাদের মসজিদে আসলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম। আমি সালাত আদায় করব, তবে সালাত আদায় আমার উদ্দেশ্য নয়; বরং আমি রাসূল (ﷺ)-কে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা আমি তোমাদেরকে দেখাতে চাই। আবু কিলাবা (রা) বলেন: তারপর তিনি প্রথম রাকা'আতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঁচু করে (প্রথমে) বসলেন, তারপর দাঁড়ালেন, আবু কিলাবা (রা) থেকে অন্য এক বর্ণনামতে অনুরূপ বর্ণিত এবং তাতে আবূ কিলাবা (রা) বলেনঃ তারপর তিনি আমাদেরকে মুরব্বী 'আমর ইবন সালামা আল জিরমী (রা)-এর মত করেই সালাত আদায় করলেন। আর তিনি রাসূল (ﷺ)-এর আমলে সালাতে ইমামতি করতেন। আইয়ুব (রা) বলেন, আমি আমর ইবন্ সালামাকে দেখেছি (সালাতে) এমন কিছু করতে, যা তোমরা কর না। তিনি দু'সিজদার পর উঠে সোজা হয়ে বসতেন, তারপর প্রথম ও তৃতীয় রাকা'আত থেকে উঠে দাঁড়াতেন।
(বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, শাফেয়ী, বায়হাকী ও দারাকুতনী।)
كتاب الصلاة
(13) باب جلسة الاستراحة
(694) عن أبى قلابة قال جاء أبو سليمان مالك بن الحويرث رضي الله عنه إلى مسجدنا فقال والله إنِّي لأصلِّى وما أريد الصلاَّة (1)، ولكنِّي أريد أن أريكم كيف رأيت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يصلِّى، قال فقعد فى الرَّكعة الأولى حين رفع رأسه من السَّجدة الأخيرة (2) ثمَّ قام (وعنه من طريق ثانٍ) بنحوه (3) وفيه قال أبو قلابة فصلَّى صلاةً كصلاة شيخنا هذا يعنى عمرو بن سلمة الجرمىَّ، وكان يومُّ على عهد النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، قال أيوب فرأيت عمرو بن سلمة يصنع شيئاً لا أراكم تصنعونه، كان إذا رفع من السَّجدتين (4) استوى قاعداً ثمَّ قام من الرَّكعة الأولى والثَّالثة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত* সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯১) কাতাদা (রা) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ)-এর নিকট রি'ল, যাক্ওয়ান, উসাইয়্যা ও বনূ লিহইয়ান গোত্রের লোকজন আগমন করল। সাহাবীগণ ধারণা করলেন যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা রাসূল (ﷺ)-এর কাছে তাদের কওমের জন্য সাহায্য চাইল, রাসূল (ﷺ) সেদিন তাদেরকে সত্তুরজন আনসার দিয়ে সহযোগিতা করলেন। আনাস (রা) বলেন, ঐ আনসারদেরকে আমরা সে সময় কারী 'কুররা' বা কুরআন পাঠক বলে (সম্মানজনক অভিধায়) নামকরণ করেছিলাম। তাঁরা দিনের বেলায় জীবিকা অর্জনের জন্য কাঠ সংগ্রহ করতেন, এবং রাতে সালাত আদায় করতেন। তারা (আগমনকারী দল) তাঁদের নিয়ে যাত্রা করল, যখন তারা 'মাউনা' কূপের নিকটবর্তী আসল, তখন তারা তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তাঁদেরকে হত্যা করল। রাসূল (ﷺ) এই (গাদ্দার) রি'ল, যাওয়ান; উসাইয়্যা ও বনু লিহইয়ান-এর প্রতি বদ দু'আ করে একমাস যাবৎ সালাতুল ফজরে কুনূত পাঠ করলেন।
কাতাদা (রা) বলেনঃ আমাদের নিকট আনাস (রা) বর্ণনা করেছেন: তাঁরা এ ঘটনায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ইবন্ জা'ফর (রা) তাঁর ভাষায় বলেন: আমরা কুরআনের যে অংশ তিলাওয়াত করতাম তা হল ("আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের গোত্রের নিকট এ সংবাদটি পৌঁছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পেয়েছি, তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন।") অতঃপর তা তুলে নেয়া হয়েছে। ইব্‌ন জা'ফর (রা) বলেন, অতঃপর তা মানসূখ করা হয়েছে অথবা তুলে নেয়া হয়েছে। (অপর এক বর্ণনা মতে) 'আব্দুল্লাহ (র) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান (রা) 'আসিম থেকে, তিনি আনাস (রা) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূল (ﷺ) তাঁদের বিয়োগে যে ব্যথা পেয়েছেন কোন যুদ্ধেও সে ব্যথা পান নি। সে শহীদগণকে 'কুররা' বা কুরআন তিলাওয়াতকারী' বলা হত। সুফিয়ান (র) বলেন; এই শহীদদের উদ্দেশ্যই অবতীর্ণ হয়েছিল (তোমরা আমাদের পক্ষ হতো আমাদের স্বজাতিকে জানিয়ে দাও, আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং আমাদের দ্বারা সন্তুষ্ট করা হয়েছে।) সুফিয়ান (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হল: কাদের উপলক্ষে এটা অবতীর্ণ হয়েছিল? তিনি বলেন: বীরে মা'উনার শহীদদের উপলক্ষে। (উক্ত আয়াতটি মানসুখ করা হয়েছে।)
(বুখারী ও মুসলিম একই সনদে এ ছাড়া অনেকেই পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
*('কুনূত' শব্দের অর্থ আনুগত্য, একাগ্রতা, দু'আ, ইবাদত, রাত্রি জাগরণ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো, চুপ থাকা ইত্যাদি আলোচ্য অধ্যায়ে কুনূত অর্থ বিশেষ দু'আ।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(695) حدّثنا عبد الله حدَّثنى أبى ثنا ابن أبى عدىّ عن سعيد وابن جعفر ثنا سعيدٌ المعني عن قتادة عن أنس (بن مالكٍ) رضي الله عنه أن نبَّي صلى الله عليه وسلم أتاه رعلٌ وذكوان (1) وعصيَّة وبنو لحيان فزعموا أنَّهم قد أسلموا فاستمدوه على قومهم (1) فأمدَّهم نبيُّ الله صلى الله عليه وسلم يومئذٍ بسبعين من لأنصار، ال أنسٌ كنا نسماقَّيهم في زمانهم القرَّاء، (2) كانوا يحتطبون بالنَّهار ويصلون بالليَّل، فانطلقوا بهم حتَّى إذا أتوا بئر معونة (3) غدروا بهم فقتلوهم، فقنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرًا فى صلاةٍ الصبُّح يدعوا على هذه الحياء رعلٍ وذكوان وعصيَّة وبنى الحيان (4) قال قتادة وحدَّثنا أنسٌ أنَّهم قرؤا به قرآناً (5) وقال ابن جعفرٍ فى حديثه إنَّا قرأنا بهم قرآناً (يلِّغوا عنَّا قومنا أنَّا قد لقينا ربَّنا فرضى عنَّا وأرضانا) ثم رفع ذلك بعد، (6) قال ابن جعفرٍ ثمَّ نسخ ذلك أو رفع (ومن طريقٍ ثانٍ) حدَّثنا عبد الله حدَّثنى أبى ثنا سفيان عن عاصمٍ عن أنسٍ قال ما وجد (1) رسول الله صلى الله عليه وسلم على سريَّةٍ ما وجد عليهم، كانوا يسمَّون القرَّاء، قال سفيان نزل فيهم (بلغَّوا قومنا عنَّا أنًّا قد رضينا ورضى عنَّا) قيل لسفيان فيمن نزلت؟. قال فى أهل بئر معونة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯২) আনাস ইবন্ মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) রি'ল ও যাওয়ানদের বদ দু'আ করে একমাস যাবৎ রুকুর পরে কুনূত পাঠ করতেন, তিনি আরও বলেছেন: 'উসাইয়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে।'
(বুখারী ও মুসলিম একই সূত্রে তা ছাড়া অন্যান্য ইমামগণ ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(696) عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرًا بعد الرُّوع يدعوا على رعلٍ وذكوان، وقال عصيَّة عصت الله ورسوله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৩) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে আরও বর্ণিত রাসূল (ﷺ) আরবের কতক গোত্রের উপর বদ দু'আ করে এক মাস যাবৎ রুকুর পরে কুনূত পড়তেন; পরে তা (পাঠ করা) ছেড়ে দেন।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও বায়হাকী ।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(697) (وعنه أيضًا) قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرًا يدعوا بعد الرُّكوع على حىٍ أحياء العرب ثمَّ تركه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৪) 'আব্দুল্লাহ ইবন্ 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ)-কে সালাতুল ফজর-এর দ্বিতীয় রাকা'আতে মাথা উঁচু করে বলতে শুনেছেন: "রাব্বানা লাকাল হামদ" (হে প্রভু তোমার জন্যই সকল প্রশংসা।) অতঃপর তিনি বলেছেন; হে আল্লাহ, আপনি অমুক ব্যক্তির ওপর অভিসম্পাত করুন-এ দ্বারা তিনি মুনাফিক কিছু ব্যক্তির ওপর বদ দু'আ করতেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, তিনি তাদের তওবা কবুল করবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন-এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নাই, কারণ, তারা তো জালিম।)
(বুখারী ও তিরমিযী (র) সহ অনেকেই হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(698) عن ابن عمر رضي الله عنهما أنَّه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فى صلاة الفجر حين رفع رأسه من الرَّكعة، قال ربَّنا ولك الحمد فى الرَّكعة الآخرة، ثمَّ قال اللَّهمَّ العن فلاناً دعا على ناسٍ من المنافقين (1) فأنزل الله تعالى (ليس لك من الأمر شيءٌ أو يتوب عليهم أو يعذِّبهم فإنِّهم ظالمون)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৫) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন সালাতুল ফজরে (অন্য এক বর্ণনায় সালাতুল ফজরে) দ্বিতীয় রাকা'আতে (রুকু থেকে) মাথা উঁচু করতেন; তখন বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি ওয়ালিদকে মুক্তি দিন (অন্য এক বর্ণনায়, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের প্রভু, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি মুক্তি দিন ওয়ালিদ ইবন্ ওয়ালিদ, সালামা ইবন্ হিশাম, 'আয়্যা'শ ইবন্ আবী রাবিয়া'ও মক্কার অন্যান্য অসহায় ব্যক্তিদেরকে। হে আল্লাহ! আপনার রশিকে মুদার গোত্রের জন্য কঠিন করে দিন এবং ইউসুফ (আ)-এর আমলের দুর্ভিক্ষের ন্যায় তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ অবতরণ করান।
(বুখারী ও মুসলিম (রহ) একই সনদে ও বাইহাকী (রহ) পৃথক সনদে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(699) عن أبى هريرة رضي الله عنه لماَّ رفع النَّبىُّ صلى الله عليه وسلم رأسه من الرَّكعة الآخرة من صلاة الصُّبح (وفى روايةٍ الفجر) قال اللَّهم أنج الوليد
1 (وفى روايةٍ قال اللَّهمَّ ربنَّا ولك الحمد أنج الوليد) ابن الوليد وسلمة ابن هشامٍ (2) وعيَّاش بن لأبى ربيعة (3) والمستضعفين بمكًّة (4) اللَّهم اشدد وطأتك (5) على مضر واجعلها عليهم سنين كسني يوسف (6)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৬) খুফাফ ইবন্ ঈমা ইব্‌ন রাহদা আল-গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাতুল ফজর আদায় করলেন, আমরা তাঁর সাথেই ছিলাম, দ্বিতীয় রাকা'আতে তিনি যখন মাথা উঁচু করলেন; তখন বললেন: আল্লাহ লা'নত দিন লিহইয়ান, রি'ল, জাকওয়ান ও উসাইয়্যা গোত্রের ওপর। তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছে। আসলাম গোত্রকে আল্লাহ শাস্তিতে রাখুন এবং গিফার গোত্রকে ক্ষমা করুন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) সিজদায় গেলেন। সালাত শেষে রাসূল (ﷺ) মানুষদের সামনে বললেন, হে মানবমণ্ডলী! আমি এটা বলি নি বরং আল্লাহই এটা বলেছেন; (অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত বলা হয়েছে) খুফাফ (রা) বলেন: কাফিরদেরকে লা'নত দেয়া হয়েছে তাদের কুফরীর কারণেই।
(মুসলিম (র) সহ অনেকেই হাদীসটি তাঁদের গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(700) عن خفاف (1) بن إيناء بن رحضة الغفارىِّ قال صلَّى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الصُّبح ونحن معه، فلماًّ رفع رأسه من الرَّكعة الأخيرة قال لعن الله لحيان ورعلاً وذكوان وعصيَّة، عصوا الله ورسوله، أسلم سالمها الله، (2) وعفار عفر الله لها، ثمَّ وقع رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجداً، فلمَّا انصرف قرأ على النَّاس يا أيها النَّاس إنَّى أنا لست قلته، ولكنَّ الله عزَّ وجلَّ قاله (3) (زاد فى روايةٍ) قال خفافٌ فجعلت لعنة الكفرة من أجل ذلك (4)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৭) ইবন সীরীন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবন্ মালিক (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূল (ﷺ) কুনূত পড়তেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ রুকু'র পরে। তারপর তাঁকে অন্য এক দিন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূল (ﷺ) কি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন? তিনি বললেন, রুকু'র পরে স্বল্প আকারে।
(বুখারী ও মুসলিম একই সনদে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও তাহাবীসহ অনেকেই পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(701) عن ابن سيرين قال سئل أنس بن مالك هل قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال نعم بعد الركوع، ثمَّ سُئل بعد ذلك مرَّة أخرى هل قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فى صلاة الصبُّح قال بعد الرُّكوع يسيراً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৮) 'আসিম আল-আহওয়াল (রা) আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কুনূত রুকু'র পূর্বে নাকি পরে? তিনি বললেন, রুকূ'র পূর্বে। তিনি বলেন, আমি বললাম, লোকেরা ধারণা করে যে, রাসূল (ﷺ) রুকূ'র পরে কুনূত পড়েছেন, আনাস (রা) বললেন, তারা অসত্য বলেছে। রাসূল (ﷺ) কেবল মাত্র এক মাস (রুকু'র পরে) কুনূত পাঠ করেছেন সেই কুনূতে তাঁর সাহাবীদের মধ্যে 'কুররা' বা কুরআন পাঠকারী নামক কিছু সংখ্যক সাহাবীকে যারা হত্যা করেছিল, সেইসব লোকদের উপর বদ দু'আ করতেন।
(বুখারী ও মুসলিম একই সনদে এবং অন্যরা পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)।
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(702) عن عاصم الأحول عن أنسٍ رضي الله عنه قال سألته عن القنوت أقبل الرُّكوع أو بعد الرُّكوع؟ فقال قبل الرُّكوع، قال قلت فإنَّهم يزعمون أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت بعد الرّ! كوع، (1) فقال كذبوا، إنَّما قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرًا يدعوا على ناسٍ قتلوا أناساً من أصحابه يقال لهم القرَّاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুনূত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

(১) ফজরের কুনুত, তার কারণ এবং তা রুকু'র পূর্বে না পড়ে সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৯৯) আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) পৃথিবী থেকে বিদায়ের দিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে কুনূত পাঠ করতেন।
(দারাকুতনী ও বাযযার (র)। হায়ছামী (র) বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب القنوت

(1) باب القنوت فى الصبح وسببه وهل هو قبل الركوع أو بعده
(703) عن أنسٍ رضي الله عنه قال مازال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقنت فى الفجر حتى فارق الدنيا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) জোহর ও অন্যান্য সালাতে কুনূত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০০) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাতুয জোহরের পর দু'আ করতেন, হে আল্লাহ! আপনি ওয়ালিদ ইবন্ ওয়ালিদ, সালামা ইবন্ হিশাম, আইয়্যাশ ইবন্ আবী রাবী'আসহ মুশরিকদের হাতে বন্দী সকল দুর্বল মুসলিমকে মুক্ত করে দিন। যারা কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না, আর যারা পাচ্ছে না কোন দিক-নির্দেশনা।
(মুসনাদে আহমদ, হাদীসে আলী ইবন্ জায়েদ নামক জনৈক দুর্বল বর্ণনাকারী আছেন। তবে পরবর্তী হাদীসগুলো অত্র হাদীসের পরিপূরক।)
كتاب الصلاة
(2) باب القنوت فى الظهر وصلوات أخرى
(704) عن أبى هريرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعوا فى دبرٍ صلاة الظُّهر اللًّهمَّ خلِّص الوليد بن الوليد، وسلمة بن هشامٍ، وعياش ابن أبى ربيعة، وضعفة المسلمين من أيدى المشركين الَّذين لا يستطيعون حيلة ولا يهتدون سبيلاً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) জোহর ও অন্যান্য সালাতে কুনূত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০১) বারা ইবন্ আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাতুল ফজর ও সালাতুল মাগরিবে কুনুত পাঠ করতেন।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও বায়হাকী।)
كتاب الصلاة
(2) باب القنوت فى الظهر وصلوات أخرى
(705) عن البراء بن عازبٍ رضي الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم قنت فى الصبُّح والمغرب (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) জোহর ও অন্যান্য সালাতে কুনূত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০২) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন সালাতুল 'ইশার শেষ রাকা'আতে মাথা উঁচু করতেন তখন কুনূত পাঠ করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ। আপনি ওয়ালিদ ইবন্ ওয়ালিদকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি সালামা ইবন্ হিশামকে মুক্তি দিন, হে আল্লাহ! আপনি আইয়‍্যাশ ইবন রাবী'আকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি মু'মিনদের মধ্যে অসহায়দেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের প্রতি আপনার বাঁধনকে শক্ত করুন। হে আল্লাহ! তাদের প্রতি ইউসূফ (আ)-এর দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ অবতরণ করান।
(বুখারী ও মুসলিম এই সূত্রে এবং আবূ দাউদ ও বাইহাকী ভিন্ন সূত্রে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(2) باب القنوت فى الظهر وصلوات أخرى
(706) عن أبى هريرة رضي الله عنه أنَّ النَّبيًّ صلى الله عليه وسلم كان إذا رفع رأسه من الرَّكعة الأخيرة من صلاة العشاء الآخرة قنت وقال اللَّهم أنج الوليد ابن الوليد، اللَّهمَّ أنج سلمة بن هشامٍ، اللَّهم أنج عيَّاش بن أبي ربيعة اللَّهمَّ أنج المستضعفين من المؤمنين، اللَّهمّ أشدد وطأتك على مضر، اللَّهمَّ اجعلها سنين كسنى يوسف عليه السَّلام
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) জোহর ও অন্যান্য সালাতে কুনূত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০৩) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই রাসূল (ﷺ), সালাত তোমাদের নিকটবর্তী করে দেব। (অন্য এক বর্ণনাতে, আমি তোমাদের তুলনায় রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী), তিনি বলেনঃ আবু হুরায়রা (রা) সালাতুযযুহর, সালাতুল 'ইশা ও সালাতুল ফজরের শেষ রাকা'আতে কুনূত পাঠ করতেন। আবু 'আমির (রা) তাঁর বর্ণনায় বলেন: সালাতুল 'ইশা ও সালাতুল ফজরে "সামিআল্লাহুলিমান হামিদা" বলার পর রাসূল (ﷺ) মু'মিনদের জন্য দু'আ করতেন এবং কাফিরদেরকে অভিশাপ দিতেন। আবু 'আমির (রা) বলেছেন: কাফিরদেরকে লা'নত দিতেন।
(বুখারী ও মুসলিম একই সনদে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী ও দারাকুতনী ভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।)
كتاب الصلاة
(2) باب القنوت فى الظهر وصلوات أخرى
(707) حدّثنا عبد الله حدثنى أبى ثنا أبو قطنٍ وأبو عامرٍ قالا حدّثنا هشامٌ يعنى الدَّستوائىَّ عن يحيى عن أبى سلمة عن أبى هريرة رضي الله عنه قال والله لأقرِّبنَّ لكم (1) صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم (وفى رواية إنَّى لأقربكم صلاةً برسول الله صلى الله عليه وسلم) قال فكان أبو هريرة يقنت فى الرَّكعة الآخرة من صلاة الظُّهر وصلاة العشاء وصلاة الصُّبح، قال أبو عامرٍ فى حديثه العشاء الآخرة وصلاة الصُّبح بعد ما يقول سمع الله لمن حمده (2) ويدعو للمؤمنين ويلعن الكفَّار قال أبو عامرٍ فى ويلعن الكافرين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কুনূত পড়া সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ
(৭০৪) আব্দুল্লাহ ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাতুয জোহর, আসর, মাগরিবে 'ইশা ও ফজরের প্রত্যেক সালাতের পর এক মাস কুনূত পাঠ অব্যাহত রেখেছেন। শেষ 'রাকা'আতে 'সামিয়া' আল্লাহুলিমান হামিদা" বলে বনী সুলাইম গোত্রের রি'ল, যাওয়ান 'উসাইয়্যা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দু'আ করতেন। এবং তাদের পশ্চাতে অবস্থিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কামনা করতেন। রাসূল (ﷺ) তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাঁদেরকে পাঠিয়েছিলেন, অথচ তারা তাঁদেরকে হত্যা করল। 'আফফান (রা) তাঁর বর্ণনায় বলেন এবং ইকরামা (রা) বলেন: এটাই ছিল কুনূতের সূচনা।
(ইমাম বুখারী (র) সহ অনেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل منه فى القنوت فى الصلوات الخمس
(708) عن ابن عبَّاس رضي الله عنهما قال قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهراً متتابعاً فى الظُّهر والعصر والمغرب والعشاء والصبُّح فى دبر كلِّ صلاةٍ إذا قال سمع الله لمن حمده من الرَّكعة الأخيرة، يدعو عليهم، على حيٍ من بني سليمٍ على رعلٍ وذكوان وعصيَّة ويرمِّن من خلفه، أرسل إليهم يدعوهم إلى الإسلام (1) فقتلوهم، قال عفَّان فى حديثه قال وقال عكرمة هذا كان مفتاح القنوت (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) কুনুত সশব্দে পড়ার ব্যাপারে নির্দেশ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০৫) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন কারও বিপক্ষে অথবা কারও জন্য দু'আ করতে ইচ্ছা করতেন, তখন রুকু'র পরে কুনূত পাঠ করতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি 'সামি'আল্লাহু লিমান হামিদা", রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ" বলে বলতেন, "হে আল্লাহ! আপনি ওলীদ ইব্‌ন ওলীদ, সালামা ইবন্ হিশাম, 'আইয়্যাশ ইবন্ আবী রাবী'আসহ মু'মিনদের মধ্যে নির্যাতিতদের মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের ওপর আপনার বাঁধনকে শক্ত করুন এবং তাদের মধ্যে ইউসুফ (আ)-এর আমলের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এটা সরবে পাঠ করতেন। তিনি সালাতুল ফজরের কোন কোন সময় বলতেন, 'হে আল্লাহ। আরবের অমুক অমুক গোত্রদ্বয়কে আপনি লা'নত দিন। পরিশেষে আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন-
لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
(তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন-এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই, কারণ তারা তো জালিম)।
(আবু হুরায়রা (রা) থেকে অন্য এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন: রাসূল (ﷺ) সালাতে রুকু' করতেন, তারপর মাথা উঁচু করে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আইয়্যাশ ইবন্ আবী রাবী'আকে রক্ষা করুন (এভাবে বলা শেষ করে) পরিশেষে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি তাদের ওপর ইউসুফ (আ)-এর সময়কার দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দান করুন। আল্লাহু আকবার, তারপর তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন।
(আবু দাউদ, বায়হাকী ও হাকিম (র) মুস্তাদরাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب ما جاء فى الجهر بالقنوت
(709) عن أبى هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد أن يدعو على أحدٍ أو يدعو لأحدٍ قنت بعد الرُّكوع، فربَّما قال إذا قال سمع الله لمن حمده ربَّنا ولك الحمد، اللَّهمَّ أنج الوليد بن الوليد، وسلمة ابن هشامٍ، وعياش بن أبى ربيعة، والمستضعفين من المؤمنين، اللَّهمَّ اشدد وطأتك على مصر وأجعلها سنين كسني يوسف، قال يجهر بذلك، ويقول فى بعض صلاته فى صلاة الفجر، اللَّهمَّ العن فلاناً وفلاناً حييَّن من العرب حتَّى أنزل الله عزَّ وجل (ليس لك من الأمر شئٌ أو يتوب عليهم أو يعذَّبهم فإنَّهم ظالمون) (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (1) قال ركع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الصَّلاة ثمَّ رفع رأسه فقال اللَّهمَّ أنج عيَّاش بن أبى ربيعة إلى أن قال اللَّهمَّ أجعلها سنين كسنى يوسف، الله أكبر ثم خرَّ ساجداً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭১০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) বিপদের মুহূর্ত ছাড়া ফজরে কুনূত নেই-একথার প্রবক্তাদের দলীল সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৭০৬) আবু মালিক (আশজা'ঈ) (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বললাম, হে পিতা। আপনি রাসূল (ﷺ), উমর, উসমান ও 'আলী (রা)-এর পেছনে এই কুফাতেই প্রায় পাঁচ বছর সালাত আদায় করেছেন, তাঁরা কি কুনূত পাঠ করতেন? তিনি বললেন, ওহে বৎস! এটা বিদ'আত।
(উক্ত আবু মালিক (র) থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত), তিনি বলেন: আমার পিতা ষোল বছর বয়সের তরুণাবস্থায় রাসূল (ﷺ), আবু বকর, উমর ও উসমান (রা)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা কি কুনুত পড়তেন? তিনি বললেন, না; হে ছেলে! এটি হচ্ছে বিদ'আত।
(ইমাম নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ ও তিরমিযী (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। হাফিজ (র) তালখিস কিতাবে বলেন-এর সনদ মানসম্মত।)
كتاب الصلاة
(4) باب حجة القائلين بعدم القنوت فى الصبح الا عند النوازل
(710) عن أبى مالكٍ (الأشجعىَّ) قال قلت لأبى (2) يا أبت إنَّك قد صلَّيت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم وعمر وعثمان وعلى ههنا بالكوفة قريبا من خمس سنين أكانوا يقنتون؟ قال أى بنيَّ محدثٌ (3) وعنه من طريقٍ ثانٍ) (4) قال كان أبى قد صلَّي خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن ستَّ عشرة سنةً وأبى بكرٍ وعمر وعثمان، فقلت له أكانوا يقنتون؟ قال لا، أى بنيَّ محدثٌ
tahqiq

তাহকীক: