মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ৫৫১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২০) ফরয পরিমাণ কিরাআত যে উত্তমরূপে আদায় করে নি, তার সম্পর্কে মতামত বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৪৭) আব্দুল্লাহ ইবন্ আবূ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি কুরআন পাঠ করতে পারি না। সুতরাং কুরআনের আয়াত সমতুল্য প্রতিদান হতে পারে আমাকে এমন বিষয় নির্দেশ করুন। তখন রাসূল (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি বল,
الحَمْدُ لِلَّهِ، وسُبْحَانَ اللَّهِ، ولَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ، واللَّهُ أَكْبَرُ، ولَا حَوْلَ ولَا قُوَّةَ إلَّا باللَّهِ
'আল হামদুলিল্লাহ ওয়া সুবহানাল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়াল্লাহু আকবর ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি দু'আটি পড়লেন এবং তাঁর হাতের তালু জড়ালেন কাজটি তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলির সাহায্যে গুণে গুণে পাঁচ বার করলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ দু'আ তো আল্লাহর জন্য, আমার নিজের জন্য প্রার্থনা কোনটি? তখন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি বল
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي
'আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ার হাম্নী ওয়া আ'ফিনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী' বর্ণনাকারী বলেন: লোকটি উক্ত দু'আ পড়লেন এবং তাঁর অন্য হাতের তালু জড়ালেন এবং এ কাজটি তিনি বৃদ্ধঙ্গুলির সাহায্যে গুণে পাঁচ বার করলেন। অতঃপর লোকটি তাঁর উভয় হাত একত্রে জড়িয়ে চলে গেলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, লোকটি তাঁর উভয় হাত কল্যাণ ও সওয়াব দ্বারা ভরে ফেলেছে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ ও দারাকুতনী-এর বর্ণনায় আছে 'আমি কুরআন পড়তে পারি না'। ইবন মাজাহ-এর বর্ণনায় আছে আমি কুরআন ভালভাবে পড়তে পারি না।' এ ঘটনা নতুন মুসলমান হওয়া বা সালাত আদায়ের শুরুর দিকে হতে পারে। নিয়মিত সালাতে এ নির্দেশ প্রয়োজ্য নয়।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ, দারাকুতনী ও ইব্‌ন হিব্বান (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) হাদীসখানাকে দুর্বল (যয়ীফ) বলেছেন।
كتاب الصلاة
(20) باب حكم من لم يحسن فرض القراءة
(551) عن عبد الله بن أبى أوفى رضى الله عنه قال أتى رجلٌ النَّبىَّ صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إنِّي لا أقرأ القرآن (1) فمرنى بما يجزئنى منه، فقال له النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم قل الحمد لله وسبحان الله ولا إله إلاَّ الله والله أكبر ولا حول ولا قوَّة إلاَّ بالله، قال فقالها الرَّجل وقبض كفَّه وعدَّ خمسًا مع إبهامه، فقال يا رسول الله هذا لله تعالى فما لنفسى؟ قال قل اللَّهم اغفر لى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى، قال فقالها وقبض على كفِّه الأخرى وعدَّ خمسًا مع إبهامه فانطلق الرَّجل وقد قبض كفَّيه جميعًا، فقال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لقد ملأ كفَّيه من الخير
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২১) সূরা ফাতিহার পর প্রথম দু'রাকাআতে সূরা পড়া বিষয়ে এবং শেষ দু'রাক'আতে পড়া সুন্নত কিনা সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৪৮) আবু কাতাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তখন তিনি জোহর ও আসর সালাতের প্রথম দু'রাকা'আতে সূরাতুল ফাতিহা ও অন্য দু'টি সূরা তিলাওয়াত করতেন, এবং মাঝে মাঝে তিনি আমাদেরকে কোন কোন আয়াত শুনাতেন (অন্য এক বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে- এবং তিনি শেষ দু'রাক'আতে শুধু সূরাতুল ফাতিহা তিলাওয়াত করতেন এবং তিনি জোহরের প্রথম রাকাআতকে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকা'আতকে সংক্ষিপ্ত করতেন; আর ফজরের সময়ও তিনি এরূপ করতেন।
(বুখারী ও মুসলিম একই শব্দে একই সনদে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন্ মাজাহ্ পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(21) باب قراءة السورة بعد الفاتحة فى الأوليين
وهل تسن قراءتها فى الأخريين أم لا؟
(552) عن أبى قتادة رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّى بنا فيقرأ فى الظُّهر والعصر فى الرَّكعتين الأوليين بفاتحة الكتاب وسورتين (1) ويسمعنا الآية أحيانًا (2) (زاد فى روايةٍ ويقرأ فى الرَّكعتين الأخريين بأمِّ الكتاب) (1) وكان يطوِّل فى الرَّكعة الأولى (2) من الظُّهر ويقصِّر فى الثَّانية وكذا في الصُّبح (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২১) সূরা ফাতিহার পর প্রথম দু'রাকাআতে সূরা পড়া বিষয়ে এবং শেষ দু'রাক'আতে পড়া সুন্নত কিনা সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৪৯) আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) জোহরের সালাতের প্রথম দু'রাকা'আতের প্রত্যেক রাকা'আতে ত্রিশ আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং শেষ দু'রাকা'আতের প্রত্যেক রাকা'আতে পনের আয়াত পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। আর আসরের সালাতের প্রথম দু'রাকাআতের প্রতি রাকা'আতে পনের আয়াত পরিমাণ এবং শেষ দু'রাকা'আতের প্রতি রাকা'আতে তার অর্ধেক পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন।
(ইমাম মুসলিম (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(21) باب قراءة السورة بعد الفاتحة فى الأوليين
وهل تسن قراءتها فى الأخريين أم لا؟
(553) عن أبى سعيد الخدرىِّ رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم فى الظُّهر في الرَّكعتين الاوليين فى كلِّ ركعة قدر قراءة ثلاثين آيةً (4) وفي الأخريين في كلِّ ركعةٍ قدر قراءة خمس عشرة آيةً (1) وكان يقوم فى العصر فى الركعتين الأوليين فى كلِّ ركعةٍ قدر قراءة خمس عشرة آيةً، وفي الأخريين قدر نصف ذلك (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২১) সূরা ফাতিহার পর প্রথম দু'রাকাআতে সূরা পড়া বিষয়ে এবং শেষ দু'রাক'আতে পড়া সুন্নত কিনা সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫০) আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে সুবিধাজনক কিরাআত পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন।
(আবু দাউদ (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। ইব্‌ন সাইয়িদিন নাস (র) বলেন, হাদীসখানার সনদ সহীহ্ এবং বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(21) باب قراءة السورة بعد الفاتحة فى الأوليين
وهل تسن قراءتها فى الأخريين أم لا؟
(554) وعنه أيضًا قال أمرنا نبيُّنا صلَّى الله عليه وآله وسلَّم أن نقرأ بفاتحة الكتاب وما تيسَّر (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২১) সূরা ফাতিহার পর প্রথম দু'রাকাআতে সূরা পড়া বিষয়ে এবং শেষ দু'রাক'আতে পড়া সুন্নত কিনা সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫১) জাবির ইবন্ সামূরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফাবাসী লোকজন একদা হযরত উমর (রা) -এর নিকট সা'দ (অর্থাৎ সা'দ ইবন্ আবী ওয়াক্কাস (রা))-এর ব্যাপারে অভিযোগ করে এবং বলে তিনি (সা'দ) উত্তম পন্থায় সালাত আদায় করেন না। জাবির (রা) বলেন, 'উমর (রা) তখন তাঁকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করে থাকি। প্রথম দু'রাকা'আতে দীর্ঘ করে এবং শেষ দু'রাকা'আতে সংক্ষিপ্ত করে কিরাআত পাঠ করি। 'উমর (রা) বললেনঃ ওহে আবু ইসহাক। এটাই তোমার ব্যাপারে আমার ধারণা।
(জাবির (রা) থেকে অন্য এক সনদে বর্ণিত হয়েছে।), তিনি বলেন, 'উমর (রা) সা'দ (রা)-কে ডেকে বললেন: লোকজন তোমার সকল ব্যাপারে এমনকি সালাতের ব্যাপারেও অভিযোগ করছে। সা'দ (রা) তখন বললেন, আমি তো প্রথম দু'রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘ করি এবং শেষ দু'রাকা'আতে সংক্ষিপ্ত করি। আমি রাসূল (ﷺ)-এর সালাত অনুসরণ করার চেয়ে সংক্ষিপ্ত করতে পারছি না। 'উমর (রা) তখন বললেন, এটাই তোমার ব্যাপারে ধারণা করা যায় অথবা এটাই তোমার ব্যাপারে আমার ধারণা।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) একই শব্দে একই সনদে এবং আবূ দাউদ ও বায়হাকী (র) তাঁদের সুনানে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(21) باب قراءة السورة بعد الفاتحة فى الأوليين
وهل تسن قراءتها فى الأخريين أم لا؟
(555) عن جابر بن سمرة رضى الله عنه قال شكا أهل الكوفة سعدا (يعنى ابن أبى وقاص) إلى عمر رضى الله عنه فقالوا لا يحسن يصلى قال فسأله عمر رضى الله عنه، فقال إنى أصلي بهم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم أركد (4) فى الأوليين، وأحذف فى الأخريين، قال ذلك الظن بك يا أبا إسحاق. (وعنه من طريق ثان) (1) قال قال عمر رضى الله عنه لسعد شكاك الناس (2) فى كل شيء حتى في الصلاة، قال أما (3) أنا فأمد من الأوليين وأحذف من الأخريين ولا آلو (4) ما اقتديت به من صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال عمر ذاك الظن بك أو ظني بك (5)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫২) আব্দুল্লাহ ইবন্ শাকীক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, রাসূল (ﷺ) এক রাকা'আতে একাধিক সূরা পড়তেন কি? তিনি বললেন, আল মুফাস্সাল (সূরাগুলোর)-এর ক্ষেত্রে তিনি এরূপ করতেন।
(বায়হাকী (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। তার সনদ মানসম্মত।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(556) عن عبد الله بن شقيق قال قلت لعائشة رضى الله عنها هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجمع بين السُّور في ركعةٍ (1) قالت المفضَّل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৩) নাফে' (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) ফরয সালাতে আমাদের ইমামতিকালে অধিকাংশ সময় (একই রাকা'আতে) দুই বা তিনটি সূরা পাঠ করতেন। (আল মুফাস্স্সাল বলতে আল কুরআনুল, কারীম-এর শেষ সপ্তমাংশের সূরাসমূহকে বুঝায়। অধিকাংশ মুফাসসির-এর মতে তা হল সূরা হুজরাত থেকে সূরা নাস পর্যন্ত। হানাফীগণের নিকট তা হল সূরা ক্বাফ থেকে নাস পর্যন্ত।)
(বায়হাকী (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। হায়ছামী (র) হাদীসখানা উল্লেখ করে বলেছেন, অত্র হাদীস আহমদ (র) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে উল্লেখিত ব্যক্তিরা সবাই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(557) عن نافعٍ قال رَّبما أمَّنا ابن عمر بالسُّورتين والثَّلاث فى الفريضة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৪) নাহীক ইবন্ সিনান আস-সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি 'আব্দুল্লাহ ইবন্ মাস'উদ (রা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বললেন: আমি রাত্রে এক রাকা'আতে মুফাস্সাল পুরোটা তিলাওয়াত করেছি। তখন ইবন্ মাসউদ (রা) বলেনঃ কবিতা আবৃত্তির মত আবৃত্তি করেছে অথবা শুকনা নষ্ট খেজুর ছিটানোর মত ছিটিয়েছে। বরং সূরাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে যেন তোমরা তাদেরকে পার্থক্য করতে পারো। রাসূল (ﷺ)-এর জোড়া মিশানো বিশটি সূরার মাঝে আমি সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছি। ইবন্ মাসউদ-এর মতানুসারে আর-রাহমান ও আন্-নজম সূরাদ্বয় এক রাকা'আতে এবং দুখান ও নাবা একই রাকা'আতে। (নাহীকি (রা) থেকে অন্য বর্ণনা মতে) আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি আসওয়াদ ইবন্ ইয়াযিদ ও আলকামা (রা) থেকে 'আব্দুল্লাহ (ইবন মাসউদ)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবন্ মাসউদ-এর নিকট আসল এবং তাঁকে বলল, আমি এক রাকা'আতে মুফাস্সাল সবটাই তিলাওয়াত করেছি। তখন তিনি বললেন, তুমি তো কবিতা আবৃত্তির ন্যায় আবৃত্তি করেছো অথবা শুকনা খেজুর ছিটানোর ন্যায় ছিটিয়েছো। তুমি যেমন করলে রাসুল (ﷺ) তেমনটি কখনও করেন নি। তিনি 'আর-রাহমান' ও 'আন্-নজম'-এর মত দু'টি সূরা এক রাকা'আতে পড়তেন। নাহীকি (রা) বললেন, আবু ইসহাক বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন্ মাসউদ (রা)-এর বর্ণনাতে দশ রাকা'আতে বিশটি সূরা যার শেষটি ছিল আত্-তাকভীর ও আদ্‌-দুখান।
(বুখারী ও মুসলিম (র) একই সনদে এবং আবু দাউদ (র) ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(558) عن نهيك بن سنانٍ السَّلميِّ أنه أتى عبد الله بن مسعودٍ رضى الله عنه فقال قرأت المفصَّل اللَّيلة فى ركعةٍ (1) فقال هذَّا مثل هذِّ الشِّعر (2) أو نثرًا مثل نثرٍ الدَّقل (3) إنَّما فصِّل لتفِّصلوا، لقد علمت النَّظائر (4) الَّتى كان رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم يقرن (5) عشرين سورةً، الرَّحمن والنَّجم (1) على تأليف ابن مسعود كلَّ سورتين فى ركعةٍ، وذكر الدُّخان وعمَّ يتساءلون فى ركعةٍ (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (2) عن أبى إسحاق عن الأسود بن يزيد وعلقمة عن عبد الله (يعنى ابن مسعودٍ) أنَّ رجلًا أتاه فقال قرأت المفصَّل فى ركعةٍ فقال بل هذذت كهذِّ الشعر أو كنتر الدَّقل، لكنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يفعل كما فعلت، كان يقرأ النُّظر (3) الرَّحمن والنِّجم فى ركعةٍ، قال فذكر أبو إسحاق عشر ركعاتٍ بعشرين سورةً على تأليف عبد الله (يعنى ابن مسعود) آخرهنَّ إذا الشَّمس كوِّرت والدُّخان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৫) আব্দুল্লাহ ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সূর্যোদয়ের পূর্বে (অর্থাৎ সালাতুল ফজরে) প্রথম রাকা'আতে 'সূরাতুল ফাতিহা' ও 'সুরাতুল বাকারা'-এর শেষ দু' আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকা'আতে সূরাতুল ফাতিহা এবং আলে-'ইমরান-এর (কুল ইয়া আহলাল কিতাব .....) আয়াতখানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন।
(বুলুগুল আমানীর প্রণেতা আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমান বান্না (র) বলেন, আমি হাদীসখানা এই শব্দে পাইনি। তবে মুসলিম (র) শব্দগুলির কিছু পরিবর্তনসহ অত্র হাদীস উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(559) عن ابن عبَّاس رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ فى ركعتيه قبل الفجر بفاتحة القرآن والآيتين من خاتمة البقرة فى الراَّكعة الأولى، وفى الرَّكعة الآخرة بفاتحة القرآن وبالآية من سورة آل عمران {قل يا أهل الكتاب تعالوا إلى كلمةٍ سواء بيننا وبينكم} حتَّى يختم الآية
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৬) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন তোমাদের মধ্যে কেউ তার পরিজনের নিকট ফিরে এসে তিনটি গর্ভবতী হৃষ্টপুষ্ট উন্ত্রী বিনামূল্যে দেখতে চাও কি? আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তিনটি আয়াত শিক্ষা করে তা দিয়ে সালাত আদায় করা তার জন্য উক্ত সম্পদের চেয়েও উত্তম।
(ইমাম মুসলিম (র)-সহ অনেকেই হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(560) عن أبى هريرة رضى الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال أيحب أحدكم إذا رجع إلى أهله أن يجد ثلاث خلفاتٍ (2) عظامٍ سمانٍ؟ قال قلنا نعم، قال فثلاث آياتٍ يقرأ بهنَّ في الصَّلاة خيرٌ له منهنَّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২২) এক রাকা'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ, সূরার অংশবিশেষ পাঠ এবং একই রাকা'আতে একই সূরা বা আয়াতসমূহ পুনরাবৃত্তি করা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৭) আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এক রাতে সালাত আদায় করছিলেন, তখন তিনি একটি মাত্র আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন এবং ঐ আয়াত পড়েই রুকু করলেন এবং সিজদা করলেন। (আয়াতখানা হল-
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
'ইন তু'আযযিবহুম ফাইন্নাহুম 'ইবাদুকা, ওয়া ইন তাগফির লাহুম ফাইন্নাকা আন্তাল্ আযীযুল হাকীম), অতঃপর যখন সকাল হল আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আপনি-এ আয়াতটি এমনভাবে তিলাওয়াত করছিলেন, মনে হচ্ছিল আপনি ঐ আয়াত পড়েই রুকু করেছেন এবং সিজদা করেছেন। রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি আল্লাহর নিকট আমার উম্মতের শাফায়াত প্রার্থনা করেছি এবং আল্লাহ আমাকে তা দিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন বস্তুকে শরীক করবে না সে উক্ত শাফায়াতের উপযুক্ত হবে ইনশা-আল্লাহ।
(নাসাঈ ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) বলেন, হাদীসখানা সহীহ্।)
كتاب الصلاة
(22) باب قراءة سورتين أو أكثر فى ركعة، وقراءة بعض سورة
وجواز تكرر السورة أو الآيات فى ركعة
(561) عن أبي ذرٍّ رضى الله عنه قال صلَّي رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلةً فقرأ بآية حتَّى أصبح يركع ويسجد بها {إن تعذِّبهم فإنَّهم عبادك، وإن تغفر لهم فإنَّك أنت العزيز الحكيم} فلمَّا أصبح قلت يا رسول الله ما زلت نقرأ هذه الآية حتَّى أصبحت تركع وتسجد بها، قال إنِّى سألت الله الشَّفاعة لأمَّتى فأعطانيها، وهى نائلةٌ إن شاء الله لمن لا يشرك بالله عزَّ وجلَّ شيئًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৮) সুলাইমান ইবন্ ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, মদীনার ইমাম অমুক ব্যক্তি*-এর তুলনায় অন্য কারও সালাত রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখি নি অন্য এক বর্ণনায় আমি রাসূল (ﷺ)-এর ওফাতের পর অন্য কারও পেছনে রাসূল (ﷺ)-এর সালাত সাদৃশ্য সালাত আদায় করি নি)।
সুলাইমান ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন (এতদশ্রবণে) আমি তখন তার পেছনে সালাত আদায় করেছি। (লক্ষ্য করলাম যে,) তিনি জোহরের সালাতে প্রথম দু'রাকা'আতে কিরাআত দীর্ঘায়িত করেছেন এবং পরবর্তী দু'রাকা'আতে কিরা'আত-সংক্ষিপ্ত করেছেন, আর আসরের-সালাতকে সর্বসাকুল্যে সংক্ষিপ্ত করেছেন। এবং মাগরিবের প্রথম দু'রাকা'আতে কিসারে মুফাসসাল*, ইশার প্রথম দু'রাকা'আতে আওসাত-ই মুফাসসাল* ও ফজরের সালাতে 'তিওয়াল-ই-মুফাসসাল' তিলাওয়াত করতেন।
*(উক্ত ব্যক্তি ছিলেন, উমর ইবন আব্দুল আযীয (র) যার বর্ণনা অত্র হাদীসের শেষে রয়েছে।)
*(কিছারে মুফাসসাল বলতে মালেকীদের নিকট সূরা দুহা থেকে নাস পর্যন্ত, হানাফী ও শাফেয়ীদের নিকট দুহার পর থেকে নাস পর্যন্ত।)
*(আওসাতে মুফাসাল বলতে মালেকীদের নিকট 'আস থেকে লাইল পর্যন্ত এবং হানাফী ও শাফেয়ীদের নিকট নাবার পর থেকে দুহা পর্যন্ত।)
*(তিওয়ালে মুফাস্সাল বলতে মালেকীদের নিকট হুজুরাত থেকে নাযিআত এবং হানাফীদের নিকট কাফ থেকে নাবা ও শাফেয়ীদের নিকট হুজুরাত থেকে নাবা পর্যন্ত।
(অন্য এক বর্ণনায় ফজর বুঝানোর জন্য 'আন নাবা'-এর পরিবর্তে 'আসসুবহু' বলা হয়েছে)
দাহ্হাক (রা) বলেন আনাস ইবন্ মালিকের মুখে শুনে জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন আমি এ যুবক অর্থাৎ উমর ইবন্ আব্দুল 'আযীয (র)-এর সালাতের ন্যায় অন্য কারও সালাত রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখি নি। দাহহাক (র) বলেন: আমি 'উমর ইবন আব্দুল 'আযীয (রা)-এর পেছনে সালাত আদায় করলাম এবং সুলাইমান ইবন্ ইয়াসার (র) যেমনটি বলেছিলেন তাঁর সালাত তেমনই পেয়েছি।
(নাসাঈ (র)-সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। হাফিয (র) বলেন, ইবন্ খুযাইমা (র) হাদীসখানাকে সহীহ্ বলেছেন। 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে হাদীসের সনদকে সহীহ্ বলা হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(562) عن سليمان بن يسارٍ عن أبى هريرة رضى الله عنه قال ما رأيت رجلًا (وفى روايةٍ ما صلَّيت وراء أحدٍ بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم) أشبه صلاةٍ برسول الله صلى الله عليه وسلم من فلانٍ لإمامٍ كان بالمدينة (1) قال سليمان بن يسارٍ فصلَّيت خلفه فكان يطيل الأوليين (وفى روايةٍ الرَّكعتين الأوليين) من الظُّهر ويخفِّف الأخريين، ويخفِّف العصر، ويقرأ في الأوليين من المغرب بقصار المفصَّل، ويقرأ فى الأوليين من العشاء من وسط المفصَّل، ويقرأ فى الغداة (وفي روايةٍ فى الصُّبح) بطوال المفصَّل، قال الضَّحَّاك وحدَّثنى من سمع أنس بن مالكٍ (1) يقول ما رأيت أحدًا أشبه صلاةٍ بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا الفتى يعنى عمر بن عبد العزيز، قال الضَّحَّاك فصلَّيت خلف عمر بن عبد العزيز وكان يصنع مثل ما قال سليمان بن يسارٍ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৯) জাবির ইবন্ সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (ﷺ) জোহরে ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা' সূরা পাঠ করতেন, আসরেও অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন এবং ফজরে তার তুলনায় অধিক দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।
(মুসলিম, আবূ দাউদ ও নাসাঈ (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(563) عن جابر بن سمرة رضى الله عنه قال كان رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم يقرأ فى الظُّهر واللَّيل إذا يغشى، وفى العصر نحو ذلك، وفى الصُّبح أطول من ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬০) 'আব্দুল্লাহ ইবন্ আবী কাতাদা (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, রাসূল (ﷺ) যোহরের সালাতে আমাদেরকে ইমামতি করতেন এবং প্রথম দু'রাকা'আতে মাঝে মাঝে আমাদের ইমামতি করতেন এবং প্রথম দু'রাকা'আত মাঝে মাঝে আমাদেরকে শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করতেন। প্রথম রাকা'আতে দীর্ঘ কিরাআত ও দ্বিতীয় রাকা'য়াতে সংক্ষিপ্ত কিরাআত। তিনি ফজরের সালাতে অনুরূপ প্রথম রাকা'আতে দীর্ঘ ও দ্বিতীয় রাকা'আতে সংক্ষিপ্ত কিরাআত পাঠ করতেন। আর তিনি আসরের সালাতের প্রথম দু'আকা'আতেও আমাদের নিয়ে কিরাআত পাঠ করে সালাত আদায় করতেন।
(আবু কাতাদা (রা) এর অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা এ কিরাআত বলতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য যে কোন একটি সূরা বুঝায়।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) একই সনদে একই শব্দে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ (র) সুনানে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(564) عن عبد الله بن أبى قتادة عن أبيه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمُّنا يقرأ بنا فى الرَّكعتين الأوليين من صلاة الظُّهر ويسمعنا الآية أحيانًا، ويطول في الأولى، ويقصِّر في الثَّانية، وكان يفعل ذلك في صلاة الصُّبح يطوِّل الأولى ويقصِّر فى الثَّانية وكان يقرأ بنا في الرَّكعتين الأوليين من صلاة العصر (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রত্যেক সালাতে যে কিরাআত পাঠ করা হয়, তন্মধ্যে রাসূল (ﷺ) যেগুলো আমাদেরকে শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও সেগুলো তোমাদেরকে শুনিয়ে পড়ি আর যেগুলোকে তিনি আমাদের সামনে নীরবে পড়েছেন, সেগুলোকে আমরাও তোমাদের সামনে নীরবে পড়ছি।
(বুখারী ও মুসলিম (র) একই সনদে এবং আবু দাউদ ও নাসাঈ তাঁদের সুনানে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(565) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال كلُّ صلاة يقرأ (2) فيها فما أسمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أسمعناكم، وما أخفى علينا أخفينا عليكم (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬২) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদের সালাতে ইমামতি করতেন এবং তিনি সরবে ও নীরবে কিরাআত পাঠ করতেন। সুতরাং তিনি যেখানে (যেসব সালাত) সরবে পড়তেন, আমরাও সেখানে সরবে পড়ি; আর তিনি যেখানে নীরবে পড়তেন, আমরাও সেখানে নীরবে পড়ি। আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কিরাআত ব্যতীত কোন সালাত হয় না।
(বায়হাকী (র) ও আবূ আওয়ানা (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(566) وعنه أيضًا قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمُّنا فى الصَّلاة فيجهر ويخافت، فجهرنا فيما جهر به، وخافتنا فيما خافت فيه، فسمعته يقول لا صلاة إلاَّ بقراءةٍ (4)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৪) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬৩) আবূ মা'মার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম রাসূল (ﷺ) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পাঠ করতেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু মা'মার (রা) বলেনঃ তখন আমরা জিজ্ঞাসা করলাম-আপনার তা কীভাবে বুঝতেন? আবূ মা'মার (রা) বলেনঃ তখন তিনি বললেন, তাঁর দাঁড়ির নাড়াচাড়া দেখে।
(বুখারী, নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ ও বায়হাকী ও তাহাবী (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(24) باب القراءة فى الظهر والعصر
(567) عن أبى معمر قال قلنا لخبَّابٍ (1) رضى الله عنه هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ فى الظُّهر والعصر؟ قال نعم (1) قال فقلنا بأىِّ شئٍ كنتم تعرفون ذلك؟ قال فقال باضطراب لحيته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৪) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬৪) আব্দুল্লাহ ইবন্ উবাইদুল্লাহ ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি কিছু কুরাইশ যুবকসহ উবাইদুল্লাহ ইবন্ আব্বাস (রা)-এর নিকট উপনীত হলাম। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞসা করল, রাসূল (ﷺ) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পাঠ করতেন কি? তিনি বললেন, না। তখন তারা বলল, মনে হয় তিনি মনে মনে পড়তেন। ইবন্ আব্বাস (রা) স্বীয় শরীর চুলকাতে চুলকাতে বললেন এটা অশোভনীয় প্রশ্ন*। রাসূল (ﷺ) ছিলেন একজন আজ্ঞাবহ বান্দাহ, তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন সবই যথাযথ পৌঁছিয়েছেন। আর তিনি সাধারণ মানুষ ব্যতীত আমাদের জন্য* তিনটি কাজই বিশেষভাবে পালনীয় করে দিয়েছেন*। আমাদেরকে আদেশ করেছেন ওযু সুন্দরমত করার জন্য*। সাদকা* না খাওয়ার জন্য এবং ঘোড়ার সাথে গাধার যৌন মিলনের মাধ্যমে বাচ্চা না নেয়ার জন্য*।
*(আমাদের জন্য বলতে রাসূল (ﷺ)-এর পরিবার-পরিজনসহ কুরাইশ বংশকে বুঝানো হয়েছে।)
*(দ্বিতীয় প্রশ্নটি অশোভনীয় ছিল এ কারণে যে, রাসূল (ﷺ) আদিষ্ট কাজকে যথাযথভাবে পালন করেছেন। তাই তাঁর কাজের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা ঠিক নয়। অথবা বেশি বুঝতে চাওয়াও ঠিক নয়। তবে প্রকৃত তথ্য হল রাসূল (ﷺ) গোপনেই পড়তেন, যা ইবন্ আব্বাসের অজানা ছিল।)
*(এ আদেশ কুরাইশদের জন্য হলেও তা সারা বিশ্বের মু'মিনদের জন্যই প্রযোজ্য। তবে কুরাইশদের জন্য ওয়াজিব এবং অন্যদের জন্য উত্তম।)
*(এখানে সাদাকাহ্ বলতে যাকাত ও সাদাকাহ সবই বুঝাবে। তা কুরাইশদের জন্যই খাওয়া হালাল নয়।) *(এটাও কুরাইশদের জন্য হারাম এবং অন্যান্য মু'মিনদের জন্য মাকরূহ। কারণ এতে উৎপাদন কমে যায়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ঘোড়ার প্রয়োজনে তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়।)
(আবু দাউদ, নাসাঈ ও তাহাবী (র) হাদীসখানা মানসম্মত সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(24) باب القراءة فى الظهر والعصر
(568) عن عبد الله بن عبيد الله بن عبَّاسٍ قال دخلت أنا وفتيةٌ (2) من قريش على ابن عبَّاس، قال فسألوه هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ فى الظُّهر والعصر؟ قال لا، فقالوا فلعلَّه كان يقرأ فى نفسه (3) قال خمشًا، هذه شرٌّ، (4) إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عبدًا مأمورًا بلَّغ ما أرسل به، وإنَّه لم يخصَّنا دون النَّاس إلاَّ بثلاث (5) أمرنا أن نسبغ الوضوء (6) ولا نأكل الصدَّقة (7) ولا ننرى (8) حمارًا على فرسٍ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৪) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬৫) ইকরামা (রা) ইবন্ আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সালাতে কখনও কখনও সরবে কিরাআত পড়তেন আর কখনও চুপ থাকতেন। তিনি যেখানে তিলাওয়াত করতেন, সেখানে আমরাও তিলাওয়াত করি আর যেখানে তিনি চুপ থাকতেন আমরাও তথায় চুপ থাকি। তখন তাঁকে বলা হল, হয়তবা রাসূল (ﷺ) মনে মনে পড়তেন। ইবন্ 'আব্বাস (রা) এতে রেগে গেলেন এবং বললেন, রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অপবাদ আরোপ করা হচ্ছে কি? (অন্য রেওয়ায়েতে আমরা কি তাঁকে অপবাদ দিচ্ছি?)
(ইমাম বুখারী (র) হাদীসখানার অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(24) باب القراءة فى الظهر والعصر
(569) عن عكرمة عن ابن عبَّاسٍ رضى الله عنهما قال قرأ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم فى صلواتٍ وسكت (1) فنقرأ فيما قرأ فيهنَّ نبيُّ الله صلى الله عليه وسلم ونسكت فيما سكت، فقيل له فلعلَّه كان يقرأ فى نفسه، فغضب منها وقال أيتَّهم (وفى روايةٍ أنتَّهم) رسول الله صلى الله عليه وسلم (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২৪) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৬৬) ইবন্ 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর সকল সুন্নাতই আয়ত্ব করেছি, তবে আমি জানি না রাসূল (ﷺ) জোহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পাঠ করতেন কি না। (অন্য এক বর্ণনায় আছে কিন্তু আমরা পড়ে থাকি।) আর আমি জানি না রাসূল (ﷺ) "ওয়াক্বাদ বালাগ মিনাল কিবারি "ইতিয়্যান" নাকি "ইসিয়্যান" পাঠ করতেন। (ইতিয়্যান' ও 'ইসিয়্যান' উভয় শব্দের অর্থ একই। আর তা হল সন্তান জন্মদান না করে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া।)
(আবু দাউদ (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। ইবন্ জারীর তাঁর তাফসীরে বলেন, হাদীসখানার সনদ ভাল।)
كتاب الصلاة
(24) باب القراءة فى الظهر والعصر
(570) عن ابن عبَّاسٍ رضى الله عنهما قال قد حفظت السُّنَّة كلَّها (1) غير أنِّي لا أدرى أكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ فى الظُّهر والعصر أم لا، (2) (زاد في روايةٍ ولكنَّا نقرأ) ولا أدرى كيف كان يقرأ هذا الحرف (وقد بلغت من الكبر عتيًّا أو عسيًّا) (3)
tahqiq

তাহকীক: