মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ৫৩১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সূরাতুল ফাতিহা তিলাওয়াতের আবশ্যকতা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫২৭) 'আব্দুল্লাহ ইবন্ সাওদাহ্ কুশাইরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট জনৈক বেদুঈন তাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন-আর তার পিতা ছিলেন রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বন্দী। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'উম্মুল কিতাব' তিলাওয়াত করা হয় নি এমন সালাত কবুল করা হয় না।
(আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমান আল বান্না বলেন, আমি হাদীসখানা অন্য কোথাও পাইনি, এর সনদে অনেক জড়তা আছে। তবে এ অধ্যায়ের অন্যান্য হাদীস আলোচ্য হাদীসখানাকে শক্তিশালী করেছে।)
كتاب الصلاة
(16) باب وجوب قراءة الفاتحة
(531) عن عبد الله بن سوادة القشيرى قال حدَّثنى رجلٌ من أهل البادية عن أبيه وكان أبوه أسيرًا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سمعت محمَّدًا صلى الله عليه وسلم يقول لا تقبل صلاةٌ لا يقرأ فيها بأمِّ الكتاب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫২৮) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্যই। সুতরাং তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং তিনি যখন কিরাআত পাঠ করবেন তখন তোমরা চুপ থাকবে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইব্‌ন মাজাহ তাঁদের সুনানে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিম (র) বলেন, হাদীসখানা সহীহ্।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(532) عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنَّما جعل الإمام ليؤتمَّ به فإذا كبَّر فكربِّروا، وإذا قرأ فأنصتوا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫২৯) আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(ইমাম মুসলিম (র) সহ অনেকে হাদীসাখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(533) وعن أبى موسى الأشعرىِّ رضى الله عنه عن النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم نحوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩০) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) সজোরে কিরাআত বিশিষ্ট কোন এক সালাত আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি জনতার দিক মুখ ফিরালেন, অতঃপর বললেন, কিছুক্ষণ পূর্বে তোমাদের মধ্যে কেউ কি আমার সাথে কিরাআত পাঠ করেছে? সাহাবীরা বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাইতো বলি আমার কি হল-আমি কুরআনের আয়াতের সাথে টানা হেঁচড়ায় অথবা ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছি। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-এর কাছ থেকে এ ঘটনা শোনার পর থেকে মানুষেরা সজোরে কিরাআত বিশিষ্ট সালাতে রাসূল (ﷺ)-এর কিরাআতের সময় তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকত।
(নাসাঈ, ইবন্ হিব্বান, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও তিরমিযী (র) হাদীসাখানা উল্লেখ করেছেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসখানা হাসান।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(534) عن أبى هريرة رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم صلَّى صلاةً جهر فيها بالقراءة، ثمَّ أقبل على النَّاس بعد ما سلَّم فقال هل قرأ منكم أحدٌ معى آنفًا (1) قالوا نعم يا رسول الله، قال إنِّى أقول مالى أنازع القرآن فانتهى النَّاس عن القراءة (3) مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يجهر به من القراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩১) আব্দুল্লাহ ইবন্ বুহাইনা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(হায়ছামী তাঁর 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এ হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ, তবারানী কাবীর ও আওসাতে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমদ (র)-এর বর্ণিত রাবীদের সবাই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(535) عن عبد الله بن بحينة رضى الله عنه عن النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم مثله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩২) মুহাম্মদ ইবন্ আবী'আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মনে হয় ইমাম কিরাআত পড়া অবস্থায় তোমরা তাঁর পেছনে কির'আত পাঠ করে থাকো? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা তা করি। রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা তা করবে না, তবে তোমাদের কেউ 'উম্মুল কুরআন' বা 'ফাতিহাতুল কিতাব' তিলাওয়াত করতে পার।
(হাফিজ (র) বলেন, হাদীসখানার সনদ হাসান, মানসম্মত।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(536) عن محمد بن أبى عائشة عن رجل من أصحاب النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم قال قال النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم لعلكم تقرءون خلف الإمام والإمام يقرأ؟ قالوا يا رسول الله إنَّا لنفعل، قال فلا تفعلوا، إلاَّ أن يقرأ أحدكم بأمِّ القرآن أو قال فاتحة الكتاب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৩) 'আব্দুল্লাহ ইবন্ আবী কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা রাসূল (ﷺ), থেকে (উপরোক্ত হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(হায়ছামী (র) আহমদ (র)-এর বর্ণনাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সনদে একজন অজ্ঞাত ব‍্যক্তি রয়েছেন, তাই হাদীসখানা দুর্বল। তবে পূর্ববর্তী হাদীস অত্র হাদীসের সহায়ক।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(537) وعن عبد الله بن أبى قتادة عن أبيه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم نحوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৪) আব্দুল্লাহ ইবন্ মাস'উদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীগণ রাসূল (ﷺ)-এর পেছনে সালাতে কিরাআত পাঠ করতেন; তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার কুরআন তিলাওয়াতকে জড়িয়ে ফেলেছো।
(হায়ছামী (র) আহমদ (র)-এর বর্ণনামতে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। আহমদ (র) বর্ণিত ব্যক্তিদের সবাই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(538) عن عبد الله (بن مسعود) رضى الله عنه قال كانوا يقرءون خلف النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فقال خلطتم (1) علىَّ القرآن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৫) কাছীর ইবন্ মুররা আল হাদরামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু দারদা (রা) থেকে শুনেছি তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেছিলাম- সকল সালাতেই কি কির'আত পড়তে হবে? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তখন আনসারদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি বললেন, কির'আত পড়া ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন আবৃদ দারদা আমার দিকে তাকালেন আর আমি ছিলাম সবার মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয়। অতঃপর বললেন, ওহে ভাতিজা। ইমাম যখন কোন জনতার ইমামতি করে, তখন আমার মতে কির'আত পড়ার জন্য তিনিই যথেষ্ট।
(বায়হাকী ও নাসাঈ (র) হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন। হাদীসখানার সনদ মানসম্মত। তবে মতনের ব্যাপারে বিভিন্ন শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(539) عن كثير بن مرَّة الحضرمى قال سمعت أبا الدَّرداء رضى الله عنه يقول سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أفى كلِّ صلاةٍ قراءةٌ؟ قال نعم، فقال رجلٌ من الأنصار وجبت هذه (2) فالتفت إلىَّ أبو الدَّرداء وكنت أقرب القوم منه فقال يا ابن أخى ما أرى الإمام إذا أمَّ القوم إلاَّ قد كفاهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৭) মুক্তাদীর কিরাআত এবং ইমামের কণ্ঠ শুনে তার চুপ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৬) ইমরান ইবন্ হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) জোহরের সালাত আদায় করলেন, তখন পেছন থেকে এক ব্যক্তি সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' -কিরাআত পাঠ করছিলেন। সালাত শেষে রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে 'সাব্বিহিস্স্না রাব্বিকাল আ'লা' পড়ছিলে? লোকটি বলল, আমি। রাসূল (ﷺ) তখন বললেন, আমি বুঝতে পারছিলাম তোমাদের মধ্যে কেউ আমাকে কিরাআতে জড়িয়ে ফেলছিলে।
(সালাতুয জোহরে কিরাআত নীরবে পাঠ করার কথা থাকলেও সাহাবী সরবে পাঠ করার জন্যই রাসূল (ﷺ)-এর নিকট জড়িয়ে যাচ্ছিল।)
(বুখারী ও মুসলিম একই সনদে এবং নাসাঈ ও দারাকুতনী ভিন্ন সনদে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
(17) باب ما جاء فى قراءة المأموم وانصاته اذا سمع امامه
(540) عن عمران بن حصينٍ رضى الله عنه قال صلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم الظُّهر فقرأ رجل خلفه بسبِّح اسم ربِّك الأعلى، فلمَّا صلَّى قال أيُّكم قرأ بسبِّح اسم ربِّك الأعلى؟ فقال رجل أنا، قال قد عرفت أنَّ بعضكم خالجنيها (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৮) কোন ব্যক্তি যখন পৃথক সালাতে দাঁড়ায় তখন তার কিরাআত সরবে পাঠ করা নিষেধ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৭) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন, যেন কেউ ইশার পূর্বে ও পরে উঁচু স্বরে কিরাআত পাঠ না করে। কারণ এমতাবস্থায় সেই স্বর তার আশে পাশে সালাতরত মুসলিমদের ভুল ও বিভ্রান্তির দিকে পরিচালিত করে।
(আলী (রা) থেকে অন্য এক সনদে বর্ণিত), রাসূল (ﷺ) মাগরিব ও 'ইশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাতের মধ্যে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতামূলকভাবে সরবে কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন।
(এখানে জামায়াত শেষ হওয়ার পূর্বে ও পরে একাকী সালাত আদায়ে কির'আতের কথা বলা হয়েছে।)
(কিরাআত অথবা সালাতের অন্য কোন কাজে ভুল হওয়াই এখানে উদ্দেশ্য।)
(আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমান আল বান্না বলেন, আমি হাদীসখানা অন্য কোথাও পাইনি। এর সনদ দুর্বল, তবে আবু হুরায়রা (রা)-এর হাদীস অত্র হাদীসকে শক্তিশালী করেছে।)
كتاب الصلاة
(18) باب النهي عن الجهر بالقراءة فى الصلاة اذا هو سن على مصل آخر
(541) عن علىّ رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يرفع الرَّجل صوته بالقراءة قبل العشاء وبعدها (1) يغلِّط أصحابه وهم يصلُّون (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (2) أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يجهر القوم بعضهم على بعضٍ بين المغرب والعشاء بالقرآن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৮) কোন ব্যক্তি যখন পৃথক সালাতে দাঁড়ায় তখন তার কিরাআত সরবে পাঠ করা নিষেধ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৮) আব্দুল্লাহ ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ই'তিকাফ করলেন এবং সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করলেন, অতঃপর বললেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায় তখন সে আল্লাহর নিকট একান্তে প্রার্থনা করে। সুতরাং সে যে আল্লাহর নিকট একান্তে প্রার্থনা করছে-এ কথা যেন সে অনুধাবন করতে পারে এরূপ সুযোগ তাকে দেওয়া দরকার আর সালাতে তোমাদের কেউ কারও চেয়ে সজোরে কিরাআত পাঠ করবে না।
(তবারানী ও বাযযার (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। সনদে সাদাকাহ ইবন 'আমর' নামক জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন। তবে পরবর্তী হাদীসসমূহের কারণে অত্র হাদীস জোরালো হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(18) باب النهي عن الجهر بالقراءة فى الصلاة اذا هو سن على مصل آخر
(542) عن ابن عمر رضى الله عنهما أنَّ النَّبىَّ صلى الله عليه وسلم اعتكف وخطب النَّاس فقال أما إنَّ أحدكم إذا قام فى الصَّلاة فإنه يناجى (1) ربَّه فليعلم أحدكم ما يناجى ربَّه، ولا يجهر بعضكم على بعضٍ بالقراءة فى الصَّلاة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৮) কোন ব্যক্তি যখন পৃথক সালাতে দাঁড়ায় তখন তার কিরাআত সরবে পাঠ করা নিষেধ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৩৯) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, 'আব্দুল্লাহ ইবন্ হুযাফা আস-সাহমী (রা) সরবে সালাত আদায় করছিলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ওহে হুযাফা তনয়, তুমি আমাকে শুনাবে না বরং তোমার মহিমান্বিত প্রভু আল্লাহকে শুনাও।
(বাযযার। ইরাকী (রা) হাদীসখানার সনদ বিশ্লেষণ করে অত্র হাদীসকে সহীহ্ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(18) باب النهي عن الجهر بالقراءة فى الصلاة اذا هو سن على مصل آخر
(543) عن أبى هريرة رضى الله عنه أنَّ عبد الله بن حذافة السَّهمىَّ رضى الله عنه قام يصلِّي فجهر بصلاته. فقال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يا ابن حذافة لا تسمعنى وأسمع ربَّك عزَّ وجلَّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৮) কোন ব্যক্তি যখন পৃথক সালাতে দাঁড়ায় তখন তার কিরাআত সরবে পাঠ করা নিষেধ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৪০) আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ই'তিকাফ করছিলেন; এমতাবস্থায় তিনি এবং অন্যান্য সঙ্গীগণ ই'তিকাফের জন্য নির্মিত তাঁবুর ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূল (ﷺ) তাদেরকে কিরাআত উচ্চস্বরে পড়তে (সালাতে) শুনলেন। রাসূল (ﷺ) তখন তাঁবুর পর্দা তুললেন এবং বললেন। ওহে তোমরাতো সকলেই আল্লাহর নিকট প্রার্থনারত। সুতরাং তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিও না এবং কিরাআতে একে অপরের চেয়ে স্বর উঁচু করো না। (বর্ণনাকারীর সন্দেহ*, নাকি রাসূল (ﷺ) বলেছেন) সালাতে একে অপরের চেয়ে স্বর উঁচু করো না।'
*হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ)-এর মুখ নিঃসৃত সঠিক শব্দটি স্মরণ না থাকলে বর্ণনাকারী এরূপ বলে থাকেন। এটাকে ইলমে হাদীসের পরিভাষায় شك الراوي বা 'বর্ণনাকারীর সংশয়' বলা হয়।
(ইমাম নাসাঈ (র) তাঁর সুনানে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) হাদীসখানাকে সহীহ্ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(18) باب النهي عن الجهر بالقراءة فى الصلاة اذا هو سن على مصل آخر
(544) عن أبى سعيدٍ الخدرىِّ رضى الله عنه قال اعتكف رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمعهم يجهرون بالقراءة وهم فى قبَّة (2) لهم فكشف السُّتور وقال ألا إنَّ كلَّكم مناجٍ ربَّه، فلا يؤذينَّ بعضكم بعضًا، ولا يرفعنَّ بعضكم على بعضٍ بالقراءة أو قال فى الصَّلاة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৮) কোন ব্যক্তি যখন পৃথক সালাতে দাঁড়ায় তখন তার কিরাআত সরবে পাঠ করা নিষেধ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৫৪১) বাইয়াদ্বী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) জনতার উদ্দেশ্যে (তাদের অবস্থা অবলোকন করার জন্য) বের হলেন ঐ সময় তাঁরা সালাত আদায় করছিলেন এবং কিরাআতে তাঁদের স্বর উঁচু করছিলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়, মুসল্লী তাঁর প্রভুর নিকট একান্তে কাকুতি মিনতি করছে। সুতরাং প্রত্যেকেই যেন তার প্রার্থনার প্রতি খেয়াল রাখে। আর তোমাদের কেউ যেন কুরআন তিলাওয়াতে অন্যের চেয়ে স্বর-উঁচু না করে।*
*তার পুরানাম ফারওয়া ইবন আমর। তার বংশের বায়াদা ইবন্ আমের-এর নামানুসারে তাকে এ নামে ডাকা হয়।
(ইমাম মালিক (র) হাদীসখানা মারফু হিসেবে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(18) باب النهي عن الجهر بالقراءة فى الصلاة اذا هو سن على مصل آخر
(545) عن البياضيَّ (3) رضى الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج على النَّاس وهم يصلُّون وقد علت أصواتهم بالقراءة فقال إنَّ المصلِّى يناجى ربَّه عزَّ وجلَّ فلينظر ما يناجيه، ولا يجهر بعضكم على بعضٍ بالقرآن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৯) আমীন বলা এবং কিরাআতে তা সরবে ও নিরবে উচ্চারণ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৫৪২) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ইমাম যখন غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ "গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন" বলবেন, তখন তোমরা 'আমীন' বলবে। কেননা, তখন ফেরেশতাগণ 'আমীন' বলেন এবং ইমাম-ও 'আমীন' বলেন। সুতরাং যার 'আমীন' ফেরেশতাগণের 'আমীন'-এর সাথে সমাঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তার অতীতের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে*।
* সামঞ্জস্যপূর্ণ বলতে ইমাম নববীর মতে একই সময় এবং কাযী ইয়াযের মতে উচ্চারণভঙ্গি, ঐকান্তিকতা এবং আল্লাহভীতিতে সমপি রমাণ হওয়াকে বুঝায়।
(আবু দাউদ ও নাসাঈ (রহ) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও মুসলিমে অত্র হাদীসখানি আংশিক বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(19) باب ما جاء فى التأمين والجهر به فى القراءة واخفائه
(546) عن أبى هريرة رضى الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال إذا قال الإمام غير المغضوب عليهم ولا الضَّالِّين فقولوا آمين (1) فإنَّ الملائكة (2) يقولون آمين، وإنَّ الإمام يقول آمين فمن وافق (1) تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدَّم من ذنبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৯) আমীন বলা এবং কিরাআতে তা সরবে ও নিরবে উচ্চারণ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৫৪৩) আবু হুরায়রা (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ইমাম যখন 'আমীন' বলবেন তখন তোমরাও 'আমীন' বলবে। কেননা, যাঁর 'আমীন' ফেরেশতাদের আমীনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তাঁর অতীতের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
(বুখারী ও মুসলিম (র) একই সনদে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ তিরমিযী ও ইবন মাজাহ ভিন্ন ভিন্ন সনদে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(19) باب ما جاء فى التأمين والجهر به فى القراءة واخفائه
(547) ز وعنه أيضًا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا أمَّن القارئ (2) فأمِّنوا فإنَّه من وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدَّم من ذنبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৯) আমীন বলা এবং কিরাআতে তা সরবে ও নিরবে উচ্চারণ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৫৪৪) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ (সালাতে) 'আমীন' বলে-তখন আসমানে ফেরেশতাগণও বলেন 'আমীন'। সুতরাং যদি একটি অপরটির সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়, তবে তার অতীতের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
(বুখারী, মুসলিম ও বায়হাকী (রহ) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(19) باب ما جاء فى التأمين والجهر به فى القراءة واخفائه
(548) ز وعنه فى أخرى أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا قال أحدكم آمين، قالت الملائكة فى السَّماء آمين فوافقت إحداهما الأخرى غفر له ما تقدَّم من ذنبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৯) আমীন বলা এবং কিরাআতে তা সরবে ও নিরবে উচ্চারণ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৫৪৫) ওয়াইল ইবন্ হুজর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (ﷺ) ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন পড়ে আমীন' বলতে শুনেছি এমনভাবে যে, তাতে তাঁর স্বর দীর্ঘ হয়ে যেত।
(ইমাম তিরমিযী, বায়হাকী, দারাকুতনী, ইবন্ হিব্বান ও আবু দাউদ (র) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী ও হাফিয (র) হাদীসখানাকে সহীহ্ এবং ইমাম তিরমিযী হাদীসখানাকে হাসান বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(19) باب ما جاء فى التأمين والجهر به فى القراءة واخفائه
(549) عن وائل بن حجرٍ رضى الله عنه قال سمعت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قرأ ولا الضَّالِّين فقال آمين يمدُّ (1) بها صوته صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (১৯) আমীন বলা এবং কিরাআতে তা সরবে ও নিরবে উচ্চারণ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৫৪৬) ওয়াইল ইবন্ হুজর (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে (জামাতে) সালাত আদায় করলেন, যখন তিনি غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ ছোয়াল্লীন পড়লেন তখন 'আমীন' বললেন, এবং তাতে তাঁর স্বর নীচু করলেন এবং তিনি বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখলেন এবং প্রথমে ডানদিকে তারপর বামদিকে সালাম ফিরালেন।
(ইবন মাজাহ্ ও দারাকুতনী হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসখানাকে হাসান বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(19) باب ما جاء فى التأمين والجهر به فى القراءة واخفائه
(550) وعنه أيضًا قال صلَّى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلمَّا قرأ غير المغضوب عليهم ولا الضَّالِّين قال آمين وأخفى بها صوته ووضع يده اليمنى على يده اليسرى وسلَّم عن يمينه وعن يساره
tahqiq

তাহকীক: