মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ৪৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: ইমামের সুতরা ইমামের পেছনের মুক্তাদিদেরও সুতরা এবং কোন কিছু অতিক্রম করার কারণে নামায নষ্ট হয় না
(৪৭১) ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ফযল গাধায় চড়ে রাসূলের নিকট আসলাম তখন রাসূল (ﷺ) আরাফায় লোকদের নিয়ে নামায পড়ছিলেন। আমরা কাতারের একাংশের সামনে দিয়ে পার হলাম। তারপর নেমে গাধাটিকে ছেড়ে দিলাম, সে ঘাস খেতে থাকল। অতঃপর আমরা কাতারে শামিল হলাম, কিন্তু রাসূল (ﷺ) আমাকে কিছুই বললেন না।
(আর ইবন্ আব্বাস থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আমি গাধার ওপর সওয়ার হয়ে আসলাম তখন আমি মাত্র সাবালক হওয়ার পথে, তখন রাসূল (ﷺ) লোকদের নামায পড়াচ্ছিলেন, অর্থাৎ আমি সওয়ার অবস্থায় প্রথম কাতারের সামনে দিয়ে পার হলাম। তারপর গাধা থেকে নেমে গেলাম, তখন সে ঘাস খেতে লাগল। অতঃপর লোকদের সাথে রাসূলের পেছনে শামিল হলাম।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, বাইহাকী ও চার সুনান গ্রন্থ।)
كتاب الصلاة
(5) باب سرة الامام سترة لمن صلى خلفه وأنه لا يقطع الصلاة مرور شئ
(471) عن ابن عبَّاس رضى الله عنهُما قال جئتُ أنا والفضلُ ونحنُ على أتان (1) ورسُولُ الله عليه وسلم يصُلِّلى بالنَّاس بعرفة (2) فمررنا على بعض الصفَّ فنزلنا عنها وتر كناها ترتع (3) ودخلنا فى الصَّف فلم يقُل لى رسُول الله صلى الله عليه وسلم شيئًا (4) (وعنهُ من طريق ثانٍ) (5) قال أقبلت وقد ناهزتُ الُحُلم (6) أسيرُ على أتان ورسُولُ صلى الله عليه وسلم قائم يُصلِّى للناس يعنى حتى صرت بين يدى بعض الّصف الأوَّل ثُم نزلت عنها فرتعت (7) فصففُ مع النَّاس وراء رسُول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: ইমামের সুতরা ইমামের পেছনের মুক্তাদিদেরও সুতরা এবং কোন কিছু অতিক্রম করার কারণে নামায নষ্ট হয় না
(৪৭২) তাঁর (ইবন আব্বাস (রা)) থেকে আরও বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং বনি হাশিমের এক বালক গাধার পিঠে চড়ে নামায পড়া অবস্থায় রাসূলের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেন নি ও নামায ত্যাগ করেন নি। সে সময় বনি আব্দুল মুত্তালিবের বংশের দু'টি ছোট মেয়ে এল এবং নবীজির দুই হাঁটু জড়িয়ে ধরলো তখন তিনি তাদেরকে পৃথক করে দিলেন কিন্তু নামায ত্যাগ করেন নি।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, সহীহ ইবনু খুযাইমা ও বাযযার।)
كتاب الصلاة
(5) باب سرة الامام سترة لمن صلى خلفه وأنه لا يقطع الصلاة مرور شئ
(472) وعنهُ أيضًا أنه كان على حمار هُو وغُلام من بنى هاشمٍ (1) فمر بين يدى النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم وهُو يُصلِّى فلم ينصرف، وجاءت جاريتان (2) من بنى عبد المطُلب فأخذتا برُكبى النَّبى صلى الله عليه وسلم ففرع بينهما (3) أو فرق بينهما ولم ينصرف
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ: ইমামের সুতরা ইমামের পেছনের মুক্তাদিদেরও সুতরা এবং কোন কিছু অতিক্রম করার কারণে নামায নষ্ট হয় না
(৪৭৩) হাসান আল-উরনী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবন্ আব্বাস (রা)-এর সামনে আলাপ করা হল যে, সামনে দিয়ে কুকুর, গাধা-ও নারী অতিক্রমের ফলে নামায নষ্ট হয়। তিনি বললেন, তোমরা-এক মুসলিম নারীকে কুকুর ও গাধার সমতুল্য করে নিকৃষ্টতম কাজ করলে। আমি এক গাধা দিয়ে এসেছিলাম। তখন রাসূল (ﷺ) মানুষদের নিয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি যখন তাঁর সামনের দিকে নিকটবর্তী হলাম তখন গাধার পিঠ থেকে নেমে যাই আর গাধাটি ছেড়ে দিই অতঃপর রাসূলের সাথে তাঁর নামাযে অংশগ্রহণ করি। রাসূল (ﷺ) পুনরায় সে নামায পড়েন নি, আর আমাকেও এমন করতে নিষেধ করলেন না।
একবার রাসূল (ﷺ) লোকদের নামায পড়াচ্ছিলেন। একটি ছোট মেয়ে কাতারের ভিতর ঢুকে তা বিভক্ত করে, শেষ পর্যন্ত রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এসে আশ্রয় নেয়, তিনি পুনরায় তাঁর নামায পড়েন নি আর না তাকে এ কাজে নিষেধ করলেন।
একবার রাসুল (ﷺ) মসজিদে নামায পড়াচ্ছিলেন এমন সময় রাসূল (ﷺ)-এর কামরা থেকে একটি বকরীর বাচ্চা বের হয়ে রাসূলের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। রাসূল (ﷺ) তাকে বারণ করলেন। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তোমরা কেন বল না যে, বকরী নামায নষ্ট করে দেয়।
(এ ভাষায় হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে বুখারী, মুসলিমে এ অর্থের হাদীস রয়েছে এবং এর বর্ণনাকারীগণও নির্ভরযোগ্য রয়েছে।)
كتاب الصلاة
(5) باب سرة الامام سترة لمن صلى خلفه وأنه لا يقطع الصلاة مرور شئ
(473) عن الحسن المُرنىِّ قال ذكر عند ابن عبَّاس رضى الله عنهُما يقطع الصلَّاة الكلب والحمارُ والمرأة، قال بئسما عدلتم بامرأة مسلمة كلبًا وحمارًا، لقد رأيتنى أقبلت على حماًر ورسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يصلِّى بالنَّاس حتَّى إذا كُنتُ قريبًا منهُ مُستقبلهُ نزلت عنهُ وخلَّيتُ عنهُ ودخلت مع رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصلِّى بالنَّاس فجاءت وليدة (4) تخلل الصفُوف حتَّى عادت (1) برسُول الله صلى الله عليه وسلم فما أعاد رسثولُ الله صلى الله عليه وسلم صلاتهُ ولا نهاها عماَّ صنعت، ولقد كان رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصلِّى فى مسجدٍ فخرج جدي من بعض حُجرات النَّبي صلى الله عليه وسلم فذهب يجتازُ بين يديه فمنعه رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم، قال ابنُ عبَّاس أفلا تقُولُون الجدى يقطع الصلاة؟
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সুতরা ব্যতীত নামায পড়ল
(৪৭৪) ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এক উন্মুক্তস্থানে নামায পড়েছেন তখন তাঁর সামনে (সুতরা হিসাবে) কোন জিনিস ছিল না।
(হায়ছামী ও আবু ইয়া'লা বর্ণনা করেছেন, কোন কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য থেকে হাদীসটি সহীহ্ বলে প্রতীয়মান হয়।)
كتاب الصلاة
(6) باب من صلى الى غير سترة
(474) عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسثول الله صلى الله عليه وسلم صلى في فضاء ليس بين يديه شئ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সুতরা ব্যতীত নামায পড়ল
(৪৭৫) আবদুল্লাহ আমাদেরকে বলেন, আমাকে আমার বাবা বলেছেন, আমাদেরকে সুফিয়ান ইবন্ উআইনা বলেছেন, তিনি বলেন, আমাকে কাসির ইবন্ কাসির ইবন্ মুত্তালিব ইবন্ আবু ওয়াদা'আ বলেছেন যে, তিনি তাঁর পরিবারের কোন এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন, সে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছে, তিনি রাসূল (ﷺ)-কে বনি সাহামের দরজার পাশে নামায পড়তে দেখেছেন। তখন লোকেরা তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। কিন্তু তাঁর ও কা'বার মাঝে কোন সুতরা ছিল না।
অন্য বর্ণনায় সুফিয়ান বলেন, আমাকে কাসির ইবন্ কাসির ইবন আব্দুল মুত্তালিব ইবন আবূ ওয়াদাআ জনৈক ব্যক্তি থেকে যিনি তাঁর দাদাকে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বনি সাহামের দরজার পাশে নামায পড়তে দেখেছি, তখন লোকেরা তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল কিন্তু তাঁর ও কা'বার মাঝে কোন সুতরা ছিল না।
সুফিয়ান বলেন, ইবন্ জুরাইজ তাঁর নিকট থেকে সংবাদ দিলেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে কাসির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি আমার পিতার নিকট থেকে শুনি নি, কিন্তু আমার গোত্রের জনৈক লোকের নিকট থেকে শুনেছি, তিনি আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বনি সাহমের দরজার পাশে নামায পড়েছেন তখন তাঁর ও তাওয়াফের স্থানের মাঝে কোন সুতরা ছিল না।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, নাসাঈ, এ হাদীসের সনদে একজন অজ্ঞাত রাবী আছেন।)
كتاب الصلاة
(6) باب من صلى الى غير سترة
(475) حدثنا عبد الله حدثنى أبى ثنا سُفيان بنُ عيينة قال حدثنى كثير بنُ المثطَّلب بن أبى وداعة سمع بعض أهله يُحدِّثُ عن جده أنَّهُ رأى النَّىِّ صلى الله عليه وسلم يُصلِّى ممِّا يلى باب بنى سهمُ والنِّاس يُمرُّون بين يديه وليس بينه وبين الكعبة سترة، وقال سفيان مرة أُخرى حدثنى كثير بنُ كثير بن المُطَّلب بن أبى وداعة عمَّن سمع جدهُ يقُولُ رأيتُ رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصلَّى ممَّا يلى باب بنى سهمٍ والنَّاسث يُرون بين يديه ليس بينهُ وبين الكعبة سترة، قال سفيان وكان ابنُ جُريح أنبأ عنه قال ثنا كثير عن أبيه فقال ليس من أبى سمعتُهُ ولكن من بعض أهلى عن جدِّي أنَّ النَّبى صلى الله عليه وسلم صلِّى ممَّا يلى باب بنى سهمٍ ليس بينه وبين الطَّواف سترة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৭৬) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল নামায (ﷺ) তাকবীর দিয়ে আর কিরাত আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল 'আলামীন শুরু করতেন। যখন রুকু করতেন তখন তাঁর মাথা বেশী উঁচু করে রাখতেন না এবং বেশী নিচু করেও রাখতেন না। বরং উভয়ের মাঝখানে অবস্থান করতেন। রুকু থেকে যখন মাথা উঠাতেন পূর্ণ সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদায় যেতেন না। সিজদা থেকে যখন তাঁর মাথা উঠাতেন পূর্ণ সোজা হয়ে না বসে পুনরায় সিজদায় যেতেন না। প্রত্যেক দু'রাকা'আতের পর আত্তাহিয়্যাতু পড়তেন। আর সিজদা শিকারী প্রাণীর, (কুকুর ও বাঘের) মত দু'হাতের কব্জি বিছিয়ে দেয়া অপছন্দ করতেন। তিনি বাম পা বিছিয়ে এবং ডান পা খাড়া রেখে বসতেন। তিনি শয়তানের বসার মত (হাঁটু গেড়ে মাটিতে হাত রেখে) বসতে নিষেধ করতেন এবং সালামের মাধ্যমে নামাযের সমপ্তি করতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন্ মাজাহ্।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(476) عن عائشة رضى الله عنها قالت كان رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يفتتح الصلَّاة بالتَّكبير، والقراءة بالحمد لله رب العالمين، فإذا ركع لم ايثشخص رأسه (1) ولم يصوَّبهُ، ولكن بين ذلك، وكان إذا رفع رأسهُ من الرَّكوع لم يسجد حتَّى بستوى قائما (2) وكان إذا رفع رأسهُ من السجُود لم يسجدثد حتَّى يستوى قاعدًا، وكان يقول فى كُل ركعتين التحيَّة (3) وكان يكره أن يفترش ذراعيه افترش السبعُ (4) وكان بفرش رجلهُ اليُسرى وينصب رجلهُ اليمنى وكان ينهى عن عقب (5) الشَّيطان، وكان يختمُ الصلاة بالتّسليم (6)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৭৭) কাসিম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আব্দুর রহমান আবযা (রা)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ)-এর নামায পড়া দেখাবো? আমরা বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন। তারপর তাকবীর দিলেন তারপর সূরা পড়লেন তারপর রুকু করলেন এবং দু'হাঁটুতে হাত রাখলেন এবং তাঁর সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন, অতঃপর সিজদা করলেন এবং তাতে তাঁর সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথাস্থানে স্থির না হওয়া পর্যন্ত থাকলেন, অতঃপর তাঁর মাথা উঠালেন এবং প্রত্যেক হাড় স্থির না হওয়া পর্যন্ত বসে থাকলেন। পুনরায় সিজদা করলেন এবং তাতে প্রত্যেক হাত স্থির না হওয়া পর্যন্ত রইলেন তারপর উঠলেন। এভাবে প্রথম রাকা'আতে যা করলেন, দ্বিতীয় রাক'আতেও তাই করলেন সবশেষে বললেন, এভাবেই ছিল রাসূল (ﷺ)-এর নামায।
(মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্য কোথাও হাদীসটি পাওয়া যায় নি। হায়ছামী বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(477) عن القاسم قال جلسنا إلى عبد الرحمن بن أبزى رضى الله عنهُ فقال ألا أريكُم صلاة رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم؟ قال فقلنا بلى، قال فقام فكبَّر ثُم ركع فوضع يديه على رُكبتيه حتَّى أخذ كُل عثضوٍ مأخذهُ، (1) ثُم رفع حتَّى أخذ كُل عثضوٍ مأخذه، ثُمَّ سجد حتَّى أخذ كُل عظمٍ مأخذه، ثُم رفع فصنع في الركعة الثَّانية كما صنع فى الُركعة الأولى، ثُم قال هكذا صلاةُ رسثول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৭৮) আব্দুল্লাহ আমাদের বলেছেন, তাঁকে তাঁর বাবা বলেছেন, তাঁকে আব্দুস সামাদ আর তাঁকে যায়েদা, তাঁকে আসেম ইবন্ কুলাইব বলেছেন, তিনি বলেন, আমাকে ওয়ায়িল ইবন্ হুজর হাদরামী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি বললাম, রাসূল (ﷺ)-কিভাবে নামায পড়েন তা আমি দেখব। তারপর আমি তার দিকে লক্ষ্য করলাম, তিনি দাঁড়ালেন (অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি কিবলামুখী হলেন) তাকবীর (তাহরীমা) বলে দু'হাত কান পর্যন্ত উঠালেন (অন্য বর্ণনায় দু'হাত কাঁধ বরাবর উঠালেন। তারপর ডান হাত বাম হাতের তালুর উপর রেখে হাতের কবজি ধরলেন। অতঃপর বললেন তিনি রুকুতে যাওয়ার সময় পূর্বের মত হাত উঠালেন, রুকু করার সময় হাত দু'টি হাঁটুতে রাখলেন, তারপর মাথা উঠালেন এবং পূর্বের মত হাত দু'টি উঠালেন। অতঃপর সিজদা করলেন তখন তাঁর হাত দু'টি বরাবর রাখলেন, তারপর বাঁ পা বিছিয়ে বসলেন, সে সময় হাতের তালু রান ও বাম হাঁটুর ওপর রাখলেন এবং ডান রানের ওপর ডান কনুই রাখলেন এবং আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং তাতে একটা আবেষ্টনী তৈরী করলেন। (অন্য বর্ণনায়) বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দিয়ে হালকা বা আবেষ্টনী তৈরী করলেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করলেন তারপর তাঁর আঙ্গুল উঠালেন, আমি দেখলাম যে, তিনি তা নাড়াচ্ছেন আর দু'আ করছেন। অতঃপর দীর্ঘ দিন পর শীতের মৌসুমে আমি আসলাম এবং লোকদেরকে শীতের কাপড় পরিধান করা দেখলাম। দেখলাম যে, তারা কাপড়ের নীচ থেকে হাত নাড়াচ্ছেন শীতের কারণে।
(অন্য এক বর্ণনায়ও অনুরূপ আছে, তাতে আরও আছে।) তিনি বলেন, আমি আর একবার আসলাম তখন মানুষদের বারানেস ও আকসীয়া (এক ধরনের কাপড় যা মাথাসহ সমস্ত শরীর ডেকে রাখে) পরিধানরত অবস্থায় দেখলাম, দেখলাম তারা কাপড়ের নীচ দিয়ে হাত উঠাচ্ছেন, তৃতীয় এক বর্ণনায় অনুরূপ আছে, তাতে আরও আছে, তিনি বলেন, তারপর তিনি বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর রাখলেন এবং বাঁ কনুই বাঁ রানের উপর রাখলেন তারপর তর্জনী দ্বারা ইশারা করলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যাঙ্গুলির উপর রাখলেন এবং সমস্ত আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে নিলেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ্, সহীহ ইবন্ খুযাইমা সুনানে বায়হাকী। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(478) حدثنا عبد الله حدثنى أبى ثنا عبد الصمَّد ثنا زائدة ثنا عاصم بن كليب أخبرنى أبى أن وائل بن حجر الخضرىَّ أخبرهُ قال قُلتُ لا نظرنَّ إلى صلاة رسُول الله صلى الله عليه وسلم كيف يُصلِّى، قال فنظرتُ إليه قام (وفى رواية فاستقبللل القبلة) فكبرَّر ورفع يديه (3) حتىَّ حاذتا أذنيه (وفي رواية حتى كانتا حذو منكبيه) (4) ثم وضع يده اليمنى على ظهر كفِّه اليسرى والرسغ والساعد، (5) ثُمَّ قال لماَّ أراد أن يركع رفع يديه مثلها فلمَّا ركع وضع يديه على ركبتيه، ثُم رفع رأسه فرفع يديه مثلها، ثُم سجد فجعل كيفَّه محذاء أذنيه، ثُمَّ قعد فافترش رجله اليُسرى فوضع كفّهُ اليُسرى على فخده ورُكبته اليُسرى، وجعل حد مرفقه الايمن على فخذه اليُمنى، ثُمَّ قبض بين أصابه فخلَّّق حلقه (1) (وفى رواية حلَّق بالوسطى والابهام وأشار بالسبابة) ثُمَّ رفع إِصبعهُ (3) فرأيته يّحرِّكُها يدعو بها، ثُمَّ جئت بعد ذلك فى زمان فيه برد فرأيتُ النَّاس عليهم الثياب تحرك (3) أيديهم من تحت الثياب من البرد (ومن طريق ثان (4) بنحوه وفيه) قال أتيتهُ مرةَّ أخرى وعلى النَّاس ثياب فيها البرانسُ (5) والأكسية فرأيتهم يقولون هكذا تحت الثياب (ومن طريق ثالث (6) بنحوه وفيه قال) ثم وضع يده اليُسرى على رُكبته اليسرى ووضع ذراعيهُ اليُمنى على فخذه اليُمنى ثُمَّ أشار بسباَّبته ووضع الابهام على الوسُطي وقبض سائر أصابعه (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৭৯) ওয়ায়িল ইবন্ হুজর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ)-কে নামাযে প্রবেশ করার সময় হাত উঠাতে দেখেছেন। হাম্মামের বিবরণ মতে, তাঁর কান পর্যন্ত উঠাতে দেখেছেন। অতঃপর তাঁর কাপড় জড়িয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত বাঁ হাতের ওপর রাখলেন, যখন রুকু করতে চাইলেন, কাপড়ের ভেতর থেকে হাত বের করলেন, তারপর হাত দু'টি উপরে উঠালেন। তারপর তাকবীর বলে রুকু করলেন, যখন সামি আল্লাহ্ লিমান হামিদাহ বললেন, তখন তাঁর হাত দু'টি উঠালেন, যখন সিজদা করলেন তখন তাঁর হাতের কবজির মধ্যখানে সিজদা করলেন।
(সুনানে বায়হাকী। এর কাছাকাছি ভাষায় হাদীসটি মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবন্ খুযাইমাও বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(479) حدثنا عبد الله حدَّثنى عبد الجبار بن وائل عن علقمة بن وائل ومولى لهم أنهُما حدَّثاهُ عن أبيه وائل بن حُجر أنَّنه رأى النَّبى صلى الله عليه وسلم رفع يديه حين دخل فى الصلاة وصف همام (3) حيال أذنيه، ثم التحفف بثوبه، ثُم وضع يده اليمنى على اليُسرى (3) فلمَّا قال سمع الله لمن حمده رفع يديه، فلمَّا سجد سجد بين كفيه (4)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮০) 'আতা ইবন্ সায়িব (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদেরকে সালিম আল বাররাদ বলেছেন, তিনি বলেন, তিনি আমার কাছে আমার নিজের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি বলেন, আবু মাসউদ বদরী (রা) আমাদেরকে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কি রাসূলের নামায পড়ে দেখাব না? একথা বলে তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বললেন, রুকু করলেন এবং হাতের কবজি হাঁটুতে রাখলেন আঙ্গুলগুলো হাঁটুর ওপর পৃথক করে দিলেন (অন্য বর্ণনায় আছে, তাঁর হাঁটুর পশ্চাতে আঙ্গুলগুলোর মধ্যখানে খোলা রাখলেন) সমস্ত শরীর স্থির না হওয়া পর্যন্ত বগল পৃথক করে রাখলেন, তারপর সামি আল্লাহু লিমান হামিদা বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন সব কিছু স্থির না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন, তারপর তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন এবং স্থির না হওয়া পর্যন্ত বগল আলগ রাখলেন। আবার মাথা উঠালেন এবং সোজা হয়ে বসলেন, সবকিছু স্থির না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। তারপর দ্বিতীয় সিজদা দিলেন। এভাবে তিনি আমাদের নিয়ে চার রাক'আত নামায পড়লেন, তারপর বললেন, এভাবেই ছিল রাসূল (ﷺ)-এর নামায এবং বললেন, এভাবেই আমি রাসূল (ﷺ)-কে নামায পড়তে দেখেছি।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, এর সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(480) عن عطاء بن السائب قال حدثنا سالم البرَّادُ قال وكان عندى أوثقُ من نفسى قال قال لنا أبو مسعُود البدرىَّ (رضى الله عنه) ألا أصلى لكم صلاة رسُول الله صلى الله عليه وسلم قال فكبَّر فوضع كفيه على ركبتيه وفصلت أصابعهُ على ساقيه (وفى روايةٍ وفرج بين أصابعه من وراء ركبته) (1) وجافى عن إبطيه حتى استقر كل شئ منهُ (2) ثُمَّ قال سمع الله لمن حمدهُ فأستوى قائمًا حتى استقر كل شئٍ منهُ، ثُمَّ كَّبر وسجد وجافى عن إبطيه حتَّى أستقر كُل شئٍ منهُ، ثُمَّ رفع رأسهُ فاستوى جالسً حتَّى استقرَّ كُلُّ شئٍ منهُ، ثُمَّ سجد الثانية فصلى بنا أربع ركعات هكذا، كانت صلاةُ رسُولُ الله، صلى الله عليه وسلم وقال هكذا رأيتُ رسُول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮১) মালিক ইবন্ লাহিয়ারিস আল লাইসী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একদিন তাঁর সঙ্গীদের বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ)-এর নামায কিরূপ ছিল তা দেখাবো? রাবী বলেন, সেটা কোন নামাযের ওয়াক্তে ছিল না। তারপর তিনি উত্তমভাবে প্রশান্তির সাথে দাঁড়ালেন, তারপর উত্তমভাবে রুকু করলেন, তারপর মাথা উঠালেন এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর সিজদা করলেন, অতঃপর মাথা উঠালেন। বসার জন্য তাকবীর বললেন, তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুনরায় সিজদা দিলেন। আবু কিলাবা বলেন, তিনি আমাদের এ শায়খের নামাযের মত নামায পড়লেন, অর্থাৎ আমর ইবন্ সালামা আল জুরমীর মত নামায পড়লেন। জুরমী রাসূলের যুগের ইমাম ছিলেন। আইয়ূব বলেন, আমি আমর ইবন্ সালামাকে এমন কিছু কাজ করতে দেখেছি যা তোমরা করো না। তিনি যখন দু'সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন সোজা হয়ে কিছুক্ষণ বসতেন তারপর দ্বিতীয় ও চতূর্থ রাকা'আতের জন্য দাঁড়াতেন।
( বুখারী, মুসলিম।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(481) عن أيُّوب عن أبى قلابة عن مالك بن الحُويرث الليثىِّ (رضى الله عنهُ) أنَّهُ قال لأصحابه يومًا ألا أريكُم كيف كانت صلاةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال وذلك فى غير حين صلاةٍ، فقام فأمكن القيام (3) ثُمَّ ركع غأمكن الرّكُوع، ثُمَّ رفع رأسهُ وانتصب قائمًا هُنيّة (4) ثُمَّ سجد، قال أبو قلابة فصلَّى صلاة كصلاة شيخنا هذا يعنى عمرو بن سلمه الجرمىَّ، وكان يؤم على عهد النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم، قال أيّوبُ فرأيت عمرو بن سلمه سصنعُ شيئًا لا أراكُم تصنعُونُه، كان إذا رفع رأسهُ من السَّجدتين استوى قاعدًا ثُمّ قام من الرَّعة الأولى والثالثة (5)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮২) আব্দুর রহমান ইবন্ গানাম (র) থেকে বর্ণিত যে, আবূ মালিক আশ'আরী (রা) তাঁর গোত্রের লোকদেরকে জড়ো করে বললেন, হে আশ'আরী গোত্রের লোকেরা তোমরা একত্রিত হও এবং তোমাদের মহিলা ও সন্তানদেরকে জড়ো কর। আমি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ) মদীনাতে আমাদের নিয়ে যেভাবে নামায পড়েছেন সে নামায শিক্ষা দেব। তখন তাঁরা জড়ো হল এবং তাঁদের নারী ও সন্তানদের একত্রিত করল। অতঃপর তিনি ওষু করলেন এবং তাদেরকে কিভাবে ওযূ করতে হয় নিয়ম শেখালেন এবং ওযুর সমস্ত অঙ্গে পানি পৌছালেন, তারপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল আর ছায়া ভেঙ্গে গেল (অর্থাৎ জোহরের মুসতাহাব ওয়াক্ত হলো।) তিনি দাঁড়ালেন, তারপর আযান দিলেন তারপর পুরুষদেরকে প্রথম কাতারে দাঁড় করালেন আর শিশুদেরকে তাঁদের পেছনে দাঁড় করালেন আর নারীগণকে শিশুদের পেছনে দাঁড় করালেন তারপর নামাযের ইকামত দিলেন, তারপর সামনে এগিয়ে গেলেন। তারপর দু'হাত উঠিয়ে তাকবীর দিলেন। তারপর সূরা ফাতিহা ও সহজ একটি সূরা পড়লেন। তারপর তাকবীর বলে রুকু দিলেন। তারপর রুকুতে তিনবারسُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবি-হামিদিহী" বললেন। তারপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, তারপর তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন তারপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন, তারপর পুনরায় তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন, তারপর তাকবীর বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, এভাবে প্রথম রাক'আতে তিনি ছয়টি তাকবীর দিলেন, আর যখন দ্বিতীয় রাক'আতের জন্য উঠলেন তখনও তাকবীর বললেন। নামায শেষে গোত্রের লোকদের দিকে মুখ ফেরালেন, তারপর বললেন, তোমরা আমার তাকবীর বলা অনুসরণ কর এবং আমার রুকু ও সিজদা শিখে নাও। কারণ, এটাই রাসূল (ﷺ)-এর নামায। যা তিনি এরূপ দিনের বেলা আমাদের সাথে আদায় করেছেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) যখন তাঁর নামায শেষ করলেন তখন মানুষের দিকে মুখ করে বললেন, হে মানুষেরা শোন ও বুঝে নাও, এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা নবীও নন শহীদও নন। আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁদের অবস্থানের কারণে নবীগণ এবং শহীদরা তাঁদেরকে ঈর্ষা করেন। সে সময় একজন অপরিচিত মরুবাসী এসে রাসূল (ﷺ)-এর দিকে তার হাত দ্বারা ইশারা করে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), কিছু লোক যারা নবীও নন শহীদও নন অথচ নবী ও শহীদরা পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও মর্যাদা পাওয়ার কারণে তাদের ঈর্ষা করে! আপনি তাঁদের পরিচয় আমাদের বলুন। তার কথা শুনে আনন্দে রাসূল (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠলো, রাসূল (ﷺ) বললেন, তাঁরা অপরিচিত লোক দীনের সম্পর্ক ছাড়া তোমাদের সাথে তাদের গোত্রীয় ও আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক নেই, তারা আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরকে ভালবাসে এবং কাতারবন্দী হয়। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিনার তৈরী করবেন, তারপর তাঁদেরকে তার ওপর বসাবেন, তাঁদের মুখমণ্ডল ও পোশাক নূরদ্বারা আলোকিত করবেন: সেদিন সমস্ত মানুষ ভীত হয়ে যাবে কিন্তু তাঁদের কোন ভয় থাকবে না, তাঁরা আল্লাহর ওলী বা বন্ধু তাঁদের কোন ভয় থাকবে না আর না তাঁরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে।
(মুনযিরী বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমদ ও আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, হাদীসের সনদ উত্তম, হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ্।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(482) عن عبد الرحمن بن غنم أن أبا مالك الأشعري (رضى الله عنه) جمع قومه فقال يا معشر الأشعريين اجتمعوا واجمعوا نساءكم وأبناءكم أعلمكم صلاة النبي صلى الله عليه وسلم التى كان يصلى لنا بالمدينة, فاجتمعوا وجمعوا نساءهم وأبناءهم فتوضأ وأراهم كيف يتوضأ فأحصى الوضوء إلى أماكنه (1) حتى لما أن فاء الفئ (2) وانكسر الظل قام فأذن فصف الرجال فى أدنى الصف, وصف الولدان (3) خلفهم, وصف النساء خلف الولدان, ثم أقام الصلاة, فتقدم فرفع يديه فكبر, فقرأ بفاتحة الكتاب وسورة يسرها, ثم كبر فركع فقال سبحان الله وبحمده ثلاث مرات, ثم قال سمع الله لمن حمده واستوى قائما, ثم كبر وخر ساجدا ثم كبر فرفع رأسه, ثم كبر فسجد, ثم كبر فانتهض قائما, فكان تكبيره فى أول ركعة ست تكبيرات (4) وكبر حين قام إلى الركعة التانية, فلما قضى صلاته أقبل إلى قومه بوجهه فقال احفظوا تكبيرى, وتعلموا ركوعىوسجودى, فإنها صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم التى كان يصلى لنا كذا الساعة من النهار (5) ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قضى صلاته أقبل إلى الناس بوجهه, فقال يا أيها الناس اسمعوا واعقلوا واعلموا أن لله عز وجل عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء, يغبطهم (1) الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله, فجاء رجل من الأعراب من قاصية الناس (2) وألوى بيده إلى نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله, ناس من الناس ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله, انعتهم لنا يعني صفهم لنا, فسر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم لسؤال الأعرابى, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هم ناس من أفناء الناس (3) ونوازع القبائل لم تصل بينهم أرحام متقاربة, تحابوا فى الله وتصافوا, يضع الله لهم يوم القيامة منابر من نور فيجلسهم عليها, فيجعل وجوههم نورا وثيابهم نورا, يفزع الناس يوم القيامة ولا يفزعون, وهم أولياء الله الذين لا خوف عليهم ولا يحزنون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮৩) আবূ মালিক আশ'আরী (রা) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি চার রাকা'আত নামাযের মধ্যে কিরা'আত ও কিয়ামের (দাঁড়ানোর) ক্ষেত্রে সমতা রাখতেন। তবে প্রথম রাক'আত একটু লম্বা করতেন যাতে বেশী সংখ্যক লোক নামাযে অংশগ্রহণ করতে পারে। পুরুষদেরকে বালকদের আগে দাঁড় করাতেন, আর বালকগণকে তাদের পেছনে দাঁড় করাতেন, আর নারীদেরকে তাদের পেছনের কাতারে দাঁড় করাতেন আর যখনই সিজদায় যেতেন তখনই তাকবীর বলতেন। আর যখন উঠতেন তখনও তাকবীর বলতেন, দু'রাকা'আতের মাঝে উঠাবসার সময় তাকবীর বলতেন।
(তবারানী, মু'জামুস সাগীর মুহাদ্দিসদের বক্তব্য থেকে হাদীসটি সহীহ্ বলে প্রতীয়মান হয়।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(483) عن أبى مالك الأشعريَّ رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنّضه كان يسوِّي بين الأربع ركعات فى القراءة والقيام ويجعل الرَّكعة الأولى هى أطولهن لكى يثوب الناس (1) ويجعل الرِّجال قدَّام الغلمان والغلمان خلفهم والنِّساء خلف الغلمان ويكبِّر كلَّما سجد وكلَّما رفع, ويكبَّر كلَّما نهض بين الرَّكعتين إذا كان جالسًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার নিয়ম

(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮৪) মুহাম্মদ ইবন্ 'আতা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুমাইদ সাঈদী (রা) থেকে শুনেছি, তখন তিনি রাসূল (ﷺ)-এর দশজন সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন আবু কাতাদাহ ইবন্ রাব্বী আবূ হামিদ বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ)-এর নামায পড়া শিক্ষা দেব। তারা বললেন, আপনি আমাদের রাসূল (ﷺ)-এর আগে সাহচর্য লাভ করেছেন আর না বেশী অনুসরণকারী ছিলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি বেশী অনুসরণকারী ছিলাম। তাঁরা বললেন, তাহলে তুমি রাসূল (ﷺ)-এর নামায পড়ার পদ্ধতি বর্ণনা কর। তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং হাত দু'খানি কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন রুকুতে যেতেন তখনও তিনি হাত দু'খানি কাঁধ বরাবর উঠাতেন। তারপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতেন, রুকুতে সমান হয়ে থাকতেন, মাথা বেশী নীচু করতেন না আবার বেশী উপরেও উঠাতেন না। (রুকুর সময় মাথা ও পিঠ বরাবর রাখতেন) এবং তাঁর দু'হাতের তালু হাঁটুতে রাখতেন। তারপর সামি'আল্লাহু লিমান হামিদা বলে মাথা উঠাতেন এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যতক্ষণ না সমস্ত হাড় যথাস্থানে সোজা হয়ে স্থির হয়। তারপর সিজদায় গমন করতেন এবং বলতেন, আল্লাহু আকবার। তারপর দু'পাশে হাত রেখে পেট থেকে বাহু আলগা রাখতেন। পায়ের আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন। অতঃপর বাঁ পা বিছিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসেন সমস্ত অঙ্গ যথাস্থানে স্থির না হওয়া পর্যন্ত। তারপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় গেলেন। তারপর বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসলেন সমস্ত অঙ্গ যথাস্থানে স্থির না হওয়া পর্যন্ত। তারপর উঠে দ্বিতীয় রাকা'আত অনুরূপভাবে সমাপ্ত করেন, যখন দু' সিজদা থেকে উঠলেন তখন তাকবীর বলে দু'হাত কাঁধ বরাবর উঠালেন, যেভাবে নামায আরম্ভ করার সময় করছিলেন, অতঃপর এরূপ করতে থাকেন যখন শেষ রাকা'আত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন বাম পা বের করে তার উপর বসেন এবং সালামের মাধ্যমে নামায সমাপ্ত করেন।
(ইবনে হিব্বান, সুনানে বায়হাকী, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ্, তিরিমিযী, তিনি হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة

(7) باب جامع صفة الصلاة
(484) عن محمد بن عطاء (2) عن أبى حميدٍ السَّاعدى رضى الله عنه قال سمعته (3) وهو فى عشرة من أصحاب النبيِّ صلى الله عليه وسلم أحدهم أبو قتادة بن ربعىّ يقول (4) أنا أعلمكم بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم, قالوا له ما كنت أقدمنا صحبة ولا أكثر ناله تباعة (5) قال بلى (6) قالوا فاعرض, (7) قال كان إذا قام الصَّلاة اعتدل قائمًا ورفع يديه حتَّى حاذى بهما منكبيه, فإذا أراد أن يركع رفع يديه حتى يحاذى بهما منكبيه, ثمَّ قال الله أكبر فركع ثمَّ اعتدل فلم يصبَّ (1) رأسه ولم يقنعه, ووضع يديه على ركبتيه (7) ثمَّ قال سمع اله لمن حمده, ثمَّ رفع واعتدل حتىَّ رجع كل عظم فى موضعه معتدلا, ثمَّ هوى ساجدًا وقال الله أكبر, ثمَّ جافى وفتح عضديه عن بطنه, وفتح (7) أصابع رجليه, ثمَّ رجله اليسرى وقعد عليها واعتدل حتَّى رجع كل عظم فى موضعه, ثمَّ هوى ساجدًا وقال الله أكبَّر, ثمَّ ثنى رجله وقعد عليها حتًّى يرجع كلّ عضو إلى موضعه, ثمَّ نبض فصنع فى الرَّكعة الثانية مثل ذلك, حتَّى إذا قام من السَّجدتين
كبَّر ورفع يديه حتَّى يحاذى بهما منكبيه كما صنع حين افتتح الصلاة ثمَّ كذلك حتَّى إذا كانت الرَّكعة التىتنقضى فيها الصَّلاة أخَّر رجله اليسرى (4) وقعد على شقه متورِّكا ثم سلَّم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অনুচ্ছেদঃ নিজ নামায বিনষ্টকারী হাদীস প্রসঙ্গে
(৩৮৫) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করেন তারপর নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাম জানালেন। তিনি তাঁর সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, ফিরে গিয়ে পুনরায় নামায আদায় কর। কেননা তুমি নামায আদায় কর নি। লোকটি ফিরে গিয়ে পূর্বের মতই নামায আদায় করল। এরূপ সে তিনবার করল। (তিনবারই রাসূল (ﷺ) তাকে একই কথা বললেন) এরপর লোকটি বলল, সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য বিধানসহ প্রেরণ করেছেন। এর চেয়ে ভাল করে (নামায) আদায় করতে আমি জানি না। সুতরাং আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী করীম (ﷺ) বললেন, যখন তুমি নামায পড়তে দাঁড়াবে তাকবীরে (তাহরিমা) বলে (শুরু করবে) অতঃপর কুরআনের যেখান থেকে তোমার জন্য সহজ হয় সেখান থেকে পড়বে। এরপর রুকুতে যাবে প্রশান্তির সাথে রুকু করবে। তারপর সিজদা করবে, প্রশান্তির সাথে সিজদা করবে। সিজদা হতে উঠে প্রশান্তির সাথে দাঁড়াবে। এপর সিজদায় গিয়ে প্রশান্তির সাথে সিজদা করবে। তারপর সিজদা হতে (মাথা) উঠিয়ে প্রশান্তির সাথে বসবে। এভাবেই তোমার সকল নামায আদায় করবে।
(বুখারী, মুসলিম ও চার সুনান গ্রন্থ।)
كتاب الصلاة
(8) فصل من فى حديث المسى صلاته
(485) عن أبى هريرة رضى الله عنه قال دخل رجل (1) المسجد فصلى (2) ثم جاء إلى النبى صلى الله عليه وسلم فسلم فرد عليه السلام وقال ارجع فصل فإنك لم تصل (3) فرجع ففعل ذلك ثلاث مرات, قال فقال والذى بعثك بالحق ما أحسن غير هذا فعلمى. قال إذا قمت إلى الصلاة فكبر (4) ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن (5) ثم اركع حتى تطمن راكعا, ثم اسجد حتي تطمئن ساجدا, ثم أرفع حتى تستدل قائما, ثم أسجد حتى تطمئن ساجدا ثم ارفع حتى تطمئن جالسا, ثم افعل ذلك في صلاتك كلها
হাদীস নং: ৪৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৮) অনুচ্ছেদঃ নিজ নামায বিনষ্টকারী হাদীস প্রসঙ্গে
(৪৮৬) রেফায়া ইবন্ রাফে আয্যুরকী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলের একজন সাহাবী ছিলেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে রাসূল (ﷺ)-এর পাশে নামায আদায় করেন। তারপর রাসূল (ﷺ)-এর নিকটে আসল তখন রাসূল (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি পুনরায় নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায আদায় করি নি। (অর্থাৎ তোমার নামায আদায় করা সঠিক হয় নি।) তিনি বলেন, লোকটি গিয়ে পূর্বের মতই নামায আদায় করল। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে ফিরে আসল তখন তিনি (রাসূল, বললেন গিয়ে পুনর্বার আদায় কর। কেননা তুমি নামায আদায় কর নি। তখন লোকটি বলল। হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিভাবে নামায পড়ব আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন রাসুল (ﷺ) বললেন, কিবলার দিকে মুখ করে তাকবীরে তাহরীমা বলবে, তারপর সূরা ফাতিহা পড়বে, তারপর কুরআনের যেখানে থেকে চাও সেখান থেকে পড়বে। যখন রুকু করবে তখন তোমার হাতের তালু দু'হাঁটুতে রাখবে এবং পিঠ সোজা রাখবে, প্রশান্তির সাথে রুকু করবে। রুকু থেকে যখন তোমার মাথা উঠাবে তখন ঠিকভাবে দাঁড়াবে। সমস্ত হাড় যথাস্থানে না যাওয়া পর্যন্ত। আর যখন সিজদা করবে তখন প্রশান্তির সাথে সিজদা করবে, আর যখন সিজদা থেকে তোমার মাথা উঠাবে তখন বাম রানের ওপর বসবে। প্রত্যেক রাক'আতে ও সিজদায় এরূপ করবে।
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে) তিনি বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ) সাথে মসজিদে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে মসজিদের এক কোণায় নামায আদায় করছিল, তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর দিকে দৃষ্টি দিলেন। নামায শেষে লোকটি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে সালাম দিল। তিনি তার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, তুমি ফিরে গিয়ে নামায আদায় কর। কেননা তুমি নামায আদায় কর নি। এভাবে দুই অথবা তিনবার বললেন, তৃতীয় অথবা চতুর্থবারে লোকটি তাঁকে (রাসূল (ﷺ)-কে) বলল, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য বিধানসহ প্রেরণ করেছেন। আমি সাধ্যমত সঠিকভাবে নামায পড়ার চেষ্টা করেছি। সুতরাং আমাকে শিখিয়ে দিন এবং দেখিয়ে দিন। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, যখন নামায পড়তে ইচ্ছা করবে তখন ভাল করে ওযু, করবে, তারপর কিবলার দিকে মুখ করবে, অতঃপর তাকবীর (তাহরীমা) বলবে, তারপর কিরাত পড়বে। তারপর রুকু করবে প্রশান্তি সহকারে। অতঃপর রুকু থেকে উঠে প্রশান্তির সাথে দাঁড়াবে, তারপর সিজদা করবে এবং তা প্রশান্তির সাথে করবে। তারপর সিজদা থেকে উঠে প্রশান্তির সাথে বসবে, তারপর পুনরায় প্রশান্তির সাথে সিজদা আদায়-করবে। আর যদি এখান থেকে কোন কিছু বাদ দাও তাহলে তা তোমার নামায হতে বাদ যাবে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(8) فصل من فى حديث المسى صلاته
(486) عن رفاعة بن رافع الزُّرقىَّ رضى الله عنه وكان من أصحاب النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم قال جاء رجل ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس فى المسجد فصلَّي قريبًا منه, ثمَّ انصرف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أعد صلاتك فإنَّك لمّ تصلِّ, قال فرجع فصلَّى كنحو مَّما صلَّى, ثمَّ انصرف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له أعد صلاتك فإنك لم تصلَّ, فقال يا رسول الله علَّمني كيف أصنع قال إذا استقبلت القبلة (1) فكبِّر ثمَّ اقرأ بأم القرآن, ثم اقرأ بما شئت, فإذا ركعت فاجعل راحتيك (2) على ركبتيك وامدد ظهرك (3) ومكن لركوعك (4) فإذا رفعت رأسك فأقم صلبك حتَّ ترجع العظام إلى مفاصلها, (5) وإذا سجدت فمكِّن لسجودك (6) فإذا رفعت رأسك فاجلس على فخذك اليسرى ثم اصنع ذلك فى كلِّ ركعةٍ وسجدةٍ
(وعنه من طريق ثانٍ) (7) قال كنَّا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى المسجد فدخل رجل فصلَّى فى ناحية المسجد, فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يرمقه (8) ثمَّ جاء فسلَّم فردَّ عليه وقال ارجع فصلِّ فإنَّك لم تصل, قال مرَّتين أو ثلاثًا, فقال له فى الثَّالثة أو فى الرَّابعة والَّذى بعتك بالحقَّ لقد أجهدت نفسى (9) فعلمنى وأرنى؟ فقال له النَّبى صلى الله عليه وسلم إذا أردت أن تصلى فتوضَّأ فأحسن وضوءك, ثمَّ استقبل القبلة, ثمَّ كبِّر, ثمَّ أقرأ, ثمَّ اركع حتَّى تطمئن راكعًا, ثمَّ ارفع حتَّى تطمئن قائمًا, ثمَّ اسجد حتَّى تطمئنَّ ساجدًا, ثمَّ ارفع حتَّى تطمئن جالسًا, ثمَّ اسجد حتَّى تطمئن ساجدًا, ثمَّ قم فإذا أتممت صلاتك على هذا فقد أتممتها, وما انتقصت من هذا من شيء فإنَّما تنقصه من صلاتك
হাদীস নং: ৪৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ নামায শুরু করা এবং খুশুর সাথে আদায় করা প্রসঙ্গে।
(৪৮৭) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা আর তার তাহরীমা হল তাকবীর, আর হালালকারী হল সালাম। (অন্য এক বর্ণনামতে) নামাযের চাবি হল ওযূ আর তার তাহরীমা হল তাকবীর, আর হালালকারী হল সালাম।
(ইমাম শাফেয়ী, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে। তিরমিযী বলেন, এ অধ্যায়ে এই হাদিসটি সবচেয়ে সহীহ, ইবনুস সাকানও হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
(9) باب افتتاح الصلاة والخشوع فيها
(487) عن علىٍ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مفتاح الصَّلاة الطهُّور (1) وتحريمها التكبير (2) وتحليلها التسليم (3) (وفى لفظٍ) مفتاح الصلاة الوضوء وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ নামায শুরু করা এবং খুশুর সাথে আদায় করা প্রসঙ্গে।
(৪৮৮) ফযল ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, (রাতের) নামায দু'রাক'আত দু'রাক'আত করে, প্রতি দু'রাকা'আত পর তাশাহহুদ পড়তে হবে এবং খুশু' খুজু' ও মনের প্রশান্তির সাথে নামায আদায় করতে হবে। তারপর তোমার দু'হাত উঠিয়ে (দু'আ করবে)।
রাবী বলেন, তুমি তোমার হাত দু'টি তোমার প্রভুর দরবারে তুলবে। তখন তার পেট থাকবে তোমার মুখের দিকে, আর বলবে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু। যে এরূপ করবে না তার বিষয়ে কঠিন কথা বললেন।
(মুনযেরী হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটি তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন্ খুযাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হাদীসটি সহীহ্ হবার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আহমদ ইবন্ আব্দুর রহমানের বক্তব্য থেকে হাদীসটি সহীহ্ বলে প্রতীয়মান হয়। (সম্পাদক)।
كتاب الصلاة
(9) باب افتتاح الصلاة والخشوع فيها
(488) عن الفضل بن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الصَّلاة مثنى مثنى تشهَّد (4) فى كلِّ ركعتين وتضرع (1) وتخشع) (2) وتمسكن (3) ثمَّ تقنع يديك (4) يقول (5) ترفعها إلى ربِّك مستقبلاً ببطونهما وجهك تقول يارب يارب (6) , فمن لم يفعل ذلك فقال فيه قولا شديدًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ নামায শুরু করা এবং খুশুর সাথে আদায় করা প্রসঙ্গে।
(৪৮৯) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কি দেখছ–আমার মুখ এই দিকে? আমার নিকট তোমাদের খুশু-খুযু এবং রুকু-সিজদা কোনটাই গোপন নয়। আমি তোমাদেরকে পিছন হতেও দেখছি।
(একই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদের খুশু-খুযু দেখতে পাই।
كتاب الصلاة
(9) باب افتتاح الصلاة والخشوع فيها
(489) عن أبي هريرة رضى الله عنه أنَّ النبى صلى الله عليه وسلم قال هل ترون قبلتى (1) ههنا؟ ما يخفى على شئ من خشوعكم وركوعكم (2) (وعنه من طريق ثان) (3) عن النبى صلى الله عليه وسلم إنِّى لأري (4) خشوعكم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৯) পরিচ্ছেদঃ নামায শুরু করা এবং খুশুর সাথে আদায় করা প্রসঙ্গে।
(৪৯০) মুতাররিফ তার পিতা (আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রা.) থেকে বলেন,আমি নবী (ﷺ) –কে সালাত রত অবস্থায় দেখেছি যে, তাঁর বুক থেকে (কুরআন তিলাওয়াতের) এমন আওয়াজ বের হচ্ছিল যেমন চুলার আগুনে তপ্ত হ্যাঁড়ি থেকে (বাষ্পের) আওয়াজ নির্গত হয়।
(একই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাত আদায়ে রত দেখি।এ সময়ে ক্রন্দনের কারণে তাঁর বুকের মধ্যে কড়াইয়ের মধ্যে ফুটন্ত তরকারির শব্দের মতো শব্দ হচ্ছিল।
كتاب الصلاة
(9) باب افتتاح الصلاة والخشوع فيها
(490) عن مطرف (5) عن أبيه رضى الله عنه قال انتهيت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلى ولصدره أزير (6) كأزير المرجل
(وعنه من طريق ثان) (1) عن أبيه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وفى صدره أزيز كأزيز المرجل من البكاء