মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ২৪১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) আযানের সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ তোলার হুকুম এবং এর ফযীলত এবং আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া (এবং তা শুনে শয়তানের পলায়ন) প্রসঙ্গে
(২৪১) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু'আ প্রত্যাখ্যাত হয় না।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, সহীহ ইবন্ হিব্বান, তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দিয়েছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب الأمر برفع الصوت بالأذان وفضله واستجابة الدعاء بين الأذان (والإقامة وهروب الشيطان عند سماعهما)
(241) عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الدعاء لا يرد بين الأذان والإقامة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) আযানের সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ তোলার হুকুম এবং এর ফযীলত এবং আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া (এবং তা শুনে শয়তানের পলায়ন) প্রসঙ্গে
(২৪২) জাবির ইবন্ আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হয়, তখন আকাশের দরজা খোলা হয় এবং কবুল করা হয়।
(এ হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। তবে এ জাতীয় বক্তব্য সম্বলিত হাদীস মুয়াত্তা ইমাম মালিক ও সহীহ্ ইবন্ হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(3) باب الأمر برفع الصوت بالأذان وفضله واستجابة الدعاء بين الأذان (والإقامة وهروب الشيطان عند سماعهما)
(242) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا ثوب (1) بالصلاة فتحت أبواب السماء واستجيب الدعاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদ: আযানের প্রচলন, আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদের স্বপ্ন এবং ফজরের নামাযে ইকামতের বিধান
(২৪৩) নাফে' থেকে বর্ণিত, ইবন উমর (রা) বলতেন, মুসলমানগণ মদীনা আগমনের পর নামাযের সময় অনুমান করে মসজিদে-জমায়েত হতেন। (সে সময়) নামাযের জন্য কেউ আযান দিত না। একদিন তাঁরা এ প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। কিছু-সংখ্যক সাহাবী বললেন, খ্রিষ্টানদের মত ঘণ্টা বানিয়ে নাও। অপর-কয়েকজন মত প্রকাশ করলেন, না, তা নয় বরং ইয়াহুদীদের শিঙ্গার মত শিঙ্গা বানিয়ে নাও। এ সময় উমর (রা) বললেন, এক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হোক সে নামাযের সময় লোকদের আহ্বান করবে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, হে বেলাল যাও নামাযের জন্য আহ্বান করো।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, তিনি বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب بدء الأذان ورؤيا عبد الله بن زيد وسبب مشروعية التثويب في الفجر
(243) عن نافع أن ابن عمر كان يقول كان المسلمون حين قدموا المدينة يجتمعون فيتحينون الصلاة (2) وليس ينادي بها أحد فتكلموا يوماً في ذلك فقال
بعضهم اتخذوا ناقوسا (1) مثل ناقوس النصاري وقال بعضهم بل قرنا (2) مثل قرن اليهود فقال عمر أولا تبعثون رجلا ينادي بالصلاة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا بلال قم فناد (3) بالصلاة.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদ: আযানের প্রচলন, আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদের স্বপ্ন এবং ফজরের নামাযে ইকামতের বিধান
(২৪৪) আব্দুল্লাহ্ ইবন্ যায়েদ (ইবন্ আবদে রাব্বিহি) (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মানুষদেরকে নামাযে একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন, (অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি তা খ্রিষ্টানদের কর্মের অনুরূপ হবার কারণে অপছন্দ করতেন) (আব্দুল্লাহ ইবন্ যায়েদ (রা) বলেন) আমি নিদ্রিত অবস্থায় স্বপ্নে দেখলাম, এক ব্যক্তি হাতে ঘণ্টা বহন করে যাচ্ছে, আমি বললাম, হে আল্লাহর বান্দাহ্ তুমি কি ঘণ্টাটি বিক্রি করবে? সে বলল, তুমি ঘণ্টা দিয়ে কি করবে? আমি তাঁকে বললাম, ঘণ্টা বাজিয়ে মানুষদের নামাযের দিকে আহ্বান করব। সে বলল, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম জিনিসের সংবাদ দিব? আমি বললাম হ্যাঁ, তখন সে বলল, তুমি আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস্-সালাহ্ হাইয়্যা আলাস্-সালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ্ হাইয়্যা আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাহ্- বলে মানুষদেরকে আহ্বান কর। তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল। অতঃপর সে বলল, যখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে তখন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ, হাইয়‍্যা আলাস্ সালাহ হাইয়্যা আলাল ফালাহ্, কাদ্‌কামাতিস সালাহ কাদ্‌ কামাতিস সালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহ্ বল। সকাল হলে আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে আমার স্বপ্নের বর্ণনা দিলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তুমি সত্য স্বপ্ন দেখেছ। বেলালের সাথে যাও এবং তুমি স্বপ্নে যা দেখেছ বেলালকে তা বল, সে আযান দিবে, কারণ তোমার চেয়ে বেলালের কণ্ঠস্বর সুমিষ্ঠ। আব্দুল্লাহ বলেন, রাসূলের কথামত আমি বেলালের (রা) সাথে গেলাম স্বপ্নের কথাগুলো তাঁকে বললাম, আর সে আযান দিল তিনি বলেন, উমর (রা) তা শুনে তাঁর ঘর থেকে চাদর ছেঁছড়াতে ছেঁছড়াতে বের হয়ে এসে বললেন, সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁকে স্বপ্নে যা দেখানো হয়েছে, আমাকেও দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। (তাঁর (আবদুল্লাহ) থেকে দ্বিতীয় একটি বর্ণনায় অনুরূপ আছে।) তাতে অতিরিক্ত আছে, অতঃপর আযানের নির্দেশ দেয়া হল। তখন থেকে আবু বকরের (রা) আযাদকৃত গোলাম বেলাল ঐসব বাক্যবাণী দ্বারা আযান দিতেন এবং রাসূল (ﷺ)-কে নামাযের দিকে আহ্বান করতেন। তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, সে একদিন রাসূলের কাছে আসলো এবং এক ভোর বেলায় ফজরের নামাযের দিকে আহ্বান করল। তাঁকে বলা হল, রাসূল (ﷺ) নিদ্রায় আছেন। তিনি বলেন, তখন বেলাল উচ্চ স্বরে 'আস্ সালাতু খায়রুম মিনান নাউম' বললেন, সাঈদ ইবন্ মুসাইয়্যেব বলেন, সে সময় থেকে এ বাক্যটি ফজরের নামাযের আযানে প্রবেশ করানো হয়।
(ইবন মাজাহ, সহীহ ইবন খুযাইমা, সহীহ ইবন্ হিব্বান, সুনানে বায়হাকী, হাদীসটি সহীহ।)
كتاب الصلاة
(4) باب بدء الأذان ورؤيا عبد الله بن زيد وسبب مشروعية التثويب في الفجر
(244) عن عبد الله بن زيد (بن عبد ربه) قال لما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناقوس ليضرب به للناس في الجمع للصلاة (وفي رواية وهو كاره لموافقته النصارى) طاف بي (4) وأنا نائم رجل يحمل ناقوسا في يده فقلت له يا عبد الله أتبيع الناقوس؟ قال ما تصنع به؟، قال: فقلت ندعوا به إلى الصلاة، قال أفلا أدلك على ما هو خير من ذلك؟ قال: فقلت له بلى، قال: تقول الله أكبر الله أكبر
الله اكبر الله اكبر أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمد رسول الله أشهد أن محمد رسول الله حي (1) على الصلاة حي على الصلاة حي على الفلاح حي على الفلاح الله اكبر الله اكبر لا إله إلا الله ثم استأخر غير بعيد ثم قال تقول إذا أقيمت الصلاة الله اكبر الله اكبر أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الفلاح قد قامت الصلاة قد قامت الصلاة الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله فلما أصبحت أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته بما رأيت فقال إنها لرؤيا حق إن شاء الله فقم مع بلال فألق عليه ما رأيت فليؤذن به قال فسمع بذلك عمر بن الخطاب وهو في بيته فخرج يجر رداءه يقول والذي بعثك بالحق لقد رأيت مثل الذي أرى قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فالله الحمد (وعنه من طريق ثان بنحوه) (3) وزاد ثم أمر بالتأذين فكان
بلال مولى أبي بكر يؤذن بذلك ويدعو رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الصلاة قال فجاءه فدعاه ذات غداة إلى الفجر فقيل له إن رسول الله صلى الله عليه وسلم نائم قال فصرخ بلال بأعلى صوته الصلاة خير من النوم قال سعيد بن المسيب فأدخلت هذه الكلمة في التأذين إلى صلاة الفجر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদ: আযানের প্রচলন, আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদের স্বপ্ন এবং ফজরের নামাযে ইকামতের বিধান
(২৪৫) মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি আধো আধো ঘুমে এক ব্যক্তিকে দেখলাম, দেখলাম সে আকাশ থেকে দু'টি সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় মদীনার এক বাগানের পাশে অবতরণ করেন, অতঃপর আযানের শব্দগুলো সে দু'দু'বার করে উচ্চারণ করেন। তারপর বসে পড়েন। অতঃপর পুনরায় একামাতের শব্দগুলো দু'দু'বার করে উচ্চারণ করেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, তুমি যা দেখেছ সেটা উত্তম। বেলালকে তা শিখিয়ে দাও। তখন উমর (রা) বলেন, আমিও অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সে আমার পূর্বে এসে বলেছে।
(সুনানে দারাকুতনী। সুনানে বায়হাকী, বায়হাকীর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(4) باب بدء الأذان ورؤيا عبد الله بن زيد وسبب مشروعية التثويب في الفجر
(245) عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال جاء رجل من الأنصار إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إني رأيت في النوم كأني مستيقظ أرى رجلا نزل من السماء عليه بردان أخضران نزل على جذم (1) حائط من المدينة فأذن مثنى مثنى ثم جلس، فقال نعم ما رأيت، علمها بلالا، قال عمر قد رأيت مثل ذلك ولكنه سبقني.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদ: আযানের প্রচলন, আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদের স্বপ্ন এবং ফজরের নামাযে ইকামতের বিধান
(২৪৬) বেলাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে ফজরের নামায ব্যতীত অন্য কোন নামাযে তাছভিব (আস্ সালাতু খাইরুম মিনান্নাউম) বলতে নিষেধ করেছেন, আবু আহমদ (একজন রাবী) তাঁর বর্ণনায় বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছেন, যখন আযান দিবে তখন তাছভিব (আস্ সালাতু খাইরুম মিনান্নাউম) বলবে না। (দ্বিতীয় এক বর্ণনায় আছে,) বেলাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (ﷺ) আমাকে ফজরের নামাযের আযানে তাছভিব (আস্ সালাতু খাইরুম মিনান্নাউম) বলতে আদেশ দিয়েছেন এবং ইশার আযানে বলতে নিষেধ করেছেন।
(ইবন্ মাজাহ্, তিরমিযী, হাদীসটির সনদ সহীহ্ নয়।)
كتاب الصلاة
(4) باب بدء الأذان ورؤيا عبد الله بن زيد وسبب مشروعية التثويب في الفجر
(246) عن بلال رضي الله عنه قال أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن لا أثوب (2) في شيء من الصلاة إلا في صلاة الفجر وقال أبو أحمد (أحد الرواة) في حديثه
قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أذنت فلا تثوب (ومن طريق ثان) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا أبو قطن قال ذكر رجل لشعبة الحكم عن ابن أبي ليلى عن بلال قال فأمرني أن أثوب في الفجر ونهاني عن العشاء فقال شعبة والله ماذكر ابن ابي ليلى ولا ذكر إلا إسنادا ضعيفا قال أظن شعبة قال كنت أراه رواه عن عمران بن مسلم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৪৭) আব্দুল আযীয ইবন্ আব্দুল মালিক ইবন আবূ মাহযুরা (র) থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন্ মুহাইরিয -যিনি আবূ মাহযুরার ঘরে এতিম হিসাবে লালিত-পালিত হয়েছেন- তাঁকে শুনিয়েছেন যে, আবূ মাহযুরা তাঁকে সিরিয়া পাঠাবার প্রস্তুতীকালে সে আবু মাহযুরাকে বলল, চাচা আমি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছি। তোমার আযান সম্পর্কে লোকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হব বলে ভয় পাচ্ছি। (সুতরাং তুমি এ ব্যাপারে আমাকে বল।) তিনি আমাকে বলেন, তখন আবূ মাহযুরা তাঁকে বললেন, হ্যাঁ, আমরা কতিপয় (অপর বর্ণনামতে দশজন) যুবক সফরে বের হলাম। আমরা যখন হুনাইনের কোন পথে ছিলাম তখন রাসূল (ﷺ) হুনাইন থেকে ফিরে আসছিলেন। রাস্তায় আমরা তাঁর সাথে মিলিত হলাম। তখন রাসূলের (ﷺ) মুয়াযযিন তাঁর উপস্থিতিতে নামাযের জন্য আযান দেয়। আমরা মুয়াযযিনের আযানের শব্দ শুনি। তখন আমরা ঠাট্টা বিদ্রূপার্থে চিৎকার দিয়ে আযানের শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি করছিলাম। রাসূল (ﷺ) আমাদের চিৎকারের শব্দ শুনতে পেলেন এবং আমাদেরকে তাঁর সম্মুখে উপস্থিত করতে বললেন, তখন আমরা তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কার উচ্চ শব্দ আমি শুনতে পেয়েছি, উপস্থিত সকলে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং তারা সত্যই বললো। তখন রাসূল (ﷺ) আমাকে আটক রেখে সকলকে ছেড়ে দিলেন। তারপর বললেন, উঠো নামাযের জন্য আযান দাও। আমি দাঁড়ালাম তখন রাসূল (ﷺ) এবং আমার প্রতি নির্দেশের চেয়ে বেশী অন্য কোন কিছু আমার কাছে অপ্রিয় ছিল না। আমি রাসূল (ﷺ)-এর সামনে দাঁড়ালাম। তিনি নিজেই আমাকে আযানের শব্দগুলো উচ্চারণ করে বললেন, তিনি বললেন, বল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। তারপর বললেন, যাও, এবার (পূর্বের চেয়ে) উচ্চস্বরে বল। তারপর বললেন, আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস্ সালাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাল-ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আমি আযান শেষ করলে আমাকে ডেকে একটি রৌপ্য মুদ্রার থলি দিলেন। তারপর তিনি তাঁর হাত আবূ মাহযুরার কপালে রাখলেন এবং হাতখানা দু'বার তাঁর চেহারার উপর ঘুরালেন। তারপর দু'বার তাঁর হাতের উপর। অতঃপর তাঁর বুকের উপর হাত বুলালেন। অবশেষে হাতখানা তাঁর নাভি স্পর্শ করল, তারপর রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে মক্কায় আযানের নির্দেশ দিন। রাসুল (ﷺ) বললেন, আমি তোমাকে তার আদেশ দিলাম। তখন থেকেই রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি আমার মনে যে বিদ্বেষ ছিল তা দূর হয়ে গেল, এবং রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি আমার গভীর ভালবাসা সৃষ্টি হলো, তারপর আমি মক্কায় রাসূলের (ﷺ) নিযুক্ত গভর্নর খাত্তাব ইবন্ উসাইদের নিকট গেলাম এবং রাসূলের নির্দেশমত তাঁর সাথে নামায আদায় করার জন্য আযান দিলাম। আমার পরিবারের যারা আবু মাহযুরাকে পেয়েছেন তারা আমাকে এ খবর দিয়েছেন যেমনটি দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনু মুহাইরিয।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, সহীহ্ ইবন্ হিব্বান, ইবন্ মাজাহ্, সুনানে বায়হাকী, হাদীসটির সনদ সহীহ্।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(247) عن عبد العزيز بن عبد الملك بن أبي محذورة أن عبد الله بن محيريز أخبره وكان يتيما في حجر أبي محذورة حين جهزه إلى الشام قال فقلت لأبي محذورة يا عم إني خارج إلى الشام وأخشى أن أسأل عن تأذينك فأخبرني أن أبا محذورة قال له نعم، خرجت في نفر (وفي رواية في عشرة فتيان) فكنا ببعض طريق حنين فقفل (1) رسول الله صلى الله عليه وسلم من حنين فلقينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ببعض الطريق فأذن مؤذن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصلاة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمعنا صوت المؤذن ونحن متنكبون (2) فصرخنا نحكيه ونستهزيء به فسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم الصوت فأرسل إلينا إلى أن وقفنا بين يديه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أيكم الذي سمعت صوته قد ارتفع؟ فأشار القوم كلهم إلي وصدقوا، فأرسل كلهم وحبسني، فقال قم فأذن بالصلاة فقمت ولا شيء أكره إلي من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا مما يأمرني به، فقمت بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فألقى إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم التأذين هو نفسه فقال: قل الله أكبر الله أكبر أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمداً رسول الله، أشهد أن محمداً رسول الله، ثم قال لي ارجع فامدد من صوتك (3) ثم قال أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمداً رسول الله، أشهد أن محمداً رسول الله، حي على الصلاة، حي على الصلاة، حي على الفلاح
حي على الفلاح الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله ثم دعاني حين قضيت التأذين فأعطاني صرة فيها شيء من الفضة (1) ثم وضع يده على ناصية أبي محذورة ثم أمرها على وجهه مرتين ثم مرتين على يديه ثم على كبده ثم بلغت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم سرة أبي محذورة (2) ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بارك الله فيك فقلن يارسول الله مر بي بالتأذين بمكة فقال قد أمرتك به وذهب كل شيء كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم من كراهية وعاد ذلك محبة لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقدمت على عتاب بن اسيد عامل رسول الله صلى عليه وسلم بمكة فأذنت معه بالصلاة عن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبر بي ذلك من ادركت من أهلي ممن أدرك أبا محذورة على نحو ما أخبرني عبد الله بن محيريز
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৪৮) আবূ মাহযুরার আযাদকৃত গোলাম সায়িব ও উম্মে আব্দিল মালিক ইবন্ আবু মাহযুরা থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ই আবূ মাহযুরা থেকে শুনেছেন। তাঁরা পূর্বের হাদীসটির মতই সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। তাতে আরও আছে, আযানের প্রথমে চার বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) উল্লেখ করা হয়েছে। এর অতিরিক্ত তাতে রাসূল-এর নিম্নোক্ত উক্তি বলা হয়েছে। যখন ফজরের নামাযের জন্য প্রথম আযান দিবে তখন আস সালাতু খায়রুম মিনান-নাওম, আসসালাতু খায়রুম মিনান-নাওম বলবে। আর যখন ইকামাত দিবে, তখন দুইবার 'কাদ্ কামাতিস সালাহ, কাদ্‌ কামাতিস্ সালাহ, বলবে। তুমি কি শুনতে পেরেছ? তিনি বললেন, আবু মাহযুরা তাঁর সামনের চুলের ও কপালের কোন অংশ কাটতেন না এবং তাতে সিঁথিও করতেন না। কারণ রাসূল (ﷺ) তাঁর কপাল ও চুলের অংশ স্পর্শ করেছিলেন।
(আবু দাউদ, সুনানে বায়হাকী, সুনানে দারাকুতনী, তাহাভী, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(248) عن السائب مولى أبي محذورة وأم عبد الملك بن أبي محذورة أنهما سمعا من أبي محذورة فذكر نحو الحديث المتقدم مختصراً وفيه ذكر التكبير الأول أربعاً وزاد فيه قوله صلى الله عليه وسلم وإذا أذنت بالأول (1) من الصبح فقل الصلاة خير من النوم، الصلاة خير من النوم، وإذا أقمت فقلها مرتين قد قامت الصلاة قد قامت الصلاة، أسمعت؟ قال وكان أبو محذورة لا يجز ناصيته ولا يفرقها لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم مسح عليها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৪৯) আবু মাহযুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলের (ﷺ) যুগে ফজরের নামাযের আযান দিতাম। যখন হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ' বলতাম, তখন আস্-সালাতু খায়রুম মিনান-নাওম, আস্ সালাতু খায়রুম মিনান-নাওম বলতাম প্রথম আযানে, (একামতে নয়।)
(নাসাঈ ও সুনানে বায়হাকী, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(249) عن أبي محذورة رضي الله عنه قال كنت أؤذن في زمن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الصبح فإذا قلت حي على الفلاح قلت الصلاة خير من النوم الصلاة خير من النوم الأذان الأول
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫০) তাঁর (আবু মাহযুরা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) আমাকে আযানের উনিশটি বাক্য ও ইকামাতের সতেরটি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন। আযানের বাক্যগুলো হলঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আনলা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ, হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা হল্লাল্লাহ।
ইকামাতের বাক্যগুলো হল: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস্-সালাহ হাইয়‍্যা আলাস্-সালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ হাইয়্যা আলাল ফালাহ, কাদ কামাতিস সালাহ কাদ কামাতিস সালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ, দারিমি, সুনানে দারাকুতনী, মুসতাদরাকে হাকিম, তবারানী, ইমাম শাফেয়ী ও বায়হাকী, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(250) وعنه أيضاً أن رسول الله صلى الله عليه وسلم علمه الأذان تسع عشرة كلمة والإقامة سبع عشرة كلمة الأذان الله أكبر الله أكبر أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله أشهد أن محمدا رسول الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله أشهد أن محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الصلاة حي على الفلاح حي على الفلاح الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والإقامة مثنى مثنى الله أكبر الله أكبر أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الصلاة حي على الفلاح حي على الفلاح قد قامت الصلاة قد قامت الصلاة الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫১) মুহাম্মদ ইবন আবদুল মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে আযানের নিয়ম পদ্ধতি শিক্ষা দিন, তখন রাসূল (ﷺ) আমার মাথার অগ্রভাগ স্পর্শ করে বললেন, তুমি বল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, উচ্চস্বরে তা বলবে। তারপর আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ দুইবার একটু নিচুস্বরে বলবে। তারপর আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চস্বরে বলবে দুইবার, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ, দুইবার হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস-সালাহ। দুইবার হাইয়্যা আলাল ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলবে। আর যদি ফজরের নামাযের আযানে হয় তাহলে আস সালাতু খায়রুম মিনান নাওম, আস সালাতু খায়রুম মিনান নাওম বলবে, তারপর আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে (অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন), ইকামত দুইবার দুইবার করে এতে তারজী করা হবে না।*
*টিকা: তারজী হল প্রথমে দু'বার শাহাদাত বাক্য ছোট করে উচ্চারণ করে আবার দু'বার উচ্চস্বরে উচ্চারণ করা।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ, সহীহ ইবন্ হিব্বান, ইমাম শাফেয়ী।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(251) عن محمد بن عبد الملك قال : قلت : يا رسول الله ، علمني سنة الأذان ، فمسح بمقدم رأسي ، وقال : قل : الله أكبر ، الله أكبر ، ترفع بها صوتك ، ثم تقول : أشهد أن لا إله إلا الله ، أشهد أن لا إله إلا الله ، أشهد أن محمدا رسول الله مرتين ، تخفض بها صوتك ، ثم ترفع صوتك أشهد أن لا إله إلا الله مرتين ، أشهد أن محمدا رسول الله مرتين ، حي على الصلاة ، حي على الصلاة ، حي على الفلاح ، حي على الفلاح مرتين ، فإن كان صلاة الصبح قلت : الصلاة خير من النوم ، الصلاة خير من النوم الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله (زاد في رواية) قال والإقامة مثنى مثنى لا يرجع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫২) ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে আযান দু'বার করা হত। হাজ্জাজ বলেন, অর্থাৎ আযানের বাক্যগুলো দু'বার দু'বার করে বলা হত। এবং ইকামাতের বাক্যগুলো একবার বলা হত। তবে তাতে অতিরিক্ত কাদ কামাতিস সালাহ, কাদকামাতিস সালাহ বলা হত। আমরা যখন ইকামাত শুনতাম তখন ওযু করতাম এবং নামাযের (অংশ গ্রহণের) জন্য বের হতাম*।
'শু'বা' (একজন রাবী) বলেন, আবু জা'ফর ব্যতীত অন্য কারও নিকট আমি এ হাদীস শুনি নি।
*টিকা: কেউ কেউ নামাযের জন্য দেরীতে বের হতেন। এর কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল রাসূল (ﷺ) লম্বা কিরাত পড়বেন।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইমাম শাফেয়ী, সুনানে দারাকুতনী, মুসতাদরাকে হাকিম, সুনানে বায়হাকী, সহীহ ইবন খুযাইমা, দারেমী, তাহাবী, হাদীসটির সনদ সহীহ।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(252) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا محمد بن جعفر ثنا شعبة سمعت أبا جعفر يعني المؤذن (1) يحدث عن مسلم أبي المثنى (2) يحدث عن ابن عمر قال إنما كان الأذان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مرتين وقال حجاج يعني مرتين مرتين (3) والإقامة مرة غير أنه يقول قد قامت الصلاة قد قامت الصلاة وكنا إذا سمعنا الإقامة توضأنا ثم خرجنا إلى الصلاة (4) قال شعبة لا أحفظ غير هذا (5).
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫৩) আনাস ইবন্ মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বেলালকে আযানের বাক্যগুলো দুইবার দুইবার করে এবং ইকামতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণের নির্দেশ দেন।
অন্য বর্ণনায়, আনাস (রা) বলেন, রাসূল (ﷺ) আযানের বাক্যগুলো দুইবার ও ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণের জন্য বেলালকে আদেশ করেন।
এ বিষয়ে যখন আইয়ুবের সাথে কথা হল তখন তিনি বলেন, তবে ইকামাতের অর্থাৎ কাদ্‌কামাতিস-সালাহ্ দুইবার বলতে হবে।
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(253) عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال أمر (1) بلال أن يشفع الأذان (2) ويوتر الإقامة (ومن طريق ثانٍ) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا إسماعيل أنا خالد عن أبي قلابة قال أنس أمر بلالٌ أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة فحدثت به أيوب فقال إلا الإقامة.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫৪) 'আউন ইবন্ আবূ জুহাইফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বেলালকে আযান দিতে ও এদিক সেদিক তাঁর মুখ ফিরাতে দেখেছি। অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে, অর্থাৎ ডানে ও বামে এবং তখন তাঁর আঙ্গুল তাঁর কানের মধ্যে দেখেছি।
*টিকা: কানে আঙ্গুল দিয়ে আযান দেয়ার দুইটি গুরুত্ব ছিল। (১) কণ্ঠস্বরকে উঁচু ও দীর্ঘ করা (২) তাকে দেখে মানুষ যেন বুঝতে পারে সে আযান দিচ্ছে।
(বুখারী, মুসলিম।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(254) عن عون بن أبي جحيفة عن أبيه (أبي جحيفة رضي الله عنه) قال رأيت بلالاً يؤذن ويدور وأتتبع فاه (3) هاهنا وهاهنا (زاد في رواية يعني يميناً وشمالاً وإصبعاه في أذنيه (4).
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামাতের বিবরণ এতদুভয়ের শব্দের সংখ্যা ও আবূ মাহযূরার ঘটনা
(২৫৫) আবু মাহযুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদের ও আমাদের মাওয়ালীকে আযানের দায়িত্ব দেন। (অর্থাৎ তাদের মিষ্টি সুর ও উচ্চ আওয়াজের জন্য আযানের দায়িত্ব দেন।) পানি পান করানোর দায়িত্ব দেন বনি হাশিমকে এবং সিঙ্গা লাগানোর দায়িত্ব দেন বনি আবদুদ্ দার গোত্রকে।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী বলেন, হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। তাতে একজন দুর্বল রাবী আছে।)
كتاب الصلاة
(5) باب صفة الأذان والإقامة وعدد كلمتهما وقصة أبي محذورة
(255) عن ابن أبي محذورة عن أبيه أو عن جده قال جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم الأذان لنا ولموالينا, (1) والسقاية لبني هاشم, والحجامة لبني عبد الدار.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতে নিষেধ করা প্রসঙ্গে
(২৬৬) উসমান ইবন্ আবুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে আমার গোত্রের ইমাম নিযুক্ত করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হলো, তুমি তাদের দুর্বলদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এমন একজন মুয়াযযিন ঠিক করবে, যে আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিবে না।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন্ মাজাহ্, অন্যান্য, হাদীসটির সনদ উত্তম। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(6) باب النهي عن أخذ الأجرة على الأذان
(266) عن عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه قال قلت يا رسول الله اجعلني إمام قومي؛ فقال أنت إمامهم, واقتد بأضعفهم, واتخذ مؤذناً لا يأخذ على أذانه أجراً.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামতের শব্দ শুনার সময় এবং আযানের শেষে শ্রোতা কি বলবে?
(২৬৭) রাসূল (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফে' (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করে বলেন, নবী (ﷺ) মুয়াযযিনের আযানের শব্দ শুনলে, সে যা বলে তিনিও অনুরূপ বলতেন, সে যখন হাইয়্যা 'আলাস সালাহ ও হাইয়‍্যা 'আলাল ফালাহ বলতো তখন তিনি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলতেন।
(নাসাঈ, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়ায়েদে, তিনি বলেন, হাদীসটি আহমদ, ও তবারানী বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(7) باب ما يقول المستمع عند سماع الأذان والإقامة وبعد الأذان
(267) عن أبي رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن النبي
صلى الله عليه وسلم قال كان إذا سمع المؤذن قال مثل ما يقول حتى إذا بلغ حي على الصلاة حي على الفلاح قال لا حول ولا قوة إلا بالله.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামতের শব্দ শুনার সময় এবং আযানের শেষে শ্রোতা কি বলবে?
(২৬৮) আব্দুল্লাহ ইবন্ রবীয়া আসসুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। তখন এক মুয়াযযিনকে আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে শুনলেন। তিনিও আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললেন, মুয়াযযিন যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বললেন, তিনিও আশহাদু আন্নী মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বললেন।
রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা এই (মুয়াযযিন) ব্যক্তিকে বকরীর রাখাল বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাবে।
অতঃপর যখন তিনি উপত্যকায় একটি ফেলে দেয়া মৃত বকরীর ছানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বললেন, তোমরা কি মালিকের কাছে এ ছাগল ছানাটিকে তুচ্ছ জ্ঞান কর? এ পৃথিবী আল্লাহর নিকট এ ছাগল ছানার চেয়ে আরো বেশী মূল্যহীন।
(নাসাঈ, হায়ছামী বলেন, হাদীসটি আহমদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(7) باب ما يقول المستمع عند سماع الأذان والإقامة وبعد الأذان
(268) عن عبد الله بن ربيعة السلمي رضي الله عنه قال كان النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فسمع مؤذناً يقول أشهد أن لا إله إلا الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم أشهد أن لا إله إلا الله, قال أشهد أن محمداً رسول الله, قال النبي صلى الله عليه وسلم أشهد أني محمدٌ رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم تجدونه راعي غنم أو عازبا عن أهله فلما هبط الوادي قال مر على سخلة (1) منبوذة فقال أترون هذه هينةً على أهلها؟ للدنيا أهون على الله من هذه على أهلها.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামতের শব্দ শুনার সময় এবং আযানের শেষে শ্রোতা কি বলবে?
(২৬৯) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) মুয়াযযিনের আযানের শব্দ শুনলে বলতেন, আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ।
(সুনানে বায়হাকী, সহীহ ইবন্ হিব্বান, মুসতাদরাকে হাকিম, তিনি হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেন।)
كتاب الصلاة
(7) باب ما يقول المستمع عند سماع الأذان والإقامة وبعد الأذان
(269) عن عائشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سمع المنادي (2) قال أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ আযান ও ইকামতের শব্দ শুনার সময় এবং আযানের শেষে শ্রোতা কি বলবে?
(২৭০) উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) যখন মুয়াযযিনের আযান শুনতেন, আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত মুয়াযযিন যা বলতেন তিনিও তা বলতেন।
(ইবন্ মাজাহ, সহীহ ইবন্ খুযাইমা, মুসতাদরাকে হাকিম। তিনি বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত।
كتاب الصلاة
(7) باب ما يقول المستمع عند سماع الأذان والإقامة وبعد الأذان
(270) عن أم حبيبة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا سمع المؤذن يؤذن قال كما يقول حتى يسكت.
tahqiq

তাহকীক: