রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين

৭. রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৬২ টি

হাদীস নং: ৯৩৩
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৩ জানাযার নামাযে মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও তাদের তিন বা ততোধিক কাতার বানানো
জানাযার নামাযে তিন কাতার করা মুস্তাহাব
হাদীছ নং: ৯৩৩

মারছাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানী রহ. বলেন, হযরত মালিক ইবন হুবায়রা রাযি. যখন কারও জানাযার নামায পড়তেন আর উপস্থিত লোকদের সংখ্যা কম দেখতে পেতেন, তখন তাদেরকে তিন ভাগে ভাগ করে দিতেন। তারপর বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির উপর তিন সারি লোক জানাযা পড়ে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। -আবু দাউদ ও তিরমিযী
(সুনানে আবু দাউদ: ৩১৬৬: জামে' তিরমিযী: ১০২৮; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ১১৬২৫; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৪৯০; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৬৬৫; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৬৯০৫: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫০৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب استحباب تكثير المصلين عَلَى الجنازة وجعل صفوفهم ثلاثة فأكثر
933 - وعن مرثدِ بن عبدِ الله اليَزَنِيِّ، قَالَ: كَانَ مَالِكُ بن هُبَيْرَة - رضي الله عنه - إِذَا صَلَّى عَلَى الجَنَازَةِ، فَتَقَالَّ النَّاس عَلَيْهَا، جَزَّأَهُمْ عَلَيْهَا ثَلاَثَةَ أجْزَاءٍ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلاَثَةُ صُفُوفٍ فَقَدْ أوْجَبَ». رواه أَبُو داود والترمذي، (1) وقال: «حديث حسن».
হাদীস নং: ৯৩৪
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
জানাযার নামাযে চারটি তাকবীর দেওয়া হবে। প্রথম তাকবীরের পর আ'উযুবিল্লাহ পড়বে। তারপর সূরা ফাতিহা পড়বে। তারপর দ্বিতীয় তাকবীর দেবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পড়বে। তাতে বলবে- اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ । তবে إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ পর্যন্ত পূর্ণ দরূদ (ইবরাহীমী) পড়া উত্তম। সাধারণ লোকদের মধ্যে অনেকে যে পড়ে-
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
এটা ঠিক নয়। এরূপ পড়বে না। কেননা কেবলমাত্র এতটুকু পড়ে ক্ষান্ত হলে নামায সহীহ হবে না। তারপর তৃতীয় তাকবীর দেবে এবং মায়্যিত ও অপরাপর মুসলিমের জন্য দু'আ করবে। কী দু'আ পড়বে, সে সম্পর্কিত হাদীছসমূহ আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করছি। তারপর চতুর্থ তাকবীর দেবে এবং দু'আ করবে। সর্বোত্তম দু'আ হল- اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ : (হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর (অর্থাৎ এই মসিবতের) প্রতিদান থেকে মাহরূম করো না। তার মৃত্যুর পর আমাদেরকে ফিতনায় নিক্ষেপ করো না। ক্ষমা করো আমাদেরকে এবং তাকেও)। চতুর্থ তাকবীরে দু'আ দীর্ঘ করা উত্তম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের অভ্যাস এর বিপরীত। ইনশাআল্লাহ আমরা ইবন আবু আওফা রাযি. থেকে বর্ণিত এ সম্পর্কিত হাদীছ সামনে উল্লেখ করব। তৃতীয় তাকবীরের পর যেসকল দু'আ পড়ার কথা হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আমরা এখানে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি।
জানাযার নামাযের একটি দু'আ
হাদীছ নং: ৯৩৪

হযরত আবু আব্দুর রহমান আওফ ইবন মালিক রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযা পড়েন। তাতে তিনি যে দু'আ পড়েছিলেন, আমি তা মুখস্থ করে রেখেছি। তা হল-
اللَّهُمَّ ، اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ ، وَأَهْلاً خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، و مِنْ عَذَابِ النَّارِ.
(হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহমত করুন। তাকে নিরাপদ রাখুন। তাকে ক্ষমা করে দিন। জান্নাতে তাকে সম্মানজনক আতিথেয়তা দান করুন। তার কবর প্রশস্ত করে দিন। তাকে ধুয়ে দিন পানি, বরফ ও শীলা দিয়ে। তাকে পাপরাশি থেকে পরিষ্কার করে দিন, যেমন ময়লা থেকে সাদা কাপড় পরিষ্কার করে থাকেন। তাকে দান করুন উত্তম ঘর তার (দুনিয়ার) ঘর অপেক্ষা, উত্তম পরিবার তারন (দুনিয়ার) পরিবার অপেক্ষা আর উত্তম স্ত্রী তার (দুনিয়ার) স্ত্রী অপেক্ষা। তাকে প্রবেশ করান জান্নাতে। তাকে নিরাপদ রাখুন কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে)। আওফ ইবন মালিক রাযি. বলেন, তাঁর এ দু'আ শুনে আমার আকাঙ্ক্ষা জাগল ওই মায়্যিত যদি আমিই হতাম। –মুসলিম
(সহীহ মুসলিম: ৯৬৩; সুনানে নাসাঈ ১৯৮৪; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৫০০; মুসনাদুল বাযযার: ২৭৩৯; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৭৮; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ৬৯৬৫; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা : ১১৩৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০৭৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৪৯৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
يُكَبِّرُ أرْبَعَ تَكبِيرَاتٍ، يَتَعوَّذُ بَعْدَ الأُولَى، ثُمَّ يَقْرَأُ فَاتِحَةَ الكِتَابِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ الثَّانِيَةَ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبيِّ - صلى الله عليه وسلم - فيقول: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ. وَالأفْضَلُ أَنْ يُتَمِّمَهُ بقوله: كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إبرَاهِيمَ - إِلَى قَوْله - إنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
وَلاَ يَقُولُ مَا يَفْعَلهُ كَثيرٌ مِنَ العَوامِّ مِنْ قراءتِهِمْ: {إنَّ اللهَ وَمَلائِكَته يُصَلُّونَ عَلَى النَّبيِّ} [الأحزاب: 56] الآية، فَإنَّهُ لاَ تَصحُّ صَلاَتُهُ إِذَا اقْتَصَرَ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ الثَّالِثَةَ، وَيَدعُو للمَيِّتِ وَللمُسْلِمِينَ بِمَا سَنَذكُرُهُ مِنَ الأحاديث إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى، ثُمَّ يُكَبِّرُ الرَّابِعَةَ وَيَدْعُو. وَمِنْ أحْسَنِهِ: «اللَّهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أجْرَهُ، وَلاَ تَفْتِنَّا بَعدَهُ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ».
وَالمُخْتَارُ أنه يُطَوِّلُ الدُّعاء في الرَّابِعَة خلافَ مَا يَعْتَادُهُ أكْثَرُ النَّاس، لحديث ابن أَبي أَوْفى الذي سَنَذْكُرُهُ إنْ شَاء اللهُ تَعَالَى. وَأمَّا الأَدْعِيَةُ المَأثُورَةُ بَعْدَ التَّكبِيرَةِ الثالثة، فمنها:
934 - عن أَبي عبد الرحمان عوف بن مالك - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّى رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عَلَى جَنازَةٍ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ، وَهُوَ يقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ» حَتَّى تَمَنَّيتُ أن أكُون أنَا ذَلِكَ الْمَيِّت. رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৩৫
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
জানাযার নামাযের আরেকটি দু'আ
হাদীছ নং: ৯৩৫

হযরত আবু হুরায়রা রাযি., আবু কাতাদা রাযি. ও আবূ ইবরাহীম আশহালী তার পিতা থেকে, তার পিতা একজন সাহাবী, বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার নামায পড়েন। তিনি তাতে দু'আ করেন-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَغَائِبِنَا وَشَاهِدِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنّا بَعْدَهُ
‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করুন আমাদের জীবিতকে, মৃতকে, ছোটকে, বড়কে, পুরুষকে, নারীকে, উপস্থিতজনকে ও অনুপস্থিতকে। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে জীবিত রাখুন ইসলামের উপর। আর যাকে মৃত্যুদান করেন, তাকে মৃত্যুদান করুন ঈমানের উপর। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে তার প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার পর আমাদেরকে ফিতনার সম্মুখীন করবেন না’।
(জামে' তিরমিযী: ১০২৪; সুনানে আবূ দাঊদ: ৩২০১; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৪৯৮; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ১০৮৫২)
ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. ও আবু ইবরাহীম আশহালী থেকে। ইমাম আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. ও আবু কাতাদা রাযি. থেকে। হাকিম বলেন, আবূ হুরায়রা রাযি. বর্ণিত হাদীছটি ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেন, বুখারীর মতে এ বিষয়ক বর্ণনাসমূহের মধ্যে আশহালীর বর্ণনা সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ। বুখারী বলেন, এ বিষয়ে আওফ ইবন মালিক বর্ণিত হাদীছটি সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ।
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
935 - وعن أَبي هريرة وأبي قتادة وَأبي إبراهيم الأشهلي، عن أبيه - وأبوه صَحَابيٌّ - رضي الله عنهم [ص:282] عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم: أنَّهُ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرنَا وَكَبيرنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الإسْلاَمِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوفَّهُ عَلَى الإيمَان، اللَّهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلاَ تَفْتِنَّا بَعدَهُ». رواه الترمذي من رواية أَبي هريرة والأشهلي. ورواه أَبُو داود من رواية أَبي هريرة وأبي قتادة. قَالَ الحاكم: «حديث أَبي هريرة صحيح عَلَى شرط البخاري ومسلم»، قَالَ الترمذي: «قَالَ البخاري: أصَحُّ رواياتِ هَذَا الحديث رواية الأشْهَلِيِّ، قَالَ البخاري: وأصح شيء في هَذَا الباب حديث عَوْفِ ابن مَالِكٍ». (1)
হাদীস নং: ৯৩৬
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
মায়্যিতের জন্য ইখলাসের সঙ্গে দু'আ করা
হাদীছ নং: ৯৩৬

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা যখন মায়্যিতের জানাযা পড়, তখন তার জন্য খালেসভাবে দু'আ করো। -আবু দাউদ
(সুনানে আবু দাউদ: ৩১৯৯; সুনানে ইবন মাজাহ : ১৪৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০৭৬: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৬৯৬৪)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
936 - وعن أَبي هريرة - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقول: «إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى المَيِّتِ، فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعاء». رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৩৭
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
জানাযার নামাযের আরেকটি দু'আ
হাদীছ নং: ৯৩৭

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে পড়তেন-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا، وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا، وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا لِلإِسْلاَمِ، وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا، وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلاَنِيَتِهَا، قد جِئْنَاكَ شُفَعَاءَ لَهُ فَاغْفِرْ لَهُ
(হে আল্লাহ! আপনিই তার রব্ব। আপনিই তাকে সৃষ্টি করেছেন। আপনিই তাকে ইসলামের হিদায়াত দিয়েছেন। আপনিই তার রূহ কবজ করেছেন এবং আপনিই তার গুপ্ত ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ ভালো জানেন। আমরা তার জন্য সুপারিশকারী হয়ে আপনার কাছে এসেছি। আপনি তাকে ক্ষমা করুন)। -আবু দাউদ
(সুনানে আবু দাউদ: ৩২০০; মুসনাদে আহমাদ: ৭৪৭২; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১১৩৬৫; মুসনাদে ইসহাক ইবন রাহূয়াহ: ২৮৭; তাবারানী, মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন: ২১২৩)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
937 - وعنه، عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم - في الصَّلاَةِ عَلَى الجَنَازَةِ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا، وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا، وَأَنتَ هَدَيْتَهَا للإسْلاَمِ، وَأَنتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا، وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسرِّهَا وَعَلاَنِيَتِهَا، وَقَدْ جِئنَاكَ شُفَعَاءَ لَهُ، فَاغْفِرْ لَهُ». رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৩৮
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
জানাযার আরও একটি দু'আ
হাদীছ নং: ৯৩৮

হযরত ওয়াছিলা ইবনুল আসকা' রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে জনৈক মুসলিমের জানাযার নামায পড়েন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনি–
اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ ابْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ، وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحمد، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
(হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মায় এবং আপনার আশ্রয়ের রজ্জুতে রয়েছে। তাকে কবরের ফিতনা ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি ওয়াদা পূরণকারী ও প্রশংসার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং তার প্রতি রহমত করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু)। -আবু দাউদ
(সুনানে আবূ দাউদ : ৩২০২; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৪৯৯; মুসনাদে আহমাদ : ১৬০১৮; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০৭৪)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
938 - وعن وَاثِلَة بنِ الأَسْقَعِ - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّى بِنَا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عَلَى رَجُلٍ مِنَ المُسْلِمِينَ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إنَّ فُلانَ ابْنَ فُلانٍ في ذِمَتِّكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ فِتْنَةَ القَبْرِ، وَعذَابَ النَّار، وَأَنْتَ أهْلُ الوَفَاءِ وَالحَمْدِ؛ اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، إنَّكَ أنْتَ الغَفُورُ الرَّحيمُ». رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৩৯
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৪ জানাযার নামাযে কী পড়া হবে
জানাযার নামাযের তাকবীর চারটি
হাদীছ নং: ৯৩৯

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাযি. সম্পর্কে বর্ণিত যে, তিনি তার কন্যার জানাযায় চারবার তাকবীর দেন। চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ দাঁড়িয়ে তার জন্য ইস্তিগফার ও দু'আ করেন। তারপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি চারবার তাকবীর দেন। তারপর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। আমরা মনে করলাম তিনি বুঝি পঞ্চমবার তাকবীর বলবেন। তারপর তিনি তার ডান ও বামদিকে সালাম ফেরালেন। তিনি জানাযা শেষ করলে আমরা তাকে বললাম, এটা কী করলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেমন করতে দেখেছি, তারচে' বেশি কিছু করি না। অথবা তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। -হাকিম
(হাকিম, আল-মুস্তাদরাক: ১৩৩০; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৫০৩; মুসনাদুল হুমায়দী: ৭৩৫: মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৬৪০৪; মুসনাদে আহমাদ: ১৯১৪০; তাবারানী, আল মু'জামুস সগীর: ২৬৮; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ২৮৩৮; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ৬৯৮৮)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب مَا يقرأ في صلاة الجنازة
939 - وعن عبدِ الله بنِ أبي أَوْفى رضي الله عنهما: أنَّهُ كَبَّرَ عَلَى جَنَازَةِ ابْنَةٍ لَهُ أرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ، فَقَامَ بَعْدَ الرَّابِعَةِ كَقَدْرِ مَا بَيْنَ التَّكْبِيرَتَيْنِ يَسْتَغْفِرُ لَهَا وَيَدْعُو، ثُمَّ قَالَ: كَانَ رسول اللهِ - صلى الله عليه وسلم - يَصْنَعُ هكَذَا.

وفي رواية: كَبَّرَ أرْبَعًا فَمَكَثَ سَاعَةً حَتَّى ظَنَنْتُ أنَّهُ سَيُكَبِّرُ خَمْسًا، ثُمَّ سَلَّمَ عَنْ يَمينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ. فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْنَا لَهُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: إنِّي لاَ أزيدُكُمْ عَلَى مَا رأيْتُ رسولَ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - يَصْنَعُ، أَوْ: هكَذَا صَنَعَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم. رواه الحاكم، (1) وقال: «حديث صحيح».
হাদীস নং: ৯৪০
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৫ মায়্যিতকে (দাফনের জন্য) দ্রুত নিয়ে যাওয়া
হাদীছ নং: ৯৪০

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা মায়্যিতকে দ্রুত নিয়ে যাও। যদি সে নেককার হয়, তবে তোমরা তাকে কল্যাণের দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছ। আর যদি তার বিপরীত হয়, তবে তোমরা নিজেদের কাঁধ থেকে মন্দকেই নামাচ্ছ। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১৩১৫; সহীহ মুসলিম: ৯৪৪; সুনানে আবূ দাঊদ: ৩১৮১; জামে' তিরমিযী: ১০১৫; সুনানে নাসাঈ: ১৯১০; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৪৭৭; মুসনাদে আহমাদ: ৭২৬৬; মুসনাদুল হুমায়দী: ১০৫২; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ১১২৬৩; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ২৭৩৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الإسراع بالجنازة
940 - عن أَبي هريرة - رضي الله عنه - عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أسْرِعُوا بالجَنَازَةِ، فَإنْ تَكُ صَالِحَةً، فَخَيرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ، وَإنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ، فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
وفي روايةٍ لمسلمٍ: «فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا عَلَيْهِ».
হাদীস নং: ৯৪১
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৫ মায়্যিতকে (দাফনের জন্য) দ্রুত নিয়ে যাওয়া
হাদীছ নং: ৯৪১

হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন জানাযার লাশ (কবরের দিকে নেওয়ার জন্য) রাখা হয়, তারপর লোকজন তাকে তাদের কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে নেককার হলে বলে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো। আর যদি সে অসৎকর্মশী হয় তবে বলে, হায় দুর্ভোগ! তোমরা একে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? তার আওয়াজ মানুষ ছাড়া সকলেই শুনতে পায়। মানুষ যদি শুনত, তবে বেহুঁশ হয়ে পড়ে যেত।– বুখারী
(সহীহ বুখারী: ১৩১৪; সুনানে নাসাঈ: ১৯০৮; মুসনাদে আহমাদ: ৭৯১৪; সহীহ ইবন হিব্বান: ৩০৩৮; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ২৭৩৮; বায়হাকী, আস্ সুনানুল কুবরা: ৬৮৪৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الإسراع بالجنازة
941 - وعن أَبي سعيد الخدري - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ النبي - صلى الله عليه وسلم - يقُولُ: «إِذَا وُضِعَت الجَنَازَةُ، فَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أعنَاقِهمْ، فَإنْ كَانَتْ صَالِحَةً، قالتْ: قَدِّمُونِي، وَإنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ، قَالَتْ لأَهْلِهَا: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا؟ يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلاَّ الإنْسَانَ، وَلَوْ سَمِعَ الإنسَانُ لَصَعِقَ». رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ৯৪২
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৬ মায়্যিতের পক্ষ থেকে তার দেনা পরিশোধ ও তার দাফন-কাফন দ্রুত সম্পন্ন করা। আকস্মিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা
মৃত্যুর পর দেনার দায়ে আটকা পড়া
হাদীছ নং: ৯৪২

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুমিনের আত্মা তার দেনার সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়। -তিরমিযী
(জামে' তিরমিযী: ১০৭৮; সুনানে ইবন মাজাহ: ২৪১৩; মুসনাদে আবূ দাঊদ তয়ালিসী: ২৫১২: সুনানে দারিমী: ২৬৩৩; মুসনাদুল বাযযার: ৮৬৬৪; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৬০২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০৬১; তাবারানী, আল মু'জামুস সগীর: ১১৪৪; হাকিম, আল মুস্তাদরাক: ২২১৯)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب تعجيل قضاء الدَّين عن الميت والمبادرة إِلَى تجهيزه إلا أن يموت فجأة فيترك حَتَّى يُتَيَقَّنَ مَوْتُه
942 - عن أَبي هريرة - رضي الله عنه - عن النبي - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «نَفْسُ المُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضى عَنْهُ». رواه الترمذي، (1) وقال: «حديث حسن».
হাদীস নং: ৯৪৩
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৬ মায়্যিতের পক্ষ থেকে তার দেনা পরিশোধ ও তার দাফন-কাফন দ্রুত সম্পন্ন করা। আকস্মিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা
তালহা ইবনুল বারা'র শয্যাপাশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং দ্রুত দাফন করা সম্পর্কে তাঁর উপদেশ
হাদীছ নং: ৯৪৩

হযরত হুসায়ন ইবন ওয়াহওয়াহ রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তালহা ইবনুল বারা’ ইবন আযিব রাযি. অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসেন। তিনি বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি তালহার মৃত্যু শুরু হয়ে গেছে। তোমরা আমাকে তার সম্পর্কে জানিয়ো আর তার দাফন-কাফনের কাজ দ্রুত করো। কেননা মুসলিম ব্যক্তির লাশ তার পরিবারবর্গের মাঝখানে আটকে রাখা উচিত নয়। -আবু দাউদ
(সুনানে আবু দাউদ: ৩১৫৯: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৬৬২০; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৩৫৫৪)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب تعجيل قضاء الدَّين عن الميت والمبادرة إِلَى تجهيزه إلا أن يموت فجأة فيترك حَتَّى يُتَيَقَّنَ مَوْتُه
943 - وعن حُصَيْنِ بن وَحْوَحٍ - رضي الله عنه: أنَّ طَلْحَةَ بْنَ البَرَاءِ بن عَازِبٍ رضي الله عنهما مَرِضَ، فَأتَاهُ النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَعُودُهُ، فَقَالَ: «إنِّي لاَ أرى طَلْحَةَ إِلاَّ قَدْ حَدَثَ فِيهِ المَوْتُ، فآذِنُوني بِهِ وَعَجِّلُوا بِهِ، فَإنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لجِيفَةِ مُسْلِمٍ أَنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانِيْ أهْلِهِ». رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৪৪
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৭ কবরের কাছে নসীহত করা
হাদীছ নং: ৯৪৪

হযরত আলী রাযি. বলেন, আমরা বাকী'উল গারকাদে এক জানাযায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। তিনি বসলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে বসলাম। তাঁর হাতে একটি বাঁকানো মাথার লাঠি। তিনি মাথা ঝোঁকালেন এবং সেই লাঠি দিয়ে মাটিতে আঁকাতে লাগলেন। তারপর বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার স্থান জাহান্নামে ও জান্নাতে লিখে রাখা হয়নি। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমরা কি আমাদের সেই লেখার উপর নির্ভর করব না? তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাকো। কারণ প্রত্যেকের জন্য তা সহজ করে দেওয়া হয়, যেজন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১৩৬২; সহীহ মুসলিম: ২৬৪৭; জামে তিরমিযী: ২১৩৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ১১৬১৪; মুসনাদে আহমাদ: ৬২২; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৫৮২; মুসনাদুল বাযযার: ৫৮৮; আল-আজুররী, আশ-শারী'আহ: ৩২৭)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الموعظة عند القبر
944 - عن عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا فِي جَنَازَةٍ في بَقيعِ الغَرْقَدِ، فَأتَانَا رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - فَقَعَدَ، وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ (1) فَنَكَّسَ وَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْكُمْ [ص:284] مِنْ أحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ الجَنَّةِ» فقالوا: يَا رسولَ الله، أفَلا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابنَا؟ فَقَالَ: «اعْمَلُوا؛ فكلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ ... » وذكَر تَمَامَ الحديث. متفقٌ عَلَيْهِ. (2)
হাদীস নং: ৯৪৫
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৮ মায়্যিতকে দাফন করার পর তার জন্য দু'আ করা এবং দু'আ, ইস্তিগফার ও কুরআনপাঠের উদ্দেশ্যে তার কবরের কাছে কিছুক্ষণ বসা
হাদীছ নং: ৯৪৫

হযরত আবূ আমর উছমান ইবন আফফান রাযি. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়্যিতকে দাফন করার কাজ শেষ করার পর কিছুক্ষণ তার কবরের কাছে দাঁড়াতেন। তখন তিনি বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো এবং তাকে শান্ত-স্থির রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করো। কেননা এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে। -আবু দাউদ
(সুনানে আবু দাউদ: ৩২২১; মুসনাদে আহমাদ: ৮৫৪৪; হাকিম, আল মুস্তাদরাক: ১৩৭২; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৭০৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫২৩; মুসনাদুল বাযযার: ৪৪৫; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লা : ৫৮৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الدعاء للميت بعد دفنه والقعود عند قبره ساعة للدعاء لَهُ والاستغفار والقراءة
945 - وعن أَبي عمرو - وقيل: أَبُو عبد الله، وقيل: أَبُو ليلى - عثمان بن عفان رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ النبيُّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا فُرِغَ مِن دَفْنِ المَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، وقال: «اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ، فَإنَّهُ الآنَ يُسألُ». رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৪৬
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৮ মায়্যিতকে দাফন করার পর তার জন্য দু'আ করা এবং দু'আ, ইস্তিগফার ও কুরআনপাঠের উদ্দেশ্যে তার কবরের কাছে কিছুক্ষণ বসা
হাদীছ নং: ৯৪৬

হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. বলেন, যখন আমাকে দাফন করবে, তখন আমার কবরের পাশে এতটুকু সময় অবস্থান করবে, যে সময়ের মধ্যে উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করা যায়। যাতে আমি তোমাদের দ্বারা নিঃসঙ্গতা কাটাতে পারি এবং ভেবে দেখতে পারি আমার প্রতিপালকের দূতগণের প্রশ্নের কী উত্তর দিই। -মুসলিম
(সহীহ মুসলিম: ১২১; সহীহ ইবনে খুযায়মা: ২৫১৫; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৮১৯০: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫২৩)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الدعاء للميت بعد دفنه والقعود عند قبره ساعة للدعاء لَهُ والاستغفار والقراءة
946 - وعن عمرو بن العاص - رضي الله عنه - قَالَ: إِذَا دَفَنْتُمُونِي، فَأقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ، وَيُقَسَّمُ لَحمُهَا حَتَّى أَسْتَأنِسَ بِكُمْ، وَأعْلَمَ مَاذَا أُرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّي. رواه مسلم. (1) وَقَدْ سبق بطوله.
হাদীস নং: ৯৪৭
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৯ মায়্যিতের পক্ষ থেকে সদাকা করা ও তার জন্য দু'আ করা

'মায়্যিতের পক্ষ থেকে সদাকা করা...' সম্পর্কিত একটি আয়াত
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ
অর্থ: এবং (ফায়-এর সম্পদ) তাদেরও প্রাপ্য, যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করো আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।
(সূরা হাশর, আয়াত ১০)

ব্যাখ্যা
এ আয়াতটি 'ফায়'-এর সম্পদ বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যাপক অর্থে ফায় বলা হয় অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে, তা যুদ্ধের মাধ্যমে হোক বা সন্ধির মাধ্যমে। যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলে গণ্য হয়। বাকিটা যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়। সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের সবটাই রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চলে আসে। খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান তা জনকল্যাণমূলক যে-কোনও খাতে ব্যয় করতে পারে। এর বিস্তারিত বিধি-বিধান আছে। ফিকহী গ্রন্থাবলিতে তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। সূরা হাশরের ৬ থেকে ১০ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে মোটামুটিভাবে এর খাতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষে ১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে- "এবং (ফায়-এর সম্পদ) তাদেরও প্রাপ্য, যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করো আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে”। অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মুমিন মুসলিম এর হকদার। সে মুমিন-মুসলিমদের বিশেষ দু'টি গুণের কথাও এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। প্রথম গুণ হল তারা পূর্ববর্তী আনসার-মুহাজিরদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তারা তাদেরকে নিজেদের অগ্রবর্তী ভাই গণ্য করবে। এক ভাই যেমন অন্য ভাইকে ভালোবাসে, আনসার ও মুহাজিরদেরকে সেরকমই ভালোবাসবে। তাই নিজেদের জন্য যেমন আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, তেমনি তাদের জন্যও ক্ষমাপ্রার্থনা করবে। এটা ইঙ্গিত করে প্রকৃত মুমিন-মুসলিম হতে হলে তাকে অবশ্যই সাহাবায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি বজায় রাখতে হবে। যার অন্তরে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি নেই, সে মুমিন নামের উপযুক্ত নয়। হযরত মুসআব ইবন সাদ রাযি. বলতেন, উম্মতের মুসলিমগণ তিন ভাগে বিভক্ত। তাদের মধ্যে দুই ভাগ গত হয়ে গেছেন। তারা হলেন মুহাজির ও আনসার। বাকি আছে সেইসকল লোক, যারা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করে। তোমরা যদি এ উম্মতের মধ্যে স্থান পেতে চাও, তবে এই তৃতীয় ভাগের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
কেউ বলতে পারে, তাদের মধ্যেও তো দ্বন্দ্ব-কলহ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল। এ অবস্থায় কীভাবে শ্রদ্ধাভক্তি বজায় রাখা সম্ভব? এর উত্তরও এ আয়াতের মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে যে যুদ্ধ-বিগ্রহ হবে, তা কি আল্লাহ তা'আলা জানতেন না? তা সত্ত্বেও তো তিনি এ আয়াতে তাদের জন্য দু'আ ও ইস্তিগফারের হুকুম করেছেন। বোঝা গেল তাদের আত্মকলহের কারণে শ্রদ্ধাভক্তি হারানো যাবে না। দীনের জন্য ও দীনের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাদের যে অসামান্য আত্মত্যাগ, সে কথা ভুলে যাওয়া চলবে না। ভুলত্রুটি যে-কারওই হতে পারে। সেজন্য তার প্রাপ্য ঘৃণা ও বিদ্বেষ নয়। বরং তার প্রাপ্য হল দু'আ ও ইস্তিগফার। সাহাবায়ে কেরামের মতো মহান জামাতের দ্বারা ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে কীভাবে তারা অশ্রদ্ধার পাত্র হতে পারেন? তাদের ক্ষেত্রে তো আরও বেশি কর্তব্য ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে দু'আ করা, যাতে আল্লাহ তা'আলা তাদের ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান সাহচর্যের বদৌলতে জান্নাতের সমুচ্চ মাকাম তাদের দান করেন। তারা তো সে মাকামের উপযুক্ত হয়েই আছেন। তা সত্ত্বেও এরূপ দু'আ করার দ্বারা দু'আকারী নিজেই উপকৃত হবে। তাদের প্রতি ভক্তি-ভালোবাসার কারণে নিজের দীন ও ঈমান অধিকতর শক্তিশালী হবে। আখিরাতে নাজাতলাভের সম্ভাবনা সুদৃঢ় হবে। যদিও আয়াতটি আনসার ও মুহাজিরদের কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এর শব্দাবলি ব্যাপক। তাই যে-কোনও পরবর্তীকালীন মুমিনদের কর্তব্য তাদের পূর্বকালীন মুমিনদের জন্য দু'আ ও ইস্তিগফার করা। অর্থাৎ যে-কেউ মারা যায়, জীবিতদের উচিত তার জন্য দু'আ করা, যাতে আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। গুনাহ মাফ হয় যেমন দু'আর দ্বারা, তেমনি সদাকার দ্বারাও। তাই মৃতব্যক্তির গুনাহমাফির জন্য তার পক্ষ থেকে দান-সদাকাও করা চাই।
আয়াতটিতে সাধারণ মুমিন-মুসলিমদের দ্বিতীয় গুণ বলা হয়েছে যে, তারা একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে না। সুতরাং উল্লিখিত অংশের পর আয়াতটিতে বলা হয়েছে-
وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوْبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোনও হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু)। সুতরাং সত্যিকারের মুমিন হতে চাইলে অপর কোনও মুমিন-মুসলিমের প্রতি অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখা চলবে না।

আয়াতটির শিক্ষা
ক. সাহাবীগণ তথা আনসার ও মুহাজিরগণ ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্রে অপরাপর সকল মুমিনের চেয়ে অগ্রগামী। তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি বজায় রাখতে হবে।
খ. নিজের জন্য যেমন দু'আ-ইস্তিগফার করা হয়, তেমনি আনসার ও মুহাজিরদের জন্যও দু'আ ও ইস্তিগফার করা চাই।
গ. নিজ ভাইকে যেমন আন্তরিকভাবে মহব্বত করা হয়, তেমনি সাহাবায়ে কেরামের প্রতিও অন্তরে গভীর মহব্বত রাখতে হবে।
ঘ. জীবিতদের উচিত মৃত সকল মুমিন নর-নারীর জন্য দু'আ-ইস্তিগফার করা।
ঙ. মৃতব্যক্তির গুনাহমাফির জন্য তার পক্ষ থেকে সাধ্যমতো দান-সদাকাও করা উচিত।
চ. প্রকৃত মুমিন কখনও অন্য মুমিনের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না।
জীবিতদের দান-সদাকা ইত্যাদি দ্বারা মৃত মুমিনদের উপকারলাভ
হাদীছ নং: ৯৪৭

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার মা হঠাৎ করেই মারা গেছেন। আমার মনে হয় তিনি কথা বলতে পারলে দান-সদাকা করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান- সদাকা করি, তবে কি তিনি ছাওয়াব পাবেন? তিনি বললেন, হাঁ। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১৩৮৮; সহীহ মুসলিম: ১০০৪; সুনানে আবু দাউদ: ২৮৮১; সুনানে নাসাঈ : ৩৬৪৯; সুনানে ইবন মাজাহ: ২৭১৬; মুসনাদুল হুমায়দী: ২৪৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৬২৪৩; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ১২০৭৭; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৪৪৩৪; সহীহ ইবনে খুযায়মা: ২৪৯৯)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الصدقة عن الميت والدعاء لَهُ
قَالَ الله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ جَاءوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإيمَانِ} [الحشر: 10].
947 - وعن عائشة رضي الله عنها: أنَّ رجلًا قَالَ للنبيِّ - صلى الله عليه وسلم: إنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ৯৪৮
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:১৯ মায়্যিতের পক্ষ থেকে সদাকা করা ও তার জন্য দু'আ করা
মৃত্যুর পরও সৎকর্মের ছাওয়াব অব্যাহত রাখার তিন উপায়
হাদীছ নং: ৯৪৮

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ যখন মারা যায়, তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল ছাড়া- সদাকায়ে জারিয়া; এমন ইলম, যা দ্বারা উপকার লাভ হয় এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দু'আ করে। -মুসলিম
(সহীহ মুসলিম: ১৬৩১; সুনানে আবূ দাঊদ: ২৮৮০; জামে তিরমিযী: ১৩৭৬; সুনানে ইবন মাজাহ: ২৪২; সুনানে দারিমী: ৫৭৮; বুখারী, আল আদাবুল মুফরাদ: ৩৮; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৬৪৫৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা: ২৪৯৪; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০১৬)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب الصدقة عن الميت والدعاء لَهُ
948 - وعن أَبي هريرة - رضي الله عنه: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا مَاتَ الإنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاثٍ: صَدَقةٍ جَاريَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৪৯
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:২০ লোকজনের পক্ষ থেকে মায়্যিতের প্রশংসা
হাদীছ নং: ৯৪৯

হযরত আনাস রাযি. বলেন, লোকজন এক মায়্যিতকে নিয়ে যাচ্ছিল। উপস্থিত লোকেরা তার প্রশংসা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর লোকজন আরেক মায়্যিতকে নিয়ে যাচ্ছিল। উপস্থিত লোকেরা তার দুর্নাম করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বললেন, কী ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি বললেন, তোমরা ওই মায়্যিতের প্রশংসা করেছ। ফলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর এই মায়্যিতের দুর্নাম করেছ। ফলে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১৩৬৭; সহীহ মুসলিম: ৯৪৯; সুনানে আবু দাউদ: ৩২৩৩; সুনানে নাসাঈ: ১৯৩৩: সুনানে ইবন মাজাহ: ১৪৯১; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫৫২: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৭১৮৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩০২৪)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب ثناء الناس عَلَى الميت
949 - عن أنسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: مَرُّوا بِجَنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النبيُّ - صلى الله عليه وسلم: «وَجَبَتْ» ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى، فَأثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ النبي - صلى الله عليه وسلم: «وَجَبَتْ»، فَقَالَ عمر بن الخطاب - رضي الله عنه: مَا وَجَبَت؟ فَقَالَ: «هَذَا أثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا، فَوَجَبتْ لَهُ الجَنَّةُ، وهَذَا أثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا، فَوَجَبَتْ لَهُ النَّار، أنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ في الأَرضِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ৯৫০
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:২০ লোকজনের পক্ষ থেকে মায়্যিতের প্রশংসা
হাদীছ নং: ৯৫০

আবুল আসওয়াদ দীলী রহ. বলেন, আমি মদীনায় এসে উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে বসলাম। তখন সেখান দিয়ে এক মায়্যিতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। (উপস্থিতলোকদের পক্ষ থেকে) তার প্রশংসা করা হল। উমর রাযি. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর আরেক মায়্যিতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তারও প্রশংসা করা হল। উমর রাযি. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তৃতীয় এক মায়্যিতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তার করা হল দুর্নাম। উমর রাযি. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আমীরুল মুমিনীন! কী ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছিলেন, আমিও তেমনি বললাম। তিনি বলেছিলেন, যে-কোনও মুসলিমের পক্ষে চারজন লোক ভালো সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, তিনজন? তিনি বললেন, তিনজনও। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, দু'জন? তিনি বললেন, দু'জনও। তারপর আমরা আর একজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম না। -বুখারী
(সহীহ বুখারী: ১৩৬৮; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ২০৭২; মুসনাদে আহমাদ: ১৪০; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ১৪৫; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ৩৩০৮; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৭১৮৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫০৬)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب ثناء الناس عَلَى الميت
950 - وعن أَبي الأسْوَدِ، قَالَ: قَدِمْتُ المَدِينَةَ، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بنِ الخَطَّاب - رضي الله عنه - فَمَرَّتْ بِهمْ جَنَازَةٌ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بَأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا، فَقَالَ عُمرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بِالثَّالِثَةِ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا شَرًّا، فَقَالَ عُمر: وَجَبَتْ، قَالَ أَبُو الأسودِ: فقلتُ: وَمَا وَجَبَتْ يَا أمْيرَ المُؤمِنينَ؟ قَالَ: قُلْتُ كما قَالَ النبي - صلى الله عليه وسلم: «أيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أرْبَعَةٌ بِخَيرٍ، أدْخَلَهُ اللهُ الجَنَّةَ» فقُلْنَا: وَثَلاثَةٌ؟ قَالَ: «وَثَلاثَةٌ» فقلنا: وَاثْنَانِ؟ قَالَ: «وَاثْنَانِ» ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَن الواحِدِ. رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ৯৫১
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:২১ যার শিশুসন্তান মারা যায় তার মর্যাদা
যার তিনটি শিশুসন্তান মারা যায়
হাদীছ নং: ৯৫১

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে-কোনও মুসলিমের এমন তিনটি সন্তান মারা যায়, যারা বালেগ হওয়ার বয়সে পৌঁছেনি, আল্লাহ অবশ্যই তাদের প্রতি নিজ রহমতের গুণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১৩৮১; আল আদাবুল মুফরাদ: ১৫০; সুনানে নাসাঈ: ১৮৭৩; সুনানে ইবন মাজাহ : ৮৩; মুসনাদুল বাযযার: ১৭২৯; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৫৫৪৬; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৭১৩৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৪৫)
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب فضل من مات لَهُ أولاد صغار
951 - وعن أنسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلاَثَةٌ لَمْ يَبْلُغوا الحِنْثَ إِلاَّ أدْخَلَهُ اللهُ الجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إيَّاهُمْ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ৯৫২
রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ:২১ যার শিশুসন্তান মারা যায় তার মর্যাদা
জান্নাতবাসীদেরও জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করা
হাদীছ নং: ৯৫২

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে-কোনও মুসলিমেরই তিনটি সন্তান মারা যায়, তাকে আগুন স্পর্শ করবে না। তবে কসম পূরণ করার বিষয়টা ভিন্ন। -বুখারী ও মুসলিম
(সহীহ বুখারী: ১২৫১; সহীহ মুসলিম: ২৬৩২; জামে তিরমিযী: ১০৬০; সুনানে নাসাঈ: ১৮৭৫; সুনানে ইবন মাজাহ: ১৬০২; মুসনাদে আবূ দাঊদ তয়ালিসী: ২৪২৩; মুসনাদুল হুমায়দী: ১০৫০; মুসনাদু ইবনিল জা'দ: ২৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ: ৭২৬৫; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ১১৮৭৭)
কসম পূরণ করার দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর দিকে যে- وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا (তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তা (অর্থাৎ জাহান্নাম) অতিক্রম করবে না) -সূরা মারয়াম: ৭১।
এ অতিক্রম দ্বারা পুলসিরাত অতিক্রম করার কথা বোঝানো হয়েছে। এটা জাহান্নামের উপর স্থাপিত একটি সেতু।
كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه والمكث عند قبره بعد دفنه
باب فضل من مات لَهُ أولاد صغار
952 - وعن أَبي هريرة - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «لاَ يَمُوتُ لأَحَدٍ مِنَ المُسْلِمينَ ثَلاَثَةٌ مِنَ الوَلَدِ لاَ تَمسُّهُ النَّارُ إِلاَّ تَحِلَّةَ القَسَمِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
وَ «تَحِلَّةُ القَسَمِ» قول الله تَعَالَى: {وَإنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا} وَالوُرُودُ: هُوَ العُبُورُ عَلَى الصِّرَاطِ، وَهُوَ جِسْرٌ مَنْصُوبٌ عَلَى ظَهْرِ جَهَنَّمَ، عَافَانَا اللهُ مِنْهَا.