আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

الجامع الصحيح للبخاري

৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৭৩ টি

হাদীস নং: ২৭১১
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮২৭. কারো মৃত্যুর সময় তার অস্ত্র ধ্বংস করা যারা পছন্দ করে না
২৭১১। আমর ইবনে আব্বাস (রাহঃ) .... আমর ইবনে হারিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুই রেখে যাননি, শুধু তাঁর অস্ত্র, একটি সাদা খচ্চর ও একখণ্ড জমি, যা তিনি সাদ্‌কা করে গিয়েছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ لَمْ يَرَ كَسْرَ السِّلاَحِ عِنْدَ الْمَوْتِ
2912 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الحَارِثِ، قَالَ: «مَا تَرَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا سِلاَحَهُ، وَبَغْلَةً بَيْضَاءَ، وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً»
হাদীস নং: ২৭১২
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮২৮. দুপুরের বিশ্রামের সময় লোকজনের ইমাম থেকে পৃথক হওয়া এবং বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করা
২৭১২। আবুল ইয়ামান ও মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হল এমন একটি উপত্যকায় যাতে কাঁটাযুক্ত প্রচুর বৃক্ষ ছিল। লোকেরা কাঁটাযুক্ত বৃক্ষরাজির ছায়ায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। আর নবী (ﷺ) একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষে তাঁর তরবারী ঝুলিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি জেগে উঠলেন এবং হঠাৎ তাঁর পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, একজন লোক, অথচ তিনি তার সম্পর্কে টের পাননি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এই লোকটি হঠাৎ আমার তরবারীটি উঁচিয়ে বলল, কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? আমি বললাম, আল্লাহ! তখন সে লোক তলোয়ারটি কোষবদ্ধ করল। আর এই সে লোক, এখানে বসা, কিন্তু তিনি তাকে কোন শাস্তি দেননি।
كتاب الجهاد والسير
باب تَفَرُّقِ النَّاسِ عَنِ الإِمَامِ، عِنْدَ الْقَائِلَةِ، وَالاِسْتِظْلاَلِ بِالشَّجَرِ
2913 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا سِنَانُ بْنُ أَبِي سِنَانٍ، وَأَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ جَابِرًا، أَخْبَرَهُ ح وحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ الدُّؤَلِيِّ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَدْرَكَتْهُمُ القَائِلَةُ فِي وَادٍ كَثِيرِ العِضَاهِ، فَتَفَرَّقَ النَّاسُ فِي العِضَاهِ يَسْتَظِلُّونَ بِالشَّجَرِ، فَنَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ شَجَرَةٍ، فَعَلَّقَ بِهَا سَيْفَهُ، ثُمَّ نَامَ، فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَجُلٌ وَهُوَ لاَ يَشْعُرُ بِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ هَذَا اخْتَرَطَ سَيْفِي، فَقَالَ: مَنْ يَمْنَعُكَ؟ قُلْتُ: اللَّهُ، فَشَامَ السَّيْفَ، فَهَا هُوَ ذَا جَالِسٌ "، ثُمَّ لَمْ يُعَاقِبْهُ
হাদীস নং: ২৭১৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮২৯. তীর নিক্ষেপ প্রসঙ্গে ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উল্লেখ রয়েছে যে, তীরের ছায়াতলে আমার রিযক রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তার জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত।
২৭১৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার পথে কোন এক স্থানে পৌছার পর আবু কাতাদা (রাযিঃ) কতিপয় সঙ্গী সহ তাঁর পেছনে রয়ে গেলেন। সঙ্গীরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায় আর তিনি ছিলেন ইহরাম বিহীন। এ সময় তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং (তা শিকারের উদ্দেশ্যে) তাঁর ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের তাঁর চাবুকটি উঠিয়ে দিতে বলেন; কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। আবার তিনি তাঁর বর্শাটি উঠিয়ে দিতে বলেন। তারা তাও দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি নিজেই তা উঠিয়ে নিলেন। এরপর গাধাটির উপর আক্রমণ চালালেন এবং তাকে হত্যা করলেন। সাথীরা কেউ কেউ এর গোশ্‌ত খেলেন এবং কেউ কেউ খেতে অস্বীকার করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে পৌছে এ সম্পর্কে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এটি একটি আহার্য বস্তু, যা আল্লাহ তাআলা তোমাদের আহারের জন্য দিয়েছেন।
যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে আবু নযর (রাযিঃ)- এর অনুরূপ বন্য গাধা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে আছে, নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের সাথে তার কিছু গোশত আছে কি?
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا قِيلَ فِي الرِّمَاحِ وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «جُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي، وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي»
2914 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي [ص:41] قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ، تَخَلَّفَ مَعَ أَصْحَابٍ لَهُ مُحْرِمِينَ، وَهُوَ غَيْرُ مُحْرِمٍ، فَرَأَى حِمَارًا وَحْشِيًّا، فَاسْتَوَى عَلَى فَرَسِهِ، فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ أَنْ يُنَاوِلُوهُ سَوْطَهُ، فَأَبَوْا، فَسَأَلَهُمْ رُمْحَهُ فَأَبَوْا، فَأَخَذَهُ، ثُمَّ شَدَّ عَلَى الحِمَارِ، فَقَتَلَهُ، فَأَكَلَ مِنْهُ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبَى بَعْضٌ، فَلَمَّا أَدْرَكُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ، قَالَ: «إِنَّمَا هِيَ طُعْمَةٌ أَطْعَمَكُمُوهَا اللَّهُ» ، وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: فِي الحِمَارِ الوَحْشِيِّ، مِثْلُ حَدِيثِ أَبِي النَّضْرِ قَالَ: هَلْ مَعَكُمْ مِنْ لَحْمِهِ شَيْءٌ؟
হাদীস নং: ২৭১৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩০. নবী (ﷺ)-এর বর্ম এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কিত। নবী (ﷺ) বলেন, খালিদ (ইবনে ওয়ালীদ) তো তার বর্মগুলো আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) ওয়াক্‌ফ করে দিয়েছে
২৭১৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বদরের দিন একটি গুম্বুজরাজি তাঁবুতে অবস্থান কালে দু‘আ করছিলেন, ‘ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না’। এ সময় আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বার বার মিনতির সঙ্গে আপনার রবের কাছে দু‘আ করেছেন’। সে সময় নবী (ﷺ) বর্ম পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে করতে বেরিয়ে এলেনঃ শীঘ্রই দুশমনরা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে অধিকন্তু কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর। (৫৪ঃ ৪৫, ৪৬) ওহাইব (রাহঃ) বলেন, খালিদ (রাহঃ) বলেছেন, ‘বদরের দিন’।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا قِيلَ فِي دِرْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالقَمِيصِ فِي الحَرْبِ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَّا خَالِدٌ فَقَدْ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
2915 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي قُبَّةٍ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ، اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ لَمْ تُعْبَدْ بَعْدَ اليَوْمِ» فَأَخَذَ أَبُو بَكْرٍ بِيَدِهِ، فَقَالَ: حَسْبُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَدْ أَلْحَحْتَ عَلَى رَبِّكَ وَهُوَ فِي الدِّرْعِ، فَخَرَجَ وَهُوَ يَقُولُ: {سَيُهْزَمُ الجَمْعُ، وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ، وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر: 46] ، وَقَالَ وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، يَوْمَ بَدْرٍ
হাদীস নং: ২৭১৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩০. নবী (ﷺ)-এর বর্ম এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কিত।
২৭১৫। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ)- এর ইন্‌তিকালের সময় তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা‘- এর বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক ছিল। মুআল্লা আব্দুল ওয়াহিদ (রাহঃ) সূত্রে আ‘মাশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ) তাঁর লৌহবর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর ইয়ালা (রাহঃ) আমাশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, বর্মটি ছিল লোহার।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا قِيلَ فِي دِرْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالقَمِيصِ فِي الحَرْبِ
2916 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: «تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ، بِثَلاَثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ» وَقَالَ يَعْلَى، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ: دِرْعٌ مِنْ حَدِيدٍ، وَقَالَ مُعَلًّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، وَقَالَ: رَهَنَهُ دِرْعًا مِنْ حَدِيدٍ
হাদীস নং: ২৭১৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩০. নবী (ﷺ)-এর বর্ম এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কিত।
২৭১৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, কৃপন ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যক্তির ন্যয়, যারা লৌহ বর্ম পরিহিত। বর্ম দু’টি এত আঁটসাঁট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার শরীরের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি তা তার পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উভয় হাত কণ্ঠের সাথে লেগে যায়। তারপর আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, তিনি নবী (ﷺ)- কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দু’টিকে প্রসারিত করতে চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا قِيلَ فِي دِرْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالقَمِيصِ فِي الحَرْبِ
2917 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَثَلُ البَخِيلِ وَالمُتَصَدِّقِ مَثَلُ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ، قَدِ اضْطَرَّتْ أَيْدِيَهُمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَكُلَّمَا هَمَّ المُتَصَدِّقُ بِصَدَقَتِهِ اتَّسَعَتْ عَلَيْهِ حَتَّى تُعَفِّيَ أَثَرَهُ، وَكُلَّمَا هَمَّ البَخِيلُ بِالصَّدَقَةِ انْقَبَضَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ إِلَى صَاحِبَتِهَا وَتَقَلَّصَتْ عَلَيْهِ، وَانْضَمَّتْ يَدَاهُ إِلَى تَرَاقِيهِ» ، فَسَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «فَيَجْتَهِدُ أَنْ يُوَسِّعَهَا فَلاَ تَتَّسِعُ»
হাদীস নং: ২৭১৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩১. সফর এবং যুদ্ধে জোব্বা পরিধান করা
২৭১৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন (প্রাকৃতিক) হাজত পূরণের জন্য গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এলে আমি তাঁর কাছে পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযু করেন। তাঁর পরিধানে ছিল শামী (সিরিয়া) জোব্বা। তিনি কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও মুখমণ্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি জামার আস্তিন গুটিয়ে দু’টি হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল খুবই আঁটসাঁট। তাই তিনি ভেতর দিক দিয়ে হাত বের করে উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মাসেহ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসেহ করলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْجُبَّةِ فِي السَّفَرِ وَالْحَرْبِ
2918 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي الضُّحَى مُسْلِمٍ هُوَ ابْنُ صُبَيْحٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي المُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، قَالَ: «انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:42] لِحَاجَتِهِ، ثُمَّ أَقْبَلَ، فَلَقِيتُهُ بِمَاءٍ، فَتَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَأْمِيَّةٌ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ، فَذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّيْهِ، فَكَانَا ضَيِّقَيْنِ، فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتُ، فَغَسَلَهُمَا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، وَعَلَى خُفَّيْهِ»
হাদীস নং: ২৭১৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩২. যুদ্ধে রেশমী কাপড় পরিধান করা
২৭১৮। আহমদ ইবনে মিকদাম (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) ও যুবাইর (রাযিঃ)- কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকার কারণে রেশমী জামা পরিধান করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرِيرِ فِي الْحَرْبِ
2919 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ المِقْدَامِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الحَارِثِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرِ فِي قَمِيصٍ مِنْ حَرِيرٍ، مِنْ حِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا»
হাদীস নং: ২৭১৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩২. যুদ্ধে রেশমী কাপড় পরিধান করা
২৭১৯। আবুল ওয়ালিদ ও মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুর রহমান ও যুবাইর (রাযিঃ) নবী (ﷺ)- এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদের রেশমী পোশাক পরিধানের অনুমতি দেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যুদ্ধে তাদের শরীরে তা দেখেছি।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرِيرِ فِي الْحَرْبِ
2920 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، ح حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرَ شَكَوَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَعْنِي القَمْلَ - فَأَرْخَصَ لَهُمَا فِي الحَرِيرِ، فَرَأَيْتُهُ عَلَيْهِمَا فِي غَزَاةٍ»
হাদীস নং: ২৭২০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩২. যুদ্ধে রেশমী কাপড় পরিধান করা
২৭২০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرِيرِ فِي الْحَرْبِ
2921 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، أَخْبَرَنِي قَتَادَةُ، أَنَّ أَنَسًا، حَدَّثَهُمْ قَالَ: «رَخَّصَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرِ بْنِ العَوَّامِ فِي حَرِيرٍ» ،
হাদীস নং: ২৭২১
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩২. যুদ্ধে রেশমী কাপড় পরিধান করা
২৭২১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, শরীরে চুলকানীর জন্য তাদের দু’জনকে (আব্দুর রহমান ও যুবায়র) রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দিয়েছিলেন বা দেয়া হয়েছিল।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرِيرِ فِي الْحَرْبِ
2922 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ: رَخَّصَ أَوْ رُخِّصَ لَهُمَا لِحِكَّةٍ بِهِمَا
হাদীস নং: ২৭২২
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৩. ছুরি সম্পর্কে বর্ণনা
২৭২২। আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে উমাইয়া যামরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)- কে (বকরীর) বাহু থেকে কেটে কেটে খেতে দেখেছি। তারপর তাঁকে নামাযের জন্য ডাকা হলে তিনি নামায আদায় করলেন; কিন্তু তিনি উযু করেন নি। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) শুয়াইব সূত্রে যুহরী (রাহঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) ছুরি রেখে দিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُذْكَرُ فِي السِّكِّينِ
2923 - حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ مِنْ كَتِفٍ يَحْتَزُّ مِنْهَا، ثُمَّ دُعِيَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ» ، حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَزَادَ فَأَلْقَى السِّكِّينَ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭২৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৪. রোমকদের সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে
২৭২৩। ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ দিমাশকী (রাহঃ) .... উমাইর ইবনে আসওয়াদ আনসী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ)- এর কাছে আসলেন। তখন উবাদা (রাযিঃ) হিমস উপকুলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মে হারাম। উমাইর (রাহঃ) বলেন, উম্মে হারাম (রাযিঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অনিবার্য করে ফেলল। উম্মে হারাম (রাযিঃ) বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবো? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মে হারাম (রাযিঃ) বলেন, তারপর নবী (ﷺ) বললেন, আমার উম্মতের প্রথম যে দলটি কায়সার (রোমক সম্রাট) এর রাজধানী আক্রমণ করবে, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। তারপর আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি তাদের মধ্যে হবো? নবী (ﷺ) বললেন, ‘না’।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا قِيلَ فِي قِتَالِ الرُّومِ
2924 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، أَنَّ عُمَيْرَ بْنَ الأَسْوَدِ العَنْسِيَّ، حَدَّثَهُ - أَنَّهُ أَتَى عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ وَهُوَ نَازِلٌ فِي سَاحَةِ حِمْصَ وَهُوَ فِي بِنَاءٍ لَهُ، وَمَعَهُ أُمُّ حَرَامٍ - قَالَ: عُمَيْرٌ، فَحَدَّثَتْنَا أُمُّ حَرَامٍ: أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «أَوَّلُ جَيْشٍ مِنْ أُمَّتِي يَغْزُونَ البَحْرَ قَدْ أَوْجَبُوا» ، قَالَتْ أُمُّ حَرَامٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا فِيهِمْ؟ قَالَ: «أَنْتِ فِيهِمْ» ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَّلُ جَيْشٍ مِنْ أُمَّتِي يَغْزُونَ مَدِينَةَ قَيْصَرَ مَغْفُورٌ لَهُمْ» ، فَقُلْتُ: أَنَا فِيهِمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لاَ»
হাদীস নং: ২৭২৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৫. ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
২৭২৪। ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ ফারবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে তাহলে পাথরও বলবে, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর’।
كتاب الجهاد والسير
باب قِتَالِ الْيَهُودِ
2925 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " تُقَاتِلُونَ اليَهُودَ، حَتَّى يَخْتَبِيَ أَحَدُهُمْ وَرَاءَ الحَجَرِ، فَيَقُولُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي، فَاقْتُلْهُ "
হাদীস নং: ২৭২৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৫. ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
২৭২৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি কোন ইয়াহুদী পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে থাকলে,পাথর বলবে ‘হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর’।
كتاب الجهاد والسير
باب قِتَالِ الْيَهُودِ
2926 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ القَعْقَاعِ [ص:43]، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا اليَهُودَ، حَتَّى يَقُولَ الحَجَرُ وَرَاءَهُ اليَهُودِيُّ: يَا مُسْلِمُ، هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي فَاقْتُلْهُ "
হাদীস নং: ২৭২৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৬. তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
২৭২৬। আবু নুমান (রাহঃ) .... আমর ইবনে তাগলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন কিয়ামতের আলামত সমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মূখ হবে চওড়া, যেন তাদের মুখমণ্ডল পিটানো চামড়ার ঢাল।
كتاب الجهاد والسير
باب قِتَالِ التُّرْكِ
2927 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الحَسَنَ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُونَ نِعَالَ الشَّعَرِ، وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا عِرَاضَ الوُجُوهِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُّ المُطْرَقَةُ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭২৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৬. তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
২৭২৭। সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।
كتاب الجهاد والسير
باب قِتَالِ التُّرْكِ
2928 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التُّرْكَ، صِغَارَ الأَعْيُنِ، حُمْرَ الوُجُوهِ، ذُلْفَ الأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُّ المُطْرَقَةُ، وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ»
হাদীস নং: ২৭২৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৯২৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৭. পশমের জুতা পরিধানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
২৭২৮। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, আ‘রাজ সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে আবুয যিনাদ এই রেওয়ায়াতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চেপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো ঢালের ন্যায়।
كتاب الجهاد والسير
باب قِتَالِ الَّذِينَ يَنْتَعِلُونَ الشَّعَرَ
2929 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ، وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُّ المُطْرَقَةُ» ، قَالَ سُفْيَانُ وَزَادَ فِيهِ أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رِوَايَةً: «صِغَارَ الأَعْيُنِ، ذُلْفَ الأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمْ، المَجَانُّ المُطْرَقَةُ»
হাদীস নং: ২৭২৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৩০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৮. পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সাওয়ারী থেকে অবতরণ করা ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা
২৭২৯। আমর ইবনে খালিদ আল হাররানী (রাহঃ) .... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবু উমারা! হুনায়নের যুদ্ধে আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পলায়ন করেন নি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার বিহীন অবস্থায় অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বনু হাওয়াযিন ও বনু নসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয় নি। সেখান থেকে তারা নবী (ﷺ)- এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন। নবী (ﷺ) তখন তাঁর শ্বেত খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি আব্দুল মুত্তালিবের পৌত্র। এরপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ صَفَّ أَصْحَابَهُ عِنْدَ الْهَزِيمَةِ وَنَزَلَ عَنْ دَابَّتِهِ، وَاسْتَنْصَرَ
2930 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ الحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ البَرَاءَ، وَسَأَلَهُ رَجُلٌ أَكُنْتُمْ فَرَرْتُمْ يَا أَبَا عُمَارَةَ يَوْمَ حُنَيْنٍ؟ قَالَ: لاَ وَاللَّهِ، مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنَّهُ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ، وَأَخِفَّاؤُهُمْ حُسَّرًا لَيْسَ بِسِلاَحٍ، فَأَتَوْا قَوْمًا رُمَاةً، جَمْعَ هَوَازِنَ، وَبَنِي نَصْرٍ، مَا يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ، فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ، فَأَقْبَلُوا هُنَالِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ البَيْضَاءِ، وَابْنُ عَمِّهِ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ الحَارِثِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ يَقُودُ بِهِ، فَنَزَلَ وَاسْتَنْصَرَ، ثُمَّ قَالَ: «أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ المُطَّلِبْ» ، ثُمَّ صَفَّ أَصْحَابَهُ
হাদীস নং: ২৭৩০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৩১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩৯. মুশরিকদের পরাজয় ও পর্যুদস্ত করার দু‘আ
২৭৩০। ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু‘আ করেন, ‘আল্লাহ্ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা আসরের নামায থেকে আমাদের ব্যতিব্যস্ত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।’
كتاب الجهاد والسير
باب الدُّعَاءِ عَلَى الْمُشْرِكِينَ بِالْهَزِيمَةِ وَالزَّلْزَلَةِ
2931 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ الأَحْزَابِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَلَأَ اللَّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا، شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ [ص:44] الوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ»