আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

الجامع الصحيح للبخاري

৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৭৩ টি

হাদীস নং: ২৮৫১
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৬৭ - ৩০৬৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯২৮. যদি মুশরিকরা মুসলমানের মাল লুট করে নেয়, তারপর মুসলমানগণ (বিজয় লাভের) মাধ্যমে তা প্রাপ্ত হয়। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তাঁর একটি ঘোড়া ছুটে গেলে শত্রু তা আটক করে। এরপর মুসলমানগণ তাদের উপর বিজয় অর্জন করেন। তখন সে ঘোড়াটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর আমলেই তাকে ফেরত দেওয়া হয়। আর তাঁর একটি গোলাম পলায়ন করে রোমের কাফিরদের সাথে মিলিত হয়। এরপর মুসলমানগণ তাদের উপর বিজয় লাভ করেন। তখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর যুগের পর তা তাঁকে ফেরত দিয়ে দেন।
২৮৫১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাযিঃ)- এর একটি গোলাম পলায়ন করে রোমের মুশরিকদের সাথে মিলিত হয়। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাযিঃ) রোম জয় করেন। তখন সে গোলামটি আব্দুল্লাহ (ইবনে উমর) (রাযিঃ)- কে ফেরত দিয়ে দেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)- এর একটি ঘোড়া ছুটে গিয়ে রোমে পৌঁছে যায়। এরপর উক্ত এলাকা মুসলমানদের করতলগত হলে তারা ঘোড়াটি ইবনে উমর (রাযিঃ)- কে ফেরত দিয়ে দেন। আবু আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন,عَارَ শব্দটিعيْر থেকে উদগত। আর তা হল বন্য গাধা।عَارَ এর অর্থهَرَبَ অর্থাৎ পলায়ন করেছে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِذَا غَنِمَ المُشْرِكُونَ مَالَ المُسْلِمِ ثُمَّ وَجَدَهُ المُسْلِمُ قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: ذَهَبَ فَرَسٌ لَهُ، فَأَخَذَهُ العَدُوُّ، فَظَهَرَ عَلَيْهِ المُسْلِمُونَ، فَرُدَّ عَلَيْهِ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبَقَ عَبْدٌ لَهُ فَلَحِقَ بِالرُّومِ، فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ المُسْلِمُونَ، فَرَدَّهُ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
3068 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، «أَنَّ عَبْدًا لِابْنِ عُمَرَ أَبَقَ فَلَحِقَ بِالرُّومِ، فَظَهَرَ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ، فَرَدَّهُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ، وَأَنَّ فَرَسًا لِابْنِ عُمَرَ عَارَ فَلَحِقَ بِالرُّومِ، فَظَهَرَ عَلَيْهِ، فَرَدُّوهُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ» ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «عَارَ مُشْتَقٌّ مِنَ العَيْرِ، وَهُوَ حِمَارُ وَحْشٍ أَيْ هَرَبَ»
হাদীস নং: ২৮৫২
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৬৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯২৮. যদি মুশরিকরা মুসলিমের মাল লুট করে নেয় তারপর মুসলিমগণ (বিজয় লাভের) মাধ্যমে তা প্রাপ্ত হয়।
২৮৫২। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একটি ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন, যখন মুসলমানগণ রোমীদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, সে সময় মুসলমানদের অধিনায়ক হিসাবে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ)- কে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) নিয়োগ করেছিলেন। সে সময় শত্রুরা তাঁর ঘোড়াটিকে নিয়ে যায়। এরপর যখন শত্রুদল পরাজিত হল তখন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) তাঁর ঘোড়াটি তাঁকে ফেরত দেন।
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا غَنِمَ الْمُشْرِكُونَ مَالَ الْمُسْلِمِ ثُمَّ وَجَدَهُ الْمُسْلِمُ
3069 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: «أَنَّهُ كَانَ عَلَى فَرَسٍ يَوْمَ لَقِيَ المُسْلِمُونَ، وَأَمِيرُ المُسْلِمِينَ يَوْمَئِذٍ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ بَعَثَهُ أَبُو بَكْرٍ، فَأَخَذَهُ العَدُوُّ فَلَمَّا هُزِمَ العَدُوُّ رَدَّ خَالِدٌ فَرَسَهُ»
হাদীস নং: ২৮৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯২৯. যে ব্যক্তি ফার্সী অথবা অন্য কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতার মধ্যে (৩০ঃ ২২) এবং তিনি আরো বলেছেনঃ আর আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি (১৪ঃ ৪)
২৮৫৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার একটি বকরী ছানা যবেহ করেছি এবং আমার স্ত্রী এক সা’ যবের আটা পাকিয়েছে। আপনি কয়েকজন সঙ্গীসহ আসুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন, হে আহলে খন্দক! জাবির তোমাদের জন্য খাবার আয়োজন করেছে, তাই তোমরা চল।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَنْ تَكَلَّمَ بِالفَارِسِيَّةِ وَالرَّطَانَةِ وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَاخْتِلاَفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ} [الروم: 22]، {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ} [إبراهيم: 4]
3070 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْنَا بُهَيْمَةً لَنَا، وَطَحَنْتُ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، فَتَعَالَ أَنْتَ وَنَفَرٌ، فَصَاحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «يَا أَهْلَ الخَنْدَقِ إِنَّ جَابِرًا قَدْ صَنَعَ سُؤْرًا، فَحَيَّ هَلًا بِكُمْ»
হাদীস নং: ২৮৫৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯২৯. যে ব্যক্তি ফার্সী অথবা অন্য কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে।
২৮৫৪। হিব্বান ইবনে মুসা (রাহঃ) .... উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে হলুদ বর্ণের জামা পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে আসলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সান্না-সান্না। (রাবী) আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় তা সুন্দর অর্থে ব্যবহৃত। উম্মে খালিদ (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি তাঁর মোহরে নবুয়্যতের স্থান নিয়ে কৌতুক করতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘ছোট মেয়ে তাকে করতে দাও।’ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, এ কাপড় পরিধান কর আর পুরানো কর, আবার পরিধান কর, পুরানো কর, আবার পরিধান কর,পুরানো কর। (অর্থাৎ দীর্ঘ দিন পরিধান কর)। আব্দুল্লাহ (ইবনে মুবারক) (রাহঃ) বলেন, উম্মে খালিদ (রাযিঃ) এতদিন জীবিত থাকেন যে, তাঁর আলোচনা চলতে থাকে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَنْ تَكَلَّمَ بِالفَارِسِيَّةِ وَالرَّطَانَةِ
3071 - حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ خَالِدٍ بِنْتِ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَتْ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أَبِي وَعَلَيَّ قَمِيصٌ أَصْفَرُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَنَهْ سَنَهْ» - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَهِيَ بِالحَبَشِيَّةِ حَسَنَةٌ -، قَالَتْ: فَذَهَبْتُ أَلْعَبُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ، فَزَبَرَنِي أَبِي، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهَا» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْلِي وَأَخْلِفِي ثُمَّ، أَبْلِي وَأَخْلِفِي، ثُمَّ أَبْلِي وَأَخْلِفِي» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَبَقِيَتْ حَتَّى ذَكَرَ
হাদীস নং: ২৮৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯২৯. যে ব্যক্তি ফার্সী অথবা অন্য কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে।
২৮৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) সাদ্‌কার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে তা তাঁর মুখে রাখেন। তখন নবী (ﷺ) কাখ্-কাখ্ (ফেলে দাও, ফেলে দাও) বললেন, তুমি কি জানো না যে, আমরা (বনু হাশিম) সাদ্‌কা খাই না। ইকরিমা (রাহঃ) বলেন, সান্নাহ হাবশী ভাষায় সুন্দর অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবূ আবদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, উম্মে খালিদের মত কোন মহিলা এত দীর্ঘজীবী হয়নি।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَنْ تَكَلَّمَ بِالفَارِسِيَّةِ وَالرَّطَانَةِ
3072 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ الحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخَذَ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ، فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالفَارِسِيَّةِ: «كِخْ كِخْ، أَمَا تَعْرِفُ أَنَّا لاَ نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ قَالَ عِكْرَمَةُ سَنَه الْحَسَنَةُ بِالحَبْشَةِ قَالَ أَبُو عَبْدُ اللَّهِ لَمُ تَعِش اِمْرَأَةً مَثل مَا عَاشَت هَذِهِ يَعْنِى أُمَّ خَالِدٍ»
হাদীস নং: ২৮৫৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩০. গনীমতের মাল আত্মসাৎ করা। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর যে ব্যক্তি গনীমতের মাল আত্মসাৎ করে, সে কিয়ামতের দিন সেই মালসহ উপস্থিত হবে। (৩ঃ ১৬১)
২৮৫৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং গনীমতের মাল আত্মসাত প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। আর তিনি তা মারাত্মক অপরাধ হওয়া ও তার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এ অবস্থায় কিয়ামতের দিন না পাই যে, তার কাঁধে বকরী বয়ে বেড়াচ্ছে আর তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে চিৎকার দিচ্ছে। অথবা তাঁর কাঁধে রয়েছে ঘোড়া আর তা হি হি করে আওয়াজ দিচ্ছে। ঐ ব্যক্তি আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে উট যা চিৎকার করছে, সে আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একটু সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি
অথবা কেউ তাঁর কাঁধে বয়ে বেড়াবে ধন-দৌলত এবং আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন, আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তাঁর কাঁধে বয়ে বেড়াবে কাপড়ের টুকরাসমূহ যা দুলতে থাকবে। সে আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না; আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ الْغُلُولِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يوم القيامة
3073 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَامَ فِينَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَ الغُلُولَ فَعَظَّمَهُ وَعَظَّمَ أَمْرَهُ، قَالَ: " لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ شَاةٌ لَهَا ثُغَاءٌ، عَلَى رَقَبَتِهِ فَرَسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ، يَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي، فَأَقُولُ: لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا، قَدْ أَبْلَغْتُكَ، وَعَلَى رَقَبَتِهِ بَعِيرٌ لَهُ رُغَاءٌ، يَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي، فَأَقُولُ: لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ، وَعَلَى رَقَبَتِهِ صَامِتٌ، فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي، فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ، أَوْ عَلَى رَقَبَتِهِ رِقَاعٌ تَخْفِقُ، فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي، فَأَقُولُ: لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا، قَدْ أَبْلَغْتُكَ " وَقَالَ أَيُّوبُ: عَنْ أَبِي حَيَّانَ: فَرَسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ
হাদীস নং: ২৮৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩১. গনীমতের সামান্য পরিমাণ মাল আত্মসাৎ করা। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ বর্ণনায় তিনি আত্মসাৎকারীর মালপত্র জ্বালিয়ে দিয়েছেন" কথাটি উল্লেখ করেন নি। আর এটাই বিশুদ্ধ।
২৮৫৭। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর পাহারা দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল। তাকে কারকারা নামে ডাকা হত। সে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে জাহান্নামী! লোকেরা তার অবস্থা দেখতে গেল তারা একটি আবা পেল যা সে আত্মসাত করেছিল। আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, ইবনে সালাম (রাহঃ) বলেছেন, কারকারা।
كتاب الجهاد والسير
باب الْقَلِيلِ مِنَ الْغُلُولِ وَلَمْ يَذْكُرْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ حَرَّقَ مَتَاعَهُ، وَهَذَا أَصَحُّ
3074 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الجَعْدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ، فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ فِي النَّارِ» ، فَذَهَبُوا [ص:75] يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " قَالَ ابْنُ سَلاَمٍ: كَرْكَرَةُ يَعْنِي بِفَتْحِ الكَافِ: وَهُوَ مَضْبُوطٌ كَذَا "
হাদীস নং: ২৮৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩২. গনীমতের উট ও বকরী (বন্টনের পূর্বে) যবেহ করা মাকরুহ
২৮৫৮। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... রাফী ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)- এর সাথে যুল- হুলাইফায় অবস্থান করছিলাম।লোকেরা ক্ষুধার্ত হয়েছিল। আর আমরা গনীমত স্বরূপ কিছু উট ও বকরী লাভ করেছিলাম। তখন নবী (ﷺ) লোকদের পিছন সারিতে ছিলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি করে (জন্তু যবেহ করে) ডেগ চড়িয়ে দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডেগগুলো (উপুড় করে ফেলার) নির্দেশ দিলেন এবং উপুড় করে ফেলে দেওয়া হল। এরপর তিনি দশটি বকরীকে একটি উটের সমান ধরে তা বণ্টন করে দিলেন। তার মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে গেল। লোকদের নিকট ঘোড়া কম ছিল। তারা তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে গেল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল।
এরপর এক ব্যক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করল, আল্লাহ তাআলা তার গতিরোধ করে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘এ সকল গৃহ পালিত জন্তুর মধ্যেও কতক বন্য জন্তুর মত অবাধ্য হয়ে যায়। সুতরাং যা তোমাদের নিকট হতে পলায়ন করে তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করবে।’ রাবী বলেন, আমার দাদা রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা আশা করি কিংবা বলেছেন আশঙ্কা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখী হব। আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং (যার যবেহকালে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে (বিসমিল্লাহ পাঠ করা হয়েছে) তা আহার কর। কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছিঃ তা এই যে, দাঁত হল হাঁড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।’
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُكْرَهُ مِنْ ذَبْحِ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ فِي الْمَغَانِمِ
3075 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ جَدِّهِ رَافِعٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذِي الحُلَيْفَةِ، فَأَصَابَ النَّاسَ جُوعٌ، وَأَصَبْنَا إِبِلًا وَغَنَمًا، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُخْرَيَاتِ النَّاسِ، فَعَجِلُوا فَنَصَبُوا القُدُورَ، فَأَمَرَ بِالقُدُورِ، فَأُكْفِئَتْ، ثُمَّ قَسَمَ، فَعَدَلَ عَشَرَةً مِنَ الغَنَمِ بِبَعِيرٍ، فَنَدَّ مِنْهَا بَعِيرٌ، وَفِي القَوْمِ خَيْلٌ يَسِيرَةٌ، فَطَلَبُوهُ فَأَعْيَاهُمْ، فَأَهْوَى إِلَيْهِ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ اللَّهُ، فَقَالَ: «هَذِهِ البَهَائِمُ لَهَا أَوَابِدُ كَأَوَابِدِ الوَحْشِ، فَمَا نَدَّ عَلَيْكُمْ، فَاصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا» . فَقَالَ جَدِّي: إِنَّا نَرْجُو، أَوْ نَخَافُ أَنْ نَلْقَى العَدُوَّ غَدًا، وَلَيْسَ مَعَنَا مُدًى، أَفَنَذْبَحُ بِالقَصَبِ؟ فَقَالَ: " مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلْ، لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ، وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذَلِكَ: أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ، وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الحَبَشَةِ "
হাদীস নং: ২৮৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৩. বিজয়ের সুসংবাদ দান করা
২৮৫৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, ‘তুমি কি যুলখালাসা মন্দিরটিকে ধ্বংস করে আমাকে সান্ত্বনা দিবে না? এ ঘরটি খাসআম গোত্রের একটি মন্দির ছিল। যাকে ইয়ামানের কা‘বা বলা হত। এরপর আমি আহমাস গোত্রের দেড়‘শ লোক নিয়ে রওয়ানা হলাম। তাঁরা সবাই নিপুণ অশ্বারোহী ছিলেন। আমি নবী (ﷺ)- কে জানালাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। এমনকি আমি আমার বুকে তার আঙ্গুলির ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য দু‘আ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখ এবং তাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।’
অবশেষে জারীর (রাযিঃ) তথায় গমন করলেন। ঐ মন্দিরিটি ভেঙ্গে দিলেন ও জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর নবী (ﷺ)- কে সুসংবাদ প্রদানের জন্য দূত প্রেরণ করলেন। জারীর (রাযিঃ)- এর দূত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বললেন, যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, সে সত্তার কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিকট আসিনি, যতক্ষণ না আমি তাকে জ্বালিয়ে কাল উটের ন্যায় করে ছেড়েছি। (অর্থাৎ তা জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছি)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক লোকদেল জন্য পাঁচবার বরকতের দু‘আ করলেন। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বলেন, হাদীসে উল্লেখিত যুলখালাসা অর্থ খাসআম গোত্রের একটি ঘর।
كتاب الجهاد والسير
باب الْبِشَارَةِ فِي الْفُتُوحِ
3076 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَيْسٌ، قَالَ: قَالَ لِي جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الخَلَصَةِ» ، وَكَانَ بَيْتًا فِيهِ خَثْعَمُ، يُسَمَّى كَعْبَةَ اليَمَانِيَةِ، فَانْطَلَقْتُ فِي خَمْسِينَ وَمِائَةٍ مِنْ أَحْمَسَ، وَكَانُوا أَصْحَابَ خَيْلٍ، فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الخَيْلِ، فَضَرَبَ فِي صَدْرِي حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ أَصَابِعِهِ فِي صَدْرِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ، وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا» ، فَانْطَلَقَ إِلَيْهَا، فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَهَا، فَأَرْسَلَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَشِّرُهُ، فَقَالَ رَسُولُ جَرِيرٍ لِرَسُولِ اللَّهِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ، مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْتُهَا كَأَنَّهَا جَمَلٌ أَجْرَبُ، فَبَارَكَ عَلَى خَيْلِ أَحْمَسَ وَرِجَالِهَا خَمْسَ مَرَّاتٍ، قَالَ مُسَدَّدٌ: بَيْتٌ فِي خَثْعَمَ
হাদীস নং: ২৮৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৪. পরিচ্ছেদঃ সুসংবাদদাতাকে পুরস্কৃত করা। কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে যখন তাওবা কবুলের সুসংবাদ দান করা হয়, তখন তিনি সংবাদদাতাকে পুরস্কার স্বরূপ দু’খানা কাপড় দান করেন।
২৮৬০। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, ‘মক্কা বিজয়ের পর থেকে (মক্কা থেকে) হিজরতের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জিহাদ ও নেক কাজের নিয়ত অবশিষ্ট রয়েছে আর যখন তোমাদের জিহাদের আহবান জানানো হবে তোমরা বেরিয়ে পড়বে।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا يُعْطَى البَشِيرُ وَأَعْطَى كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ ثَوْبَيْنِ حِينَ بُشِّرَ بِالتَّوْبَةِ
بَابُ لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الفَتْحِ
3077 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «لاَ هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ، وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا»
হাদীস নং: ২৮৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৭৮ - ৩০৭৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৫. (মক্কা) বিজয়ের পর হিজরতের প্রয়োজন নেই
২৮৬১। ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... মুজাশি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুজাশি তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)- কে নিয়ে নবী (ﷺ)- এর কাছে এসে বললেন, ‘এ মুজালিদ আপনার কাছে হিজরত করার জন্য বাইয়াত করতে চায়। ‘তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরতের প্রয়োজন নেই। কাজেই আমি তার কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে বায়আত নিচ্ছি।’
كتاب الجهاد والسير
باب لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ مُجَاشِعِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ جَاءَ مُجَاشِعٌ بِأَخِيهِ مُجَالِدِ بْنِ مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَذَا مُجَالِدٌ يُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ. فَقَالَ " لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ فَتْحِ مَكَّةَ، وَلَكِنْ أُبَايِعُهُ عَلَى الإِسْلاَمِ ".
হাদীস নং: ২৮৬২
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৫. (মক্কা) বিজয়ের পর হিজরতের প্রয়োজন নেই
২৮৬২। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমাইর (রাযিঃ) সহ আয়িশা (রাযিঃ)- এর নিকট গমন করি। তখন তিনি ছাবীর পাহাড়ের উপর অবস্থান করছিলেন। তিনি আমাদের বললেন, ‘যখন থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (ﷺ)- কে মক্কা বিজয় দান করেছেন, তখন হিজরত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’
كتاب الجهاد والسير
باب لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ
3080 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَمْرٌو: وَابْنُ جُرَيْجٍ: سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ: ذَهَبْتُ مَعَ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ إِلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - وَهِيَ مُجَاوِرَةٌ بِثَبِيرٍ - فَقَالَتْ لَنَا: «انْقَطَعَتِ الهِجْرَةُ مُنْذُ فَتَحَ اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ»
হাদীস নং: ২৮৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৬. প্রয়োজনবোধে জিম্মী অথবা মুসলিম মহিলার চুল দেখা এবং তাদের বিবস্ত্র করা,যখন তারা আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করে
২৮৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাওশাব তায়িফী (রাহঃ) .... আবু আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, আর তিনি ছিলেন উসমান (রাযিঃ)- এর সমর্থক। তিনি ইবনে আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি আলী (রাযিঃ) এর সমর্থক ছিলেন, কোন বস্তু তোমাদের সাথী (আলী রাযিঃ)- কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি। আমি তাঁর কাছে শুনেছি, তিনি বলতেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং যুবাইর (ইবনে আওয়াম) (রাযিঃ)- কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগান অভিমুখে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছে।’ আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও, সে বলল, (হাতিব) আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, ‘হয় তুমি পত্র বের করে দাও, নচেৎ আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করব।’ তখন সে মহিলা তার কেশের ভাঁজ থেকে পত্রখানা বের করে দিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাদের পত্রসহ প্রত্যাবর্তনের পর) হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, ‘আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহর কসম! আমি কোন কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউ এমন নেই, মক্কায় যার সাহায্যকারী আত্মীয়-স্বজন না আছে। যদ্বারা আল্লাহ তাআলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই। তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। (যার বিনিময়ে তারা আমার মাল-আওলাদ হিফাজত করবে।)’
তখন নবী (ﷺ) তাকে সত্যবাদীরূপে স্বীকার করে নিলেন। উমর (রাযিঃ) বললেন, ‘লোকটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তুমি জানো কি? অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আহলে বদর সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত রয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যেমন ইচ্ছা আমল কর।’ একথাই তাঁকে (আলী রাযিঃ) দুঃসাহসী করেছে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِذَا اضْطَرَّ الرَّجُلُ إِلَى النَّظَرِ فِي شُعُورِ أَهْلِ الذِّمَّةِ وَالْمُؤْمِنَاتِ إِذَا عَصَيْنَ اللَّهَ وَتَجْرِيدِهِنَّ
3081 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوْشَبٍ الطَّائِفِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - وَكَانَ عُثْمَانِيًّا فَقَالَ لِابْنِ عَطِيَّةَ: وَكَانَ عَلَوِيًّا - إِنِّي لَأَعْلَمُ مَا الَّذِي جَرَّأَ صَاحِبَكَ عَلَى الدِّمَاءِ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالزُّبَيْرَ، فَقَالَ: «ائْتُوا رَوْضَةَ كَذَا، وَتَجِدُونَ بِهَا امْرَأَةً، أَعْطَاهَا حَاطِبٌ كِتَابًا» ، فَأَتَيْنَا الرَّوْضَةَ: فَقُلْنَا: الكِتَابَ، قَالَتْ: لَمْ يُعْطِنِي، فَقُلْنَا: لَتُخْرِجِنَّ أَوْ لَأُجَرِّدَنَّكِ، فَأَخْرَجَتْ مِنْ حُجْزَتِهَا، فَأَرْسَلَ إِلَى حَاطِبٍ، فَقَالَ: لاَ تَعْجَلْ، وَاللَّهِ مَا كَفَرْتُ وَلاَ ازْدَدْتُ لِلْإِسْلاَمِ إِلَّا حُبًّا، وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِكَ إِلَّا وَلَهُ بِمَكَّةَ مَنْ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِ عَنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ، وَلَمْ يَكُنْ لِي أَحَدٌ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَتَّخِذَ عِنْدَهُمْ يَدًا، فَصَدَّقَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ عُمَرُ: دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ فَإِنَّهُ قَدْ نَافَقَ، فَقَالَ: " مَا يُدْرِيكَ، لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ "، فَهَذَا الَّذِي جَرَّأَهُ
হাদীস নং: ২৮৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৭. বিজয়ী যোদ্ধাগণকে অভ্যর্থনা জানানো
২৮৬৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) .... ইবনে আবু মূলাইকা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে যুবাইর (রাযিঃ), ইবনে জাফর (রাযিঃ)- কে বললেন, তোমার কি স্মরণ আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) রাসূল (ﷺ)- এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনে জাফর (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসেন।
كتاب الجهاد والسير
باب اسْتِقْبَالِ الْغُزَاةِ
3082 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: ابْنُ الزُّبَيْرِ لِابْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، أَتَذْكُرُ إِذْ تَلَقَّيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَأَنْتَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: «نَعَمْ فَحَمَلَنَا وَتَرَكَكَ»
হাদীস নং: ২৮৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৭. বিজয়ী যোদ্ধাগণকে অভ্যর্থনা জানানো
২৮৬৫। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমরাও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
كتاب الجهاد والسير
باب اسْتِقْبَالِ الْغُزَاةِ
3083 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «ذَهَبْنَا نَتَلَقَّى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ الصِّبْيَانِ إِلَى ثَنِيَّةِ الوَدَاعِ»
হাদীস নং: ২৮৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৮. জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যা বলবে
২৮৬৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন নবী (ﷺ) জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন। এরপর বলতেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, তাঁরই ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালককে সিজদাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর অঙ্গিকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাস্ত করেছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يَقُولُ إِذَا رَجَعَ مِنَ الْغَزْوِ
3084 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " كَانَ إِذَا قَفَلَ كَبَّرَ ثَلاَثًا، قَالَ: «آيِبُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَائِبُونَ، عَابِدُونَ حَامِدُونَ، لِرَبِّنَا سَاجِدُونَ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ»
হাদীস নং: ২৮৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৮. জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যা বলবে
২৮৬৭। আবু মামার (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসফান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাযিঃ)- কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবু তালহা (রাযিঃ) দ্রুত ছুটে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আগে মহিলার খোজ নাও। আবু তালহা (রাযিঃ) তখন একখানা কাপড় দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং উক্ত কাপড়খানি দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। এরপর তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়ে আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আ পড়লেন,آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদাতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يَقُولُ إِذَا رَجَعَ مِنَ الْغَزْوِ
3085 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْفَلَهُ مِنْ عُسْفَانَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلّى الله [ص:77] عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ، وَقَدْ أَرْدَفَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ، فَعَثَرَتْ نَاقَتُهُ، فَصُرِعَا جَمِيعًا، فَاقْتَحَمَ أَبُو طَلْحَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ، قَالَ: «عَلَيْكَ المَرْأَةَ» ، فَقَلَبَ ثَوْبًا عَلَى وَجْهِهِ، وَأَتَاهَا، فَأَلْقَاهُ عَلَيْهَا، وَأَصْلَحَ لَهُمَا مَرْكَبَهُمَا، فَرَكِبَا وَاكْتَنَفْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَشْرَفْنَا عَلَى المَدِينَةِ قَالَ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ» فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ حَتَّى دَخَلَ المَدِينَةَ
হাদীস নং: ২৮৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৮. জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যা বলবে
২৮৬৮। আলী (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ও আবু তালহা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে চলছিলেন। আর নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে সাফিয়্যা (রাযিঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলিয়ে গেল। এতে নবী (ﷺ) ও সাফিয়্যা (রাযিঃ) ছিটকে পড়ে গেলেন। আর আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁর উট থেকে তাড়াতাড়ি নেমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া নবী আল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও।’
আবু তালহা (রাযিঃ) একখানা কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর কাছে গেলেন আর সেই কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যা (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীটি উত্তমরূপে বাঁধলেন। আর তাঁরা উভয়ে (তার উপর) আরোহণ করে চলতে শুরু করলেন। অবশেষে তাঁরা যখন মদীনার উপকন্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী (ﷺ) এ দু‘আ পড়লেন, ‘আমরা প্রত্যাবর্তকারী, তাওবাকারী, ইবাদাতকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।’ আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يَقُولُ إِذَا رَجَعَ مِنَ الْغَزْوِ
3086 - حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ المُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ أَقْبَلَ هُوَ وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفِيَّةُ مُرْدِفَهَا عَلَى رَاحِلَتِهِ، فَلَمَّا كَانُوا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَثَرَتِ النَّاقَةُ، فَصُرِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالمَرْأَةُ، وَإِنَّ أَبَا طَلْحَةَ - قَالَ: أَحْسِبُ قَالَ: - اقْتَحَمَ عَنْ بَعِيرِهِ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ هَلْ أَصَابَكَ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالَ: «لاَ، وَلَكِنْ عَلَيْكَ بِالْمَرْأَةِ» ، فَأَلْقَى أَبُو طَلْحَةَ ثَوْبَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَقَصَدَ قَصْدَهَا، فَأَلْقَى ثَوْبَهُ عَلَيْهَا، فَقَامَتِ المَرْأَةُ، فَشَدَّ لَهُمَا عَلَى رَاحِلَتِهِمَا فَرَكِبَا، فَسَارُوا حَتَّى إِذَا كَانُوا بِظَهْرِ المَدِينَةِ - أَوْ قَالَ أَشْرَفُوا عَلَى المَدِينَةِ - قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ» ، فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُهَا حَتَّى دَخَلَ المَدِينَةَ
হাদীস নং: ২৮৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৯. সফর থেকে পত্যাবর্তনের পর নামায আদায় করা
২৮৬৯। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন মদীনায় পৌঁছলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘(হে জাবির!) মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু‘রাকআত নামায আদায় কর।’
كتاب الجهاد والسير
باب الصَّلاَةِ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ
3087 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَلَمَّا قَدِمْنَا المَدِينَةَ قَالَ لِي: «ادْخُلِ المَسْجِدَ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ»
হাদীস নং: ২৮৭০
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩৯. সফর থেকে পত্যাবর্তনের পর নামায আদায় করা
২৮৭০। আবু আসিম (রাহঃ) .... কা‘ব (ইবনে মালিক) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন চাশতের সময় সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الصَّلاَةِ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ
3088 - حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَمِّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ، ضُحًى دَخَلَ المَسْجِدَ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ»