আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
الجامع الصحيح للبخاري
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৭৩ টি
হাদীস নং: ২৭৭১
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৭৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৪. যুদ্ধে পাথেয় বহন করা। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা কর। আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। (২ঃ ১৯৭)
২৭৭১। উবাইদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর (রাযিঃ)- এর গৃহে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর পাথেয় গুছিয়ে দিয়েছিলাম, যখন তিনি মদীনায় হিজরত করার সংকল্প করেছিলেন। আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন মালপত্র কিংবা পানির মশক বাঁধার জন্য কিছুই পাচ্ছিলাম না। তখন আবু বকর (রাযিঃ)- কে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি আমার কোমর বন্ধনী ব্যতীত বাঁধার কিছুই পাচ্ছি না। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, একে দ্বিখণ্ডিত কর। এক খণ্ড দ্বারা মশক এবং অপর খণ্ড দ্বারা মালপত্র বেঁধে দাও। আমি তাই করলাম। এজন্যই আমাকে বলা হত দু’ কোমর বন্ধনীর অধিকারীণী।
كتاب الجهاد والسير
باب حَمْلِ الزَّادِ فِي الْغَزْوِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى
2979 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، وَحَدَّثَتْنِي أَيْضًا فَاطِمَةُ، عَنْ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: صَنَعْتُ سُفْرَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ، حِينَ أَرَادَ أَنْ يُهَاجِرَ إِلَى المَدِينَةِ، قَالَتْ: فَلَمْ نَجِدْ لِسُفْرَتِهِ، وَلاَ لِسِقَائِهِ مَا نَرْبِطُهُمَا بِهِ، فَقُلْتُ لِأَبِي بَكْرٍ: «وَاللَّهِ مَا أَجِدُ شَيْئًا أَرْبِطُ بِهِ إِلَّا نِطَاقِي» ، قَالَ: فَشُقِّيهِ بِاثْنَيْنِ، فَارْبِطِيهِ: بِوَاحِدٍ السِّقَاءَ، وَبِالْآخَرِ السُّفْرَةَ، «فَفَعَلْتُ، فَلِذَلِكَ سُمِّيَتْ ذَاتَ النِّطَاقَيْنِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭২
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৪. যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।
২৭৭২। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর যুগের কুরবানীর গোশত মদীনা পর্যন্ত পাথেয়রূপে গ্রহণ করতাম।
كتاب الجهاد والسير
باب حَمْلِ الزَّادِ فِي الْغَزْوِ
2980 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا نَتَزَوَّدُ لُحُومَ الأَضَاحِيِّ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى المَدِينَةِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৪. যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।
২৭৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) .... সুয়াইদ ইবনে নুমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে তিনি জিহাদে অংশ গ্রহণ করেন। তাঁরা যখন খায়বারের উপকণ্ঠে অবস্থিত সাহবা নামক স্থানে পৌছলেন, তাঁরা সেখানে আসরের নামায আদায় করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবার নিয়ে আসতে বললেন। তখন নবী (ﷺ)- এর নিকট যবের ছাতু ব্যতীত কিছুই উপস্থিত করা হয়নি। আমরা তা পানির সাথে মিশিয়ে আহার করলাম ও পান করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে দাঁড়ালেন এবং কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম ও নামায আদায় করলাম।
كتاب الجهاد والسير
باب حَمْلِ الزَّادِ فِي الْغَزْوِ
2981 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى قَالَ: أَخْبَرَنِي بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّ سُوَيْدَ بْنَ النُّعْمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ [ص:55]، أَخْبَرَهُ: «أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ خَيْبَرَ، حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ وَهِيَ مِنْ خَيْبَرَ، وَهِيَ أَدْنَى خَيْبَرَ، فَصَلَّوُا الْعَصْرَ فَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالأَطْعِمَةِ، فَلَمْ يُؤْتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا بِسَوِيقٍ، فَلُكْنَا، فَأَكَلْنَا وَشَرِبْنَا، ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَضْمَضَ، وَمَضْمَضْنَا وَصَلَّيْنَا»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৭৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৪. যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।
২৭৭৪। বিশর ইবনে মারহুম (রাহঃ) .... সালামা (ইবনে আকওয়া) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে যায় এবং তারা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট হাজির হয়ে তাদের উট যবেহ করার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে অনুমতি দিলেন। সে সময় উমর (রাযিঃ)- এর সাথে তাদের সাক্ষাত হল। তারা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলো। তিনি বললেন, উট যবেহ করে তারপর তোমরা কিরূপে টিকে থাকবে? উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ সকল লোক উট যবেহ করে খেয়ে ফেলার পর কিরূপে বাঁচবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিজ নিজ অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাদের মধ্যে ঘোষণা দাও। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবারের জন্য বরকতের দুআ করলেন। তারপর তাদেরকে নিজ নিজ পাত্র নিয়ে উপস্থিত হতে আদেশ করলেন। তারা তাদের পাত্র ভরে নিতে লাগলো অবশেষে সকলই নিয়ে নিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল।’
كتاب الجهاد والسير
باب حَمْلِ الزَّادِ فِي الْغَزْوِ
2982 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَرْحُومٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: خَفَّتْ أَزْوَادُ النَّاسِ وَأَمْلَقُوا، فَأَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي نَحْرِ إِبِلِهِمْ فَأَذِنَ لَهُمْ، فَلَقِيَهُمْ عُمَرُ فَأَخْبَرُوهُ، فَقَالَ: مَا بَقَاؤُكُمْ بَعْدَ إِبِلِكُمْ؟ فَدَخَلَ عُمَرُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا بَقَاؤُهُمْ بَعْدَ إِبِلِهِمْ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَادِ فِي النَّاسِ يَأْتُونَ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ» ، فَدَعَا وَبَرَّكَ عَلَيْهِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ بِأَوْعِيَتِهِمْ، فَاحْتَثَى النَّاسُ حَتَّى فَرَغُوا، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ»
হাদীস নং: ২৭৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৫. কাঁধে পাথেয় বহন করা
২৭৭৫। সাদ্কা ইবনে ফাযল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক জিহাদে বের হলাম এবং আমরা সংখ্যায় তিনশ’ ছিলাম। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাথেয় নিজেদের কাঁধে বহন করছিলাম। পথে আমাদের পাথেয় নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি আমরা দৈনিক একটি মাত্র খেজুর খেতে থাকলাম। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবু আব্দুল্লাহ! একটি মাত্র খেজুর একজন লোকের কি করে যথেষ্ট হত? তিনি বললেন, যখন আমরা তাও হারালাম তখন এর হারানোটা অনুভব করলাম। অবশেষে আমরা সমুদ্র তীরে এসে উপস্থিত হলাম। হঠাৎ সমুদ্র একটি বিরাট মাছ তীরে নিক্ষেপ করল। আমরা সে মাছটি তৃপ্তি সহকারে আঠার দিন পর্যন্ত খেলাম।
كتاب الجهاد والسير
باب حَمْلِ الزَّادِ عَلَى الرِّقَابِ
2983 - حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الفَضْلِ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «خَرَجْنَا وَنَحْنُ ثَلاَثُ مِائَةٍ نَحْمِلُ زَادَنَا عَلَى رِقَابِنَا، فَفَنِيَ زَادُنَا حَتَّى كَانَ الرَّجُلُ مِنَّا يَأْكُلُ فِي كُلِّ يَوْمٍ تَمْرَةً» ، قَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، وَأَيْنَ كَانَتِ التَّمْرَةُ تَقَعُ مِنَ الرَّجُلِ؟ قَالَ: «لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَقَدْنَاهَا، حَتَّى أَتَيْنَا البَحْرَ، فَإِذَا حُوتٌ قَدْ قَذَفَهُ البَحْرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ يَوْمًا مَا أَحْبَبْنَا»
হাদীস নং: ২৭৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৬. আপন ভাইয়ের পেছনে একই উটের পিঠে মহিলাকে বসানো
২৭৭৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সাহাবীগণ তো হজ্জ ও উমরার সাওয়াব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করছেন, আর আমিতো হজ্জ থেকে অতিরিক্ত কিছুই করতে পারলাম না।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি যাও, আব্দুর রহমান তোমাকে তার পেছনে সাওয়ারীতে বসিয়ে নিবে। তিনি আব্দুর রহমানকে আদেশ করলেন, তাঁকে তানঈম থেকে উমরার ইহরাম করিয়ে আনতে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় উঁচুভূমিতে তাঁর জন্য অপেক্ষায় থাকলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب إِرْدَافِ الْمَرْأَةِ خَلْفَ أَخِيهَا
2984 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، يَرْجِعُ أَصْحَابُكَ بِأَجْرِ حَجٍّ وَعُمْرَةٍ، وَلَمْ أَزِدْ عَلَى الحَجِّ؟ فَقَالَ لَهَا: «اذْهَبِي، وَلْيُرْدِفْكِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ» ، فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَنْ يُعْمِرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ، فَانْتَظَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَعْلَى مَكَّةَ حَتَّى جَاءَتْ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৬. আপন ভাইয়ের পেছনে একই উটের পিঠে মহিলাকে বসানো
২৭৭৭। আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে আমার পেছনে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরার ইহরাম করিয়ে আনতে আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب إِرْدَافِ الْمَرْأَةِ خَلْفَ أَخِيهَا
2985 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «أَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُرْدِفَ عَائِشَةَ، وَأُعْمِرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৭৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৭. যুদ্ধ ও হজ্জে একই সাওয়ারীতে একে অপরের পেছনে বসা
২৭৭৮। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহা (রাযিঃ)- এর পেছনে একই সাওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন লোকেরা হজ্জ ও উমরা পালনার্থে লাব্বায়েক ধ্বনি উচ্চারণ করছিল।
كتاب الجهاد والسير
باب الاِرْتِدَافِ فِي الْغَزْوِ وَالْحَجِّ
2986 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «كُنْتُ رَدِيفَ أَبِي طَلْحَةَ وَإِنَّهُمْ لَيَصْرُخُونَ بِهِمَا جَمِيعًا الحَجِّ وَالعُمْرَةِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৮. গাধার পিঠে একে অপরের পেছনে বসা
২৭৭৯। কুতাইবা (রাহঃ) .... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গাধার পিঠে পালান লাগিয়ে তার উপর চাঁদর বিছিয়ে তাতে আরোহণ করেন। আর উসামা (রাযিঃ)- কে তাঁর পেছনে বসালেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الرِّدْفِ عَلَى الْحِمَارِ
2987 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا [ص:56] أَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ عَلَى إِكَافٍ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ، وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ وَرَاءَهُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৮. গাধার পিঠে একে অপরের পেছনে বসা
২৭৮০। ইয়াহয়া ইবনে বুকাইর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন আপন সাওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ)- কে বসিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক থেকে আগমন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল (রাযিঃ) এবং চাবি সংরক্ষক উসমান ইবনে তালহা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের পার্শ্বে উটটিকে বসালেন। তারপর উসমান (রাযিঃ)- কে কা’বা গৃহের চাবি নিয়ে আসতে আদেশ করলেন। কাবার (দ্বার) খুলে দেওয়া হল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামা, বিলাল ও উসমান (রাযিঃ)। দিনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করলেন। তারপর সেখান হতে বেরিয়ে এলেন। এ সময়ে লোকেরা প্রবেশ করার জন্য দৌঁড়িয়ে আসল। সকলের আগে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং বিলাল (রাযিঃ)- কে দরজার পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন স্থানে নামায আদায় করছিলেন? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁকে একথা জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কত রাকআত নামায আদায় করেছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الرِّدْفِ عَلَى الْحِمَارِ
2988 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ يُونُسُ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ يَوْمَ الفَتْحِ مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ عَلَى رَاحِلَتِهِ مُرْدِفًا أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، وَمَعَهُ بِلاَلٌ، وَمَعَهُ عُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ مِنَ الحَجَبَةِ، حَتَّى أَنَاخَ فِي المَسْجِدِ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْتِيَ بِمِفْتَاحِ البَيْتِ فَفَتَحَ، وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ أُسَامَةُ، وَبِلاَلٌ، وَعُثْمَانُ، فَمَكَثَ فِيهَا نَهَارًا طَوِيلًا، ثُمَّ خَرَجَ» ، فَاسْتَبَقَ النَّاسُ، وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَوَّلَ مَنْ دَخَلَ، فَوَجَدَ بِلاَلًا وَرَاءَ البَابِ قَائِمًا، فَسَأَلَهُ " أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَأَشَارَ لَهُ إِلَى المَكَانِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَنَسِيتُ أَنْ أَسْأَلَهُ كَمْ صَلَّى مِنْ سَجْدَةٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮১
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬৯. রিকাব বা অন্য কিছু ধরে আরোহণে সাহায্য করা
২৭৮১। ইসহাক (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, প্রত্যেক দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, তাতে মানুষের দেহের প্রতিটি জোড়া হতে একটি মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সাদ্কা রয়েছে। প্রতিদিন যাতে সূর্য উদিত হয়। দু’জন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও সাদ্কা। কাউকে সাহায্য করে সাওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেওয়াও সাদ্কা। ভাল কথাও সাদ্কা। নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও সাদ্কা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সাদ্কা।
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ أَخَذَ بِالرِّكَابِ وَنَحْوِهِ
2989 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ سُلاَمَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ، يَعْدِلُ بَيْنَ الِاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَيُعِينُ الرَّجُلَ عَلَى دَابَّتِهِ فَيَحْمِلُ عَلَيْهَا، أَوْ يَرْفَعُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الصَّلاَةِ صَدَقَةٌ، وَيُمِيطُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ»
হাদীস নং: ২৭৮২
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭০. কুরআন শরীফ সহ শত্রু ভূখণ্ডে সফর করা অপছন্দনীয়। অনুরূপ মুহাম্মাদ ইবনে বিশর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ)- এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। উবাইদুল্লাহ (রাহঃ)- এর অনুসরণকারী ইবনে ইসহাকও .... ইবনে উমর (রাযিঃ)- এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ (রাযিঃ) শত্রুর ভূখণ্ডে সফর করেছেন এবং তারা কুরআনুল কারীম জানতেন।
২৭৮২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুর ভূখণ্ডে সফর করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب كراهية السَّفَرِ بِالْمَصَاحِفِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ وَكَذَلِكَ يُرْوَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَتَابَعَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَدْ سَافَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ الْقُرْآنَ
2990 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُسَافَرَ بِالقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ العَدُوِّ "
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭১. যুদ্ধের সময় তাকবীর বলা
২৭৮৩। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অতি প্রত্যুষে খায়বার প্রান্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ইয়াহুদীগণ কাঁধে কোদাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা যখন তাঁকে দেখতে পেল, তখন বলতে লাগল, মুহাম্মাদ সেনাদলসহ আগমন করেছে, মুহাম্মাদ সেনাদল সহ আগমন করেছে। ফলে তারা দুর্গে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উভয় হাত তুলে বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের অঞ্চলে অবতরণ করি, তখন ভয় প্রদর্শিতদের সকাল মন্দ হয় এবং আমরা সেখানে কিছু গাধা পেয়ে গেলাম। তারপর আমরা এগুলোর (গোশত) রান্না করলাম। এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর পক্ষ হতে ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিল, নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গাধার গোশত (আহার করা) হতে নিষেধ করেছেন। (এতদশ্রবণে) ডেকগুলো উল্টিয়ে দেওয়া হল তাতে যা ছিল তা সহ। আলী (রাযিঃ) সুফিয়ান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) তাঁর দু’হাত উপরে উঠান বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب التَّكْبِيرِ عِنْدَ الْحَرْبِ
2991 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: صَبَّحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ، وَقَدْ خَرَجُوا بِالْمَسَاحِي عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، فَلَمَّا رَأَوْهُ قَالُوا: هَذَا مُحَمَّدٌ، وَالخَمِيسُ مُحَمَّدٌ، وَالخَمِيسُ، فَلَجَئُوا إِلَى الحِصْنِ، فَرَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ وَقَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ، إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ، فَسَاءَ صَبَاحُ المُنْذَرِينَ» ، وَأَصَبْنَا حُمُرًا، فَطَبَخْنَاهَا، فَنَادَى مُنَادِي النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:57]: إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنْ لُحُومِ الحُمُرِ، فَأُكْفِئَتْ القُدُورُ بِمَا فِيهَا تَابَعَهُ عَلِيٌّ، عَنْ سُفْيَانَ، رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭২. তাকবীর জোরে জোরে বলা অপছন্দীয়
২৭৮৪। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন উপত্যকায় আরোহণ করতাম, তখন লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলতাম। আর আমাদের আওয়াজ অতি উঁচু হয়ে যেত। নবী (ﷺ) আমাদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। কেননা, তোমরা তো বধির বা দূরবর্তী সত্তাকে ডাকছ না। বরং তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি তো শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُكْرَهُ مِنْ رَفْعِ الصَّوْتِ فِي التَّكْبِيرِ
2992 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكُنَّا إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى وَادٍ، هَلَّلْنَا وَكَبَّرْنَا ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا، إِنَّهُ مَعَكُمْ إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ، تَبَارَكَ اسْمُهُ وَتَعَالَى جَدُّهُ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৭৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৩. কোন উপত্যকায় অবতরণ করা কালে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া
২৭৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন কোন উঁচু স্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার বলতাম আর যখন কোন উপত্যকায় অবতরণ করতাম, তখন সুবহানাল্লাহ্ বলতাম।
كتاب الجهاد والسير
باب التَّسْبِيحِ إِذَا هَبَطَ وَادِيًا
2993 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا، وَإِذَا نَزَلْنَا سَبَّحْنَا»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৪. উঁচু স্থানে আরোহণকালে তাকবীর বলা
২৭৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন উঁচু স্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার বলতাম আর যখন নিম্ন ভূমিতে অবতরণ করতাম, তখন সুবহানাল্লাহ্ বলতাম।
كتاب الجهاد والسير
باب التَّكْبِيرِ إِذَا عَلاَ شَرَفًا
2994 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا، وَإِذَا تَصَوَّبْنَا سَبَّحْنَا»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৪. উঁচু স্থানে আরোহণকালে তাকবীর বলা
২৭৮৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হজ্জ কিংবা উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, নাকি এরূপ বলেছেন যে, যখন জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনি ঘাঁটি অথবা প্রস্তরময় ভূমিতে পৌছে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। তারপর এ দু‘আ পাঠ করতেন, “আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, কর্তৃত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, ইবাদত পালনকারী, সিজদাকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাহকে সাহায্য করেছেন, কাফির সৈন্যদলকে তিনি একাই পরাভূত করেছেন”। সালেহ (রাহঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, আব্দুল্লাহ কি ইনশাআল্লাহ্ বলেন নি? তিনি বললেন, না।
كتاب الجهاد والسير
باب التَّكْبِيرِ إِذَا عَلاَ شَرَفًا
2995 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ مِنَ الحَجِّ أَوِ العُمْرَةِ - وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ الغَزْوِ - يَقُولُ كُلَّمَا أَوْفَى عَلَى ثَنِيَّةٍ أَوْ فَدْفَدٍ: كَبَّرَ ثَلاَثًا، ثُمَّ قَالَ: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ» ، قَالَ صَالِحٌ فَقُلْتُ لَهُ: أَلَمْ يَقُلْ عَبْدُ اللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ؟ قَالَ: لاَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৫. মুসাফিরের জন্য তা-ই লিখিত হবে, যা সে আমল করত ইকামত (আবাস) অবস্থায়
২৭৮৮। মাতার ইবনে ফযল (রাহঃ) .... আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং ইয়াযিদ ইবনে আবু কাবশা (রাযিঃ) সফরে ছিলেন। আর ইয়াযিদ (রাযিঃ) মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখতেন। আবু বুরদা (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, আমি আবু মুসা (আশআরী) (রাযিঃ)- কে একাধিকবার বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন বান্দা রোগাক্রান্ত হয় কিংবা সফর করে, তখন তার জন্য তা-ই লিখিত হয়, যা সে মুকীম অবস্থায় বা সুস্থ অবস্থায় আমল করত।
كتاب الجهاد والسير
باب يُكْتَبُ لِلْمُسَافِرِ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي الإِقَامَةِ
2996 - حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الفَضْلِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا العَوَّامُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ أَبُو إِسْمَاعِيلَ السَّكْسَكِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بُرْدَةَ، وَاصْطَحَبَ هُوَ وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي كَبْشَةَ فِي سَفَرٍ، فَكَانَ يَزِيدُ يَصُومُ فِي السَّفَرِ، فَقَالَ لَهُ أَبُو بُرْدَةَ: سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى مِرَارًا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَرِضَ العَبْدُ، أَوْ سَافَرَ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا»
হাদীস নং: ২৭৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৬. একাকী ভ্রমণ করা
২৭৮৯। হুমাইদী (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধের দিন লোকদেরকে আহবান করেন। যুবাইর (রাযিঃ) সে আহবানে সাড়া দিলেন, পুনরায় তিনি লোকদের আহবান করলেন, আবারও যুবাইর (রাযিঃ) সে আহবানে সাড়া দিলেন। পুনরায় তিনি লোকদের আহবান করলেন, এবারও যুবাইর (রাযিঃ) সে আহবানে সাড়া দিলেন। এরূপ তিনবার বললেন। নবী (ﷺ) বললেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য একজন হাওয়ারী (বিশেষ মদদগার) থাকে আর আমার হাওয়ারী (বিশেষ মদদগার) হচ্ছে যুবাইর।’ সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, হাওয়ারী সাহায্যকারীকে বলা হয়।
كتاب الجهاد والسير
باب السَّيْرِ وَحْدَهُ
2997 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُنْكَدِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: نَدَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ يَوْمَ الخَنْدَقِ، فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا وَحَوَارِيَّ [ص:58] الزُّبَيْرُ» قَالَ سُفْيَانُ: الحَوَارِيُّ: النَّاصِرُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৯০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৯৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭৬. একাকী ভ্রমণ করা
২৭৯০। আবুল ওয়ালীদ ও আবু নুআইম (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি লোকেরা একা সফর করতে কি অনিষ্ট রয়েছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী ভ্রমণ করত না।
كتاب الجهاد والسير
باب السَّيْرِ وَحْدَهُ
2998 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ح حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي الوَحْدَةِ مَا أَعْلَمُ، مَا سَارَ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ»
তাহকীক: