বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং ঈমান-আমল
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং ঈমান-আমল
[জিনিস চেনার নাম বিজ্ঞান। জিনিস কে চিনে তা থেকে ফায়দা নেওয়ার মাধ্যম প্রযুক্তি। আল্লাহতালা প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন হালত বা অবস্থা দেন। হালাতের মধ্যে আল্লাহর হুকুম চেনার নাম ঈমান। নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে হালত থেকে আল্লাহর হুকুম নবীর তরিকায় পুরা করে ফায়দা নেয়ার নাম আমাল]
মানুষ মাত্রেই হয়েছে, সে বিভিন্নভাবে অন্যের সাহায্য পায়। আল্লাহ তাআলা তাকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন।
একটা ছাগল যখন বাচ্চা দেয়, বাচ্চাটির জন্য হলেই দাঁড়িয়ে যায়। যদিও ছাগলবাচ্চাটি দুর্বল থাকে, কাঁপে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সবল হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ও জানে না ওর দুধ কোথায়; কিন্তু ও নিজেই ওর দুধ খুঁজে বের করে। মায়ের পালনে গিয়ে দুধ পান করতে থাকে। তার কাছে এ পরিমাণ ইলম আছে।
এর মোকাবেলায় মানবসন্তানকে আল্লাহ তাআলা এত অল্প ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, ও তো জানেই না ওর দুধ কোথায়, হাত উপরে উঠে যায় আর নিজের আঙুল নিজেই চুষতে থাকে। ও এতটুকুও জানে না যে, এটা চুষলে লাভ নেই। কতক্ষণ চোষার পরেও বোঝে না যে, এর মধ্যে দুধ নেই; এরপরেও চুষতে থাকে। এই জাতীয় বোকামি, নির্বুদ্ধিতা বা জ্ঞানহীনতা মানুষ ব্যতীত কোনো প্রাণীর মধ্যে পাওয়া যায় না।
প্রাণীরা তাদের খাদ্য ব্যতীত অখাদ্য খায় না। ছাগল সম্পর্কে বদনাম রয়েছে যে, ছাগল কি না খায়। ছাগল কিন্তু তার অখাদ্য খায় না। রূপপুর-সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে তামাকের চাষ হয়। অঞ্চলের লোক যারা এগুলো চাষ করে, তারা একে বাগান বলে—'তামাকের বাগান'। তামাকের বাগানে কোনো বেড়া দিতে হয় না। কারণ, আল্লাহ তাআলা গরু ও ছাগলকে এই ইলম দিয়েছেন যে, এটা কোনো ভালো জিনিস নয়।
এজন্য তারা এগুলো খায় না; অথচ মানুষ এগুলো খায়। বাচ্চারা যখন হামাগুড়ি দেওয়া শেখে তখন বাচ্চার সামনে যা-ই পড়ে সেটাই মুখে দেয়। অথচ ওই ছাগল বা ছাগলের বাচ্চা কখনই বিছুটি পাতা খাবে না। সুতরাং বোঝা গেল, মানুষ তার ইলমের ব্যাপারেও অন্যের মুখাপেক্ষী। ওর জন্য কি খাদ্য বা কি খাদ্য নয়, সেটাও সে নিজে বুঝে না। অতএব, মানুষ বিভিন্নভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল।
এক জায়গায় একই সাথে গৃহস্থের বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হলো এবং গৃহস্থের গাভীরও বাচ্চার জন্ম হলো। যেহেতু গরুর বাছুর বড় হতে বেশিদিন সময় লাগে না, তিন-চার বছর বয়সেই বাচ্চা প্রসবের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। তো দুটি বাচ্চার জন্ম হলো, গৃহস্থের গরুর বাচ্চার জন্ম হলো আর তার নিজেরও সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। তো দু-তিন বছর পর ওই গরুর বাচ্চা বড় হয়ে বাচ্চা প্রসব করলো। এখন তার দুধ খাচ্ছে সেই বাছুরটি, অপরদিকে সে মানবসন্তানটি এখনো বাচ্চা, দুধ খায়। আর তার সমবয়সী বাছুরটি বড় হয়ে আরেক বাচ্চা প্রসব করেছে, এখন দুধও দিচ্ছে।
অতএব মানুষ বড়ই নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা দূর করার প্রধানত দুটি পথ। একটি হলো, দুনিয়াদারি বা দুনিয়ার পথ। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন, ওটা হলো তার আসল পথ এবং তার দুর্বলতা দূর করার বা অন্যের সাহায্য নেওয়ার পথ।
দুনিয়ার পথ কোনটি? দুনিয়ার পথ হচ্ছে, জিনিস থেকে সাহায্য নেওয়া। ওই যে বললাম গরু, গরুকে দিয়ে হাল চাষ করাবে। এর জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। ১ম শর্ত, গরু সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ, যদি জ্ঞান না থাকে তাহলে গরুর কতটুকু শক্তি, কতটুকু সামর্থ্য রয়েছে—এটি না জানা থাকলে লাঙল বসাতে পারবে না। তার যোগ্যতা-সামর্থ্য ইত্যাদি জানাকে জ্ঞান বলে। সাধারণত এ জাতীয় জিনিসকে বিজ্ঞান বলা হয়। ওই যে জ্ঞান, 'গরুর শক্তি রয়েছে', এটিকে পরবর্তীতে ব্যবহার করা, লাঙল-জোয়াল ইত্যাদি সংযুক্ত করা, -গরুর শক্তি তো আছে, কিন্তু আমি এটা আমার কাজে কিভাবে ব্যবহার করব? সুতরাং জোয়াল, লাঙল ইত্যাদি সংযুক্ত করাকে প্রযুক্তি বলে।
তো দুনিয়ার মানুষ বিভিন্নভাবে এই জিনিসগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। প্রথমে চিনতে হবে, চেনার পরে এটাকে উপযুক্ত কাজে লাগাতে হবে। একই গৃহস্থের গরু আছে, কুকুরও আছে; কিন্তু কোনো গৃহস্থ কুকুরকে দিয়ে হাল চাষ করানোর চেষ্টা করে না। আর গরুকে দিয়ে পাহারাদারি করানোরও চেষ্টা করে না। এজন্য যে, তার কুকুর সম্পর্কে জ্ঞান আছে, গরু সম্পর্কেও জ্ঞান আছে। ওই যে বললাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এটা জানা থাকার কারণে ' কোনো গৃহস্থ কুকুরকে দিয়ে হাল চাষ করানোর চেষ্টা করে না। আর গরুকে দিয়ে পাহারাদারি করানোরও চেষ্টা করে না। এজন্য যে, তার কুকুর সম্পর্কে জ্ঞান আছে, গরু সম্পর্কেও জ্ঞান আছে। ওই যে বললাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এটা জানা থাকার কারণে কুকুরকে দিয়েও হাল চাষ করে না, গরুকে দিয়েও পাহারাদারি করে না। যদি কুকুরকে দিয়ে হাল চাষ করানোর চেষ্টা করে তবে কুকুর তাকে কামড় মারবে। যদিও কুকুর জানে যে, কামড় মারলে তার ঘাড় ভেঙে যাবে। তবুও সে বিনা চেষ্টায় মরবে না; অন্তত একটা কামড় দিয়েও মারা যাবে। এর মোকাবেলায় গরুকে দিয়ে পাহারাদারি করাতে পারবে না। গরুকে যদি পাহারাদারি দেওয়া হয়, তাহলে ওর সামনে দিয়ে চোর যাবে-আসবে আর সে ভদ্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। চোর আসছে-যাচ্ছে—ওর ব্যাপার আমি কেন হায়চায় করব।
অনেক আগে একবার রাজশাহীতে গিয়েছিলাম। ঘুমানোর সময় খেয়াল ছিল না যে, ফজর নামাযের জন্য চাবি রাখতে হবে। তো সকালবেলা উঠে দেখি, সদর দরজা বন্ধ, তো গেট টপকে গেলাম। কুকুর ছিল বাড়িতে কিন্তু কুকুর কিছুই বলল না। যাওয়ার সময় বলল না, ফেরার সময়ও বলল না। সকালে নাস্তার সময় ঘটনা বর্ণনা করে বললাম, কুকুর তো বেশ ভদ্র, কিছুই বলল না। মেজবান বললেন, এটা কুকুরের জন্য কোনো গুণ নয়। কুকুরকে ভদ্রতার জন্য রাখা হয়নি। ওর দায়িত্ব হলো অভদ্রতা করা। সুতরাং কুকুরের মেজাজ হলো, পাহারাদারি করা।
থাইল্যান্ডের প্রচুর সুপারির চাষ হয়। আমাদের দেশেও সুপারির চাষ হয়। এই ঘটনাটি আমি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিনি তবে শুনেছি যে, আমাদের দেশের নিয়ম হলো, যখন সুপারি পরিপক্ব হয় তখন গাছ থেকে পেড়ে আনা হয়। আর ওদের ওখানে সুপারি কাটার জন্য বানরকে ব্যবহার করা হয়। এর পদ্ধতি হলো, বানরের হাতে ছুরি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশ্য বানর গাছে গাছে উড়ে বেড়াতে পছন্দ করে। সুতরাং সুপারি পেড়ে আনার কাজটিও তার প্রবৃত্তির সাথে মিলে। তো বানর ছুরি হাতে গাছে উঠে যায়। সুপারি কেটে নিয়ে আসে। এটাও তার প্রবৃত্তির সাথে যায়। যদিও বানর সুপারি খায় না কিন্তু ফলফলাদি ছিড়তে, নষ্ট করতে বেশ পছন্দ করে। এটা তার তরপ্রবৃত্তির সাথে বেশ মিলে। আবার সুপারি পেড়ে নেমে অন্য গাছে ওঠার ঝামেলা না করে সরাসরি লাফ দিয়ে অন্য গাছে চলে যায়। তো এই কাজ যদি কোনো গরুকে দিয়ে করাতে চায়, তাহলে বেচারা গরু পারবে না; কিন্তু বানর পারবে। সুতরাং এই জ্ঞানটুকু জানা হলো, প্রযুক্তি বা বিজ্ঞান।
এরকমভাবে মানুষ অনেক অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে। পেট্রোল কে জেনেছে; যদিও পেট্রোল দেখতে পানির মতো মনে হয়, কিন্তু তার বৈশিষ্ট্য একেবারেই ভিন্ন। বৈশিষ্ট্য যে ভিন্ন এতটুকু জানলেই হবে না যে, আগুন লাগালে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে; বরং এটাকে নিজের আওতায় আনতে হবে। এটিকে দিয়ে আমার কাজ করাতে হবে।
গরুর যে শক্তি আছে—এটা জানলেই হবে না; বরং এটাকে দিয়ে আমার কাজ করাতে হবে। বানর গাছে উঠতে পারে, তো বানর যে গাছে উঠতে পারে—এটা জানলে আমার কি লাভ! আমি যেন বানরের গাছে ওঠাকে কাজে লাগাতে পারি—ওই যোগ্যতাকে সাধারণত প্রযুক্তি বলা হয়।
তো ভাই, গরুকে দিয়ে কাজ করানো হয়, বানরকে দিয়ে কাজ করানো হয়... আরো হাজারো জিনিস দিয়ে কাজ করানো হয়। এরকমভাবে পেট্রোল দিয়েও কাজ করানো হয়। পেট্রোল দিয়ে কাজ করাতে গিয়ে ইঞ্জিন আবিষ্কার হয়েছে।
আবার এর জন্য সিলিন্ডার আবিষ্কার হয়েছে, পিস্টন আবিষ্কার হয়েছে... আরো কত জিনিস লেগেছে। যতদিন এর ব্যবহার তৈরি করা যায়নি ততদিন পেট্রোল কোনো কাজের জিনিস ছিল না; বেকার ছিল। দুনিয়ার জিনিস থেকে ফায়দা নেওয়ার অর্থ হলো, বিভিন্ন জিনিসকে জানা এবং জিনিসগুলোর ব্যবহার করতে জানা।
যে যতবেশি এই বিভিন্ন জিনিসের বৈশিষ্ট্য জানে, তাকে তত বড় বিজ্ঞানিক বলা হয়। যে এগুলোকে যত বেশি ব্যবহার করতে পারবে, তাকে ততবেশি প্রযুক্তির উপর দক্ষ বলা হবে। দুনিয়াতে, বিশেষ করে বর্তমান দুনিয়াতে এই দুই জিনিস যার কাছে আছে সে এই দুনিয়ার বাদশাহ। কারণ, যে জিনিস সম্পর্কে জানে এবং ব্যবহার করতে জানে, এতবেশি জানে যে, দুনিয়া তার হাতের মুঠোয়। পূর্বেকার যামানার মানুষ এতটুকুই করতে পারত যে, গরুকে দিয়ে নিজের কাজটুকু করাতো; এর থেকে বেশি দূর চিন্তা করতে পারত না।
অথচ এখনকার মানুষ ঘরে বসে বসে সূর্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তার পানি গরম করাচ্ছে, তার ফ্যান চালাচ্ছে... আরো কত কিছু করাচ্ছে। কোথায় সূর্য আর কোথায় সে! আগে যখন গরুর কাঁধে জোয়াল দিয়ে গরুকে দিয়ে তার নিজের কাজ করাচ্ছিল তখন কি আর বুঝতে পেরেছিল যে, সূর্যকে দিয়ে কাজ করানো যাবে? কোথায় সূর্য কোথায় মানুষ! কিভাবে সূর্যের কাছে পানি পৌঁছাবে! কিন্তু জোয়ালের মতো না হোক, ওরকম একটা জিনিস সূর্যের ঘাড়ে বসিয়ে দিয়েছে আর সেটিকে দিয়ে প্রচুর কাজ করিয়ে নিচ্ছে।
বাতাসকে দিয়েও প্রচুর কাজ করানো হচ্ছে। আমাদের দেশে হয়তো এর তেমন প্রচলন নেই, কিন্তু ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় এর ব্যবহার হচ্ছে। 'উইন্ডমেল', বাতাস বয়ে যায় আর তার মাধ্যমে পাখা ঘুরে। পাখা ঘুরলে যেমন বাতাস বের হয়, ঠিক তেমনি বাতাস চললে পাখা ঘরে, আর এভাবে ওর মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। নর্থ ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, কিছুদূর পরপর উইন্ডমিলের পাখা ঘুরছে। ফিক্স বাতাস যা আল্লাহ তাআলা প্রবাহিত করছেন, তার মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করছে।
তো দুনিয়ার মানে হলো, জিনিসকে জানা এবং ওর ব্যবহার করা। আরেক ধাপ এগিয়ে বলা যায়, মানুষকে জানা এবং এর ব্যবহার করা যে, কেমন করে মানুষকে জেনে আমি আমার কাজে লাগাতে পারি।
আর এভাবে এতবেশি অন্যের দুর্বলতা বা তাকে বুঝতে পারে যে, তার মাধ্যমে ইচ্ছামতো অনেক কিছু করাতে পারে। দুনিয়াতে এটাকেও এক ধরনের প্রযুক্তি বলা যেতে পারে যে, সে যদি চায় তাকে সরাসরি হত্যা না করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করাতে পারে। অমুক প্রশ্ন করলো যে, তাকে সরিয়ে দেবে। এখন হত্যা করলে তো ঝামেলা হবে, মামলা-মোকদ্দমা হবে। তার চেয়ে ভালো, তাকে আত্মহত্যা করিয়ে দেই, এভাবে আত্মহত্যায় বাধ্য করলো।
আজকাল দুনিয়াতে মানুষের কায়-কারবারের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় একটা কাজ হলো পণ্য বিক্রি করা। পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাকে রাজি করাতে হয়। রাজি করাতে গিয়ে ফায়দা দেখাতে হয়। সুতরাং পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাকে রাজি করাতে এমনকিছু প্রযুক্তি রয়েছে যাকে মার্কেটিং বলে। মার্কেটিং এ প্রেসার ক্রিয়েটিং হয়। এর একটা পদ্ধতি হলো, 'পণ্য এমন, পণ্যটি সেরা', এরকম ফায়দা তুলে ধরে প্রলুব্ধ করা যে, তুমি এটি কিনো। আর আরেকটা হলো, প্রচুর চাপ দিয়ে প্রলুব্ধ করা যে, কিনতেই হবে—বুঝো অথবা না বুঝো।
এক ব্যক্তি কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিল। ইন্টারভিউতে তাকে প্রশ্ন করা হলো, 'মার্কেটিং' কাকে বলে?
উত্তরে বলল, 'গ্রীষ্মকালে মরুভূমিতে কম্বল বিক্রি করা।'
আসলেই বিষয়টি এমন। মার্কেটিং যারা জানে তারা ঠিকই তা করতে পারে। যে কম্বল কিনছে তার এ বিষয়টি জানা রয়েছে যে, এই কম্বল তার কোনো কাজেই লাগবে না। তারপরেও কিনলো কেন? কারণ, বিক্রেতা সাময়িকভাবে তার চিন্তা-বোধকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছে, নিজের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে। ওকে চিন্তা করতে দেয়নি, ভাবতেও দেয়নি; বরং তাকে কাবুতে নিয়ে নিয়েছে।
এজন্য মার্কেটিং বা এই জাতীয় কাজ যারা করে, তাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ক্রেতার হাতে সময় না দেওয়া, চিন্তার সুযোগ না দেওয়া। একটা হাইচই আর ব্যস্ততার মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া। সুযোগ শেষ হলে আর পাবেন না, এ রকম প্রলোভন দেওয়া। কিছুক্ষণ পর ক্রেতা বুঝতে পারে যে, আমার তো অনেক টাকা নষ্ট হয়ে গেল। এটা তো আমার কোনো কাজে লাগবে না; কিন্তু যতক্ষণে বুঝতে পারল ততক্ষণে বিক্রেতা নাগালের বাইরে।
তো মানুষ এভাবে দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে। গরুর দুর্বলতাকে খুঁজে বের করল। এই যে গরু খেটে মরছে, এতে ওর নিজের কোনো লাভ নেই। জোয়াল রাখার কারণে ঘাড়ে ঘা হয়ে যায়, শরীর দুর্বল হয়ে যায়। খায় খড়, আর এর মাধ্যমে গৃহস্থ পাচ্ছে ভাত। গরুর তো কোনো লাভ নেই।
এমনিভাবে, পেট্রোলের নিজের কোনো লাভ নেই। যদিও বলা যেতে পারে, পেট্রোলের নিজের লাভ-ক্ষতি বোঝার ক্ষমতা নেই। কিন্তু এই যে পেট্রোল গাড়ি দৌড়ালো আর নিজে পুড়ে ছাই হয়ে গেল, এতে নিজের কোন লাভ নেই। সুতরাং অন্যকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে জানা—সে গরু হোক বা পেট্রোল হোক, শেষ পর্যন্ত গিয়ে বেচারা 'মানুষ' হোক।
দুনিয়াকে নিজের স্বার্থে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে জানা। তার একটি প্রাচীনতম ব্যবহার হলো, প্রাসাদিক চাবি। রাজা-বাদশাদের হাতে এমন কিছু চাবি থাকত যে, প্রজারা সবসময় বাধ্য হয়ে চলত। রাজারা ডিমান্ডের উপর ডিমান্ড করে যেত, আর প্রজারা তা বাধ্য হয়ে পরিশোধ করত। কোনো কোনো রাজা প্রাচীন কিছু পদ্ধতি প্রয়োগ করত অনুগত রাখার জন্য। এই বিষয়ে বোধহয় ব্রাহ্মণরা যে দক্ষতা প্রমাণ করেছিল, ইতিহাসে এ দক্ষতা কেউ অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োग করেছিল। দুনিয়ার সব জায়গায় ঝাড়ু-তে লম্বা হাতল থাকে, যাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সহজে ঝাড়ু দেওয়া যায়। আর এতে পরিশ্রম কম হয়। পরিস্কারিরাদিও কম হয় না, ভালোই পরিস্কার হয়। কিন্তু ঝাড়ুর হাতল ছোট হওয়ার কারণে রুক্ষ অবস্থায় ঝাড়ু দেওয়া বড় কঠিন কাজ, অনেক পরিশ্রম।
দুনিয়ার মধ্যে একমাত্র ভারতবর্ষে কুজো হয়ে ঝাড়ু দেওয়া হয়—এটা ব্রাহ্মণদের আবিষ্কার। নমশূদ্রদের নত হয়ে চলতে অভ্যস্ত করতে, যেন মাথা নত হয়ে থাকে। আর তারা এভাবে থাকতে থাকতে একসময় অভ্যস্ত হয়ে যায়। মনে বিশ্বাস জন্মে যায় আমি ছোট। এই জাতীয় নানান ধরনের বিষয় ছিল। এভাবে একসময় বিশ্বাস করতে থাকে যে, ওদের কথা আমাকে মানতে হবে। তারা এভাবে হাজার বছর ধরে নানা জুলুম করে কিন্তু ব্রাহ্মণ উপর বিশ্বাস থাকার কারণে কোনো আপত্তি করে না। কারণ, অন্তরে বিশ্বাস রয়েছে, ওদের কথাই আমাকে মানতে হবে। আমার উপর তার অধিকার আছে।
আধুনিক দুনিয়ার ইংরেজদের সম্বন্ধে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এদের মানুষকে ব্যবহার করার জ্ঞান দিয়েছেন। ইংরেজদের সম্বন্ধে বলেছেন যে, তাদের মানুষ সম্বন্ধে জ্ঞান রয়েছে যে, কাকে দিয়ে কোন কাজ কিভাবে করাতে হবে।
গরুকে দিয়ে যেকোনো সময় কাজ করানো যাবে না। এজন্য গরু সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা দরকার। যার গরুর সম্বন্ধে জ্ঞান রয়েছে, সে গরুকে দিয়ে কাজ করাতে পারবে। মানুষকে দিয়ে কাজ করাতে হলে মানুষ সম্বন্ধেও জ্ঞান থাকতে হবে। কাকে দিয়ে কোন কাজ হবে? কাকে কোনো বিষয়ে মানাতে হলে কিভাবে বলতে হবে? লোভ দেখাতে হলে কিভাবে লোভ দেখাবে? ভয় দেখাতে হলে কিভাবে ভয় দেখবে? গরুকে ভয় দেখানো বা বাধ্য করা আর কুকুরকে বাধ্য করা মূলত আলাদা আলাদা বিষয়।
গরুকে তার লেজে ধরে চালাতে হয়; কিন্তু কুকুরকে এরকমভাবে লেজে ধরে চালানো সম্ভব হবে না; অন্যভাবে চালাতে হবে। উটকে কিভাবে চালাতে হয়! তার নাকে ধরি বেঁধে টেনে চালাতে হয়। গরুকে তার লেজ চেপে চালাতে হয়।
এভাবে প্রত্যেকের জন্য তার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। সব মানুষ এক ধরনের নয়; হাজার মানুষ হাজার ধরনের হয়ে থাকে; তবে সব গরু এক ধরনের হয়, সব উট এক ধরনের হয়, তবে মানুষ হাজার ধরনের। আলাদা আলাদা সংস্কৃতি... কোন জাতি কোন ধরনের! কে লোভে প্রলুব্ধ হবে? কাকে কিভাবে ভয় দেখাতে হবে? ইংরেজরা এগুলো ভালো করেই জানত। সুতরাং কাকে কিভাবে চালাতে হয়—এগুলো জানা আর জেনে এর ব্যবহার করা।
মুসলমানরা যদিও এখনো দ্বীন কম মানে তবে তাদের মাঝে আত্মসম্মান বোধ, যাকে আরবিতে গীরাহ আর উর্দুতে গায়রত বলে—যার অর্থ আত্মসম্মান বোধের কাছাকাছি—অন্যান্য জাতির মাঝে এর মওজুদ খুবই কম। মুসলমানদের মাঝে দ্বীনি সেবা-সহযোগিতার পরিমাণ বেশি। আল্লাহ তাআলা গাইয়্যুর, ঈমানদারও গাইয়্যুর হয়, ঈমানওয়ালা হয়। অনেকগুলো কথা রয়েছে, যে বিষয়গুলোর উপর আমল হয়।
অমুসলমানদের মাঝে এই জিনিস খুব কম। কেউ মা সম্পর্কে খারাপ কথা বলল, তাকে মারবে; একজন মুসলমান নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না, মদ খায়; কিন্তু তার মা সম্পর্কে খারাপ কথা বললে রেগে যাবে; মারবে। মাতাল অবস্থায় থাকলেও রেগে যাবে আর সুস্থ অবস্থায় তো বলাই বাহুল্য।
এর প্রয়োগ হয়েছিল কিছুদিন আগে খেলার মাঠে। মুসলমান খেলোয়াড়; ওকে উত্তেজিত করার জন্য এরকম একটি খারাপ কথা বলেছে আর ও রেগে গিয়ে লাথি মেরেছে।
ফলাফলস্বরূপ, তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একজন অমুসলমান যদি হতো তবে সে ভাবত, 'আমার মা সম্পর্কে বলেছে, আমার সম্পর্কে তো কিছু বলেনি।' তো খারাপ অর্থে বা ভালো অর্থে, কাকে কোন ভাবে বোঝাতে হবে, কাকে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটা আমাদের জানতে হবে।
চোর-ডাকাত বা দুষ্কৃতিকারীদের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, অমুককে খুন করতে হবে। তাহলে ওই ডাকাতের দায়িত্ব হলো, টার্গেটের আচরণ বোঝা যে, সে কখন ঘর থেকে বের হয়, কখন সে নির্জনে থাকে, কখন সে ফিরে আর এভাবে সুযোগে বুঝে তাকে আক্রমণ করা হবে। তো দুনিয়ার মানুষ সম্পর্কে ওরা এত বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করেছে এবং করেই যাচ্ছে... এভাবে দিন কে দিন আরো বেশি তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মানুষের তথ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। কেউ যদি মানুষের তথ্য দিতে পারে তবে এটি অনেক চড়া দামে বিক্রি করা যায়। আগে মানুষ এটি কল্পনাও করতে পারত না যে, মানুষের ঠিকানা, তথ্য বিক্রির পণ্য হতে পারে; অথচ মানুষের নাম, ঠিকানা ও তথ্য এখন ভালো দামেই বিক্রি হচ্ছে। আর যদি সেই নাম-ঠিকানার সাথে আরো অনেকগুলো তথ্য দিতে পারে, তাহলে আরো বড় মূল্যে বিক্রি করতে পারবে। এগুলো তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-মার্কেটিং এ কাজে লাগায়। ধরুন আমি কোনো পণ্য বিক্রি করতে চাই... আমার কাজ হবে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কম্বল বিক্রি করা। এখন লক্ষ্য করতে হবে কার কি মেজাজ, এই বাড়িতে বাচ্চারা আছে কি না? বাড়িতে হিটার আছে কি না? এই সামগ্রিক তথ্যের উপর ভিত্তি করেই কম্বল বিক্রির চেষ্টা করা হবে। সুতরাং পুরো বিশ্ব জিনিস সম্পর্কে তথ্য অর্জন করছে আর এই তথ্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আরো একটি বিষয় হলো, যদিও পূর্বের যামানায় ছিল না কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ এটিকে সম্পদের কাতারে রাখে—যাকে 'জনসম্পদ' বা 'মানবসম্পদ' বলা হয়। আগে ছিল পশু সম্পদ, গরু সম্পদ—যা আমরা ছোটকাল থেকেই শুনে এসেছি। মানুষ সম্পদ! বর্তমান বাজারে এর লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ, মানুষকেও এখন গরু-ছাগলের মতো সম্পদের কাতারে রাখা হয়েছে। এগুলো এখন বিক্রি হয়, এগুলো দিয়ে ব্যবসা হয়, এগুলো এখন কাজে লাগে। গরুকে কেনার সময় দেখা হয়, এর গোশত কতটুকু আছে? কতটুকু দুধ দিবে? ঠিক তেমনিভাবে এখন মানুষকে বেলায় বিবেচনা করা হয়, সে তো কিছুই জানে না, তাকে বেশি দামে কেনা হয়ে যাচ্ছে না তো! এই হলো পুরো দুনিয়ার হালচাল। এজন্য দুনিয়ার নিয়ম হচ্ছে, মানুষকে জানা এবং সে অনুযায়ী ব্যবহার করা। যে যত বেশি জিনিসকে জানবে, যেমনিভাবে পূর্বে বলা হয়েছে যে, গরুকে জানা; বাতাসকে জানা; পেট্রোলকে জানা আর মানুষকে জানা। যে যতবেশি জানবে আর ব্যবহার করতে পারবে, সে দুনিয়াতে তত বেশি সফল হবে, লাভবান হবে।
আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আ.-কে পাঠিয়েছেন গরুকে জানার জন্য নয়, পেট্রোল কে জানার জন্য নয়, মানুষকে জানার জন্য নয়; বরং দুনিয়ার বিভিন্ন আহওয়াল সম্পর্কে জানা আর আল্লাহ তাআলা থেকে ফায়দা হাসিল করা।
একজন নামাজি লোক ফজরের সময় সম্পর্কে জানে; কিন্তু একজন বে-নামাজি লোক জানে না। এই অর্থে যে, ভোর হওয়া তো একজন কাফেরও জানে আবার বেনামাজিও জানে; কিন্তু একজন নামাজি ব্যক্তি ভোর হওয়াকে যে দৃষ্টিতে দেখে, একজন বেনামাজি সেই দৃষ্টিতে দেখে না। ভোর হলো... একজন দ্বীনদার লোক, একজন নামাজি লোক এই দৃষ্টিতে দেখে যে, এই সময়ের এই হুকুম রয়েছে, এই আমল রয়েছে। আর এর জন্য এই এই ফায়দা রয়েছে। যেমন, একজন ইঞ্জিনিয়ার পেট্রোলের মধ্যে দেখবে যে, এর মধ্যে কি কি শক্তি আছে? আর এটা দিয়ে কি কি কাজ করা যায়। সে সে অনুযায়ী সেই শক্তি ব্যবহার করবে। আগে এগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষ জানত না, কিন্তু পরবর্তীতে এর উপকারিতা আবিষ্কার হয়েছে।
মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটমবোমার বিস্ফোরণ। বলা হলো, এক বোতল পানির মাঝে এ পরিমাণ শক্তি রয়েছে যে, এটা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিতে পারে। পানি যে জ্বালিয়ে দিতে পারে—এটা কেউ বিশ্বাসই করবে না। পেট্রোল তো জ্বালাতে পারে; কিন্তু পানি যে জ্বালিয়ে দিতে পারে—এটা কেউ বিশ্বাসই করবে না। তাও মাত্র এক বোতল পানি পুরো বিশ্বকে জ্বালিয়ে দিবে! এই হলো জিনিসকে জানা।
আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আ.-কে পাঠিয়েছেন অবস্থাকে জানার জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থাকে জানতেন। এজন্য যখন ভোর হতো দোয়া পাঠ করতেন,
**الحمد لله الذي اصبحنا**
'আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করছি যে, তিনি আমাদের ভোর দিয়েছেন।'
মেহেরবানী বা শোকর আদায় করার মানে হলো, তিনি এর মাঝে বিভিন্ন প্রকার উপকার দেখছেন। ভোরের মাঝে এই এই ফায়দা রয়েছে... এ জন্য আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করছেন। আবার যখন সন্ধ্যা হতো, তখন দোয়া পাঠ করতেন,
**الحمد لله الذي امسانا**
'সব প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার, যিনি আমাদেরকে সন্ধ্যা দান করেছেন।'
শোকর মানুষ কখন আদায় করে? -যখন সেগুলো থেকে উপকার পায়; উপকৃত হয়। সন্ধ্যার মাঝে আল্লাহর রাসূল এত উপকার দেখতেন যে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করতেন।
বিষয়টি এত সূক্ষ্ম যে, বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুনিয়ার মানুষের জন্য বোঝা মুশকিল! যেমন, রমজানের চাঁদ দেখা গেল। এর মানে হলো, মুসলমানরা এখন থেকে আর রাতে-বেলা ভালো করে ঘুমাতে পারবে না; নামাযও বেড়ে গিয়েছে; শেষ রাতে উঠে খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ, দু দিকেই ঘুমের সময় কমে গেল। দিনের বেলাও আর ভাত খেতে পারবে না... ইত্যাদি নানা সমস্যা। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানী—বেশিরভাগ মুসলমানের কাছে এবং বেশিরভাগ সমাজে চাঁদ উঠেছে, এই সংবাদ বড়ই খুশির সংবাদ। সবাই বলতে থাকে, 'চাঁদ উঠে গেছে', 'চাঁদ উঠে গেছে...' খুব আনন্দের। কিন্তু বেদ্বীনদের কাছে বিষয়টি বোঝা মুশকিল যে, এতে আনন্দের কি রয়েছে! মূলত আল্লাহ তাআলা এতে মুসলমানের জন্য যে ফায়দা রেখেছেন এবং এর থেকে যে উপকৃত হওয়া যাবে... এটিই বড় আনন্দের। আর সাধারণ মানুষ এটিই দেখে এবং রমযানের সংবাদে আনন্দ বোধ করে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো ঈদের চাঁদ দেখা। ঈদের চাঁদ হলো রমযানের বিপরীত। রমজানের বৈশিষ্ট্য হলো, 'খাওয়া যাবে না।' আর ঈদের বিধান ও সুন্নতের মধ্যেই রয়েছে যে, ঈদের নামাজের আগেই খেতে হবে। সাধারণত রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম খেজুর ইত্যাদি মিষ্টান্ন জিনিস খেতেন। সুতরাং ঈদের দিন খেতে হবে, এটা সুন্নত। অতএব, ঈদের চাঁদ দেখা গেল, এটাও মুসলমানদের মাঝে আনন্দের।
একজন অ-মুসলমান একেবারে বিদিশা হয়ে যাবে যে, এদের কোন তাল পাওয়া গেল না! রমজানের খুশিতে যদি আনন্দ হয় তবে তো ঈদে দুঃখী হওয়ার কথা। যেহেতু তার বিপরীত জিনিস; কিন্তু একজন আল্লাহওয়ালার কাছে বিপরীত জিনিস হলেও রমজানে রমজানের ফায়দা... ঈদে ঈদের ফায়দা...। প্রত্যেকটার মধ্যে, প্রত্যেক আহকামের মধ্যে আল্লাহ তাআলা নিজস্ব ফায়দা রেখেছেন। এই হুকুমগুলো আদায় করার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ফায়দা রেখেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভোর এবং সন্ধ্যা দুটি ভিন্ন জিনিস।
রাসূল সা. ভোরের সময় শুকরিয়া আদায় করতেন, **الحمد لله الذي اصبحنا** আর সন্ধ্যায় শুকরিয়া আদায় করতেন, **الحمد لله الذي امسانا** যদিও দেখতে বিপরীত, যেহেতু দুটি বিপরীতমুখী দিক থেকে উদয়-অস্ত হয়। অন্য অর্থে মোটেই বিপরীত নয়; বরং সমান সমান।
কারণ, সকালবেলা আল্লাহর কিছু আহকাম আছে, যেগুলো যদি আমি আদায় করি তবে উপকৃত হবো। তেমনিভাবে সন্ধ্যাবেলা কিছু আহকাম আছে, যদি সেগুলো আমি আদায় করি তাহলে খুবই উপকৃত হবো। এ কারণে উভয়টিতে উপকৃত হবো।
আল্লাহ তাআলা প্রতি মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন। কিছু ঘটনা ঘটছে আর নতুন কিছু তৈরি হচ্ছে। এই নতুন ঘটনার সাথে আল্লাহ তাআলা তার রহমতকে নতুন করে নাযিল করছেন। ওই রহমতগুলো যখন কারো দিকে ধাবিত হয়, তখন তা কোনো হুকুমের সুরতে ধাবিত হয়।
আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে, সরকার যখন কোনো গরিবকে সাহায্য করতে চায়, তখন সরাসরি না করে কাজের বিনিময়ে সাহায্য করে। এর পোশাকি নাম 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য।' আসল কিন্তু কাজ নয়, আসল হলো খাদ্য দেওয়া। কিন্তু খম দেয়ার জন্য সুবিধাজনক বন্টন পদ্ধতি হিসেবে কাজের লেভেল লাগায় যে, এখানে খাল কাটতে হবে... এখানে মাটি কাটতে হবে... ইত্যাদি ইত্যাদি।
বড় আগের কথা, দেশে তখন দুর্ভিক্ষ চলছিল। সে সময় এক ধনাঢ্যশীল বড় মনের মানুষ, যার জমিজমাও ছিল বেশ। দুর্ভিক্ষের কারণে চারদিকে হাহাকার, অভাব-অনটন। তিনি ইচ্ছা করলেন, মানুষকে সহযোগিতা করবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ঠিক এ সময়ই বাড়ির কাজ, মাটিকাটা ইত্যাদি কাজ আরম্ভ করলেন। উদ্দেশ্য, বাড়ি নির্মাণের নামে মানুষকে সহযোগিতা করা। নচেৎ, এমনি এমনি টাকা দেওয়া মুশকিল। ভিড় লেগে যাবে, ঝামেলা সৃষ্টি হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এ কারণে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলেন, যাতে মানুষ যেন কিছু কিছু কাজ পায় আর কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক স্বরূপ কিছু অর্থ আয় করতে পারে। এ তো ছিলো মানুষের প্রচেষ্টা আর আল্লাহ তাআলা বান্দার ক্ষেত্রেও এমন অনেক অনেক সুযোগ রেখেছেন। আল্লাহ তাআলার পদ্ধতির তো কোনো তুলনাই হয় না। আল্লাহ তাআলা যে মানুষকে দান করেন, এই দানটি তিনি করেন কোনো না কোনো হুকুমের মাধ্যমে। আল্লাহর রহমত আসে আদেশের সুরতে। নামায, এটি বড় রহমত যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি আদেশ। ঠিক তেমনিভাবে রোযাও বড় রহমতের, কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি আদেশ। এই আদেশ পালনার্থে আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।
তাহাজ্জুদ সম্পর্কে ও এ ধরনের বিভিন্ন আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে এসে হাত প্রসারিত করে ডাকেন, 'কে আছ মাগফিরাত চাইবে, আমি তাকে মাগফিরাত দিবো।' মাগফিরাত তথা ক্ষমা উদ্দেশ্য; কিন্তু শর্ত দিয়েছেন, মাগফিরাত চাইতে হবে। এটি আদেশ। কেউ রিযিক চাইলে আমি তাকে রিযিক দিবো। দিতে চান, দিতে প্রস্তুত; কিন্তু আদেশ দিয়েছেন, তোমাকে চাইতে হবে।
আল্লাহ তাআলা প্রতি মুহূর্তে নতুন অবস্থা আনছেন আর এই নতুন অবস্থার সাথে আল্লাহ তাআলার কিছু আহকাম জড়িত, যেগুলো বান্দার দিকে ধাবিত। প্রতিটি হুকুম আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে বান্দার জন্য অসংখ্য রহমত নিয়ে আসে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, **كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأن** 'প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার সিফাতগুলো আবার নতুন করে প্রকাশ পায়।' আল্লাহ তাআলা রাযযাক (রিযিকদাতা)। এমনটি নয় যে, আল্লাহ তাআলা একবার রিযিক দিয়ে থেমে গিয়েছেন; বরং প্রতি মূহূর্তে, প্রতিটি বান্দার দিকে আল্লাহ তাআলার এই সিফাতগুলো ধাবমান। আল্লাহ তাআলা রাহমান, রাহীম। প্রতি মুহূর্তে বান্দার দিকে আল্লাহ তাআলার এই সিফাতগুলো ধাবিত। একবার বলা হয়েছে, এরপর শেষ হয়ে গিয়েছে—এমন নয়।
প্রতি মুহূর্তে বলছেন, বারংবার করে বলছেন। আবার বলছেন বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে। বড় বড় কিছু বিষয়, যেগুলো চাক্ষুষ হয়, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বলছেন। যেমন, সূর্য উদয় হয়—এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বলছেন।
রমযানের চাঁদ উঠে, এর মাধ্যমে কিছু বলছেন; ঈদের চাঁদ উঠে, এর মাধ্যমে কিছু বলছেন। আল্লাহ তাআলার বলা ওই সূর্য উদয়-অস্ত আর রমযানের চাঁদের সাথে শুধু জড়িত নয়, বরং প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু ঘটছে, আর আল্লাহ তাআলাই ঘটাচ্ছেন। আর এই প্রত্যেক ঘটনাই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আদেশ। সুতরাং মুমিনের কাজ হলো, আল্লাহ তাআলার এই আদেশগুলোকে চিনতে পারা আর এর থেকে ফায়দা নেওয়া।
দুনিয়া যেরকম, জিনিসকে চেনে এবং তার থেকে ফায়দা নেয়, সেরকমভাবে মুমিনের উচিত, আল্লাহ তাআলার হুকুম আহকামের এই সময়গুলোকে চেনা আর এর থেকে ফায়দা নেওয়া। যে জিনিসকে চিনতে পারে, সে ফায়দা নেয় আর যে জানে না আর অবহেলায় ফেলে রাখে সে ফায়দা নিতে পারে না।
আমাদের দেশের মাটি যেমন খুবই উর্বর, সামান্য বৃষ্টি হলেই সব আগাছাতে ভরে যায়। সাধারণত এগুলোকে দূর করার চেষ্টা করে, কেটে ফেলে দেয়, সাফ-সুতরো করে; কিন্তু বৃষ্টি হলেই আবার আগাছাতে ভরে যায়। তেমনি এক সময়ে একজনের বন্ধু আসলো। বন্ধুকে সাথে করে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। সে লক্ষ্য করছে যে, আশপাশে প্রচুর আগাছা, পতিত পাতাতে ভরে রয়েছে। মেযবান খুব বিরক্তি প্রকাশ করে বলছে, এগুলোর জ্বালায় বাঁচি না। কিছুদিন আগেও পরিষ্কার করলাম, এখন আবার আগাছায় ভরে গিয়েছে। বন্ধু ছিল দক্ষ কবিরাজ। সে পাতাগুলোর দিকে অবাক চোখে তাকাচ্ছিল। অতঃপর বন্ধুর কথা শুনে বললো, আরে শর্বনাশ! তুমি এগুলোকে ফেলনা মনে করছ! তুমি জানো, এগুলো কত মূল্যবান! এগুলোর মাঝে কি কি ঔষধ লুকায়িত আছে! এরচে বড় সম্পদ দুনিয়াতে আর কি আছে। তাহলে মেযবান দেখছে, এগুলো আবর্জনা, এগুলোর ঝামেলা দূর করা যাচ্ছে না। আর পাশাপাশি দক্ষ বন্ধুর দৃষ্টিতে এগুলো বিরাট সম্পদ।
ইউরোপীয় এক ভ্রমণপিপাসু নেপালে গিয়েছিল। নেপালে ছিল পুরোনো সেগুন গাছ, যেগুলো কাঠ হিসেবে পুরো দুনিয়াতে একটি উৎকৃষ্ট পণ্য। সে লক্ষ্য করল, নেপালিরা কুড়াল দিয়ে কেটে কেটে সে গাছগুলোর লাকড়ি বানাচ্ছে আর বিরক্তি প্রকাশ করছে যে, কত শক্ত কাঠ! কাটাই যাচ্ছে না! আবার কুড়ালের আগাও ভেঙে যাচ্ছে। এরচেয়ে শিরিষ কাঠ হলেও ভালো হতো। অনেক সহজে লাকড়ি বানানো যেত। আবার এটি লাকড়ি হিসেবেও নিম্নমানের লাকড়ি। যখন সে পর্যটক দেখলো যে, তারা এই কাঠকে লাকড়ি বানাচ্ছে। আবার এতে তারা বিরক্তও বটে যে, এটি নিম্ন মানের লাকড়ি, ভালো করে কাটাও যায় না। তখন সে বড় অবাক হলো, এত উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান সম্পদ অথচ তারা এটি জানেই না। সুতরাং দুনিয়ার মানেই হলো, জিনিসকে জানা... জানা মানে হলো, এর মাঝে কি কি ফায়দা লুকায়িত আছে, তা জানা।
যারা জানে, তারা সেসব অঞ্চলে গিয়েছে আর সেগুলো থেকে হাজার হাজার ফায়দা বের করেছে। আল্লাহ তাআলা ইউরোপের মানুষদেরকে জিনিসের জ্ঞান দান করেছেন। আর তারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে।
আফ্রিকায় গিয়েছে, এশিয়ায় এসেছে, আমাদের দেশেও এসেছে। তারা এসে এই জ্ঞান-বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, কোন জিনিস দিয়ে কোন জিনিস তৈরি হয়। যেমন ধরুন এই চা বাগান। ইউরোপে অতীতে চা-এর বাগান ছিল না। ইউরোপের মানুষ এগুলো লাগিয়েছে। এখন মানুষ এগুলো করে।
তো জিনিসকে জানা আর জিনিস থেকে ফায়দা নেওয়া, এগুলো হলো দুনিয়ার মানুষের কাজ। আল্লাহ তাআলা আম্বিয়ায়ে আ.-কে পাঠিয়েছেন, অবস্থাকে জানা যে, কোন অবস্থা আল্লাহ তাআলার কোন হুকুম বহন করে।
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার আহকামকে জানা আর আহকামকে পালন করির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা থেকে ফায়দা নেওয়া, এটিই হলো ইলম। এজন্য আলিমের কাছে, প্রত্যেক অবস্থা বড় নেয়ামত ও গুরুত্ব বহন করে। নতুন একটি অবস্থার সৃষ্টি হলো, এটি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে নতুন একটি নেয়ামত।
هُوَ الَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ مَا قَضَى اللهُ بِمُؤْمِنٍ قَضَاءً إِلَّا كَانَ خَيْرًا له
রাসূলে কারীম সা. আল্লাহর কসম করে বলছেন, যার হাতে আমার জান, তার কসম করে বলছি, مَا قَضَى اللهُ بِمُؤْمِنٍ قَضَاءً 'মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলা এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি করেন না, যা অর্জন মঙ্গলজনক নয়।'
আর এমনটিও দেখা যায় যে, একজনকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, কেমন আছ?
উত্তরে বলে, 'আল হামদুলিল্লাহ।'
আর যে ব্যক্তি বেশি ঈমানদার নয়,
সে 'আল হামদুলিল্লাহ' বলে তাকাল্লুফান (লৌকিকতা স্বরূপ), বলা আরকি।
আর যে আসল ঈমানদার তথা যাকে আল্লাহ তাআলা ইলম দিয়েছেন, সে ওই 'আল হামদুলিল্লাহ' কষ্ট করে বা বানিয়ে বলে না; বরং তার মনের ভেতর থেকে বলে, 'আল্লাহ তাআলা তাকে বহু বড় নেয়ামত দান করেছেন।'
আবার যখন অবস্থা ভালো হয়ে যায়, তখন তাকে যদি আবার জিজ্ঞাসা করা হয় যে, 'কেমন আছেন?'
সে তখনও বলে, 'আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
' যে বুঝে না, সে অবাক হয়ে যাবে যে, রোগ যদি নেয়ামত হয়, তবে সুস্থতা তো মুসিবত। আর সুস্থতা যদি নেয়ামত হয় তবে রোগ মুসিবত।
মানুষের বাহ্যিকভাবে এটাই মনে হবে জাহালতের কারণে। তবে আল্লাহ তাআলা যাকে ইলম দান করেছেন, তার নিকট রোগও নিয়ামত।
রোগে মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু আহকাম আছে। আমি যদি সেগুলোকে চিনতে পারি আর আহকামগুলো আদায় করতে পারি, তবে তার মাঝে বড়ই ফায়দা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু আহকাম রয়েছে, আমি যদি সেগুলোকে চিনতে পারি আর আদায় করতে পারি, তবে তার মাঝেও বড় ফায়দা। কোনটি বেশি আর কোনটিতে কম, বোঝাই মুশকিল।
এক ব্যক্তি কঠিন অভাবে আক্রান্ত হলো। জিজ্ঞাসা করা হলো, কেমন আছেন?
বললো, 'আল হামদুলিল্লাহ।' আল্লাহ তাআলা এতে বড় ফায়দা রেখেছেন।
আল্লাহর হুকুম যদি এসে যায়, তবে অভাব যেমন প্রতিরোধ করা যাবে না, ঠিক তেমনিভাবে প্রাচুর্যও যদি এসে যায়, তবে তাও প্রতিরোধ করা যাবে না। প্রাচুর্য আসার পরও যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কেমন আছেন?
তখনও বলে 'আল হামদুলিল্লাহ।'
আলহামদু বলা কমেনি, হালকাও হয়নি।
গভীরভাবে সে মন থেকে বলছে।
কারণ, আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম দিয়েছেন।
অভাবের মাঝে যেমন সে ফায়দা দেখছে, প্রাচুর্যের মধ্যেও সে ফায়দা দেখছে। আর সে এর উপযুক্ত ব্যবহার যাবে।
প্রাচুর্যে কি করতে হয়, সে তাও জানে; রোগে কি করতে হয়, সে তাও যাবে; অভাবে কি করতে হয়, তাও জানে; সম্পদের সময় কি করতে হয়, তাও জানে; লাঞ্ছনার সময় কি করতে হবে, তাও জানে। এজন্য প্রত্যেকটি সময়ের জন্য হুকুম রয়েছে, যা আল্লাহর রহমত বয়ে আনে।
এজন্য আল্লাহর হুকুম মানা যে, আমি এটি আদায় করির মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে অনেক বড় প্রতিদান পাবো। মঙ্গল থেকে, ফায়দা থেকে কোনোটিই খালি নয়।
এজন্য প্রত্যেক অবস্থায়ই তার জন্য রহমত।
যে জিনিস দুনিয়াদাররা দুনিয়ার বিষয়ে দেখে, যার নিকট জ্ঞান নেই, দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান নেই, সে মনে করবে তুচ্ছ জিনিস। আর যার নিকট বিজ্ঞান আছে, জ্ঞান আছে, প্রযুক্তি আছে, সে মনে করবে, এটি বহু বড় সম্পদ।
অন্যান্যরা শুধু দেখে, মানুষ তাদের সম্পদে দিনকে দিন ধনী হয়ে যাচ্ছে। মূলত তার কৃতিত্ব হচ্ছে তারা জিনিসগুলোকে চেনে আর এর সঠিক ব্যবহার করতে পারে।
একজন দক্ষ ব্যবসায়ী... তার অবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসবে; কিন্তু তার লাভ-ই লাভ হবে। বহু বছর আগে, ষাটের দশকের দিকে... যখন পেট্রোল কোম্পানিগুলো আলজেরিয়াকে নিজেদের দখলে নিল।
এর ফল স্বরূপ, হঠাৎ করে ইউরোপ-আমেরিকাতে পেট্রলের উপর বিরাট আঘাত পড়লো, আগে যা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তো আংশিকভাবে কিছুটা তারা নিয়ন্ত্রণহারা হলো, এতে পেট্রলের মূল্য বৃদ্ধি পেল। এই পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়াতে বড় বড় পেট্রোল কোম্পানিগুলো বিশাল অংকের লাভ করলো। আবার হঠাৎ করে পেট্রলের দাম পড়ে গেল। তো পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়াতে সেই কোম্পানিগুলো অনেক লাভ করেছিল, আবার দাম কমে যাওয়াতেও তারা আবার লাভ করলো। ওর লাভই লাভ হলো। দাম বেড়ে যাওয়াতে লাভ হলো, আবার দাম কমে যাওয়াতেও লাভ হলো।
তো একজন ব্যবসায়ী, যে ব্যবসা করতে জানে, দাম বাড়লেও লাভ করে, আবার দাম কমে গেলেও লাভ তুলে নিতে পারে। কথায় আছে, দক্ষ নাবিকের জন্য সব বাতাসই ভালো। ও তার পালকে শুধু ঘোরায়। বাতাস যেদিকে যায়, পাল ওভাবেই ধরে বসে থাকে। বাতাস বিভিন্ন দিক থেকে আসতে থাকে আর সে তার সৎব্যবহার করে। অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছে যায়, সফলতা লাভ করে।
কিছু অসৎ মন্ত্রী সম্পর্কে দেখা যায়, ওই সরকারেরও মন্ত্রী, এ সরকারেরও মন্ত্রী... মাঝখানে শুধু অল্পকদিন বাদ থাকে, তারপর আবারও মন্ত্রীত্বের হাল ধরে। অর্থাৎ, ঠিকমতো পাল ধরা জানে। তো দুনিয়ার মানুষ যে রকম বিভিন্ন অবস্থা থেকে ফায়দা নিয়ে নেয়, আল্লাহ তাআলা আম্বিয়ায়ে আ.কে পাঠিয়েছেন, প্রত্যেক অবস্থা আল্লাহ তাআলার কোনো না কোনো হুকুমগুলো বহন করে বসে আনে। এই হুকুমগুলোকে চেনা আর এই হুকুমগুলো থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য।
কিছু কিছু জিনিস যেগুলো আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাই, যেমন ভোর হয়েছে, ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে... এগুলো সব মুসলমানই চেনে। সূর্য অস্ত গিয়েছে অর্থাৎ মাগরিবের সময় হয়েছে—এটিও সব মুসলমান চেনে।
যোহর-আসরও মানুষ সূর্য দেখে চেনে। কিন্তু শুধু যোহর-আসর নয়, প্রতিটি ঘণ্টায়, প্রতিটি মিনিটে, প্রত্যেক সেকেন্ডে, প্রত্যেক সেকেন্ডের ক্ষুদ্রতম অংশে, প্রত্যেক মুহূর্তে... প্রত্যেক মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার নতুন আহকাম রয়েছে।
كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأْن
উলামায়ে কেরাম বলেন, এখানে يوم এর অর্থ প্রচলিত অর্থে 'দিন' নয়, বরং 'সময়ের ক্ষুদ্রতম অংশ।'
আল্লাহ তাআলা নিজেকে নতুন করে আবার প্রকাশ করেন।
আল্লাহ তাআলার প্রকাশের মধ্যে বড় উল্লেখযোগ্য প্রকাশ হলো, আর রাহমান, আর রাহীম।
এই দুই নামের বড় বেশি উচ্চারণ হয়।
আর রাহমান, আর রাহীম।
আল্লাহ তাআলা প্রতি মুহূর্তে নিজেকে আবার প্রকাশ করেন বান্দার কাছে।
যে বান্দা চিনতে পারে, ওই মুহূর্তে রাহমান কোন জিনিসের মধ্য থেকে আসছে, ওই মুহূর্তের রাহীম কোন অবস্থার ভেতর থেকে আসছে, সে ওগুলোকে ভালো করে ধরতে পারবে আর নিজের জন্য ফায়দা নিতে পারবে।
সূর্যকে তো সবাই দেখে, কিন্তু সূর্যকে দিয়ে সবাই কাজ করাতে পারে না। কাজ করাতে পারার জন্য নিজের মধ্যে কিছু প্রযুক্তির সম্যগতা রাখা দরকার। যেমন, সোলার প্যানেল, ইত্যাদি।
যার কাছে উপযুক্ত এই প্রযুক্তি নেই, সূর্য যদিও আছে কিন্তু সূর্যকে দেখে নিজের কোনো ফায়দা নিতে পারে না প্রযুক্তি না থাকার কারণে। ঠিক সেরকম, আল্লাহ তাআলার রাহমান, আর রাহীমের মতো সিফাতগুলো প্রতি মূহূর্তে সব মাখলুকাতের দিকে ধাবিত হয়। যার মধ্যে ওই ইলম আছে, সে এগুলো থেকে ফায়দা নিতে পারবে। আর যার কাছে ইলম নেই, সে ফায়দা নিতে পারবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইলম দিয়েছেন, আল্লাহর পথে বের হয়ে ওই ইলম অর্জন করির জন্য। কিন্তু ওই ইলম থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, আমার কাছে আমার উপযুক্ত প্রস্তুতি বা প্রযুক্তি থাকা দরকার। কৃষির প্রযুক্তি কি? জোয়াল-লাঙ্গল । গরু পেলাম; কিন্তু জেয়াল নেই, লাঙ্গল নেই, তো গরু থাকলেও কিছু করতে পারবো না। তাই জোয়াল-লাঙ্গল ও প্রয়োজন আছে।
হালাতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা ফায়দা রেখেছেন। ফজরের ওয়াক্ত আমি চিনলাম, কিন্তু নফসের উপর যদি আমার নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে আমি ফজরের নামাযও পড়তে পারবো না, হালাত থেকেও কোনো ফায়দা নিতে পারবো না।
আমি দেখবো, ভোর হয়েছে; কিন্তু ওখান থেকে কোনো ফায়দা নিতে পারবো না। সূর্য অস্ত গিয়েছে, চিনলাম।
অর্থাৎ, এখন মাগরিবের ওয়াক্ত হয়েছে, নামায পড়া উচিত। উচিত তো বুঝলাম, কিন্তু নিজের নফসের উপর দখল না থাকার কারণে সেগুলো থেকে ফায়দা নিতে পারলাম না।
দুনিয়ার জগতে উপযুক্ত প্রযুক্তি না থাকার কারণে সেগুলো থেকে ফায়দা নেওয়া যাচ্ছে না। জানি সূর্যের শক্তি আছে, কিন্তু আমি কিছু করতে পারছি না।
ওরকমই প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর আহকাম আছে। কিছু কিছু যদিও চিনতে পারি, কিন্তু যে চিনতেও পারে না, সে বেশিরভাগ থেকে ফায়দা নিতেও পারে না।
আর যে আমল করার জন্য প্রস্তুত, আল্লাহ তাআলা তাকে বাকিগুলো চেনার তাওফিক দান করেন। তো যে চিনতে পারে, করতে পারে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমল করার তাওফিক দান করেন।
আর যে আমল করতে পারে, আল্লাহ তাআলা তাকে ফায়দা নেওয়ার তাওফিক দান করেন। যে ফজরের নামায পড়তে পারে এবং আদায় করে থাকে, ধীরে ধীরে আল্লাহ তাআলা তাকে ইশরাকের জ্ঞান দিবেন; তাহাজ্জুদের জ্ঞান দিবেন; তাকে ইলম দিবেন।
যে ফজরের নামায চেনে কিন্তু পড়েই না, সে তাহাজ্জুদের ইলমও পাবে না আর ইশরাকও পড়তে পারবে না। জানবেই না যে, কখন তাহাজ্জুদের সময় হলো, আবার কখন ইশরাকের সময় হলো, কখন চাশতের সময় হলো। ওদিকে তার খেয়ালই যাবে না।
কিন্তু যে ফজরের ইহতেমাম করেছে, তাকে আরো আগ্রহী করির জন্য আল্লাহ তাআলা তার জন্য পরবর্তীতে আরো ধাপ খুলে দিবেন।
তাহাজ্জুদের ইলম তাকে দান করবেন। ইশরাকের ইলম তাকে দান করবেন। যে যেভাবে অগ্রসর হতে থাকে, আল্লাহ তাআলাও তাকে সেভাবে এগিয়ে দিবেন।
মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
এক হলো, যাদেরকে দুনিয়াদার বলা হয়।
দুনিয়াদার হলো, যারা দুনিয়ার জিনিসকে চিনে আর প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো থেকে উপকৃত হয়।
দ্বিতীয় ভাগ হলো, দীনদার।
দীন হলো, আল্লাহ তাআলার আহকামকে চেনা। আল্লাহ তাআলা আহকামকে চেনার মানে হলো হালাতকে চেনা।
ফজর নামায চেনার মানে হলো ভোরের ওয়াক্তকে চেনা।
এজন্য শরীয়তের আহকামগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়াক্তকে চেনা।
উলামায়ে কেরাম বলেন, নামাযের হুকুমগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হুকুম রয়েছে, যে ওগুলো চিনতে পারবে, সে পুরো দীন বুঝতে পারবে।
নামাযের মধ্যে যেমন ওয়াক্ত চেনার হুকুম, ঠিক তেমনিভাবে পুরো জীবনব্যাপী কিছু ওয়াক্ত চেনারও হুকুম রয়েছে।
ওয়াক্ত চেনা মানে কি?
এখন নামায পড়ার সময় কি না?
হলো কি হলো না?
ঠিক যেরকম নামাযের ব্যাপারে ওয়াক্ত চেনার বিষয় রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে সমগ্র জীবনের জন্য ওয়াক্ত চেনার হুকুম রয়েছে।
যে যতবেশি ওয়াক্তগুলোকে চিনতে পারবে আর তার হক আদায় করতে পারবে, আল্লাহ তাআলা প্রতি মুহূর্তে তাকে ফায়দা দিবেন।
যে শুধু ফজরের ওয়াক্ত চিনলো আর ফজরের নামায পড়লো, আল্লাহ তাআলা তাকে ফজরের ওয়াক্ত থেকে উপকৃত করবেন। আর যে প্রতি মুহূর্তকে চিনলো, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি মুহূর্ত থেকে ফায়দা দিবেন। কিন্তু এর জন্য তাকে সময়টি চিনতে হবে।
এই হুকুমগুলো চেনার জন্য, আল্লাহর পথে বের হয়ে আহকাম আদায় করির জন্য, তার নিজের ও নফসের উপর দখল প্রয়োজন।
যে রকম বললাম, দুনিয়ার জিনিসের জন্য প্রযুক্তি প্রয়োজন, জানা থাকা প্রয়োজন... খড়ি রয়েছে; কিন্তু চুলাতে যদি না জ্বালানো যায়, তাহলে সামান্য রান্নাও করতে পারবে না।
অথবা এত ব্যয়বহুল হবে যে, অনেক খড়ি নষ্ট করে শুধু একটি পদ রান্নাই হবে। যেমন, কারো গোশালায় গরু ছিল, দুধ দোহন করে পান করত। একদিন বাড়িতে আগুন লেগে অনেকগুলো গরু মরা গেলো, পুড়ে গেল; সে তো খুব ক্ষতিগ্রস্ত। তবে পুড়ে যেহেতু গিয়েছে, মরা গরু, এখন সে গরুগুলোর গোশত খেয়ে নিল। খেতে গিয়ে ভারি স্বাদ অনুভব করল। এ জীবনে সে এই প্রথম রান্না করা গোশত খেল। এর আগে শুধু কাঁচা দুধই পান করেছিল।
মজা যেহেতু পেয়েছে, খুব রসিকপ্রেমী মানুষ ছিলেন, তো মাঝে মাঝে -কারণ রোজ রোজ তো সম্ভব নয়- যখন গোশত খেতে মন চাইতো, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিত। একটি গরু যে রান্না করা যায়, সে এটি জানতোই না। কারণ চুলা আবিষ্কার হয়নি।
রান্না আবিষ্কার হয়নি, চুলা আবিষ্কার হয়নি, প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়নি। যার জন্য একটি মুরগি রান্নার জন্যও পুরো বাড়িতে আগুন লাগাতে হতো। পরবর্তীতে যখন আবিষ্কার হলো, রান্না করা অনেক সহজ হয়ে গেল।
আমাদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য, যে যতবেশি আদায় করতে পারবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য ততবেশি আমলের ইলম খুলে দিবেন। বিভিন্ন সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম আমলগুলোর সন্ধান পাওয়া যাবে, সেগুলো সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞানই ছিল না।
এরও যে ফায়দা পাওয়া যেতে পারে, সাওয়াব পাওয়া যেতে পারে, পথেঘাটে চলতে ফিরতে লাখো কোটি সাওয়াবের সুযোগ আছে—এটি তার জানাই ছিল না। যখন সে আল্লাহর হুকুমগুলো আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার সামনে এই পথগুলো খুলে দিবেন। এজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে আহকামকে চেনা আর আহকামের হক আদায় করা শিখতে হবে।
আবারও বলছি, যেরকমভাবে দুনিয়ার মানুষ জিনিসকে চেনে আর তার থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করে, তো জিনিসকে চেনা আর প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার নাম যেমন দুনিয়া।
ঠিক সেরকমভাবে আহকামকে চেনা আর নিজের নফসকে কোরবানির মাধ্যমে সে আহকাম থেকে ফায়দা নেওয়ার নাম দীন।
আর প্রতি মুহূর্তে প্রত্যেক ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তাআলার হাজারো আহকাম থাকে। এ দেশে যেমন প্রতি মুহূর্তে নানান ধরণের সম্পদ রয়েছে, অন্য দেশেও আছে।
ঠিক তদ্রূপ এদেশেও ফজরের ওয়াক্ত হয়, মাগরিবের ওয়াক্ত হয়, আরো প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছুর ওয়াক্ত হচ্ছে।
শুধু ফজরের সময় ফজরের ওয়াক্ত হলো, আর যোহরের সময় যোহরের ওয়াক্ত হলো আর মাঝখানে কোনো ওয়াক্তই হলো না, তা নয়। এমন কোনো দুটি মুহূর্ত নেই, যেই দুই মুহূর্তের মধ্যে অন্যকোনো আহকাম নেই।
যে কোনো দুই ওয়াক্তের মাঝে অন্য আরেকটি আহকামের ওয়াক্ত আছে। যে এই দুই ওয়াক্তকে চিনবে, আর তার থেকে ফায়দা নিতে জানবে, তার জন্য মাঝখানে যে আরেক ওয়াক্ত আছে, আল্লাহ তাআলা তাকে সে ওয়াক্ত চেনার তাওফিক দিবেন। এভাবে সে ফায়দা নেওয়া শিখবে।
এজন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে আল্লাহর আহকামকে চেনা শিখি। আর চেনার রাস্তা হবে জানা বিষয়ে আমল করির মাধ্যমে। যেটা চিনতে পেরেছি, ওটা যদি আদায় করি, তবে আল্লাহ তাআলা পরবর্তীটা চেনাবেন। যে ফজরের নামায পড়ে আল্লাহ তাআলা তাকেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত চেনার তাওফিক দান করেন। যে ফজরের নামাযই পড়ে না, সে তাহাজ্জুদের নামায চিনতেই পারবে না।
এজন্য আল্লাহর পথে বের হই আর আল্লাহ তাআলার আহকামকে চিনি। আহকামকে চেনা আর ওয়াক্ত চেনা প্রায় এক জিনিস।
নামাযের সময় সম্পর্কে যেমন বলা হয়, ওয়াক্ত চেনা। ওয়াক্ত চেনা মানে কি? নামায আদায় করতে জানা। কেমন করে নামায আদায় করবো? কোন নামায আদায় করবো? 'সে ফজরের ওয়াক্ত চেনে', ফজরের ওয়াক্ত চেনার মানে হলো, ফজরের নামাযের মাসআলা মাসায়েল জানা এবং এটা আদায় করা।
মাগরিবের ওয়াক্ত চেনার মানে হলো, মাগরিবের নামায কিভাবে পড়তে হয়, কত রাকাত.. এগুলো জানা এবং আদায় করা। ঠিক তেমনি, যেকোনো মুহূর্তের আহকাম চেনার মানে হলো, ওই মুহূর্তের আহকামগুলোকে চেনা এবং এগুলো আদায় করা।
এজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে ওয়াক্তকে চিনি এবং তার থেকে ফায়দা নিই। সবাই নিয়ত করি, ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর পথকে চিনবো, এবং এর থেকে ফায়দা নিবো।
**সমাপ্ত**
**বয়ানটির ইউটিউব লিংক:**
https://www.youtube.com/watch?v=kpG_mBFas10
---
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
দ্বীন ও দুনিয়া
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] দুনিয়ার সব মানুষের কাজকর্ম ও চেষ্টা-পরিশ্রমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—এক...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
২২৬৩
প্রত্যাশা-হিসাব ও তাওয়াক্কুল-বরকত
"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও ক...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৫৭৯
ফ্রান্সে তাবলীগের কাজের সুচনা
৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বাদ ঈশা মোজাকারা, মানিকদি বাজার মসজিদ, ঢাকা আল্লাহ তাআলার বড় মেহেরবানি যে, আল...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
৩১১৭
দ্বীনের মেহনতের ফায়দা নাকি দুনিয়া শিকারের ধান্দা
একজনের অসুখ হয়েছে, আর কিছুদিন পরপর সে তার নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থার দিকে তাকায়। শক্তি বাড়ছে কিনা,...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৫০৮
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন