প্রবন্ধ
একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে (৯০তম পর্ব) – ফজর ও মাগরিবে শাহাদাহ!
২৯ জুলাই, ২০২৪
৬২৬৮
০
কালিমায়ে শাহাদাহর গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। কালিমায়ে শাহাদাহ হল ইসলামে প্রবেশের দ্বার। কালিমায়ে শাহাদাহ ছাড়া ইসলামে প্রবেশ করা যায় না। নবীজি (ﷺ) বিভিন্ন উপলক্ষ্যে কালিমায়ে শাহাদাহ পড়তেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا رضي الله عنه إِلَى اليَمَنِ، فَقَالَ: ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
নবীজি (ﷺ) মু‘আয বিন জাবালকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন,
-ইয়ামানবাসীকে বলবে, তারা যেন সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ (উপাস্য) নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল।
তারা যদি এ (শাহাদাতের) বিষয়ে আনুগত্য করে, তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্দে যাকাত ফরয করেছেন। ধনীদের থেকে সংগ্রহ করে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হবে (বুখারী ১৩৯৫)।
.
কালিমায়ে শাহাদাহ পাঠ করার পর থেকেই একজন্য ব্যক্তির উপর, আল্লাহর পক্ষ থেকে, নানা দায়িত্ব বর্তাতে শুরু করে। এটার যেমন গুরুত্ব, সওয়াব প্রতিদানও তেমন অপরিমেয়। আবু যর রা. বলেছেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ্রمَنْ قَالَ فِي دُبُرِ صَلَاةِ الفَجْرِ وَهُوَ ثَانٍ رِجْلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَتَكَلَّمَ:
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের পর, হাঁটু মোড়া অবস্থাতেই, কারো সাথে কথা বলার আগে,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনও উপাস্য নেই। তাঁর কোনও শরীক নেই। সর্বরাজত্ব তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও তার। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। আর তিনিই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান
عَشْرَ مَرَّاتٍ، كُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ، وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ، وَكَانَ يَوْمَهُ ذَلِكَ كُلَّهُ فِي حِرْزٍ مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ، وَحُرِسَ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَلَمْ يَنْبَغِ لِذَنْبٍ أَنْ يُدْرِكَهُ فِي ذَلِكَ اليَوْمِ إِلَّا الشِّرْكَ بِاللَّ
দশবার করে পড়বে, তার জন্যে দশটি হাসানাহ (পূন্য) লেখা হবে, তার দশটি গুনাহ মাফ করা হবে, তার দশটি মর্যাদা বুলন্দ করা হবে। পুরোটা দিন সে সমস্ত অপ্রীতিকর বিষয় থেকে সুরক্ষিত থাকবে। শয়তানের অনিষ্ট থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। সেদিন আল্লাহর সাথে শিরিকের গুনাহ ছাড়া, আর কোনও গুনাহ তা কাছে ঘেঁষতে পারবে না (তিরমিযী ৩৪৭৪)।
.
আরেক হাদীসে আবু আইয়ূব আনসারী রা. বরাতে অতিরিক্ত একথাও আছে, নবীজি (ﷺ) বলেছেন,
وَمَنْ قَالَهُنَّ إِذَا صَلَّى الْمَغْرِبَ دُبُرَ صَلَاتِهِ فَمِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ
যে ব্যক্তি (হুবহু) ওই বাক্যগুলো (একই পন্থায়) মাগরিবের পর পড়বে, সকাল পর্যন্ত অনুরূপ উপকার লাভ করবে (ইবনু হিব্বান ২০২৩)।
.
এমন এক দু‘আ শিরক ছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে। দু‘আটা পড়ার অর্থ, আমি একটা নতুন দিনকে, একটা নতুন রাতকে পরিপূর্ণ তাওহীদের উপর থেকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি। তাওহীদের উপর থাকা সবচেয়ে বড় ইবাদত। তাওহীদ না থাকলে, কোনও ইবাদতই থাকবে না। আর বড় কথা, আমি ‘কালিমাটা’ পড়ার মাধ্যমে, শয়তানের চক্রান্ত থেকে বেঁচে যাবো। চব্বিশ ঘণ্টার নানা বিপদ থেকে আসমানী সুরক্ষা লাভ করব। এই কালিমা আমার জন্যে ‘বডিগার্ড’ হয়ে যাবে। শুধু কি ‘বডি’? আমলেরও ‘গার্ড’ হয়ে যাবে না? আমলনামাকে গুনাহমুক্ত রাখবে, এর চেয়ে বড় ‘গার্ড’ আর কি হতে পারে?
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
অসৎ আলেম ও পীর
সূরা আরাফের শেষ ভাগে আল্লাহ পাক উল্লেখ করিয়াছেন যে, সৃষ্টির আদিতেই সমস্ত মানবজাতিকে তিনি সতর্ক করিয়া...
নামায খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত
নামাযের গুরুত্ব ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামায। এটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। নামায ফরয...
সীরাতুন্নবী-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] দু'টি শব্দের সমন্বয়ে সীরাতুন্নবী শব্দটি গঠিত। একটি হল 'সীরাত' অপরটি 'আন...
কাছরাতে যিকির
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. আমার শায়খ। কেউ যখন তাঁর সামনে তারীফ করতেন তখন আস্তে করে মাথাটা নিচু করে ফে...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন