প্রবন্ধ
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোযা ভঙ্গের আধুনিক মাসায়েল
২৫৩৬
০
রোযা মুমিন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। অসুস্থ অবস্থায় অনেক সময় আমাদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বা ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফলে বর্তমানে এমন অনেক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন হয়েছে, যেগুলোর রোযা ভাঙা বা না ভাঙার বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। সমকালীন উলামায়ে কেরাম আধুনিক গবেষণার আলোকে বিভিন্ন চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোযার যে বিধানগুলো দিয়েছেন, তার একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো,
১. কান, চোখ ও নাকের চিকিৎসা
• কানে ড্রপ, তেল বা ওষুধ (Ear Drop): আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী কানের সাথে গলার সরাসরি সংযোগ নেই। তাই কানের পর্দা ঠিক থাকলে কানে ড্রপ বা ওষুধ দিলে রোযা ভাঙবে না। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৭; জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/১২৫)
• চোখে ড্রপ বা সুরমা (Eye Drop): চোখে ড্রপ বা সুরমা ব্যবহারে রোযা ভাঙবে না। এমনকি ওষুধের স্বাদ গলায় অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হবে না, কারণ চোখ রোযা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য প্রবেশদ্বার নয়। (সুনানে আবুদাউদ ২৩৭৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)
• নাকে ড্রপ বা স্প্রে (Nasal Drop/Spray): নাক দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে যাওয়ার পথ রয়েছে। তাই নাকে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করলে যদি তা গলায় বা পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়, তবে রোযা ভেঙে যাবে। এটি পরিহার করা উচিত।(জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/১২৭)
২. রক্ত পরীক্ষা ও রক্ত আদান-প্রদান
• রক্ত দেওয়া বা পরীক্ষা করা (Blood Test/Donation): শরীর থেকে রক্ত বের করলে বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোযা ভাঙবে না। তবে এত বেশি রক্ত দেওয়া মাকরূহ যার ফলে শরীর চরম দুর্বল হয়ে পড়ে। (সহীহ বুখারী ১৯৩৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৯৩১৯; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪২৫)
• শরীরে রক্ত গ্রহণ করা (Blood Transfusion): অসুস্থতার কারণে শিরায় রক্ত গ্রহণ করলে রোযা ভাঙবে না, কারণ এটি স্বাভাবিক প্রবেশপথ (মুখ বা নাক) দিয়ে প্রবেশ করছে না। (বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০)
৩. ইঞ্জেকশন, টিকা ও স্যালাইন
• ইঞ্জেকশন, টিকা ও ইনসুলিন: মাংসপেশিতে বা শিরায় ইঞ্জেকশন, টিকা বা ইনসুলিন নিলে রোযা ভাঙবে না। (ফাতাওয়া উসমানী ২/১৮১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/১২২)
• স্যালাইন (Saline): স্যালাইন নিলেও রোযা ভাঙবে না। তবে শুধু দুর্বলতা কাটানোর জন্য গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ। অসুস্থতার কারণে নিলে কোনো অসুবিধা নেই। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)
৪. শ্বাসকষ্ট ও হার্টের চিকিৎসা
• অক্সিজেন (Oxygen): সাধারণ অক্সিজেন নিলে রোযা ভাঙবে না। তবে অক্সিজেনের সাথে যদি কোনো ওষুধ মিশ্রিত থাকে, তবে রোযা ভেঙে যাবে। (রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী ২/১৭৯)
• নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitroglycerine): হার্টের রোগীরা জিহ্বার নিচে এই ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করলে রোযা ভাঙবে না, যদি না ওষুধের কোনো অংশ গলায় প্রবেশ করে।(ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৯)
• এনজিওগ্রাম (Angiogram): হার্টের এই পরীক্ষায় শিরার মাধ্যমে ক্যাথেটার ও রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়, এতে রোযা ভাঙবে না।
৫. বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Test)
• এন্ডোসকপি (Endoscopy): পাইপের মাথায় যদি কোনো ওষুধ বা পানি লাগানো না থাকে, তবে রোযা ভাঙবে না। কিন্তু সাধারণত লুব্রিকেন্ট বা পানি ব্যবহার করা হয়, তাই এটি রাতে করাই শ্রেয়। ওষুধ বা পানি থাকলে রোযা ভেঙে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/১২৬)
• ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি: পেটে ছিদ্র করে ক্যামেরা বা যন্ত্র প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না, যদি না ভেতরে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৮)
• সিস্টোসকপি (Cystoscopy): মূত্রনালীতে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে এই পরীক্ষা করলে রোযা ভাঙবে না। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৯)
• প্রক্টোসকপি (Proctoscopy): মলদ্বার দিয়ে এই পরীক্ষায় গ্লিসারিন বা পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয় যা ভেতরে রয়ে যেতে পারে, তাই এতে রোযা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৭)
৬. বিশেষ অঙ্গের চিকিৎসা
• মূত্রনালীতে ওষুধ ব্যবহার: পুরুষের মূত্রনালীতে ওষুধ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙবে না।
• যোনিদ্বারে ওষুধ ব্যবহার (Vagina): মহিলাদের যোনিপথে ওষুধ বা পরীক্ষার যন্ত্র প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না, কারণ এর সাথে পাকস্থলীর সরাসরি সংযোগ নেই। তবে সতর্কতার জন্য রাতে ব্যবহার করা উত্তম। (রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৯)
৭. দাঁতের চিকিৎসা
• দাঁত তোলা বা ওষুধ লাগানো: রোযা অবস্থায় দাঁত তোলা বা ওষুধ লাগানো জায়েয, তবে ওষুধ বা রক্ত যদি থুথুর সাথে গলার ভেতরে চলে যায়, তবে রোযা ভেঙে যাবে।
• দাঁত ফিলিং ও রুট ক্যানেল (Root Canal/Filling): এই চিকিৎসার সময় পানি বা ওষুধ গলায় যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। যদি কিছু গলায় না যায় তবে রোযা হবে, অন্যথায় রোযা ভেঙে যাবে। তাই এসব চিকিৎসা ইফতারের পর করা নিরাপদ। (আহসানুল ফাতাওয়া ১/১৯৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬)
৮. শ্বাসপ্রশ্বাস ও ঠাণ্ডাজনিত চিকিৎসা
• গরম পানির ভাপ (Steam) নেওয়া: গরম পানির বাষ্প বা ভাপ নিলে রোযা ভেঙে যাবে। কারণ বাষ্প একটি দেহবিশিষ্ট পদার্থ যা নাক বা মুখ দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছায়। এটি ইফতারের পর করা উচিত। (মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৬১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫)
• ইনহেলার (Inhaler) ব্যবহার: ইনহেলারের ওষুধ শ্বাসতন্তুর মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে, যা দেহবিশিষ্ট। তাই ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙে যাবে। নিয়মিত প্রয়োজন হলে পরে কাযা করতে হবে, আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে ফিদয়া দিতে হবে। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; রমযান আওর জাদীদ মাসায়েল পৃ. ১৬৬)
• নেবুলাইজার (Nebulizer): নেবুলাইজারের মাধ্যমে তরল ওষুধ বাষ্প আকারে ফুসফুসে প্রবেশ করানো হয়, যা রোযা ভঙ্গের কারণ।
• নাক দিয়ে ওষুধ শোঁকা (Vicks/Smelling): যদি ওষুধের তীব্র ঘ্রাণ বা স্বাদ অনুভূত হয় তবে রোযা ভাঙবে না। তবে ওষুধের কোনো সূক্ষ্ম কণা বা উপাদান যদি নাক দিয়ে গলায় চলে যায়, তবে রোযা ভেঙে যাবে।
৯. অ্যানেস্থেসিয়া বা অজ্ঞান করা
• লোকাল ও স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া: শরীরের নির্দিষ্ট অংশ বা নিম্নাংশ অবশ করার জন্য যে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, তাতে রোযা ভাঙবে না। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০; রোযা কে মেডিকেল মাসায়েল পৃ. ৬৫)
• জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া: পুরো শরীর অজ্ঞান করার ক্ষেত্রে যদি মুখ দিয়ে নল ঢুকিয়ে ওষুধ দেওয়া হয়, তবে রোযা ভেঙে যাবে।
১০. পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট
• ইমেজিং টেস্ট (X-ray, MRI, CT Scan, ECG, ECO): এসব পরীক্ষায় কোনো ওষুধ শরীরের ভেতরে (পাকস্থলীতে) প্রবেশ করানো হয় না, তাই এতে রোযা ভাঙবে না। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৮)
• আলট্রাসনোগ্রাম: এটি শরীরের উপরিভাগে করা হয়, তাই এতে রোযা ভাঙবে না।
• ইটিটি (ETT): হাঁটার পরীক্ষার সময় যদি নল দিয়ে কোনো ওষুধ বা পানি দেওয়া হয় তবে রোযা ভেঙে যাবে। তবে শুধু অক্সিজেন দিলে রোযা ভাঙবে না।
• মলদ্বারে যন্ত্র প্রবেশ করানো: পরীক্ষার জন্য শুকনো যন্ত্র প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না, কিন্তু যন্ত্রের সাথে ওষুধ বা পানি থাকলে রোযা ভেঙে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৭; ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৬/৪১১)
১১. নারী রোগ ও প্রজনন সংক্রান্ত চিকিৎসা
• গর্ভপাত (M.R. / D&C): গর্ভপাত করানোর পর যে রক্তক্ষরণ হয় তা হায়েয বা নেফাস হিসেবে গণ্য। তাই এম.আর বা ডি এন্ড সি করলে রোযা ভেঙে যাবে। (আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪৭০; ফাতহুল কাদীর ১/১৬৫)
• কপার টি (Copper-T) স্থাপন: জরায়ুর মুখে কপার-টি স্থাপন করলে রোযা ভাঙবে না। তবে স্থাপনের পর সহবাস করলে কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে।
• সিরোদকার অপারেশন: অকাল গর্ভপাত রোধে জরায়ুর মুখে সেলাই দিলে রোযা ভাঙবে না।
১২. জটিল অস্ত্রোপচার ও সার্জারি
• মস্তিষ্কে অপারেশন: মস্তিষ্কের অপারেশনে ওষুধ ব্যবহার করলেও রোযা ভাঙবে না, কারণ মস্তিষ্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোনো পথ নেই। (মাজাল্লাতুল মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী ২/৩৬৫; যাবিতুল মুফাততিরাত পৃ. ৫৭)
• কিডনি ডায়ালাইসিস: ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত শোধন করে পুনরায় শরীরে প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না। (ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৮, ৩০০)
• সাধারণ সার্জারি: পাকস্থলী ব্যতীত শরীরের অন্য কোথাও অপারেশন করলে এবং সেখানে পাকস্থলী পর্যন্ত কোনো পথ না থাকলে রোযা ভাঙবে না। তবে পাকস্থলীতে অপারেশন বা ভেতরে ওষুধ প্রবেশ করালে রোযা ভেঙে যাবে।
১৩. বিশেষ ওষুধ ও সাপোজিটরি
• সাপোজিটরি (Suppository) ও ডুশ: মলদ্বার দিয়ে সাপোজিটরি বা কোনো তরল ওষুধ প্রবেশ করালে রোযা ভেঙে যাবে, কারণ এটি সরাসরি পেটের ভেতরে যায়।(ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০২; মাজাল্লাতুল মাজমাইল ইসলামী ২/৩৪৪)
• মূত্রনালীতে ওষুধ: পুরুষ বা মহিলার মূত্রনালী দিয়ে ওষুধ বা যন্ত্র প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না।(আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৯; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৭)
১৪. দীর্ঘমেয়াদী রোগ ও রোযা (সতর্কতা)
• কিডনি রোগ: কিডনি রোগীদের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের পরামর্শে রোযা রাখতে হবে। যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের জন্য রোযা না রাখার অবকাশ আছে, পরবর্তীতে তারা কাযা বা ফিদয়া আদায় করবেন। (ফাতাওয়াল লাজনাহ ১০/১৮৩; ফিকহুল মুসলিম পৃ. ১৯১)
• গ্যাস্ট্রিক ও আলসার: সেহরি ও ইফতারে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে এমন ওষুধ খেয়ে গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা রোযা রাখতে পারেন। তবে অসহ্য ব্যথা হলে রোযা ভাঙার অবকাশ আছে।
• ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন নিতে পারেন এবং রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন, এতে রোযা ভাঙবে না। তবে সুগার কমে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হলে রোযা ভেঙে ফেলা জায়েয।
সারকথা, শরীরের স্বাভাবিক প্রবেশপথ (যেমন: মুখ, নাক, মলদ্বার) দিয়ে কোনো কিছু ভেতরে গেলে রোযা ভেঙে যায়। কিন্তু শিরা, উপশিরা বা চামড়ার লোমকূপ দিয়ে কিছু প্রবেশ করলে সাধারণত রোযা ভাঙে না। (তথ্যঋণ : রোজেকে মেডিক্যাল মাসায়েল, রমজানের আধুনিক মাসায়েল, রোজেকে মাসায়েল কা এনসাইক্লোপিডিয়া)
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় কখন শুরু? : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর
ভূমিকা মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد! সময়মতো নামায আদ...
মাহে রমযান কুরআন ও তাকওয়ার পথে অগ্রসর হওয়ার মৌসুম
বছর ঘুরে আবারো বিশ্বের মুসলমানদের দোরগোড়ায় উপস্থিত হয়েছে রমযানুল মোবারক। রহমত ও মাগফিরাত , সহমর্মিতা...
রমযানুল মুবারকের তোহফা গ্রহণ করি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে
...
ফযীলতপূর্ণ যিলহজ্ব মাস:
হিজরী বর্ষের সর্বশেষ মাস যিলহজ্ব। বড়ই ফযীলত পূর্ণ মাস এটি। ‘আশহুরে হুরুম’ তথা ইসলামের সম্মানিত চার ম...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন