প্রবন্ধ
রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন
৪০৯০৬
০
রমযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। মুমিন
বান্দার ইবাদতে ভরা বসন্তের মাস। এ মাসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত হলো সিয়াম
বা রোযা। তাই এ মাসকে ‘শাহরুস-সিয়াম’ বা রোযার মাস বলা হয়। তাছাড়া এ মাসকে কুরআনের
মাসও বলা হয়। কারণ এ রমযান মাসেই আল্লাহ তায়ালা মানব
জাতির হিদায়াতের জন্য কুরআনুল কারীম নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
شَهۡرُ
رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ.
রমযান মাস- যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য (আদ্যোপান্ত) হিদায়াত। -সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৫
কুরআন মুমিনের প্রতি মুহুর্তের অনুষঙ্গ। তথাপি রমযানের সাথে কুরআনের রয়েছে নিবীড় সম্পর্ক । তাই রমযান মাসে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি বিষয় হচ্ছে আলকুরআনুল কারীম। তাহলে মৌলিকভাবে আমরা দু’টি বিষয় রমযানের জন্য ধরে নিতে পারি। সিয়াম ও কুরআন। এ দু’টি বিষয়ের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য ফুটিয়ে তোলা এ প্রবন্ধের মূল আলোচনা নয়। বরং এর হক আমরা কিভাবে আদায় করতে পারি, কার্যকর কি কি পদক্ষেপ আমরা নিতে পারি সেটাই মূল আলোচনার বিষয়। সহজ কথায় রমযান ও সিয়ামের আদর্শ রুটিন।
নিম্নোক্ত তালিকা লিখিত আকারে নম্বর হিসেবে
লম্বা মনে হলেও এ কাজগুলো আমরা সাধারণত নিয়মিত করে থাকি। কাজগুলো যেন যথাযথভাবে হয়
এ জন্যই তালিকা দেওয়া ও রুটিন আকারে পেশ করা। লিখিত একটি রুটিন থাকলে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা
অনেকাংশে বেড়ে যায়। জনৈক গবেষকের বক্তব্য, পঁচিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ কাজ নিশ্চিত হয়ে
যায় শুধু লেখার দ্বারা। তাই আবেদন থাকবে তালিকা ও রুটিন সামনে রেখে আমলগুলো করার চেষ্টা
করা।
পূর্ব কথা
যে কোন কাজ সফলতার সাথে করার পূর্বে মৌলিক
তিনটি কাজ করা অতীব জরুরি।
১. পরামর্শ। (আমাদের এই লেখা পরামর্শের পর্যায়ে
ইনশাআল্লাহ।)
২. দৃঢ় সিদ্ধান্ত। যা নিজ দায়িত্ব।
৩. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা।
এর প্রমাণ হিসেবে আমরা পেশ করতে পারি কুরআনুল
কারীমের আয়াত। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَشَاوِرۡهُمۡ
فِي ٱلۡأَمۡرِۖ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ
يُحِبُّ ٱلۡمُتَوَكِّلِينَ.
...আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতঃপর তুমি যখন (কোন বিষয়ে) মনস্থির করবে, তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুল-ভরসাকারীদেরকে ভালোবাসেন। -সূরা আলে ইমরান (৩), আয়াত নং ১৫৯
তাই আমাদেরকে পরামর্শ করতে হবে, মনস্থির করে দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং আল্লাহর উপরই শতভাগ নির্ভর করতে হবে।
কথা আর লম্বা না করে মূল আলোচনা চলে যাচ্ছি।
রমযানের আমলসমূহ আমরা নিম্নবর্ণিত নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে করতে পারি।
ধারাবাহিক রুটিন
১. শা’বান মাসের উনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায়
চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখে দোয়া পড়া। দোয়াটি এই-
২. চাঁদ দেখে মাগরিবের নামায আদায় করা।
৩. খুব ভাল ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাবীর
নামায আদায় করা। (তারাবীহ বিষয়ে আমরা আরও বিস্তারিত আলোচনা একটু পরে করব ইনশাআল্লাহ)।
৪. তারাবীহ নামায আদায় করার পর যত দ্রুত
সম্ভব ঘুমিয়ে পড়া। দশটা থেকে সাড়ে দশটা সর্বোচ্চ এগারটার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করা।
সুন্নাহসম্মত প্রস্তুতি নিয়ে তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত, দোয়া কান্নাকাটি ও সাহরী খাওয়ার
নিয়ত মাথায় রেখে ঘুমানো।
৫. রাত চারটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে যাওয়া।
৬. ঘুম থেকে উঠে ওযু করে- তাহাজ্জুদ আদায়
করা। সম্ভব হলে একটু তেলাওয়াত করা। আল্লাহর নিকট দোয়া কান্নাকাটি করা। নিজের যাবতীয়
প্রয়োজন আল্লাহর নিকট পেশ করা। রমযানে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম
এই তাহাজ্জুদ। তাহাজ্জুদ এমন একটি নফল নামায যার দ্বারা অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। আল্লাহ
তায়ালা স্বয়ং ডেকে ডেকে প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা শুনেন। প্রয়োজন পূরণ
করেন এবং সমস্যা দূর করেন। কোন ঈমানদার বান্দা অন্তত রমযান মাসে তাহাজ্জুদ না পড়ে থাকতে
পারে না। সাহরী খাওয়ার জন্য তো আমরা উঠিই, এর সাথে দশ পনের বিশ মিনিট যোগ করলেই তাহাজ্জুদের
মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি করতে পারি। এ সময়টি আল্লাহর সাথে বান্দার একান্ত নিবীড় সম্পর্ক
ও সাক্ষাতের সময়। এমন নীরব ও একান্ত সাক্ষাতের সময় চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি নেই।
তাই অন্তত রমযানে কোনভাবেই যেন তাহাজ্জুদ ছুটে না যায়। এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন তাই
আমাদেরকে করতে হবে।
৬.১.
তারাবীর পর যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়া।
৬.২. এলার্ম দিয়ে রাখা। এলার্মের ঘড়ি বা মোবাইল এমন দূরে রাখা যেন বিছানা থেকে উঠে
এলার্ম
বন্ধ করতে হয়।
৬.৩. ঘুমের পূর্বে
অতিভোজন না করা।
৬.৪. দৃঢ় ইচ্ছা
নিয়ে ঘুমানো যে, আমি তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কথা বলবই ইনশাআল্লাহ।
৭. সাহরী খাওয়া। সাহরী খাওয়া সুন্নাত। ক্ষুধা
না থাকলে অল্প হলেও খাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা
সাহরী খাও, কেননা সাহরীর মধ্যে বরকত রয়েছে। সাহরীর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া একটি সুন্নাত
হলো, খেজুর খাওয়া। ইফতারে খেজুর খাওয়া সুন্নাত এটা সবাই জানি। কিন্তু সাহরীতেও খেজুর
খাওয়া সুন্নাত তা অধিকাংশ মানুষই জানি না। তাই একটা খেজুর হলেও সাহরীতে খাওয়ার চেষ্টা
করা।
৮. সাহরী শেষ সময়ের একটু আগেই শেষ করা। যেন
মুয়াজ্জিনের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে না যায়।
৯. ফজরের আযানের জবাব দেওয়া। এটা সুন্নাতে
মুস্তাহাব্বাহ একটি আমল। সাহরীর কারণে আমরা ভুলেই যাই, আযানের জবাব দিতে হয়।
১০. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া
করা। কারণ হাদিসে আছে এ সময় দোয়া কবুল হয়। বাসা থেকে মসজিদে যাওয়ার পথে হাঁটতে হাঁটতেও
এ দোয়া করতে পারি।
১১. ফজরের নামায জামাতের সাথে মসজিদে আদায়
করা। নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকির আযকার তাসবীহ তাহলীল করতে থাকা। সূর্যোদয়ের
কিছুক্ষণ পর দু’রাকাত নামায পড়া। এ নামাযে পূর্ণ একটি উমরার সাওয়াব পাওয়া যায়।
১২. এরপর এক বা দেড় ঘণ্টা ঘুমানো-বিশ্রাম
নেওয়া। যেন সারাদিন ঘুমের চাপ না থাকে।
১৩. ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নিয়ে অফিসে,
দোকানে বা যার যার কর্মস্থলে যাওয়া। নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ কাজ করা।
১৪. যোহরের সময় হবে। ফজরের মতই যোহরের আযানেরও
জবাব দেওয়া। যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত অবশ্যই আদায় করা। জামাতের সাথে
ফরয আদায় করা এবং এরপর দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করা।
১৫. যোহরের পর সময় পেলে একটু তেলাওয়াত করা,
দু’একটি হাদিস পড়া বা যে কোন দ্বীনি বই পড়া।
১৬. রোযার কারণে বেশি ক্লান্ত লাগলে আসরের
আগে আধা ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।
১৭. আসরের সময় হবে। পূর্বের মতোই আযানের
জবাব, ইকামতের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন দোয়া করা। সম্ভব হলে জামাতের পূর্বে দুই রাকাত
তাহিয়্যাতুল ওযু বা তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া।
১৮. আসরের পর অযথা বাইরে না থেকে বাসায় চলে
আসা। ইফতার প্রস্তুতে ঘরের কাজে সহযোগিতা করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ঘরে এসে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন।
১৯. নিজেদের ইফতারির সাথে সামান্য কিছু হলেও
কোন না কোন রোযাদারকে ইফতার করানো। কেননা রোযাদারকে ইফতার করালে তার রোযার সমপরিমাণ
ছাওয়াব পাওয়া যায়।
২০. ইফতারের সমস্ত আয়োজন শেষ করে ইফতারের
দশ মিনিট পূর্বে দোয়া-দরূদ ও ইস্তেগফারে লিপ্ত হওয়া। কেননা ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়।
প্রয়োজনে ইফতার কম করা, তারপরও এ সময়ের দোয়া ছেড়ে না দেওয়া। খাবার পরেও খাওয়া যাবে
কিন্তু ইফতারের পূর্বমুহুর্তের বরকতপূর্ণ সময় পাওয়া যাবে না।
২১. দোয়া পড়ে ইফতার করা। ইফতারিতে হালাল
এবং স্বাস্থ্যের জন্য ভাল এমন কিছু খাওয়া। হারাম এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে বিরত
থাকা। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ গ্রহণ করা। ইফতারে খেজুর পানি অবশ্যই রাখা। সবাই
মিলে একসাথে ইফতার করা। ইফতারের সময় একজন আরেকজনের সাথে খাবার শেয়ার করা। এতে মহব্বত-ভালবাসা
বৃদ্ধি পায়।
২২. ইফতারের পর মাগরিবের নামায মসজিদে জামাতের
সাথে আদায় করা। অনেক সময় ইফতারের অতি আয়োজন ও ভোজনের কারণে জামাত ছুটে যায়। যা দুঃখজনক।
প্রয়োজনে নামাযের পরে আবার খাওয়া যাবে। তথাপি জামাত যেন ছুটে না যায়- খেয়াল রাখা।
২৩. মাগরিবের পর দ্বীনি বই পড়ার চেষ্টা করা।
পরিবারের সবার সাথে রমযানের গুরুত্ব ফযীলত ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করা। বাচ্চাদেরকে
রমযান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। বিশেষত আজ তারাবীতে যে অংশ তেলাওয়াত করা হবে, সে
অংশের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর দেখার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে ইমাম সাহেব বা নিকটস্থ
ভাল কোন আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করা।
২৪. তারাবীহ নামায : রমযানের বিশেষ আমল।
২৪. ১. অত্যন্ত
গুরুত্বের সাথে ভাল করে প্রস্তুতি নিয়ে খতম তারাবীহ পড়ার চেষ্টা করা।
২৪. ২. অনেক মসজিদে
এশার নামাযের পূর্বে তারাবীতে তেলাওয়াতের অংশ সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়- সে আলোচনায় অংশ
গ্রহণের চেষ্টা করা। জামাতের কমপক্ষে আধা ঘণ্টা পূর্বেই মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা
করা। এবং মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শ্রবণ করা। আলোচনা না হলে তেলাওয়াত ও নফল নামায আদায় করা।
২৪. ৩. তারাবীতে
যাওয়ার পূর্বে সতেজ থাকা যায়- এমন কিছু খেয়ে যাওয়া, যেন তারাবীহ পড়তে গিয়ে ক্লান্তি
না আসে। সাথে হাফ লিটার পানি নিতে পারেন। দুই চার রাকাত পর পর একটু পানি পান করলে শরীর
সতেজ হবে। মাঝে তন্দ্রা আসলে ওযুখানায় গিয়ে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে সতেজ হয়ে আসা।
২৪. ৪. নির্ভুলভাবে
ধীরস্থিরতা ও আবেগের সাথে তেলাওয়াত করা হয় এমন মসজিদে তারাবীহ পড়ার চেষ্টা করা। নিজ
এলাকার মসজিদে হলে তো ভাল কথা। অন্যথায় প্রয়োজন হলে নিকটবর্তী অন্য কোন মসজিদেও যাওয়া
যেতে পারে।
২৪. ৫. দিল মন এক
করে কান লাগিয়ে খুব খুশু-খুজুর সাথে হাফেজ সাহেবদের তেলাওয়া শ্রবণ করা। আমি স্বয়ং আল্লাহর
কালাম শুনছি, আল্লাহ আমাকে কিছু বলছেন- বিষয়টি অনুধাবন করা।
২৫. তারাবীহ বিতরসহ মসজিদের সব আমল শেষ করে
বিলম্ব না করে বাসায় ফিরে আসা। যত দ্রুত সম্ভব বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করা। ঘুমের আগে
অবশ্যই মোবাইল না দেখা। তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানো।
আরও কিছু জরুরি বিষয়
রোযার মূল অর্থই হলো, বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় রোযা হলো, হালাল পানাহার ও হালাল স্ত্রী থেকে বিরত থাকা। এটা এক রকমের প্রশিক্ষণ। প্রতি বছর একটি মাস প্রশিক্ষণ হবে হালাল থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। আর এটাকে প্রয়োগ করতে হবে বাকি এগারো মাস বরং সারা জীবন সর্ব প্রকার হারাম থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। তাই শুধু সারাদিন না খেয়ে থাকার নামই রোযা নয়। বরং সর্ব প্রকার অন্যায় ও গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রত্যেকটা অঙ্গকে বিরত রাখতে হবে খারাপ কাজ থেকে। জবান চোখ কান নাক হাত পা সবকিছুকেই অন্যায় থেকে দূরে রাখতে হবে। এক কথায় গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
১. নিজের সর্ব প্রকার ভাল কাজগুলোর সংখ্যা
বাড়ানোর চেষ্টা করা। সেইসাথে নিজের বা অন্যের কারও জন্যই ভাল নয়- এমন কাজের সংখ্যা
কমানোর চেষ্টা করতে থাকা। উভয় দিক সমন্বয় করে জীবনকে সাজানোর চেষ্টা করা।
২. ফরজ ইবাদতগুলো খুব গুরুত্বের সাথে আদায়
করা। বিশেষত পাঁচ ওয়াক্ত নামায এমনভাবে আদায় করা যেন জীবনে আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায না
ছুটে। অনেকেই আছেন রমযানে নামায পড়েন কিন্তু পরে আর পড়েন না। দুঃখ জনক। তাই এ রমযানে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, জীবনে আর নামায ছাড়ব না।
৩. যাকাত আদায় করা। যদিও যাকাতের সাথে রমযানের
বিশেষ কোন সম্পর্ক নেই। তথাপি অনেকে এ মাসে যাকাত দিয়ে থাকে। তাই তালিকাভুক্ত করা হলো।
মনে রাখতে হবে যাকাত ইসলামের মৌলিক ফরয বিধানসমূহের অন্যতম একটি। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে
ধনি ব্যক্তিদের জন্য যাকাত না দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যাকাত আমাকে ও আমার সম্পদকে পবিত্র
করে। যাকাতের পরিমাণ সম্পদ মূলত আমার নয় বরং তা গরিবের হক ও অধিকার। তাই তাদের হক পৌঁছে
দেওয়া আল্লাহর নির্দেশ আমার দায়িত্ব। অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে।
৪. কুরআনুল কারীমের সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে
তোলা। তেলাওয়াত করে খতম তো দিতেই হবে। সেইসাথে কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করা। আল্লাহ
তার বান্দাকে (আমাকে) কী বলেছেন, তা বোঝার চেষ্টা করা। নির্ভরযোগ্য তরজমা-অনুবাদ ও
তাফসীর বা ব্যাখ্যা পড়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় ও মজবুত করা। দুঃখ জনক বাস্তবতা
হলো, এমন অনেকে আছি চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর বছর বয়সেও একটি বার কুরআনুল কারীম ধারাবাহিক
পূর্ণাঙ্গ খতম দিতে পারিনি। অনুবাদ ও তাফসীর তো পরের কথা।
৫. সব সময়ই কোন না কোন দ্বীনি একটি ছোট বই
সাথে রাখা। হতে পারে হাদিস, মাসয়ালা, সীরাত বা দোয়া-দরূদের নির্ভরযোগ্য কোন বই। অফিসে
বা দোকানে যে কোন অবস্থায় সুযোগ পেলেই যেন একটু খুলে পড়া যায়।
৬. শেষ দশকে ই’তেকাফে বসার জন্য মানসিক প্রস্তুতি
গ্রহণ করতে থাকা। বিশেষ কোন ঝামেলা না থাকলে ই’তেকাফে বসার পূর্ণ পাক্কা নিয়ত করে নেওয়া।
পূর্ণ দশদিন না পারলেও অন্তত তিন দিন বা একদিনের নফল ই’তেকাফ করার চেষ্টা করা।
৭. মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ তোহফা লাইলাতুল
কদর। যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কি পরিমাণ উত্তম একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। তাই
লাইলাতুল কদর অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা করা। যা সহজ হবে শেষ দশকে ই’তেকাফের মাধ্যমে।
৮. প্রতিদিন রুটিন করে একটি আয়াত, একটি হাদিস
ও একটি দোয়া পড়া। দোয়াটি মুখস্থ করা।
৯. এ সকল আমল করার যত প্রতিবন্ধকতা আছে সব
বন্ধ করা। বিশেষত মোবাইলকে নিয়ন্ত্রণ করা। আমালের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১০. খুব বেশি বেশি দোয়া করা। আমার কোন পরিকল্পনা
আর রুটিন কাজে আসবে না- যদি আল্লাহ তায়ালা না চান। এজন্য দোয়া করা- আল্লাহ! তুমি যেমন
রমযান চাও তেমন রমযান আমাদেরকে নসীব করো।
শেষ কথা : রমযান আমাকে সফল ও সার্থক করতেই
হবে। অন্যথায় জিবরাইল আ. এর বদদোয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সমর্থন- এর মধ্যে পড়তে হবে। যে রমযান পেল অথচ ক্ষমা নিতে পারল না সে দুর্ভাগা। আল্লাহ
আমাদের সবাইকে রমযানের প্রাথমিক প্রধান উদ্দেশ্য ‘তাকওয়া’ এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতবাসী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
বি.দ্র : লেখার পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়ার আশংকায়
প্রতিটি বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর রেফারেন্স দেওয়া হয়নি। তবে উপরের সবগুলো কথাই ইনশাআল্লাহ
কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
হাদীসের আলোকে মিরাজুন্নবীর ঘটনা
[ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নবী জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, নবীজীর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা আর উম্মতে ...
ফজর নামাজ আদায়ে ১০ পুরস্কার
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلاةُ ، فَإِنْ ...
বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত
এতদিন পর্যন্ত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। তারা এ রাতটি উপলক্ষে ন...
শবে বরাত বিষয়ক ভিত্তিহীন যত রেওয়ায়েত এবং বর্জনীয় প্রথা
হাদীস শরীফে শবে বরাতঃ শবে বরাত সম্পর্কেও আছে চিন্তাগত ও কর্মগত প্রান্তিকতা। সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কথা...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন