আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ৭

তাফসীর
کَیۡفَ یَکُوۡنُ لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ عَہۡدٌ عِنۡدَ اللّٰہِ وَعِنۡدَ رَسُوۡلِہٖۤ اِلَّا الَّذِیۡنَ عٰہَدۡتُّمۡ عِنۡدَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ ۚ فَمَا اسۡتَقَامُوۡا لَکُمۡ فَاسۡتَقِیۡمُوۡا لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُتَّقِیۡنَ

উচ্চারণ

কাইফা ইয়াকূনুলিলমুশরিকীনা ‘আহদুন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদা রাছূলিহীইল্লাল্লাযীনা ‘আহাত্তুম ‘ইনদাল মাছজিদিল হারা-মি ফামাছতাকা-মূলাকুম ফাছতাকীমূলাহুম ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুত্তাকীন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

মুশরিকদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে কোন চুক্তি কি করে বলবৎ থাকতে পারে? তবে মসজিদুল হারামের নিকটে তোমরা যাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছ, তারা যতক্ষণ তোমাদের সাথে সোজা থাকবে, তোমরাও তাদের সাথে সোজা থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৮. এতটুকু কথা স্পষ্ট যে, ৭ থেকে ১৬নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে কুরাইশ কাফেরদের সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের কর্তৃক চুক্তি ভঙ্গের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর মুসলিমদেরকে হুকুম করা হয়েছে, তারা যেন তাদের কথায় আস্থা না রাখে। যদি তারা চুক্তি ভঙ্গ করে তবে তাদের সাথে যেন যুদ্ধ করে। তবে এ আয়াতসমূহ কখন নাযিল হয়েছিল সে সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। একদল মুফাসসির বলেন, এ আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল মক্কা বিজয়ের আগে হুদায়বিয়ায়, যখন কুরাইশের সাথে মুসলিমগণ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এ চুক্তি বলবৎ ছিল। কিন্তু এ আয়াতসমূহে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, তারা নিজেদের চুক্তিতে অবিচল থাকবে না। কাজেই তারা চুক্তিভঙ্গ করলে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর তারা পুনরায় চুক্তি সম্পাদন করতে চাইলে তাদের কথায় আস্থা রাখবে না। কেননা তারা মুখে বলে এক কথা, কিন্তু অন্তরে থাকে অন্য কিছু। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তাদেরকে করবেন লাঞ্ছিত। এভাবে যে সকল মুসলিম তাদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের অন্তর জুড়াবে। এ তাফসীর অনুসারে এ আয়াতসমূহ সম্পর্কচ্ছেদের সেই ঘোষণার আগে নাযিল হয়েছে, যা ১ থেকে ৬নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে। সে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মক্কা বিজয়ের এক বছর দু’মাস পর হিজরী ৯ সনের হজ্জের সময়। অপর একদল মুফাসসির বলেন, এ সকল আয়াত সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার আগের নয়; বরং সেই সম্পর্কিত আয়াতসমূহে যে বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়ে আসছে এ আয়াতসমূহও তারই অংশ। এতে সেই ঘোষণা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর তা এই যে, এসব লোক আগেই যেহেতু চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই এখন আর আশা করা যায় না যে, তাদের সঙ্গে নতুন কোন চুক্তি করা হলে তারা তা রক্ষা করবে। কেননা মুসলিমদের প্রতি তাদের মনে যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা বিরাজ করে, সে কারণে তাদের কাছে না কোনও আত্মীয়তার মূল্য আছে আর না কোনও চুক্তির। যেহেতু মক্কা বিজয়কালে ও তার পরে কুরাইশের বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং কুরাইশ কাফেরদের সাথে তাদের আত্মীয়তা ছিল, তাই কুরাইশ সম্পর্কে তাদের অন্তরে কিছুটা কোমলতা থাকা অস্বাভাবিক ছিল না। তাই এ আয়াতসমূহে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, তারা যেন কুরাইশ কাফেরদের কথায় প্রতারিত না হয়। বরং অন্তরে যেন দৃঢ় সংকল্প রাখে, যদি কখনও তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হয় তবে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাদের সাথে লড়বে। এ লেখকের কাছে একাধিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই তাফসীরই বেশি শক্তিশালী মনে হয়। প্রথম কারণ তো এই যে, ৭ থেকে ১৬ পর্যন্ত আয়াতসমূহের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সবগুলো একই বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত। আলোচনার ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করলে ৭নং আয়াত সম্পর্কে এরূপ ধারণা করা কঠিন যে, এ আয়াত প্রথম ছয় আয়াতের বহু আগে নাযিল হয়েছিল। দ্বিতীয়ত ঘোষণা দানকালে হযরত আলী (রাযি.) কুরআন মাজীদর যে আয়াতসমূহ পাঠ করেছিলেন, রিওয়ায়াতসমূহে তার সংখ্যা সর্বনি¤œ দশ এবং সর্বোচ্চ চল্লিশ বলা হয়েছে। (দেখুন আদ-দুররুল মানছুর, ৪র্থ খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা; আল-বিকাঈ, নাজমুদ দুরার, ৮ খণ্ড, ৩৬৬ পৃষ্ঠা)। আর নাসায়ী শরীফের এক রিওয়ায়াতে যে আছে ‘তিনি তা শেষ পর্যন্ত পড়লেন’ (অধ্যায় হজ্জ, পরিচ্ছেদ তারবিয়ার দিন খুতবা প্রসঙ্গ, হাদীস নং ২৯৯৩), এর অর্থ যে সমস্ত আয়াত দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, তার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তৃতীয়ত হাফেজ ইবনে জারীর তাবারী (রহ.), আল্লামা বিকাঈ (রহ.) ও কাযী আবুস সাউদ (রহ.)-সহ বড়-বড় মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণ এ আয়াতসমূহকে বারাআঃ বা সম্পর্কচ্ছেদেরই অংশ সাব্যস্ত করেছেন। তাদের মতে এতে সম্পর্কচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
﴾﴿