আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ৬১

তাফসীর
وَمِنۡہُمُ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ النَّبِیَّ وَیَقُوۡلُوۡنَ ہُوَ اُذُنٌ ؕ قُلۡ اُذُنُ خَیۡرٍ لَّکُمۡ یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَیُؤۡمِنُ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَرَحۡمَۃٌ لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ ؕ وَالَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ رَسُوۡلَ اللّٰہِ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ

উচ্চারণ

ওয়া মিনহুমুল্লাযীনা ইউ’যূনান্নাবিইইয়া ওয়া ইয়াকূলূনা হুওয়া উযুনুন কুল উযুনু খাইরিল্লাকুম ইউ’মিনুবিল্লা-হি ওয়া ইউ’মিনুলিলমু’মিনীনা ওয়া রাহমাতুল লিল্লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়াল্লাযীনা ইউ’যূনা রাছুলাল্লা-হি লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং (তাঁর সম্পর্কে) বলে, ‘সে তো আপাদমস্তক কান’। ৫৬ বলে দাও, তোমাদের পক্ষে যা মঙ্গলজনক, সে তারই জন্য কান। ৫৭ সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদের কথা বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা (বাহ্যিকভাবে) ঈমান এনেছে, তাদের জন্য সে রহমত (সুলভ আচরণকারী)। যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৫৬. মুনাফিকদের উপরিউক্ত বাক্যের উত্তরে আল্লাহ তাআলা তিনটি বিষয় ইরশাদ করেছেন। (এক) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কান পেতে সর্বপ্রথম যে কথা শোনেন, তা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার ওহী। আর ওহী তো তোমাদের সকলের কল্যাণার্থেই নাযিল করা হয়। (দুই) তিনি খাঁটি মুমিনদের কথা শুনে সত্যিই তা বিশ্বাস করে নেন। কেননা তাদের সম্পর্কে তাঁর জানা আছে, তারা মিথ্যা বলে না। (তিন) যারা কেবল বাহ্যিকভাবে ঈমান এনেছে সেই মুনাফিকদের কথাও তিনি শোনেন। কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে, তিনি তাদের কথায় ধোঁকায় পড়ে যান। বরং আল্লাহ তাআলা যেহেতু তাকে সাক্ষাৎ রহমত ও করুণাস্বরূপ পাঠিয়েছেন, তাই যতদূর সম্ভব তিনি প্রত্যেকের সাথে দয়ার আচরণ করেন। আর সে কারণেই তিনি মুনাফিকদের কথা সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে বরং নীরবতা অবলম্বন করেন। সুতরাং এটা ধোঁকায় পড়া নয়; বরং তাঁর দয়ালু চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।