আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ৩১

তাফসীর
اِتَّخَذُوۡۤا اَحۡبَارَہُمۡ وَرُہۡبَانَہُمۡ اَرۡبَابًا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَالۡمَسِیۡحَ ابۡنَ مَرۡیَمَ ۚ وَمَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡۤا اِلٰـہًا وَّاحِدًا ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ سُبۡحٰنَہٗ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

উচ্চারণ

ইত্তাখাযূআহবা-রাহুম ও রুহবা-নাহুম আরবা-বাম মিন দূ নিল্লা-হি ওয়াল মাছীহাবনা মারইয়ামা ওয়ামা উমিরূ ইল্লা-লিয়া‘বুদূ ইলা-হাওঁ ওয়াহিদাল লাইলা-হা ইল্লাহুওয়া; ছুবহা-নাহূ‘আম্মা-ইউশরিকূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের আহবার (অর্থাৎ ইয়াহুদী ধর্মগুরু) এবং রাহিব (খ্রিস্টান বৈরাগী)কে খোদা বানিয়ে নিয়েছে ৩১ এবং মাসীহ ইবনে মারয়ামকেও। অথচ তাদেরকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করার হুকুম দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তাদের অংশীবাদীসুলভ কথাবার্তা হতে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৩১. তাদেরকে খোদা বানানোর যে ব্যাখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন, তার সারমর্ম এই যে, তারা তাদের ধর্মগুরুদেরকে বিপুল ক্ষমতা দিয়ে রেখেছিল। ফলে তারা তাদের ইচ্ছা মত কোনও জিনিসকে হালাল এবং কোনও জিনিসকে হারাম ঘোষণা করতে পারত। প্রকাশ থাকে যে, যারা সরাসরি আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখে না, শরীয়তের বিধান জানার জন্য সেই আম সাধারণকে আলেম-উলামার শরণাপন্ন হতেই হয় এবং আল্লাহ তাআলার বিধানের ব্যাখ্যাতা হিসেবে তাদের কথা মানতেও হয়। খোদ কুরআন মাজীদই এ নির্দেশ দান করেছে (দেখুন, সূরা নাহল ১৬ : ৪৩ ও সূরা আম্বিয়া, ২১ : ৭)। এতটুকুর মধ্যে তো আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ এতটুকুতেই ক্ষান্ত ছিল না। তারা আরও অগ্রসর হয়ে তাদের ধর্মগুরুদেরকে বিধান তৈরি করারও এখতিয়ার প্রদান করেছিল। ফলে তারা কেবল আসমানী কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবেই নয়; বরং নিজেদের ইচ্ছা মত কোনও জিনিসকে হালাল এবং কোনও জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করতে পারত, তাতে তাদের সে বিধান আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থীই হোক না কেন!