مَا کَانَ لِلنَّبِیِّ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ یَّسۡتَغۡفِرُوۡا لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ وَلَوۡ کَانُوۡۤا اُولِیۡ قُرۡبٰی مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُمۡ اَنَّہُمۡ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৯৫. বুখারী ও মুসলিম শরীফে এ আয়াতের শানে নুযুল বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালিব যদিও তার ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। মৃত্যুকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে কালিমা পাঠ করে মুসলিম হয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু তখন আবু জাহলসহ উপস্থিত কুরায়শ নেতৃবর্গ তাকে ইসলাম গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে এবং বাপদাদার ধর্মে অবিচলিত থাকার প্ররোচনা দেয়। ফলে তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডাকে সাড়া দান হতে বিরত থাকেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেছিলেন, আমাকে যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধ করা না হয় ততক্ষণ আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয় এবং এর দ্বারা তাকে আবু তালিবের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া তাফসীরে তাবারী প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, কতিপয় মুসলিম তাদের মুশরিক বাপ-দাদাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তো নিজ পিতার মাগফিরাত কামনা করেছিলেন, সুতরাং আমরাও তা করতে পারি। তখন এ আয়াত নাযিল হয়।