আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ১১২

তাফসীর
اَلتَّآئِبُوۡنَ الۡعٰبِدُوۡنَ الۡحٰمِدُوۡنَ السَّآئِحُوۡنَ الرّٰکِعُوۡنَ السّٰجِدُوۡنَ الۡاٰمِرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَالنَّاہُوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَالۡحٰفِظُوۡنَ لِحُدُوۡدِ اللّٰہِ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

উচ্চারণ

আত্তাইবূনাল ‘আ-বিদূ নাল হা-মিদূ নাছছা-ইহুনার রা-কি‘ঊনাছছা-জিদূ নাল আ-মিরূনা বিলামা‘রূফি ওয়ান্না-হুনা ‘আনিল মুনকারি ওয়াল হা-ফিজূনা লিহুদূ দিল্লা-হি ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(যারা এই সফল সওদা করেছে, তারা কারা? তারা) তাওবাকারী, (আল্লাহর) ইবাদতকারী, তাঁর প্রশংসাকারী, সওম পালনকারী, ৯৩ রুকু ও সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা ও অন্যায় কাজে বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী। ৯৪ (হে নবী!) এরূপ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৯৩. কুরআন মাজীদের বহু স্থানে ‘আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা’ ও তা সংরক্ষণ করার নির্দেশ বর্ণিত আছে। এ শব্দাবলী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর প্রেক্ষাপট এই যে, আল্লাহ তাআলা যত বিধান দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটির কিছু সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখার ভেতর থেকেই যদি তা পালন করা হয়, তবে সঠিক হয় ও পুণ্যের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে যদি কোন কাজে সীমারেখা ডিঙিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেই কাজই অপছন্দনীয় এমনকি কখনও তা গুনাহের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণত আল্লাহ তাআলার ইবাদত একটি বড় সওয়াবের কাজ, কিন্তু কেউ যদি ইবাদতে এতটা মগ্ন হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ তাআলা বান্দাদের যে সকল হক তার উপর আরোপ করেছেন, তা উপেক্ষিত হয়, তবে সেই ইবাদতও অবৈধ হয়ে যায়। তাহাজ্জুদের নামায অনেক বড় সওয়াবের কাজ, কিন্তু কেউ যদি এ নামায পড়তে গিয়ে অন্যদের ঘুম নষ্ট করে, তবে তা নাজায়েয হয়ে যায়। এমনিভাবে পিতা-মাতার সেবার উপরে কোনও নফল ইবাদত নেই, কিন্তু কেউ যদি এ কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের হক পদদলিত করতে শুরু করে, তবে সে খেদমত গুনাহে পরিণত হয়। খুব সম্ভব এ কারণেই অনেকগুলো নেক কাজ বর্ণনা করার পর এ আয়াতের শেষে সীমারেখা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে যে, তারা ওই সমস্ত নেক কাজ তার নির্ধারিত সীমারেখার ভেতর থেকে আঞ্জাম দেয়। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সেসব সীমারেখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ কথা ও কাজ দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। আর তা শেখার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে কোনও আল্লাহওয়ালার সাহচর্যে থাকা এবং তার কর্মপন্থা দেখে সে সকল সীমারেখা উপলব্ধি করা ও নিজ জীবনে তা রূপায়নের চেষ্টা করা।