وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعَذِّبَہُمۡ وَاَنۡتَ فِیۡہِمۡ ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ مُعَذِّبَہُمۡ وَہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২০. অর্থাৎ শিরক ও কুফরের কারণে তারা তো এরই উপযুক্ত ছিল যে, শাস্তি অবতীর্ণ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু দু’টি কারণে তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করা হয়নি। একটি কারণ এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমায় তাদের মধ্যেই রয়েছেন। আর তাঁর বর্তমানে শাস্তি নাযিল হতে পারে না। কেননা আল্লাহ তাআলা কোনও জাতির উপর তাদের নবীর বর্তমানে শাস্তি নাযিল করেন না। নবী যখন তাদের মধ্য হতে বের হয়ে যান তখনই শাস্তি নাযিল করা হয়ে থাকে। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমাতুল লিল আলামীন বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। তাই তাঁর বরকতে ব্যাপক আযাব আসবে না। দ্বিতীয় কারণ হল, মক্কা মুকাররমায় বহু মুসলিম ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনায় রত আছে, তাদের ইস্তিগফারের বরকতে আযাব থেমে রয়েছে। কোনও কোনও মুফাসসির আয়াতটির ব্যাখ্যা করেছেন যে, খোদ মুশরিকগণও তাওয়াফকালে ‘গুফরানাকা-গুফরানাকা’ ‘তোমার ক্ষমা চাই, তোমার ক্ষমা চাই’ বলত, যা ইস্তিগফারেরই এক পদ্ধতি। যদিও কুফর ও শিরকের কারণে তারা এ ইস্তিগফার দ্বারা আখিরাতের আযাব থেকে বাঁচতে পারবে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা কাফেরদের পুণ্যের বদলা ইহজগতেই দিয়ে দেন। তাই তাদের ইস্তিগফারের ফায়দাও তারা দুনিয়ায় পেয়ে গেছে আর তা এভাবে যে, ছামুদ, আদ প্রভৃতি জাতির উপর যেমন ব্যাপক শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল, মক্কার কাফেরদের উপর সে রকম ব্যাপক শাস্তি অবতীর্ণ করা হয়নি।