আল আহ্‌যাব

সূরা নং: ৩৩, আয়াত নং: ৫২

তাফসীর
لَا یَحِلُّ لَکَ النِّسَآءُ مِنۡۢ بَعۡدُ وَلَاۤ اَنۡ تَبَدَّلَ بِہِنَّ مِنۡ اَزۡوَاجٍ وَّلَوۡ اَعۡجَبَکَ حُسۡنُہُنَّ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ یَمِیۡنُکَ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ رَّقِیۡبًا ٪

উচ্চারণ

লা-ইয়াহিল্লুলাকান্নিছাউ মিম বা‘দুওয়ালা আন তাবাদ্দালা বিহিন্না মিন আঝওয়া-জিওঁ ওয়ালাও আ‘জাবাকা হুছনুহুন্না ইল্লা-মা-মালাকাত ইয়ামীনুকা ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলাকুল্লি শাইয়ির রাকীবা-।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

এরপর অন্য নারী তোমার পক্ষে হালাল নয় এবং এটাও জায়েয নয় যে, তুমি এদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করবে, যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। ৪৫ অবশ্য তোমার মালিকানায় যে দাসীগণ আছে (তারা তোমার জন্য হালাল)। আল্লাহ সবকিছুর উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৪৫. এ আয়াত পূর্বের দুই আয়াতের কিছুকাল পরে নাযিল হয়েছে। পূর্বে ২৮ ও ২৯ নং আয়াতে উম্মুল মুমিনীনগণকে যে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল, তার উত্তরে তো তারা সকলেই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতার উপর আখেরাতের জীবন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তার পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে তাঁর নবীর প্রতি এমন দুটি নির্দেশ জারি করেন, যা পুরোপুরিই তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ আনুকুল্যের পরিচায়ক। (ক) প্রথম নির্দেশ এই যে, বর্তমান স্ত্রীদের অতিরিক্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কাউকে বিবাহ করতে পারবেন না। (খ) আর দ্বিতীয় নির্দেশ হল, বর্তমান স্ত্রীগণের মধ্যে কাউকে তালাক দিয়ে তার স্থলে অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবেন না। কোন কোন মুফাসসির অন্য রকম তাফসীরও করেছেন, কিন্তু উপরে যে তাফসীর করা হল তা হযরত আনাস (রাযি.) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) সহ আরও অনেকের থেকে বর্ণিত আছে (রূহুল মাআনী, বায়হাকী ও অন্যান্য গ্রন্থের বরাতে)। তাছাড়া আয়াতের শব্দাবলীর প্রতি লক্ষ্য করলে অন্যান্য তাফসীর অপেক্ষা এ তাফসীরই বেশি পরিষ্কার মনে হয়।