হুদ

সূরা নং: ১১, আয়াত নং: ৭৪

তাফসীর
فَلَمَّا ذَہَبَ عَنۡ اِبۡرٰہِیۡمَ الرَّوۡعُ وَجَآءَتۡہُ الۡبُشۡرٰی یُجَادِلُنَا فِیۡ قَوۡمِ لُوۡطٍ ؕ

উচ্চারণ

ফালাম্মা যাহাবা ‘আন ইবরা-হীমার রাও‘উ ওয়া জাআতহুল বুশরা- ইউজা-দিলুনা-ফী কাওমি লূত।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূর হল এবং সে সুসংবাদ লাভ করল, তখন সে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার সঙ্গে (আবদারের ভঙ্গিতে) ঝগড়া শুরু করে দিল। ৫০

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৫০. সূরা আরাফ (৭ : ৮০)-এর টীকায় বলা হয়েছে, হযরত লূত আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। ইরাকে থাকতেই তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গেই দেশ থেকে হিজরত করেছিলেন। পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলা তাঁকেও নবুওয়াত দান করেন ও সাদূমবাসীর হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেন। সাদূমবাসী ছিল পৌত্তলিক। তাছাড়া তারা সমকামের মত এক কদর্য কাজেও লিপ্ত ছিল। লূত আলাইহিস সালাম নানাভাবে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাঁর কোনও কথায় তারা কর্ণপাত করল না। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তিদানের জন্য ফিরিশতা পাঠালেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আশা ছিল তারা হয়ত এক সময় শুধরে যাবে। তাই তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে মিনতি করতে থাকেন যে, এখনই যেন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া না হয়। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয় নবী ছিলেন, তাই তিনি আযাব পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যেভাবে আবদারের ভঙ্গিতে বারবার উপরোধ করছিলেন, সেটাকেই এ আয়াতে প্রীতিসম্ভাষণের ধারায় ‘ঝগড়া’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।