সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা সাবা' (سبإ) | সাবা সম্প্রদায়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَہُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ١

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী লাহূমা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া লাহুল হামদুফিল আ-খিরাতি ওয়াহুওয়াল হাকীমুল খাবীর।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এমন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আখেরাতেও প্রশংসা তাঁরই। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।

یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ الرَّحِیۡمُ الۡغَفُوۡرُ ٢

ইয়া‘লামুমা-ইয়ালিজুফিল আরদিওয়ামা-ইয়াখরুজুমিনহা-ওয়ামা-ইয়ানঝিলু মিনাছছামাই ওয়ামা-ইয়া‘রুজুফীহা- ওয়া হুওয়ার রাহীমুল গাফূর।

তিনি সেই সব কিছু জানেন, যা ভূমিতে প্রবেশ করে, যা তা থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে উত্থিত হয়। তিনিই পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল।

তাফসীরঃ

১. ভূমিতে প্রবেশ করে বৃষ্টির পানি, গুপ্তধন, মরদেহ প্রভৃতি; তা থেকে নির্গত হয় উদ্ভিদ, খনিজ সম্পদ, ঝর্নাধারা প্রভৃতি; আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় বৃষ্টি, ফিরিশতা, রহমত, ওহী প্রভৃতি এবং তাতে উত্থিত হয় মানুষের সৎকর্ম, দু‘আ, ফিরিশতা, রূহ প্রভৃতি। এসব কিছুই আল্লাহ তাআলা বিশদভাবে জানেন। -অনুবাদক

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَاۡتِیۡنَا السَّاعَۃُ ؕ  قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتَاۡتِیَنَّکُمۡ ۙ  عٰلِمِ الۡغَیۡبِ ۚ  لَا یَعۡزُبُ عَنۡہُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡبَرُ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٭ۙ ٣

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লা-তা’তীনাছছা-‘আতু কুলবালা-ওয়া রাববী লাতা’তিইয়ান্নাকুম ‘আ-লিমিল গাইবি লা-ইয়া‘ঝুবু‘আনহু মিছকা-লুযাররাতিন ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিল আরদিওয়ালাআসগারু মিন যা-লিকা ওয়ালাআকবারু ইল্লা-ফী কিতা-বিম মুবীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না। বলে দাও, কেন আসবে না? আমার আলিমুল গায়েব প্রতিপালকের কসম! তোমাদের উপর তা অবশ্যই আসবে। অণু পরিমাণ কোন জিনিসও তার দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে না না আকাশমণ্ডলীতে এবং না পৃথিবীতে। আর না তার চেয়ে ছোট কোন বস্তু আর না বড় কিছু। সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ আছে।

তাফসীরঃ

২. যে সকল কাফের আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করত, তারা বলত, মানুষ তো মৃত্যুর পর মাটিতে মিশে একাকার হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাদের নতুনভাবে জীবন দান করা কিভাবে সম্ভব? এ আয়াতসমূহে তাদের সে প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমরা আল্লাহ তাআলার জ্ঞান ও শক্তিকে মানুষের জ্ঞান-শক্তির সাথে তুলনা করছ! আল্লাহ তাআলার জ্ঞান তো সর্বব্যাপী। বিশ্ব জগতের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুও তাঁর জ্ঞান দ্বারা বেষ্টিত। যেই সত্তা আসমান-যমীনের মত বিপুলায়তন মাখলুককে সম্পূর্ণ নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করতে পারেন, তার পক্ষে মাটিতে মিশে যাওয়া মানব দেহের অণু-পরমাণুকে একত্র করে তাতে নতুন জীবন দান করা কঠিন হবে কেন? ৪ নং আয়াতে পরকালীন জীবনের যৌক্তিক প্রয়োজনও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদি এ দুনিয়াই সবকিছু হয় এবং দ্বিতীয় আর কোন জীবন না থাকে তবে তার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগত ও অবাধ্যদের মধ্যে কোন প্রভেদ রাখেননি, অথচ প্রভেদ থাকা অপরিহার্য। আর সে কারণেই আখেরাতের জীবন জরুরি। সেখানে অনুগতদেরকে তাদের সৎকর্মের পুরস্কার দেওয়া হবে এবং অবাধ্যদেরকে তাদের অসৎকর্মের শাস্তি দেওয়া হবে।

لِّیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ٤

লিইয়াজঝিয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়ারিঝকুন কারীম।

(কিয়ামত আসবে) এজন্য যে, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। এরূপ লোকদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মর্যাদাপূর্ণ রিযক।

وَالَّذِیۡنَ سَعَوۡ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مِّنۡ رِّجۡزٍ اَلِیۡمٌ ٥

ওয়াল্লাযীনা ছা‘আও ফী আয়া-তিনা- মু‘আজিঝীনা উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুম্মির রিজঝিন আলীম।

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের জন্য আছে মুসিবতের যন্ত্রণাময় শাস্তি।

وَیَرَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ہُوَ الۡحَقَّ ۙ وَیَہۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ٦

ওয়া ইয়ারাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমাল্লাযীউনঝিলা ইলাইকা মির রাব্বিকা হুওয়াল হাক্কা ওয়া ইয়াহদীইলা-সিরা-তিল ‘আঝীঝিল হামীদ।

(হে নবী!) যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা ভালো করেই বোঝে তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা সত্য এবং তা সেই সত্তার পথ দেখায় যিনি ক্ষমতারও মালিক, সমস্ত প্রশংসারও উপযুক্ত।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہَلۡ نَدُلُّکُمۡ عَلٰی رَجُلٍ یُّنَبِّئُکُمۡ اِذَا مُزِّقۡتُمۡ کُلَّ مُمَزَّقٍ ۙ  اِنَّکُمۡ لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ ٧

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূহাল নাদুল্লুকুম ‘আলা-রাজুলিইঁ ইউনাব্বিউকুম ইযা-মুঝঝিকতুম কুল্লা মুমাঝঝাকিন ইন্নাকুম লাফী খালকিন জাদীদ।

কাফেরগণ (একে অন্যকে) বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যক্তির কথা জানাব, যে তোমাদেরকে সংবাদ দেয় যে, তোমরা (মৃত্যুর পর) যখন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে, তারপরও তোমরা এক নতুন জীবন লাভ করবে?

اَفۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَمۡ بِہٖ جِنَّۃٌ ؕ بَلِ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ فِی الۡعَذَابِ وَالضَّلٰلِ الۡبَعِیۡدِ ٨

আফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আম বিহী জিন্নাতুম বালিল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ফিল ‘আযা-বি ওয়াদ্দালা-লিল বা‘ঈদ।

(কে জানে) সে কি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছে না কি সে বিকারগ্রস্ত? না, বরং যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না তারা আযাব ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

তাফসীরঃ

৩. এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কাফেরদের উল্লেখিত মন্তব্যের জবাব। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু’টি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছিল। একটি এই যে, তিনি আল্লাহ তাআলার প্রতি মিথ্যা আরোপ করছেন, যা আল্লাহর শাস্তিকে ডেকে আনার নামান্তর। এর জবাবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আযাবকে ডেকে আনার মত কোন কাজ করেননি। এর বিপরীতে যারা আখেরাতকে অবিশ্বাস করছে তারাই বরং আযাবের কাজ করছে। কাফেরগণ দ্বিতীয় সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছিল এই যে, তিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছেন আর উন্মাদ অবস্থায় যদিও শাস্তি দেওয়া হয় না, কিন্তু এরূপ ব্যক্তি তো অবশ্যই বিপথগামী হয়ে থাকে। এর উত্তরে বলা হয়েছে, বিপথগামী তিনি নন; বরং যারা আখেরাত অবিশ্বাস করে তারাই চরম গোমরাহীতে লিপ্ত।

اَفَلَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  اِنۡ نَّشَاۡ نَخۡسِفۡ بِہِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ نُسۡقِطۡ عَلَیۡہِمۡ کِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ٪ ٩

আফালাম ইয়ারাও ইলা-মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা- খালফাহুম মিনাছছামাই ওয়াল আরদি ইন নাশা’ নাখছিফ বিহিমূল আরদা আও নুছকিতআলাইহিম কিছাফাম মিনাছছামাই ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকুল্লি ‘আবদিম মুনীব।

তবে কি তারা আসমান ও যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি, যা তাদের সামনেও বিদ্যমান আছে এবং পিছনেও? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে ভূমিতে ধসিয়ে দেব অথবা তাদের উপর আকাশের কিছু খণ্ড ফেলে দেব। বস্তুত এর মধ্যে নিদর্শন আছে প্রত্যেক এমন বান্দার জন্য, যে আল্লাহর দিকে রুজু হয়।
১০

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ مِنَّا فَضۡلًا ؕ  یٰجِبَالُ اَوِّبِیۡ مَعَہٗ وَالطَّیۡرَ ۚ  وَاَلَنَّا لَہُ الۡحَدِیۡدَ ۙ ١۰

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা দা-ঊদা মিন্না-ফাদলাইঁ ইয়া-জিবা-লুআওব্বিী মা‘আহূ ওয়াত্তাইরা ওয়া আলান্না-লাহুল হাদীদ।

নিশ্চয়ই আমি দাঊদকে বিশেষভাবে আমার নিকট থেকে অনুগ্রহ দান করেছিলাম। হে পাহাড়-পর্বত! তোমরাও দাঊদের সঙ্গে আমার তাসবীহ পড় এবং হে পাখিরা তোমরাও। আর আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম।

তাফসীরঃ

৪. হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম অত্যন্ত মধুরকণ্ঠী ছিলেন, আল্লাহ তাআলা পাহাড়-পর্বত ও পাখিদেরকেও তার সাথে তাসবীহ পাঠে রত থাকার জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছিলেন। ফলে তারাও তাঁর সাথে তাসবীহ পাঠে রত থাকত। এতে পরিবেশ এক অপার্থিব সুর-মূর্ছনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ত। পাহাড় ও পাখীদের তাসবীহ পাঠের ক্ষমতা লাভ ছিল হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের এক বিশেষ মুজিযা।
১১

اَنِ اعۡمَلۡ سٰبِغٰتٍ وَّقَدِّرۡ فِی السَّرۡدِ وَاعۡمَلُوۡا صَالِحًا ؕ اِنِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ١١

আনি‘মাল ছা-বিগা-তিওঁ ওয়া কাদ্দির ফিছছারদি ওয়া‘মালূসা-লিহান ইন্নী বিমাতা‘মালূনা বাসীর।

যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি কর এবং কড়াসমূহ জোড়ার ক্ষেত্রে পরিমাপ রক্ষা কর। তোমরা সকলে সৎকর্ম কর। তোমরা যা-কিছুই কর আমি তার দ্রষ্টা।

তাফসীরঃ

৫. এটা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আরেকটি মুজিযার বর্ণনা। সেকালে শত্রুর অস্ত্রের আঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে বর্ম পরিধান করা হত তা তৈরি করার বিশেষ নৈপুণ্য আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন, এ শিল্পে তাঁর বিশেষত্ব ছিল এই যে, লোহা তার হাতের স্পর্শ মাত্র মোমের মত নরম হয়ে যেত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা বাঁকাতে পারতেন। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে একথাও উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, তিনি হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেন বর্মের কড়াসমূহের ভেতর পারস্পরিক পরিমাণ ও সামঞ্জস্য রক্ষা করেন। এর ভেতর আমাদের জন্য এই শিক্ষা রয়েছে যে প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি শিল্পে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখা এবং তাতে যথাযথ পরিমাণ ও ভারসাম্য রক্ষা করা আল্লাহ তাআলার পছন্দ।
১২

وَلِسُلَیۡمٰنَ الرِّیۡحَ غُدُوُّہَا شَہۡرٌ وَّرَوَاحُہَا شَہۡرٌ ۚ وَاَسَلۡنَا لَہٗ عَیۡنَ الۡقِطۡرِ ؕ وَمِنَ الۡجِنِّ مَنۡ یَّعۡمَلُ بَیۡنَ یَدَیۡہِ بِاِذۡنِ رَبِّہٖ ؕ وَمَنۡ یَّزِغۡ مِنۡہُمۡ عَنۡ اَمۡرِنَا نُذِقۡہُ مِنۡ عَذَابِ السَّعِیۡرِ ١٢

ওয়া লিছুলাইমা-নাররীহা গুদুওউহা-শাহরুওঁ ওয়ারাওয়া-হুহা-শাহরুওঁ ওয়া আছালনালাহু ‘আইনাল কিতরি ওয়ামিনাল জিন্নি মাইঁ ইয়া‘মালুবাইনা ইয়াদাইহি বিইযনি রাব্বিহী ওয়া মাইঁ ইয়াঝিগ মিনহুম ‘আন আমরিনা-নুযিকহু মিন ‘আযা-বিছছা‘ঈর।

আমি বায়ুকে সুলায়মানের আজ্ঞাধীন করে দিয়েছিলাম। তার ভোরের সফর হত এক মাসের দূরত্বে এবং সন্ধ্যার সফরও হত এক মাসের দূরত্বে। আর আমি তার জন্য গলিত তামার এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন ছিল, যারা তার প্রতিপালকের নির্দেশে তার সামনে কাজ করত। (আমি তাদের কাছে একথা পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম যে,) তাদের মধ্যে যে-কেউ আমার আদেশ অমান্য করে বাঁকা পথ অবলম্বন করবে আমি তাকে জ্বলন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ করাব।

তাফসীরঃ

৬. এটা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে প্রদত্ত একটি মুজিযা। আল্লাহ তাআলা বাতাসকে তার আজ্ঞাবহ করে দিয়েছিলেন। তিনি বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে দূর-দূরান্তের সফর সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতর সেরে ফেলতেন। কুরআন মাজীদ এ মুজিযার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেনি। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, তার সিংহাসনকে বাতাসে উড়ে চলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ফলে সাধারণত যে সফর করতে এক মাস সময় ব্যয় হত, তিনি তা এক সকাল বা এক বিকালেই অতিক্রম করতে পারতেন।
১৩

یَعۡمَلُوۡنَ لَہٗ مَا یَشَآءُ مِنۡ مَّحَارِیۡبَ وَتَمَاثِیۡلَ وَجِفَانٍ کَالۡجَوَابِ وَقُدُوۡرٍ رّٰسِیٰتٍ ؕ اِعۡمَلُوۡۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُکۡرًا ؕ وَقَلِیۡلٌ مِّنۡ عِبَادِیَ الشَّکُوۡرُ ١٣

ইয়া‘মালূনা লাহু মা-ইয়াশাউ মিম মাহা-রীবা ওয়া তামা-ছীলা ওয়া জিফা-নিন কাল জাওয়া-বি ওয়া কুদূ রির রা-ছিয়া-তিন ই‘মালূআ-লা দা-ঊদা শুকরাওঁ ওয়া কালীলুম মিন ‘ইবা-দিয়াশশাকূর।

সুলায়মান যা চাইত, তারা তার জন্য তা বানিয়ে দিত উঁচু উঁচু ইমারত, ছবি, হাউজের মত বড় বড় পাত্র এবং ভূমিতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ। হে দাঊদের খান্দান! তোমরা (ইবাদত-আনুগত্যের) কাজ কর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে। আমার বান্দাদের মধ্যে শোকরগুজার লোক অল্পই।

তাফসীরঃ

৯. প্রকাশ থাকে যে, এসব ছবি হত নিষ্প্রাণ বস্তুর, যেমন গাছপালা, ইমারত ইত্যাদি। কেননা তাওরাত দ্বারা জানা যায়, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের শরীয়তেও প্রাণীর ছবি আঁকা জায়েয ছিল না।
১৪

فَلَمَّا قَضَیۡنَا عَلَیۡہِ الۡمَوۡتَ مَا دَلَّہُمۡ عَلٰی مَوۡتِہٖۤ اِلَّا دَآبَّۃُ الۡاَرۡضِ تَاۡکُلُ مِنۡسَاَتَہٗ ۚ  فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الۡجِنُّ اَنۡ لَّوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ الۡغَیۡبَ مَا لَبِثُوۡا فِی الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ؕ ١٤

ফালাম্মা-কাদাইনা-‘আলাইহিল মাওতা মা-দাল্লাহুম ‘আলা-মাওতিহী-ইল্লা-দাব্বাতুল আরদিতা’কুলুমিন ছাআতাহু ফালাম্মা-খাররা তাবাইয়ানাতিল জিন্নুআল্লাও কা-নূ ইয়া‘লামূনাল গাইবা মা-লাবিছূফিল ‘আযা-বিল মুহীন।

অতঃপর আমি যখন সুলায়মানের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিলাম তখন জিনদেরকে তার মৃত্যু বিষয়ে জানাল কেবল মাটির পোকা, যারা তার লাঠি খাচ্ছিল। ১০ সুতরাং যখন সে পড়ে গেল তখন জিনরা বুঝতে পারল, তারা যদি গায়েবের জ্ঞান রাখত তবে এই লাঞ্ছনাকর কষ্টে পড়ে থাকত না।

তাফসীরঃ

১০. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বায়তুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কার্যে জিনদেরকে নিযুক্ত করেছিলেন। সে জিনগুলো ছিল অত্যন্ত দুষ্টপ্রকৃতির ও অবাধ্য। তারা কেবল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের তত্ত্বাবধানেই কাজ করত। অন্য কাউকে মানত না। তাই আশঙ্কা ছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় যদি বায়তুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কার্য শেষ না হয়, তবে পরে এ কাজ সম্পূর্ণ করা কঠিন হয়ে যাবে। কেননা জিনরা কাজ ছেড়ে দেবে। অথচ সুলাইমান আলাইহিস সালামের আয়ুও শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজেই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করলেন যে, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি জিনদের চোখের সামনে নিজ ইবাদতখানায় একটি লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে গেলেন, যাতে তারা মনে করে তিনি যথারীতি তদারকি করছেন। তাঁর ইবাদতখানা ছিল স্বচ্ছ কাঁচনির্মিত। বাইরে থেকে সব দেখা যেত। দাঁড়ানো অবস্থায়ই তাঁর ওফাত হয়ে গেল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে লাঠিতে ভররত অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখলেন। জিনরা মনে করছিল তিনি জীবিতই আছেন এবং তদারকি করছেন। কাজেই তারা একটানা কাজ করতে থাকল এবং নির্মাণকার্য এক সময় সম্পূর্ণ হয়ে গেল। ইতোমধ্যে আল্লাহ তাআলা তাঁর লাঠিতে উইপোকা লাগিয়ে দিলেন। তারা লাঠিটি খেতে থাকল। ফলে সেটি দুর্বল হয়ে ভেঙ্গে গেল এবং সুলাইমান আলাইহিস সালামের দেহ মাটিতে পড়ে গেল। তখন জিনরা উপলব্ধি করতে পারল, তারা যে নিজেদেরকে অদৃশ্যের জান্তা মনে করত তা কত বড় ভুল ছিল! গায়েব জানলে তাদেরকে এতদিন পর্যন্ত ভুলের মধ্যে থেকে নির্মাণকার্যের কষ্ট পোহাতে হত না।
১৫

لَقَدۡ کَانَ لِسَبَاٍ فِیۡ مَسۡکَنِہِمۡ اٰیَۃٌ ۚ جَنَّتٰنِ عَنۡ یَّمِیۡنٍ وَّشِمَالٍ ۬ؕ کُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِ رَبِّکُمۡ وَاشۡکُرُوۡا لَہٗ ؕ بَلۡدَۃٌ طَیِّبَۃٌ وَّرَبٌّ غَفُوۡرٌ ١٥

লাকাদ কা-না লিছাবাইন ফী মাছকানিহিম আ-য়াতুন জান্নাতা-নি আইঁ ইয়ামীনিওঁ ওয়াশিমা-লিন কুলূমির রিযকিরাব্বিকুম ওয়াশকুরূলাহূ বালদাতুন তাইয়িবাতুওঁ ওয়া রাব্বুন গাফূর।

নিশ্চয়ই সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন। ১১ ডান ও বাম উভয় দিকে ছিল বাগানের সারি। নিজ প্রতিপালকের দেওয়া রিযক খাও এবং তাঁর শোকর আদায় কর। একদিকে তো উৎকৃষ্ট নগর, অন্যদিকে ক্ষমাশীল প্রতিপালক!

তাফসীরঃ

১১. সাবা সম্প্রদায় ইয়ামানে বাস করত। এক কালে সভ্যতা-সংস্কৃতিতে এ জাতি অসাধারণ উৎকর্ষ লাভ করেছিল। কুরআন মাজীদের ভাষ্য মতে তাদের ভূমি ছিল অত্যন্ত উর্বর। প্রচুর ফসল তাতে জন্মাত। তাদের মহা সড়কের দু’পাশে ছিল সারি সারি ফলের বাগান এবং তা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থ-সম্পদে যেমন ছিল সমৃদ্ধ তেমনি রাজনৈতিকভাবেও ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু কালক্রমে তারা ভোগ-বিলাসিতায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে পড়ল যে, তারা আল্লাহ তাআলাকে ভুলে গেল, তাঁর বিধি-বিধান পরিত্যাগ করল এবং শিরকী কর্মকাণ্ডকে নিজেদের ধর্ম বানিয়ে নিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সতর্ক করার জন্য তাদের কাছে কয়েকজন নবী পাঠালেন। হাফেজ ইবনে কাছীর (রহ.)-এর বর্ণনা মতে তাদের কাছে একের পর এক তেরজন নবীর আগমন হয়েছিল। নবীগণ তাদেরকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেন এবং তারা যাতে সুপথে চলে আসে সেজন্য মেহনত করতে থাকলেন, কিন্তু তারা তাঁদের কথা মানল না। পরিশেষে তাদের উপর শাস্তি আসল। ‘মাআরিব’ নামক স্থানে একটি বাঁধ ছিল। সেই বাঁধের পানি দিয়ে তাদের জমি চাষাবাদ করা হত। আল্লাহ তাআলা সেই বাঁধটি ভেঙ্গে দিলেন। ফলে গোটা জনপদ পানিতে ভেসে গেল এবং বাগান গেল ধ্বংস হয়ে।
১৬

فَاَعۡرَضُوۡا فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ سَیۡلَ الۡعَرِمِ وَبَدَّلۡنٰہُمۡ بِجَنَّتَیۡہِمۡ جَنَّتَیۡنِ ذَوَاتَیۡ اُکُلٍ خَمۡطٍ وَّاَثۡلٍ وَّشَیۡءٍ مِّنۡ سِدۡرٍ قَلِیۡلٍ ١٦

ফাআ‘রাদূ ফাআরছালনা-‘আলাইহিম ছাইলাল ‘আরিমি ওয়া বাদ্দালনা-হুম বিজান্নাতাইহিম জান্নাতাইনি যাওয়া-তাই উকুলিন খামতিওঁ ওয়া আছলিওঁ ওয়া শাইয়িম মিন ছিদরিন কালীল।

তা সত্ত্বেও তারা (হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিল। ফলে আমি তাদের উপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা ছেড়ে দিলাম এবং তাদের দু’পাশের বাগান দু’টিকে এমন দু’টি বাগান দ্বারা পরিবর্তিত করে দিলাম, যা ছিল বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও সামান্য কিছু কুল গাছ সম্বলিত।
১৭

ذٰلِکَ جَزَیۡنٰہُمۡ بِمَا کَفَرُوۡا ؕ وَہَلۡ نُجٰزِیۡۤ اِلَّا الۡکَفُوۡرَ ١٧

যা-লিকা জাঝাইনা-হুম বিমা-কাফারূ ওয়া হাল নুজা-ঝীইল্লাল কাফূর।

আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম এ কারণে যে, তারা অকৃতজ্ঞতায় লিপ্ত হয়েছিল। আর আমি তো শাস্তি দেই কেবল ঘোর অকৃতজ্ঞদেরকেই।
১৮

وَجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمۡ وَبَیۡنَ الۡقُرَی الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا قُرًی ظَاہِرَۃً وَّقَدَّرۡنَا فِیۡہَا السَّیۡرَ ؕ سِیۡرُوۡا فِیۡہَا لَیَالِیَ وَاَیَّامًا اٰمِنِیۡنَ ١٨

ওয়া জা‘আলনা-বাইনাহুম ওয়া বাইনাল কুরাল্লাতী বা-রাকনা-ফীহা-কুরান জা-হিরাতাওঁ ওয়াকাদ্দারনা-ফীহাছছাইরা ছীরূফীহা-লায়া-লিয়া ওয়া আইইয়া-মান আ-মিনীন।

আমি তাদের এবং যে সকল জনপদে বরকত দান করেছিলাম, ১২ তাদের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত করেছিলাম, (দূর থেকে) দৃশ্যমান বহু জনপদ এবং তার মধ্যে ভ্রমণকে মাপাজোখা বিভিন্ন ধাপে বণ্টন করে দিয়েছিলাম ১৩ (এবং বলেছিলাম) এসব জনপদে দিনে ও রাতে নিরাপদে ভ্রমণ কর।

তাফসীরঃ

১২. এর দ্বারা শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ অঞ্চলকে বাহ্যিকভাবে যেমন মনোরম ও সবুজ-শ্যামল করেছেন, তেমনি একে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের ভূমি হিসেবেও বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।
১৯

فَقَالُوۡا رَبَّنَا بٰعِدۡ بَیۡنَ اَسۡفَارِنَا وَظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَجَعَلۡنٰہُمۡ اَحَادِیۡثَ وَمَزَّقۡنٰہُمۡ کُلَّ مُمَزَّقٍ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ ١٩

ফাকা-লূরাব্বানা-বা-‘ইদ বাইনা আছফা-রিনা-ওয়া জালামূআনফুছাহুম ফাজা‘আলনাহুম আহা-দীছা ওয়া মাঝঝাকনা-হুম কুল্লা মুমাঝঝাকিন ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতিল লিকুল্লি সাব্বা-রিন শাকূর।

তারা বলতে লাগল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সফরের (মনজিলসমূহের) মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দাও। আর এভাবে তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করল, যার পরিণামে আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয়বস্তু বানিয়ে দিলাম এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-ভিন্ন করে বিক্ষিপ্ত করে ফেললাম। ১৪ নিশ্চয়ই এ ঘটনার মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, শোকরগুজার লোকের জন্য বহু নিদর্শন আছে।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ আযাবের আগে সাবা সম্প্রদায় তো একই জায়গায় মিলেমিশে বসবাস করত, কিন্তু আযাবের পর তারা সম্পূর্ণ বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।
২০

وَلَقَدۡ صَدَّقَ عَلَیۡہِمۡ اِبۡلِیۡسُ ظَنَّہٗ فَاتَّبَعُوۡہُ اِلَّا فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٢۰

ওয়া লাকাদ সাদ্দাকা ‘আলাইহিম ইবলীছূজান্নাহূফাত্তাবা‘ঊহু ইল্লা-ফারীকাম মিনাল মু’মিনীন।

বস্তুত ইবলিস তাদের সম্পর্কে নিজ ধারণাকে সঠিক পেল। সুতরাং তারা তার অনুগামী হল, কেবল মুমিনদের একটি দল ছাড়া। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার সময় ইবলিস ধারণা করেছিল সে তাঁর আওলাদকে বিপথগামী করতে পারবে। তো এই অবাধ্যদের সম্পর্কে তার ধারণা সত্যেই পরিণত হল যে, তারা তার অনুসারী হয়ে গেল।
২১

وَمَا کَانَ لَہٗ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّا لِنَعۡلَمَ مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِالۡاٰخِرَۃِ مِمَّنۡ ہُوَ مِنۡہَا فِیۡ شَکٍّ ؕ  وَرَبُّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَفِیۡظٌ ٪ ٢١

ওয়া মা-কা-না লাহূ‘আলাইহিম মিন ছুলতা-নিন ইল্লা-লিনা‘লামা মাইঁ ইউ’মিনুবিলআখিরাতি মিম্মান হুওয়া মিনহা-ফী শাক্কিওঁ ওয়া রাব্বুকা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন হাফীজ।

তাঁদের উপর ইবলিসের কোন আধিপত্য ছিল না। তবে (মানুষকে বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা আমি তাকে এজন্য দিয়েছিলাম যে,) আমি দেখতে চাচ্ছিলাম কে আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে আর কে সে সম্বন্ধে থাকে সন্দেহে পতিত। ১৬ তোমার প্রতিপালক সকল বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ আমি ইবলিসকে তো এমন কোন শক্তি দেইনি যে, সে মানুষের উপর আধিপত্য বিস্তার করে তাদেরকে নাফরমানীতে লিপ্ত হতে বাধ্য করবে। আমি তাকে কেবল প্ররোচনা দেওয়ার শক্তি দিয়েছিলাম। তাতে অন্তরে গুনাহ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় ঠিকই, কিন্তু কেউ গুনাহ করতে বাধ্য হয়ে যায় না। কেউ যদি নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে লাগায় এবং শরীয়তের উপর অবিচলিতথাকার সংকল্প করে নেয় তবে শয়তান তার কিছুই করতে পারে না। প্ররোচনা দেওয়ার শক্তিও তাকে এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক্ষা করতে চান, কে আখেরাতের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে শয়তানের প্ররোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে আর কে দুনিয়াকে লক্ষবস্তু বানিয়ে শয়তানের কথা মেনে নেয়।
২২

قُلِ ادۡعُوا الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۚ لَا یَمۡلِکُوۡنَ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا لَہُمۡ فِیۡہِمَا مِنۡ شِرۡکٍ وَّمَا لَہٗ مِنۡہُمۡ مِّنۡ ظَہِیۡرٍ ٢٢

কুলিদ ‘উল্লাযীনা ঝা‘আমতুম মিন দূ নিল্লা-হি লা-ইয়ামলিকূনা মিছকা-লা যাররাতিন ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিল আরদিওয়ামা-লাহুম ফীহিমা-মিন শিরকিওঁ ওয়ামা-লাহূ মিনহুম মিন জাহীর।

(হে রাসূল! ওই কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মনে করতে তাদেরকে ডাক। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তারা অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয় এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে (কোনও বিষয়ে আল্লাহর সাথে) তাদের কোন অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্যে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়।
২৩

وَلَا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَۃُ عِنۡدَہٗۤ اِلَّا لِمَنۡ اَذِنَ لَہٗ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فُزِّعَ عَنۡ قُلُوۡبِہِمۡ قَالُوۡا مَاذَا ۙ قَالَ رَبُّکُمۡ ؕ قَالُوا الۡحَقَّ ۚ وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡکَبِیۡرُ ٢٣

ওয়ালা-তানফা‘উশশাফা-‘আতু‘ইনদাহূইল্লা-লিমান আযিনা লাহূ হাত্তাইযাফুঝঝি‘আ ‘আন কুলূবিহিম কা-লূমা-যা- কা-লা রাব্বুকুম কা-লুল হাক্কা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ুল কাবীর।

যার জন্য তিনি (সুপারিশের) অনুমতি দেন, তার ছাড়া (অন্য কারও) কোন সুপারিশ আল্লাহর সামনে কাজে আসবে না। পরিশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর করে দেওয়া হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তারা উত্তর দেয়, সত্য (কথা বলেছেন) এবং তিনিই সমুচ্চ, মহান। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. ২২ ও ২৩ নং আয়াতে মুশকিরদের বিভিন্ন আকীদা-বিশ্বাস রদ করা হয়েছে। কতক মুশরিক তাদের হাতে গড়া প্রতিমাকে ঈশ্বর মনে করত এবং তাদের সম্পর্কে বিশ্বাস পোষণ করত যে, তারা সরাসরি আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করে। তাদের এ বিশ্বাস খণ্ডন করার জন্য ২২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, তারা আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণ কোন জিনিসেরও মালিক নয় এবং আসমান ও যমীনের কোনও বিষয়ে তাদের কোনরূপ অংশীদারিত্ব নেই। অপর এক শ্রেণীর মুশরিকদের বিশ্বাস ছিল, এসব প্রতিমা আল্লাহ তাআলাকে তাঁর কাজকর্মে সাহায্য করে। তাদেরকে রদ করার জন্য ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর সাহায্যকারী নয়’। আবার এক শ্রেণীর মুশরিক দেব-দেবীকে আল্লাহর প্রভুত্বে অংশীদার বা তার সাহায্যকারী মনে করত না বটে, কিন্তু বিশ্বাস রাখত যে, তারা আল্লাহ তাআলার দরবারে তাদের জন্য সুপারিশ করবে। তাদের ধারণা খণ্ডনের জন্য ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ যাকে অনুমতি দেন তারা ছাড়া অন্য কারও সুপারিশ তাঁর সামনে কোন কাজে আসবে না’। অর্থাৎ দেব-দেবীর সম্পর্কে তোমাদের তো বিশ্বাস ‘তারা আল্লাহর অতি ঘনিষ্ঠ ও সমাদৃত, ফলে তাঁর দরবারে তাদের সুপারিশ করার এখতিয়ার আছে, অথচ আল্লাহর দরবারে না আছে তাদের কোন ঘনিষ্ঠতা ও গ্রহণযোগ্যতা এবং না আছে তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করার যোগ্যতা। যাদের বাস্তবিকই ঘনিষ্ঠতা আছে, সেই ফেরেশতাগণও তো আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে কোন সুপারিশ করতে পারে না। তারপর বলা হয়েছে, সেই ফেরেশতাদের অবস্থা তো এই যে, তারা সর্বদাই আল্লাহ তাআলার ভয়ে তটস্থ থাকে। এমনকি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদেরকে যখন কোন হুকুম দেওয়া হয়, কিংবা সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হয়, তখন তারা এতটাই ভয় পায় যে, বেহুঁশ মত হয়ে যায়। যখন ভয় কেটে যায় তখন একে অন্যকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ কী বলেছেন? তারপর তারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মত কাজ করেন। যখন সেই ঘনিষ্ঠ ও নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের অবস্থাই এমন, তখন এসব হাতে গড়া মূর্তি, যাদের কোন মর্যাদা ও নৈকট্য আল্লাহর কাছে নেই, তারা কিভাবে তাঁর দরবারে সুপারিশ করতে পারে?
২৪

قُلۡ مَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلِ اللّٰہُ ۙ وَاِنَّاۤ اَوۡ اِیَّاکُمۡ لَعَلٰی ہُدًی اَوۡ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٢٤

কুল মাইঁ ইয়ার ঝুকুকুম মিনাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লিলা-হু ওয়া ইন্নাআও ইয়্যা-কুম লা‘আলা-হুদান আও ফী দালা-লিম মুবীন।

বল, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? বল, তিনি আল্লাহ! এবং আমরা অথবা তোমরা হয়ত হেদায়াতের উপর আছি অথবা স্পষ্ট গোমরাহীতে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. এটা তো জানা কথা যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করে তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত আর যারা কোন মাখলুকের পূজা করে তারা বিপথগামী। তা সত্ত্বেও আয়াতে বিষয়টিকে অমীমাংসিতরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে ন্যায়নিষ্ঠতার পরাকাষ্ঠাস্বরূপ। এর দ্বারা সূক্ষ্মভাবে তাদেরকে সত্যগ্রহণের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং প্রচ্ছন্নভাবে জানানো হয়েছে যে, তারাই গোমরাহীতে লিপ্ত। সরাসরি বলা অপেক্ষা এরূপ ইঙ্গিতে বলার ধার অনেক বেশি হয়ে থাকে। যেমন প্রতিপক্ষের মিথ্যুক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও বলা হয়ে থাকে, ‘তোমার ও আমার মধ্যে যে মিথ্যুক তার প্রতি আল্লাহর লানত’। এটা সরাসরি মিথ্যুক বলা অপেক্ষা ঢের তীক্ষ্ণ। -অনুবাদক
২৫

قُلۡ لَّا تُسۡـَٔلُوۡنَ عَمَّاۤ اَجۡرَمۡنَا وَلَا نُسۡـَٔلُ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٢٥

কুল লা-তুছআলূনা ‘আম্মাআজরামনা-ওয়ালা-নুছআলু‘আম্মা-তা‘মালূন।

বল, আমরা যে অপরাধ করেছি সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না এবং তোমরা যা করছ সে সম্পর্কেও আমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।
২৬

قُلۡ یَجۡمَعُ بَیۡنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ یَفۡتَحُ بَیۡنَنَا بِالۡحَقِّ ؕ وَہُوَ الۡفَتَّاحُ الۡعَلِیۡمُ ٢٦

কুল ইয়াজমা‘উ বাইনানা-রাব্বুনা-ছু ম্মা ইয়াফতাহূবাইনানা-বিল হাক্কি ওয়া হুওয়াল ফাত্তা-হুল ‘আলীম।

বল, আমাদের প্রতিপালক আমাদের সকলকে একত্র করবেন তারপর আমাদের মধ্যে ন্যায্য ফায়সালা করবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।
২৭

قُلۡ اَرُوۡنِیَ الَّذِیۡنَ اَلۡحَقۡتُمۡ بِہٖ شُرَکَآءَ کَلَّا ؕ بَلۡ ہُوَ اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٢٧

কুল আরূনিয়াল্লাযীনা আলহাকতুম বিহী শুরাকাআ কাল্লা- বাল হুওয়াল্লা-হুল ‘আঝীঝুল হাকীম।

বল, আমাকে দেখাও, তারা কারা, যাদেরকে তোমরা শরীক বানিয়ে আল্লাহর সাথে জুড়ে দিয়েছ? কক্ষণও নয়, (তাঁর কোন শরীক নেই); বরং তিনিই আল্লাহ, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
২৮

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٢٨

ওয়ামাআরছালনা-কা ইল্লা-কাফফাতাল লিন্না-ছি বাশীরাওঁ ওয়ানাযীরাওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

এবং (হে নবী!) আমি তোমাকে সমস্ত মানুষের জন্য একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝছে না।
২৯

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٢٩

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।

এবং তারা (তোমাকে) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল কিয়ামতের) এ প্রতিশ্রুতি কবে পূরণ হবে?
৩০

قُلۡ لَّکُمۡ مِّیۡعَادُ یَوۡمٍ لَّا تَسۡتَاۡخِرُوۡنَ عَنۡہُ سَاعَۃً وَّلَا تَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ٪ ٣۰

কুল্লাকুম মী‘আ-দু ইয়াওমিল লা-তাছতা’খিরূনা ‘আনহু ছা-‘আতাওঁ ওয়ালাতাছতাকদিমূন।

বলে দাও, তোমাদের জন্য এমন এক দিনের মেয়াদ নির্দিষ্ট আছে, যা থেকে তোমরা এক মুহূর্ত পিছাতে পারবে না এবং সামনেও যেতে পারবে না।
৩১

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ بِہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَلَا بِالَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ مَوۡقُوۡفُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۚۖ یَرۡجِعُ بَعۡضُہُمۡ اِلٰی بَعۡضِۣ الۡقَوۡلَ ۚ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لَوۡلَاۤ اَنۡتُمۡ لَکُنَّا مُؤۡمِنِیۡنَ ٣١

ওয়াকা-লাল্লাযীনা কাফারূ লান নু’মিনা বিহা-যাল কুরআ-নি ওয়ালা-বিল্লাযীবাইনা ইয়াদাইহি ওয়ালাও তারাইযিজ্জা-লিমূনা মাওকূফূনা ‘ইনদা রাব্বিহিম ইয়ারজি‘উ বা‘দুহুম ইলা-বা‘দিনিল কাওলা ইয়াকূলুল্লাযীনাছতুদ‘ইফূলিল্লাযীনাছতাকবারূ লাওলাআনতুম লাকুন্না-মু’মিনীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আমরা কখনও এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনব না এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতিও নয়। তুমি যদি সেই সময়ের দৃশ্য দেখতে যখন জালেমদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে আর তারা একে অন্যের কথা রদ করবে। (দুনিয়ায়) যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল তারা ক্ষমতা-দর্পীদেরকে বলবে, তোমরা না হলে আমরা অবশ্যই মুমিন হয়ে যেতাম।
৩২

قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡۤا اَنَحۡنُ صَدَدۡنٰکُمۡ عَنِ الۡہُدٰی بَعۡدَ اِذۡ جَآءَکُمۡ بَلۡ کُنۡتُمۡ مُّجۡرِمِیۡنَ ٣٢

কা-লাল্লাযীনাছতাকবারূলিল্লাযীনাছতুদ‘ইফূ আনাহনুসাদাদ না-কুম ‘আনিল হুদা-বা‘দা ইযজাআকুম বাল কুনতুম মুজরিমীন।

যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা, যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকে বলবে, হেদায়াত তোমাদের কাছে এসে যাওয়ার পর আমরাই কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি? প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরাই অপরাধী ছিলে।
৩৩

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا بَلۡ مَکۡرُ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ اِذۡ تَاۡمُرُوۡنَنَاۤ اَنۡ نَّکۡفُرَ بِاللّٰہِ وَنَجۡعَلَ لَہٗۤ اَنۡدَادًا ؕ وَاَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ ؕ وَجَعَلۡنَا الۡاَغۡلٰلَ فِیۡۤ اَعۡنَاقِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ ہَلۡ یُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٣٣

ওয়াকা-লাল্লাযীনাছতুদ‘ইফূলিল্লাযীনাছতাকবারূবাল মাকরুল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ইয তা’মুরূনানাআন নাকফুরা বিল্লা-হি ওয়ানাজ‘আলা লাহূআনদা-দাওঁ ওয়া আছাররুন্নাদামাতা লাম্মা-রাআউল ‘আযা-বা ওয়াজা‘আলনাল আগলা-লা ফীআ‘নাকিল্লাযীনা কাফারূ হাল ইউজঝাওনা ইল্লা-মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবে, না, বরং এটা তো তোমাদের দিবা-রাত্রের চক্রান্তই ছিল (যা আমাদেরকে হেদায়াত থেকে ফিরিয়ে রেখেছিল), যখন তোমরা আমাদেরকে আদেশ করছিলে আমরা যেন আল্লাহর কুফরী করি এবং তাঁর সাথে (অন্যদেরকে) শরীক সাব্যস্ত করি। তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে ১৯ এবং যারা কুফরী অবলম্বন করেছিল আমি তাদের সকলের গলায় বেড়ি পরাব। তাদেরকে তো কেবল তাদের কৃতকর্মেরই প্রতিদান দেওয়া হবে।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ তারা উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে তো একে অন্যকে দোষারোপ করবে, কিন্তু মনে মনে ঠিকই বুঝবে যে, প্রকৃতপক্ষে আমরা সকলেই সমান অপরাধী। এ উপলব্ধির কারণে তারা প্রত্যেকেই মনে মনে অনুতপ্ত হবে, কিন্তু প্রথমে তা প্রকাশ করবে না।
৩৪

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ٣٤

ওয়ামা আরছালনা-ফী কারইয়াতিম মিন নাযীরিন ইল্লা-কা-লা মুতরাফূহা ইন্না বিমাউরছিলতুম বিহী কা-ফিরূন।

আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারী (নবী) পাঠিয়েছি, তার বিত্তশালী লোকেরা বলেছে, তোমরা যে বার্তাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
৩৫

وَقَالُوۡا نَحۡنُ اَکۡثَرُ اَمۡوَالًا وَّاَوۡلَادًا ۙ وَّمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ ٣٥

ওয়া কা-লূনাহনুআকছারু আমওয়া-লাওঁ ওয়াআওলা-দাওঁ ওয়ামা-নাহনু বিমু‘আযযাবীন।

আরও বলেছে, আমরা ধনে-জনে তোমাদের চেয়ে বেশি আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার নই।
৩৬

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٣٦

কুল ইন্না রাববী ইয়াবছুতু ররিঝকালিমাইঁ ইয়াশাউওয়াইয়াকদিরু ওয়া লা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

বলে দাও, আমার প্রতিপালক যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক একথা বোঝে না। ২০

তাফসীরঃ

২০. প্রকৃত বিষয় না বোঝার কারণেই তাদের ধারণা হয়েছে, দুনিয়ায় যখন আমরা ধনে-জনে অন্যদের উপরে, তখন বোঝাই যাচ্ছে আমরা আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দা। অথচ দুনিয়ায় অর্থ-সম্পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর মাপকাঠি এই নয় যে, যে আল্লাহর যত বেশি প্রিয় হবে তাকে তত বেশি সম্পদ দেওয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে এটা নির্ভর করে কেবলই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর। এখানে তিনি নিজ ইচ্ছা ও হেকমত অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা বেশি সম্পদ দেন এবং যাকে ইচ্ছা কম দেন। তাঁর প্রিয় হওয়া বা না হওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
৩৭

وَمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ بِالَّتِیۡ تُقَرِّبُکُمۡ عِنۡدَنَا زُلۡفٰۤی اِلَّا مَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ۫ فَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ جَزَآءُ الضِّعۡفِ بِمَا عَمِلُوۡا وَہُمۡ فِی الۡغُرُفٰتِ اٰمِنُوۡنَ ٣٧

ওয়ামাআমওয়া-লুকুম ওয়ালাআওলা-দুকুম বিল্লাতী তুকাররিবুকুম ‘ইনদানা-ঝুলফা ইল্লামান আ-মানা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফাউলাইকা লাহুম জাঝাউদ দি‘ফি বিমা‘আমিলূওয়াহুম ফিল গুরূফা-তি আ-মিনূন।

তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন কিছু নয়, যা তোমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য দান করবে। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, এরূপ ব্যক্তিবর্গ তাদের কর্মের দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করবে এবং তারা (জান্নাতের) প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে।
৩৮

وَالَّذِیۡنَ یَسۡعَوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ فِی الۡعَذَابِ مُحۡضَرُوۡنَ ٣٨

ওয়াল্লাযীনা ইয়াছ‘আওনা ফীআ-য়া-তিনা-মু‘আ-জিঝীনা উলাইকা ফিল ‘আযা-বি মুহদারূন।

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদেরকে শাস্তিতে গ্রেফতার করা হবে।
৩৯

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ وَیَقۡدِرُ لَہٗ ؕ وَمَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَہُوَ یُخۡلِفُہٗ ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ٣٩

কুল ইন্না রাববী ইয়াবছুতু র রিঝকালিমাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী ওয়া ইয়াকদিরু লাহূ ওয়ামাআনফাকতুম মিন শাইয়িন ফাহুওয়া ইউখলিফুহূ ওয়াহুওয়া খাইরুর রা-ঝিকীন।

বল, আমার প্রতিপালক নিজ বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযকের প্রাচুর্য দান করেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) তা সংকীর্ণ করে দেন। তোমরা যা-কিছুই ব্যয় কর, তিনি তদস্থলে অন্য জিনিস দিয়ে দেন। তিনি শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
৪০

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ یَقُوۡلُ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اَہٰۤؤُلَآءِ اِیَّاکُمۡ کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ ٤۰

ওয়া ইয়াওমা ইয়াহশুরুহুম জামী‘আন ছু ম্মা ইয়াকূ লুলিলমালাইকাতি আহাউলাই ইয়্যাকুম কা-নূইয়া‘বুদূন।

সেই দিন (-কে ভুলে যেও না), যখন আল্লাহ সকলকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে বলবেন, সত্যিই কি এরা তোমাদের ইবাদত করত?
৪১

قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ اَنۡتَ وَلِیُّنَا مِنۡ دُوۡنِہِمۡ ۚ بَلۡ کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ الۡجِنَّ ۚ اَکۡثَرُہُمۡ بِہِمۡ مُّؤۡمِنُوۡنَ ٤١

কা-লূছুবহা-নাকা আনতা ওয়ালিইয়ুনা-মিন দূ নিহিম বাল কা-নূইয়া‘বুদূ নাল জিন্না আকছারুহুম বিহিম মু’মিনূন।

তারা বলবে, আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। আমাদের সম্পর্ক আপনার সাথে; তাদের সাথে নয়। প্রকৃতপক্ষে তারা জিনদের ইবাদত করত। ২১ তাদের অধিকাংশ তাদেরই প্রতি বিশ্বাসী ছিল।

তাফসীরঃ

২১. এখানে জিন দ্বারা শয়তানদেরকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তারা শয়তানদের দ্বারা নিজেদের বহু কাজ-কর্ম করিয়ে নেয় এবং তাদের কথা অনুযায়ী চলে। শয়তানরাই তাদেরকে শিরকী আকীদা-বিশ্বাসের প্ররোচনা দিয়েছে। কাজেই তারা প্রকৃত প্রস্তাবে শয়তানদেরই পূজারী ছিল।
৪২

فَالۡیَوۡمَ لَا یَمۡلِکُ بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ نَّفۡعًا وَّلَا ضَرًّا ؕ وَنَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ ٤٢

ফালইয়াওমা লা-ইয়ামলিকুবা‘দুকুম লিবা‘দিন নাফ‘আওঁ ওয়ালা-দাররাওঁ ওয়ানাকূলু লিল্লাযীনা জালামূযূকূ‘আযা-বান্না-রিল্লাতী কুনতুম বিহা-তুকাযযিবূন।

সুতরাং আজ তোমরা পরস্পরে একে অন্যের কোন উপকার করতে পারবে না এবং অপকারও নয়। আর যারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছিল, তাদেরকে বলব, তোমরা আস্বাদন কর আগুনের শাস্তি, যা তোমরা অবিশ্বাস করতে।
৪৩

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالُوۡا مَا ہٰذَاۤ اِلَّا رَجُلٌ یُّرِیۡدُ اَنۡ یَّصُدَّکُمۡ عَمَّا کَانَ یَعۡبُدُ اٰبَآؤُکُمۡ ۚ وَقَالُوۡا مَا ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡکٌ مُّفۡتَرًی ؕ وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ۙ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٤٣

ওয়া ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লূ মা-হা-যাইল্লা-রাজূলুইঁ ইউরীদুআইঁ ইয়াসুদ্দাকুম ‘আম্মা-কা-না ইয়া‘বুদুআ-বাউকুম ওয়াকা-লূমা-হাযাইল্লাইফকুম মুফতারাওঁ- ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূলিল হাক্কিলাম্মাজাআহুম ইন হা-যাইল্লা-ছিহরুম মুবীন।

তাদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয়, তখন তারা (আমার রাসূল সম্পর্কে) বলে, এই ব্যক্তি আর কিছুই নয়, কেবল এটাই চায় যে, সে তোমাদেরকে তোমাদের সেই মাবুদদের থেকে ফিরিয়ে দেবে, যাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদা পূজা করে আসছে এবং তারা বলে, এ কুরআন এক মনগড়া মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যখন কাফেরদের কাছে সত্যের বাণী এসে গেল, তখন তারা সে সম্পর্কে বলল, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছুই নয়।
৪৪

وَمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ مِّنۡ کُتُبٍ یَّدۡرُسُوۡنَہَا وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمۡ قَبۡلَکَ مِنۡ نَّذِیۡرٍ ؕ ٤٤

ওয়ামাআ-তাইনা-হুম মিন কুতুবিইঁ ইয়াদরুছূনাহা-ওয়ামাআরছালনাইলাইহিম কাবলাকা মিন নাযীর।

অথচ আমি তাদেরকে (এর আগে) এমন কোন কিতাব দেইনি, যার পঠন-পাঠন তারা করে এবং (হে নবী!) তোমার আগে আমি তাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী) পাঠাইনি। ২২

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ কাফেরগণ কুরআনকে মনগড়া কিতাব বলছে (নাউযুবিল্লাহ) অথচ মনগড়া তো খোদ তাদের ধর্ম। কেননা এর আগে তাদের কাছে না কোন আসমানী কিতাব এসেছে না কোন নবী। সুতরাং তারা যে ধর্ম তৈরি করে নিয়েছে, সেটা তো সম্পূর্ণই তাদের মনগড়া। তাছাড়া তাদেরকে এই প্রথমবারের মত কিতাব ও নবী দেওয়া হয়েছে। এর তো দাবি ছিল তারা এই নি‘আমতের কদর করবে, অথচ উল্টো তারা এর বিরোধী হয়ে গেছে।
৪৫

وَکَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۙ  وَمَا بَلَغُوۡا مِعۡشَارَ مَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ فَکَذَّبُوۡا رُسُلِیۡ ۟  فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٪ ٤٥

ওয়া কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়ামা-বালাগূমি‘শা-রা মাআ-তাইনা-হুম ফাকাযযাবূরুছুলী ফাকাইফা কা-না নাকীর।

তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও (নবীদেরকে) অস্বীকার করেছিল। তাদেরকে আমি যা (অর্থ-সম্পদ) দিয়েছিলাম এরা (অর্থাৎ আরবের মুশরিকগণ) তার এক-দশমাংশেও পৌঁছতে পারেনি। তা সত্ত্বেও তারা আমার রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। সুতরাং (তুমি দেখে নাও) আমার প্রদত্ত শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।
৪৬

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَعِظُکُمۡ بِوَاحِدَۃٍ ۚ اَنۡ تَقُوۡمُوۡا لِلّٰہِ مَثۡنٰی وَفُرَادٰی ثُمَّ تَتَفَکَّرُوۡا ۟ مَا بِصَاحِبِکُمۡ مِّنۡ جِنَّۃٍ ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا نَذِیۡرٌ لَّکُمۡ بَیۡنَ یَدَیۡ عَذَابٍ شَدِیۡدٍ ٤٦

কুল ইন্নামাআ‘ইজুকুম বিওয়া-হিদাতিন আন তাকূমূলিল্লা-হি মাছনা-ওয়া ফুরা-দা-ছু ম্মা তাতাফাক্কারূ মা-বিসা-হিবিকুম মিন জিন্নাতিন ইন হুওয়া ইল্লা-নাযীরুল লাকুম বাইনা ইয়াদাই ‘আযা-বিন শাদীদ।

(হে রাসূল!) তাদেরকে বল, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি। তা এই যে, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু-দু’জন অথবা এক-একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, ২৩ তারপর চিন্তা কর (তা করলে অবিলম্বেই বুঝে এসে যাবে যে,) তোমাদের এ সাথীর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) মধ্যে কোন বিকারগ্রস্ততা নেই। সে তো সুকঠিন এক শাস্তির আগে তোমাদের জন্য এক সতর্ককারী মাত্র।

তাফসীরঃ

২৩. ‘দাঁড়িয়ে যাও’ দ্বারা বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগ দানের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, তোমরা তো এখনও পর্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তাই করনি। তাই এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলছ। আর মন্তব্য করছ যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উন্মাদ (নাউযুবিল্লাহ)। মুক্ত মনে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তার দাবি হল, প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবে এবং আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে চিন্তা করবে। কখনও একাকী চিন্তা করলেই ভালো ফল পাওয়া যায় আবার কখনও সমষ্টিগত চিন্তাই ফলপ্রসূ হয়। তাই উভয় পন্থায় চিন্তা করতে বলা হয়েছে।
৪৭

قُلۡ مَا سَاَلۡتُکُمۡ مِّنۡ اَجۡرٍ فَہُوَ لَکُمۡ ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ٤٧

কুল মা-ছাআলতুকুম মিন আজরিন ফাহুওয়া লাকুম ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

বল, আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাইলে তা তোমাদেরই থাকুক। আমার পারিশ্রমিক তো কেবল আল্লাহরই কাছে। তিনি সমস্ত কিছুর দ্রষ্টা।
৪৮

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَقۡذِفُ بِالۡحَقِّ ۚ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ ٤٨

কুল ইন্না রাববী ইয়াকযিফুবিলহাক্কি‘আল্লা-মুল গুয়ুব।

বলে দাও, আমার প্রতিপালক উপর থেকে সত্য পাঠাচ্ছেন। ২৪ তিনি গায়েবের যাবতীয় বিষয় ভালোভাবে জানেন।

তাফসীরঃ

২৪. ‘সত্যকে উপর থেকে পাঠাচ্ছেন’ এর মানে সত্য বাণী ওহীর মাধ্যমে উপর থেকে আসছে। এর দ্বিতীয় অর্থ হল, আল্লাহ তাআলা উপর থেকে সত্য নাযিল করে তাকে মিথ্যার উপর প্রবল করে তুলছেন। সুতরাং তোমরা যতই বিরোধিতা কর না কেন মিথ্যা ক্রমশ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সত্য হবে জয়যুক্ত।
৪৯

قُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَمَا یُبۡدِئُ الۡبَاطِلُ وَمَا یُعِیۡدُ ٤٩

কুল জাআল হাক্কুওয়ামা-ইউবদিউল বা-তিলুওয়ামা-ইউ‘ঈদ।

বলে দাও, সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা না পারে কিছু শুরু করতে, না পুনরাবৃত্তি করতে।
৫০

قُلۡ اِنۡ ضَلَلۡتُ فَاِنَّمَاۤ اَضِلُّ عَلٰی نَفۡسِیۡ ۚ وَاِنِ اہۡتَدَیۡتُ فَبِمَا یُوۡحِیۡۤ اِلَیَّ رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ سَمِیۡعٌ قَرِیۡبٌ ٥۰

কুল ইন দালালতুফাইন্নামাআদিল্লু‘আলা-নাফছী ওয়াইনিহতাদাইতুফাবিমা-ইউহী ইলাইয়া রাববী ইন্নাহূছামী‘উন কারীব।

বলে দাও, আমি যদি বিপথগামী হয়ে থাকি, তবে আমার বিপথগামিতার ক্ষতি আমাকেই ভোগ করতে হবে আর আমি যদি সরল পথ পেয়ে থাকি, তবে এটা সেই ওহীরই বদৌলতে, যা আমার প্রতিপালক আমার প্রতি অবতীর্ণ করছেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর শ্রোতা, সকলের নিকটবর্তী।
৫১

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ فَزِعُوۡا فَلَا فَوۡتَ وَاُخِذُوۡا مِنۡ مَّکَانٍ قَرِیۡبٍ ۙ ٥١

ওয়া লাও তারাইয ফাঝি‘ঊ ফালা -ফাওতা ওয়া উখিযূমিম মাকা-নিন কারীব।

(হে নবী!) তুমি যদি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন তারা ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং পালিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা থাকবে না আর তাদেরকে নিকট থেকেই পাকড়াও করা হবে।
৫২

وَّقَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِہٖ ۚ  وَاَنّٰی لَہُمُ التَّنَاوُشُ مِنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ ۚۖ ٥٢

ওয়া কা-লূআ-মান্না-বিহী ওয়া আন্না-লাহুমুততানা-উশু মিম মাকা-নিম বা‘ঈদ।

এবং (তখন তারা) বলবে, আমরা তার প্রতি ঈমান আনলাম। কিন্তু এতটা দূরবর্তী স্থান থেকে তারা কোন জিনিসের নাগাল পাবে কী করে? ২৫

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ ঈমান আনার আসল জায়গা ছিল দুনিয়া। তা এখন বহু দূরে। সেখানে থেকে এতদূর এই আখেরাতে পৌঁছার পর সেই ঈমানের নাগাল তোমরা পেতে পার না, যা দুনিয়াতেই তোমাদের কাছে কাম্য ছিল। সেখানে তো এটাই দেখার ছিল যে, দুনিয়ার রঙ-ঢঙের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাও, না সর্বাবস্থায় তাঁকে স্মরণ রাখ। এখন আখেরাতের সকল দৃশ্য সামনে এসে যাওয়ার পর ঈমান আনার ভেতর কৃতিত্ব কিসের যে, তার ভিত্তিতে তোমাদেরকে ক্ষমা করা হবে?
৫৩

وَّقَدۡ کَفَرُوۡا بِہٖ مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَیَقۡذِفُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ مِنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ ٥٣

ওয়া কাদ কাফারূবিহী মিন কাবলু ওয়া ইয়াকযিফূনা বিলগাইবি মিম মাকা-নিম বা‘ঈদ।

তারা তো পূর্বে তাকে অস্বীকার করেছিল এবং অনেক দূরবর্তী স্থান থেকে অদৃশ্য বিষয়ে অনুমানে ঢিল ছুঁড়ত।
৫৪

وَحِیۡلَ بَیۡنَہُمۡ وَبَیۡنَ مَا یَشۡتَہُوۡنَ کَمَا فُعِلَ بِاَشۡیَاعِہِمۡ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا فِیۡ شَکٍّ مُّرِیۡبٍ ٪ ٥٤

ওয়া হীলা বাইনাহুম ওয়া বাইনা মা-ইয়াশতাহূনা কামা-ফু‘ইলা বিআশইয়া-‘ইহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম কা-নূফী শাক্কিম মুরীব।

তখন তারা যার (অর্থাৎ যে ঈমানের) আকাঙ্ক্ষা করবে তার ও তাদের মধ্যে অন্তরাল করে দেওয়া হবে, যেমন করা হয়েছিল তাদের পূর্বে তাদের অনুরূপ লোকদের সাথে। প্রকৃতপক্ষে তারা এক বিভ্রান্তকর সন্দেহে পতিত ছিল।