প্রশ্নঃ ১৯৭৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, এক ব্যক্তি দুপুরে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে এসে দেখে যে, দুপুরের খাবার রান্না হয়নি। এতে সে স্ত্রীকে রাগ করে বলে যে, ‘তোমার রান্না আর খামু না। যদি তোমার হাতের খানা খাই তাহলে হারাম খাই।’ পরবর্তীতে স্বামী তার ঐ কথার জন্য অনুতপ্ত হয়েছে এবং স্ত্রীর হাতের রান্নাই খাচ্ছে। এটা জানতে পেরে এক ব্যক্তি স্বামীকে বলল, তোমার উক্ত কথার দ্বারা কসম হয়েছিল? জানতে চাই, কসম হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি তোমার হাতের খানা খাই তাহলে হারাম খাই-এ কথার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়েছে। এরপর স্বামী স্ত্রীর হাতের রান্না খাওয়ার দ্বারা তার কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে। এ কারণে তার উপর কসম ভঙ্গের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে।
তাই কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দু বেলা তৃপ্তিসহকারে খানা খাওয়াতে হবে। অথবা প্রত্যেককে এক জোড়া করে বস্ত্র দিতে হবে। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) সুতরাং কসমের (ভঙ্গের) কাফফারা হল দশজন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাক, অথবা দশজন মিসকীনকে বস্ত্র প্রদান করা, অথবা গোলাম আযাদ করা।-সূরা মায়েদা : ৮৯
তবে কারো পক্ষে এ তিন পদ্ধতির কোনোটি দ্বারা কাফফারা আদায় করা সম্ভব না হলে তার কর্তব্য হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোযা রাখা। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) তবে যে (উপরোল্লেখিত তিনটির কোনোটিরই) সমার্থ্য না রাখে তার করণীয় হচ্ছে তিনদিন (ধারাবাহিক) রোযা রাখা। এটা তোমাদের কসম ভঙ্গের কাফফারা, যখন তোমরা কসম করবে (এবং পরে তা ভেঙ্গে ফেলবে)।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন