বাচ্চাদের অযু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা ও কুরআন পড়ানোর ব্যাপারে কিছু পরামর্শ
প্রশ্নঃ ১৭২১২৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার জমজ মেয়ে।বয়স ৪।আমি কুরআন তিলাওয়াত করতে নিলে অথবা দিনের ওরা কুরআন খুলে নিজ হাতে ধরে পড়তে চায়। আলহামদুলিল্লাহ ওরা কিছু সুরা, দোয়া মুখস্থ পারে।দেখা যায় ওরা বিভিন্ন সূরা,দোয়ার বিভিন্ন শব্দ একটার সাথে আরেকটা মিলিয়ে তেলাওয়াত এর সুরে যা মন চায় পড়তে থাকে। এইগুলোর যে আসলে কি অর্থ হয় আল্লাহ মালুম।কিন্তু ওরা তো ওজু করতে পারে না।আবার ওলোটপালোট পরে,এই ভয়ে ওদের আমি কুরআন ধরতে বা এইভাবে পড়তে দেই না।আগে আমি কুরআন তিলাওয়াত করতে নিলে ওরা বসে শুনতো,পড়তে চাইতো।এখন ধরতে,পড়তে না দেওয়ায় শুনতেও আসে না,পড়তে ও চায় না আগের মতন।আগে অনেক কান্না করতো না দিলে।এখন ওই ইন্টারেস্ট টা দেখতে পাচ্ছি না। আমার কি ওদের কুরআন তিলাওয়াত করতে দেওয়া ও ওযু ছাড়া ধরতে দেওয়া ঠিক হবে?আমি ওদের হিফয করাতে চাই ভবিষ্যতে ইংশাআল্লাহ।দয়া করে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ছোট বাচ্চাদের জন্য কুরআন শেখা, হিফজ করা ও তিলাওয়াতের অনুশীলনের স্বার্থে ওযু ছাড়াও কুরআন কারীম স্পর্শ করার অনুমতি রয়েছে। কারণ, ছোট বাচ্চারা শরীয়তের বিধান পালনে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো মুকাল্লাফ (জবাবদিহিতার আওতায়) নয়। তাছাড়া বারবার তাদের ওযু করানো কষ্টসাধ্য; এমতাবস্থায় তাদের ওযু বাধ্যতামূলক করলে তাদের কুরআন শেখা ও তিলাওয়াত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে।
৪ বছর বয়সের নিষ্পাপ শিশুদের কোনো গুনাহ লেখা হয় না। তারা বড়দের অনুকরণে ভালোবেসে সুর মেলাচ্ছে বা চেষ্টা করছে। এতে তাদের কোনো গুনাহ হবে না এবং আপনার ওপরও কোনো গুনাহ বর্তাবে না। তাদের বাধা দিয়ে কুরআনের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা নষ্ট করা মোটেও উচিত নয়।
আপনার মেয়েদের বয়স মাত্র ৪ বছর, যা কুরআনপ্রেম ও ভাষার ভিত্তি গড়ার স্বর্ণযুগ। তাদেরকে আগ্রহী করতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
১. আলাদা সুন্দর আমপারা বা কুরআন দিন। মূল বড় মুসহাফে যদি পাতা ছেঁড়ার ভয় থাকে, তবে তাদের জন্য রঙিন বড় অক্ষরের আমপারা বা বড় হরফের নূরানী কায়দা কিনে দিন। তাদের বলুন, “এটা তোমাদের পড়ার নিজস্ব কুরআন।” এতে তাদের নিজ হাতে ধরে পড়ার ইচ্ছা পূরণ হবে।
২. ওরা যখন ওলটপালট পড়ছে, তখন ধমক না দিয়ে আপনি পাশে বসে মৃদু ও মিষ্টি কণ্ঠে সঠিক আয়াতটি সুর করে পড়ুন। ওদের বলুন, “মাশাল্লাহ! আম্মুর সাথে সাথে এবার এই সুন্দর লাইনটা বলো তো।” বাচ্চারা বড়দের সুর নকল করতে ভালোবাসে, এতে ভুলগুলো আস্তে আস্তে নিজে থেকেই শুধরে যাবে।
৩. প্রতিদিন ছোট ছোট সূরা (যেমন সূরা নাস, ফালাক্ব, ইখলাস, কাউসার) অল্প অল্প করে মুখস্থ করান। ১-২ লাইন বলতে পারলেই বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করুন, উৎসাহ দিন এবং বলুন—"তোমরা বড় হয়ে আল্লাহর প্রিয় হাফেজা হবে।"
৪. আপনি নিয়মিত তাদের সামনে রেখে মিষ্টি সুরে তিলাওয়াত করুন। তাদের পাশে বসিয়ে শুধু শুনতেও উৎসাহিত করতে পারেন। কোনোভাবেই তাদের মন খারাপ হতে দেবেন না বা হাত থেকে কুরআন কেড়ে নেবেন না।
البناية شرح الهداية
(ولا بأس بدفع المصحف إلى الصبيان) ش: المحدثين أي لا بأس للطهارة من يدفع المصحف إلى الصبيان المحدثين م: (لأن في المنع) ش: أي في منع دفع المصحف إليهم م: (تضييع حفظ القرآن) ش: لأن الحفظ في الصغر كالنقش في الحجر والحفظ في الكبر كالنقش على المدر م: (وفي الأمر بالتطهر حرجًا بهم) ش: أي في أمر الأولياء بتطهر الصبيان حرجًا بهم أي مشقة وكلفة والضمير في بهم يرجع إلى الصبيان وأعاده الأكمل إلى الأولياء حيث حال حرج الأولياء أو المعلمين الدافعين والأوجه ما قلنا على ما لا يخفى.
ثم اعلم أن ذكر المصنف هذه المسألة أعني دفع المصحف إلى الصبيان من أنهم غير مخاطبين بشبهة ترد وهي أن الدافع البالغ إلى الصبي المحدث يجب أن لا يدفع إليه كما يجب أن لا يلبس الذكر منهم الحرير وأن لا يسقيه الخمر ولا يوجه إلى جهة القبلة في قضاء حاجة، ثم أشار إلى دفع تلك الشبهة بقوله: لأن في المنع يضيع حفظ القرآن. أه وحاصل هذا الكلام أن كل ذلك ممنوع غير أن دفع المصحف تعلق أمر ديني وهو حفظ القرآن [...] .
م: (وهذا هو الصحيح) ش: أي الذي ذكرناه من جواز دفع المصحف إلى الصبيان هو الصحيح، واحترز به عن قول بعض المشايخ أن ذلك مكروه بناء على أن الد
افع مكلف بعدم الدفع
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন