ফরজ গোসলে নাকের কতদূর পানি পৌঁছাতে হবে
প্রশ্নঃ ১৭১৭০০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, গোসলের সময় নাকের নরম অংশে পানি পৌঁছনোর কথা আছে। নরম অংশ আসলে কতটুকু?এনাটমি অনুযায়ী নাকের সামনের দিকের অংশ হলো নরম, যেটা নাড়ানো যায়। এর পরের অংশে হাড্ডি থাকে, ফলে শক্ত হয়। অনেকে বলে একদম ভিতরে পানি পৌঁছাতে হবে, প্রয়োজনে নাক টেনে, যাতে ভিতরে পানির ঝাঁজ লাগে।দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা করার অনুরোধ রইলো।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ফরজ গোসলে নাকের যে সীমানায় পানি পৌঁছানো ফরজ, তাকে ফিকহের পরিভাষায় «المارن» (মারিন) বলা হয়। ফুকাহায়ে কেরাম ও আরবী অভিধানবিদদের সংজ্ঞা অনুযায়ী: «المارن: ما لان من الأنف وهو ما دون العظم» অর্থাৎ নাকের শক্ত হাড়ের নিচের অগ্রভাগের সম্পূর্ণ নরম অংশটুকুই হলো ‘মারিন’। গোসলের সময় এই নরম অংশের ভেতরের পুরো ত্বকে পানি পৌঁছানো এবং সেখানে ময়লা থাকলে তা পরিষ্কার করে পানি প্রবাহিত করা ফরজ। নাকের শক্ত হাড়ে বা মাথার তালুর দিকে পানি টেনে নেওয়া কিংবা নাকের ভেতরে পানির ঝাঁজ লাগানো ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
নাকের নরম অংশ অতিক্রম করে শক্ত হাড়ের দিকে পানি পৌঁছানোকে শরীয়তে «المبالغة» বলা হয় । রোযাদার না হলে এটি করা কেবল মুস্তাহাব, কোনো অবস্থাতেই ফরজ নয়। অনেকে অজ্ঞতাবশত জোরপূর্বক শ্বাস টেনে পানি একেবারে মাথার দিকে তুলে ঝাঁজ লাগায়, যা শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। শরীয়ত এ ধরণের কষ্ট আবশ্যক করেনি; বরং নরম অংশ পর্যন্ত পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করিয়ে ধৌত করলেই গোসলের ফরজ শতভাগ আদায় হয়ে যায়।
«البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري» (1/ 22):
لغة من النشق: وهو جذب الماء ونحوه بريح الأنف إلى داخله واصطلاحا: إيصال الماء إلى مارن الأنف كذا في الخلاصة والمارن ما لان من الأنف والمبالغة سنة فيهما أيضا كذا في الوافي لحديث أصحاب السنن الأربعة «بالغ في المضمضة والاستنشاق إلا أن تكون صائما» ، وهي في المضمضة بالغرغرة وفي الاستنشاق بالاستنثار كذا في الكافي والاستنثار دفع الماء ونحوه للخروج من الأنف
«حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي» (1/ 134):
«إذا نزل الدم إلى قصبة الأنف نقض، وليس ذاك إلا لكون المبالغة في الاستنشاق لغير الصائم مسنونة؛ وحدها أن يصل الماء إلى ما اشتد من الأنف. ورده في النهر بأن المراد بالقصبة ما لان من الأنف، ولذا عبر به الزيلعي كالهداية؛ ومعلوم أن ما لان يجب تطهيره لا يندب، فلا حاجة إلى زيادة الندب.»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন