শরীরে সুপার গ্লু বা অন্যকোনো আঠা লেগে থাকলে অজু, গোসলের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৩৭৩৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মুহতারাম হুজুর, আমি গত ২দিন আগে সুপার গ্লু দিয়ে একটা কাজ করেছিলাম। কিন্তু সামান্য পরিমাণ একটা নখে লেগে গেছে এটা আমি জানতাম না। আজকে খেয়াল করে দেখলাম যে আমার নখে সামান্য পরিমাণ গ্লু লেগে শুকিয়ে গেছে এখন আমার প্রশ্ন আমার কি গত দিনের অযু নামায কিছুই হয়নি??
৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
রংপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, অজু বা গোসলের ক্ষেত্রে যেসব অঙ্গ ধোয়া ফরজ, সেই অঙ্গগুলো পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি। এগুলোর মধ্য থেকে কোনো অঙ্গ যেন সুঁইয়ের ছিদ্র পরিমাণও শুকনো না থাকে। যদি এসব অঙ্গের কোনো স্থানে সুঁইয়ের ছিদ্র পরিমাণ জায়গাও এমন থাকে যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে সেই অজু এবং গোসল অসম্পূর্ণ। আর এমন অসম্পূর্ণ অজু/গোসল দিয়ে পড়া নামাজও বাতিল এবং তা পূর্বের ন্যায় জিম্মায় (কাজা হিসেবে) থেকে যাবে। সুতরাং, যদি এসব অঙ্গের কোনো অঙ্গে সুপার গ্লু, বা অন্য কোনো কঠিন বস্তু লেগে থাকে যার কারণে চামড়া পর্যন্ত পানি না পৌঁছায়, তবে তা লেগে থাকা অবস্থায় অজু/গোসল হবে না। সাধারণত আঠা তুলে ফেলা যায়; অতএব, নখে লেগে থাকা এলফি তুলে ফেলা জরুরি হবে; কারণ এতে অতিরিক্ত কষ্ট নেই। তবে, যদি চামড়ার ওপর আঠা লেগে থাকে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টার পরেও তা সম্পূর্ণভাবে না ওঠে, এবং অধিক চেষ্টার ফলে চামড়া উঠে যাওয়া বা ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে যতটুকু সম্ভব তুলে ফেলা জরুরি হবে (আর বাকিটুকু ক্ষমাযোগ্য হবে)।
البحر الرائق (1 / 14):
"وَلَوْ لُصِقَ بِأَصْلِ ظُفْرِهِ طِينٌ يَابِسٌ وَبَقِيَ قَدْرُ رَأْسِ إبْرَةٍ مِنْ مَوْضِعِ الْغَسْلِ لَمْ يَجُز".
(الفتاوی الهندیة ۱؍۴:
"الجامع الصغیر: سئل أبو القاسم عن وافر الظفر الذي یبقی في أظفاره الدرن، أو الذي یعمل عمل الطین أو المرأة التي صبغت إصبعها بالحناء أو الصرام أو الصباغ قال: کل ذلك سواء یجزیهم وضوء هم إذ لایستطاع الامتناع عنه إلا بحرج، والفتوی علی الجواز".
"ویعفی أثر شق زواله بأن یحتاج في إخراجه إلی نحو الصابون". (مجمع الأنهر ۱؍۹۰)
"والمراد بالأثر اللون والریح، فإن شق إزالتهما سقطت". (البحر الرائق ۱؍۲۳۷)
"شرط صحته أي الوضوء زوال ما یمنع وصول الماء إلی الجسد کشمع شحم". (مراقي الفلاح مع الطحطاوي ۶۲)
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن، فتویٰ نمبر : 144111200900
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১