শরীয়তের দৃষ্টিতে ম্যানিফেস্টেশন ও সাবলিমিনাল
প্রশ্নঃ ১৭০৫২৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, manifest & subliminal কি শরীয়ের দৃষ্টি তে জায়েয? একটু বিস্তারিত বর্ণনা দিন।
১১ অক্টোবর, ২০২৬
ঢাকা
১ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
Manifestation (ম্যানিফেস্টেশন)
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ম্যানিফেস্টেশনের মূল কথাই হলো, মহাবিশ্বকে বলো, মহাবিশ্ব তোমাকে ফিরিয়ে দেবে (Ask the Universe, it will manifest)।
অথচ ইসলামি আকীদার মূল ভিত্তি হলো, সমগ্র মহাবিশ্ব আল্লাহর সৃষ্টি। কোনো জড় বস্তু বা প্রকৃতি কাউকে কিছু দিতে পারে না। দেওয়া বা না দেওয়ার একক ক্ষমতা একমাত্র
আল্লাহ তাআলার। আল্লাহ বলেন,
وَاِنۡ يَّمۡسَسۡكَ اللّٰهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ۚ وَاِنۡ يُّرِدۡكَ بِخَيۡرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضۡلِهٖ ؕ يُصِيۡبُ بِهٖ مَنۡ يَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖ ؕ وَهُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِيۡمُ ۞
আল্লাহ যদি তোমাকে কোনও কষ্ট দান করেন, তবে তিনি ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তা দূর করবে এবং তিনি যদি তোমার কোনও মঙ্গল করার ইচ্ছা করেন, তবে এমন কেউ নেই, যে তার অনুগ্রহ রদ করবে। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ দান করেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা ইউনুস: ১০৭)
ম্যানিফেস্টেশনে বিশ্বাস করা হয়, মানুষ নিজের চিন্তার ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে নিজেই নিজের ভাগ্যের সৃষ্টিকর্তা। অথচ ইসলামের মূল বিশ্বাসের একটি হলো তকদীরে বিশ্বাস। তকদীরের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
ইসলাম আমাদের আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সুধারণা ও আশাবাদী হওয়ার নির্দেশ দেয়। হাদিসে কুদসীতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি। (সহীহ বুখারী: ৭৪০৫)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/6901
কিন্তু এই আশাবাদের ভিত্তি হতে হবে আল্লাহর কুদরত ও রহমতের ওপর, তথাকথিত মহাবিশ্বের শক্তি বা নিজের মনের ভাইব্রেশন-এর ওপর নয়।
Subliminal (সাবলিমিনাল)
আর সাবলিমিনাল হলো এমন কিছু অডিও ট্র্যাক, যেখানে সাধারণ শব্দের পেছনে খুব মৃদু স্বরে বা অবচেতন মনের উপযোগী করে কিছু গোপন বার্তা রেকর্ড করা থাকে। মানুষ কানে তা স্পষ্ট না শুনলেও দাবি করা হয় যে অবচেতন মন তা গ্রহণ করে।
সাবলিমিনাল অডিওর পেছনে ঠিক কী কথা রেকর্ড করা আছে, তা সাধারণ শ্রোতা শুনতে পায় না। বহু সাবলিমিনালের ভেতরে শিরকি কথা (যেমন, জাদুকরী ও পৌত্তলিক মন্ত্র) লুকিয়ে রাখা হয়, যা অবচেতন মনে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মিউজিক ছাড়া, নিজের কণ্ঠে বৈধ কোনো উৎসাহমূলক বাক্য, যেমন: “আমি অলসতা ত্যাগ করব”, “আমি সকালে উঠব”, রেকর্ড করে শোনে, তবে তা মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি হিসেবে জায়েজ হতে পারে।
পশ্চিমা দুনিয়া আজ বিভ্রান্ত হয়ে ম্যানিফেস্টেশন ও সাবলিমিনালের পেছনে ছুটছে, অথচ ইসলাম আমাদের এর চেয়ে কোটি গুণ শক্তিশালী ও আত্মিক ব্যবস্থা দিয়েছে।
আমাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমরা মহাবিশ্বের কাছে ম্যানিফেস্ট করব না; বরং সেজদায় লুটিয়ে পড়ে আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহর কাছে দোয়া করব। মনস্তাত্ত্বিক শান্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত, মাসনূন সকাল-সন্ধ্যার যিকির এবং শরীয়তসম্মত বাস্তব মেহনতই একজন মুমিনের জন্য যথেষ্ট।
আমাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমরা মহাবিশ্বের কাছে ম্যানিফেস্ট করব না; বরং সেজদায় লুটিয়ে পড়ে আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহর কাছে দোয়া করব। মনস্তাত্ত্বিক শান্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত, মাসনূন সকাল-সন্ধ্যার যিকির এবং শরীয়তসম্মত বাস্তব মেহনতই একজন মুমিনের জন্য যথেষ্ট।
فتاوى شامي: "قال في الخانية: امرأة تصنع آيات التعويذ ليحبها زوجها بعد ما كان يبغضها ذكر في الجامع الصغير: أن ذلك حرام ولا يحل اهـ وذكر ابن وهبان في توجيهه: أنه ضرب من السحر والسحر حرام اهـ ط ومقتضاه أنه ليس مجرد كتابة آيات، بل فيه شيء زائد قال الزيلعي: وعن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه أنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الرقى والتمائم والتولة شرك. رواه أبو داود وابن ماجه والتولة أي بوزن عنبة ضرب من السحر قال الأصمعي: هو تحبيب المرأة إلى زوجها، وعن «عروة بن مالك رضي الله عنه أنه قال: كنا في الجاهلية نرقي فقلنا: يا رسول الله كيف ترى في ذلك؟ فقال اعرضوا علي رقاكم لا بأس بالرقى ما لم يكن فيه شرك» رواه مسلم وأبو داود اهـ وتمامه فيه وقدمنا شيئا من ذلك قبيل فصل النظر وبه اندفع تنظير ابن الشحنة في كون التعويذ ضربا من السحر." (كتاب الحظر والإباحة، ج: 6، ص: 429، ط: سعيد)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন