অহংকার ও ওয়াসওয়াসা আসলে তা থেকে বাঁচার উপায়
প্রশ্নঃ ১৭০০৩৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করি মাঝেমাঝেইমাম না থাকলে আমি নিজে ইমামতি করি।পিছে অনেকসময় দু-একজন হাফেজ ও থাকে তারা এক রাকাত পরে আসে।এরফলে আমার ভিতর একটু অহংকারবোধ হয় যে আমি জেনারেল লাইনে পড়েও ইমামতি পারতেছি।এখন আল্লাহ কি আমার ইমামতি কবুল করবে।আমি অহংকারবোধ হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। এখন আমি কি করবো অহংকার বোধ হলে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শয়তান সবসময় মানুষকে ভালো কাজ করার পর আত্মতুষ্টি বা অহংকারের মাধ্যমে সেই আমলটি নষ্ট করার চেষ্টা করে। আপনার মনের মধ্যে এই ধরনের অনুভূতি আসা এবং তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রমাণ করে যে, আপনার অন্তর জীবন্ত এবং আপনি ঈমানি সচেতনতায় ভুগছেন।
যদি আপনি অহংকারকে প্রশ্রয় না দিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তাহলে আশা করা যায়, ইনশাআল্লাহ, আপনার ইমামতি ও নামাজ বাতিল হবে না এবং তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
লৌকিকতা বা অহংকার যদি কোনো আমল শুরু করার আগে নিয়তের মূল ভিত্তি হয়, তবে তা আমলের সওয়াব নষ্ট করে দেয়। কিন্তু যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ইমামতি করেন এবং এর মাঝে বা পরে শয়তান মনে অহংকারের ওয়াসওয়াসা বা অনুভূতি এনে দেয়, আর আপনি সাথে সাথে তা অপছন্দ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, তবে এর জন্য আপনার নামাজ বা ইমামতি বাতিল হবে না।
রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَكَلَّمْ
অর্থ: "আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের মনের ওয়াসওয়াসা বা কুচিন্তা মাফ করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা মুখে উচ্চারণ করে বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)
সুতরাং, মনে অহংকারের অনুভূতি আসামাত্রই যেহেতু আপনি তা অপছন্দ করেন এবং তাওবা করেন, তাই এর জন্য আল্লাহ আপনাকে পাকড়াও করবেন না বলে আশা করি, ইনশাআল্লাহ।
মনে অহংকার বোধ আসলে আপনার করণীয়-
১: অহংকার ইসলামের দৃষ্টিতে একটি মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
অর্থ: "যার অন্তরে অনু পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ মুসলিম: ৯১)
তাই আপনার মনে অহংকারের অনুভূতি আসামাত্রই পড়ুন: "أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ"
(আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি)।
২: বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করুন -
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অহংকার ও শিরকে আসগর থেকে বাঁচার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ
(আল-আদাবুল মুফরাদ: ৭১৬, সনদে হাসান)
৩: পেছনের মুক্তাদী বা হাফেজদের সম্মান করা
মুক্তাদীদের মধ্যে থাকা হাফেজ বা আলিমদের মনে মনে সম্মান করবেন এবং ভাববেন—আল্লাহ হয়তো তাদের খাতিরেই আমার এই দুর্বল ইমামতি ও নামাজ কবুল করে নিচ্ছেন।
মনে রাখবেন! ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব ও সওয়াবের কাজ। শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে কখনো ইমামতি করা ছেড়ে দেবেন না; বরং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বিনয়ের সাথে এই সেবা বজায় রাখুন এবং উপরের আমলগুলো করতে থাকুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন