পুরাতন মসজিদের স্থান ও মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি বিক্রির শরঈ বিধান
প্রশ্নঃ ১৬০২০৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জমি যেখানে পূর্বে মসজিদ ছিল পরে সেই জমির পাশে নতুন করে মসজিদ করা হয়েছে। এখন সেই জমি বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন করা যাবে কিনা? অথবা মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত অতিরিক্ত জমি বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন করা যাবে কিনা?
৬ জুলাই, ২০২৬
ঘোড়াঘাট
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর:
কোনো স্থানে একবার শরয়ী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, সেই স্থান কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এ জায়গা মসজিদ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা জায়েয নেই।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পুরাতন মসজিদের যে স্থানে একবার মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই জায়গা বিক্রি করা যাবে না। নতুন মসজিদের কারণে পুরাতন মসজিদ প্রয়োজন না হলেও তা মসজিদ হিসেবে হেফাজত করতে হবে। সেক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে নতুন মসজিদের তত্ত্বাবধানে কুরআন শিক্ষার জন্য বা দ্বীনি তা’লীমের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাও মসজিদের আদব বজায় রেখে করবে।
আরও ভাল হয়, সম্ভব হলে নতুন নির্মিত মসজিদের সঙ্গে পুরাতন মসজিদকে সংযুক্ত করে একটি মসজিদ হিসেবে বহাল রাখা। এভাবে মসজিদের পবিত্রতা, সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং পূর্বের মসজিদের স্থানও মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।
আর মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত অতিরিক্ত জমি যদি কোনোভাবে মসজিদের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব হয় বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তা বিক্রি করা যাবে না। তবে যদি জমিটি এমন হয় যে, কোনোভাবেই তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয় এবং তা সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে তা শর্তসাপেক্ষে বিক্রি করার অবকাশ রয়েছে। তবে বিক্রয়লব্ধ অর্থ মসজিদের নির্মাণ বা উন্নয়নকাজে ব্যয় করা যাবে না; বরং সেই অর্থ দিয়ে মসজিদের নামে অন্য একটি জমি ক্রয় করে সেটিকে পূর্বের ওয়াকফের স্থলাভিষিক্ত করতে হবে।
ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না-
এ প্রসঙ্গে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত,
أَنَّ عُمَرَ، تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُقَالُ لَهُ ثَمْغٌ، وَكَانَ نَخْلاً، فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي اسْتَفَدْتُ مَالاً وَهُوَ عِنْدِي نَفِيسٌ فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ، لاَ يُبَاعُ وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، وَلَكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ ". فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ،...
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে উমর (রাযিঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সাদ্কা করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। উমর (রাযিঃ) বলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সাদ্কা করতে চাই।’ নবী (ﷺ) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সাদ্কা কর, যে, তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল (আল্লাহ্র পথে) দান করা হবে। তারপর উমর (রাযিঃ) সেটি এভাবেই সাদ্কা করলেন।... -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৬৪
** «الهداية في شرح بداية المبتدي» (3/ 18):
«وإذا صح الوقف لم يجز بيعه ولا تمليكه،»
** «فتح القدير للكمال بن الهمام» (6/ 237):
«سئل الحلواني عن أوقاف المسجد إذا تعطلت وتعذر استغلالها هل للمتولي بيعها، ويشتري بثمنها أخرى؟ قال نعم.
وروى هشام عن محمد أنه قال: إذا صار الوقف بحيث لا ينتفع به المساكين فللقاضي أن يبيعه ويشتري بثمنه غيره، وعلى هذا فينبغي أن لا يفتي على قوله برجوعه إلى ملك الواقف وورثته بمجرد تعطله وخرابه، بل إذا صار بحيث لا ينتفع به يشترى بثمنه وقف آخر يستغل، ولو كانت غلته دون غلة الأول، وكذا للمتولي أن يبيع من تراب مسبلة إذا كان فيه مصلحة.»
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي» (4/ 384):
«وَالثَّانِي: أَنْ لَا يَشْرُطَهُ سَوَاءٌ شَرَطَ عَدَمَهُ أَوْ سَكَتَ لَكِنْ صَارَ بِحَيْثُ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ بِالْكُلِّيَّةِ بِأَنْ لَا يَحْصُلَ مِنْهُ شَيْءٌ أَصْلًا، أَوْ لَا يَفِي بِمُؤْنَتِهِ فَهُوَ أَيْضًا جَائِزٌ عَلَى الْأَصَحِّ إذَا كَانَ بِإِذْنِ الْقَاضِي وَرَأْيِهِ الْمَصْلَحَةَ فِيهِ.»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১