সমিতির সদস্যকে পণ্য কিনে বিক্রি করার হুকুম
প্রশ্নঃ ১৫৯৬৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের একটি সমিতি আছে যেখানে টাকা সঞ্চয় করে সমিতির পক্ষথেকে পণ্য ক্রয়করে বিভিন্ন লোকের কাছে বাকিতে বিক্রয় করাহয়। এখন প্রশ্ন হলোঃ ঐ সমিতির সদস্য যারা আছে তারা কি ঐ সমিতি থেকে মালামাল বাকিতে ক্রয় করতে পারবে, এটা কি জায়েয হবে? যদি জায়েজ না হয়,তাহলে জায়েজ এর অন্যকোন সুরত আছে কি?
১ জুলাই, ২০২৬
শ্রীপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোন সমিতির নিকট লোন নিতে গেলে সমিতি কর্তৃপক্ষ সরাসরি লোন না দিয়ে পণ্য কিনে দিলে তা জায়েয আছে। এক্ষেত্রে সমিতির সদস্য হোক বা ভিন্ন কেউ, সকলের জন্য একই হুকুম।
আর হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নগদ দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বাকিতে বা কিস্তিতে বিক্রি করা মূলত জায়েজ, তবে চুক্তির সময় একটি নির্দিষ্ট মূল্য চূড়ান্ত করতে হবে। যদি বাকিতে বিক্রি করা পণ্যের দাম নির্ধারিত থাকে, বাকিতে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা জায়েজ আছে।
এক্ষেত্রে শর্ত হলো পণ্যটি সরাসরি সমিতির কোনো প্রতিনিধিকে মার্কেট থেকে ক্রয় করতে হবে। পক্ষান্তরে তা না করে যদি ক্রয় করার জন্য আপনাকে প্রতিনিধি বানিয়ে আপনার হাতে টাকা ধরিয়ে দেয় এবং আপনি পণ্যটি ক্রয় করে নিয়ে নেন, তাহলে তা জায়েয হবে না। আপনাকে প্রতিনিধি বানালে সমিতির পক্ষ থেকে ক্রয় করার পর পণ্যটি সমিতির কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
আর পণ্যটি আপনার কাছে কতদিনের মেয়াদে এবং কত টাকায় বিক্রি করা হল, তা বিক্রির সময়ই চূড়ান্ত হয়ে যেতে হবে। যেমন, দাম এক লাখ দশ হাজার। এবং মূল্য পরিশোধের তারিখ ১লা আগস্ট ২০২৬ ইং। পক্ষান্তরে বিষয়টি যদি চূড়ান্ত না করে এখতিয়ারের জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়, যেমন বলা হল, এক বছরে মূল্য পরিশোধ করলে এক লাখ দশ হাজার টাকা এবং দেড় বছরে মূল্য পরিশোধ করলে এক লাখ পনের হাজার টাকা, তাহলেও তা জায়েয হবে না।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ” لَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ لِلسِّلْعَةِ: هِيَ بِنَقْدٍ بِكَذَا وَبِنَسِيئَةٍ بِكَذَا، وَلَكِنْ لَا يَفْتَرِقَا إِلَّا عَنْ رِضًا
(مصنف ابن أبى شيبة، رقم-20453)
عَنْ طَاوُسٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ قَالَ: «لَا بَأْسَ بِهِ إِذَا أَخَذَهُ عَلَى أَحَدِ النَّوْعَيْنِ» (مصنف ابن أبى شيبة، رقم-20458)
عَنْ طَاوُسٍ، وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَا: لَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ: «هَذَا الثَّوْبُ بِالنَّقْدِ بِكَذَا، وَبِالنَّسِيئَةِ بِكَذَا، وَيَذْهَبُ بِهِ عَلَى أَحَدِهِمَا» (مصنف ابن أبى شيبة، رقم-2
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১