হায়েজ, নেফাস, ইস্তেহাজা বা মিসক্যারেজ হলে তাওয়াফে বিদার হুকুম
প্রশ্নঃ ১৫৬৬৩৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমরা হজ্বের সফরে আছি। আমার স্ত্রী দেড় মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলো, কিন্তু বাচ্চা টিউবে থাকায় এবং ব্লিডিং হওয়ার কারণে অপারেশন করতে হয়েছে। ২ তারিখে মক্কায় হস্পিটালে অপারেশন হয়েছে।
এখনও ব্লিডিং হচ্ছে।
এটাকে হায়েজ বা নিফাস কি ধরতে হবে?
আমাদের বিদায়ী তাওয়াফ বাকি আছে।
১৬ তারিখে ফিরতি ফ্লাইট।
প্রতি মাসে তার রেগুলার পিরিয়ডের মেয়াদ মাক্সিমাম ৭ দিন।
৮ জুন, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
*মিসক্যারেজ পরবর্তী ব্লিডিং*
* গর্ভবতী মহিলার গর্ভপাত (মিসক্যারেজ) হওয়ার ক্ষেত্রে বিধান হলো—যদি বাচ্চার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্য থেকে কোনো অঙ্গের (যেমন: হাত, পা, আঙুল বা নখ ইত্যাদির) অবয়ব বা গঠন প্রকাশ পেয়ে থাকে, তবে ওই মহিলা নিফাসগ্রস্ত (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব ওয়ালী) হয়ে যাবেন এবং এই গর্ভপাতের পর যে রক্ত দেখা যাবে তা নিফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি বাচ্চার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনোটিরই অবয়ব প্রকাশ না পেয়ে থাকে, তবে এর কোনো ধর্তব্য নেই; অর্থাৎ মহিলা নিফাসগ্রস্ত হবেন না এবং এই গর্ভপাতের পর দেখা যাওয়া রক্ত নিফাসও গণ্য হবে না।
* ফকিহগণ (ইসলামি আইনবিদগণ) বাচ্চার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবয়ব প্রকাশ পাওয়ার মেয়াদ চার মাস লিখেছেন। অতএব, যে গর্ভ চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর বা চার মাসের পর নষ্ট হয়ে যায়, তার পর দেখা যাওয়া রক্ত নিফাস হবে। কিন্তু যদি গর্ভ চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়, তবে এই গর্ভের কোনো ধর্তব্য হবে না। এই সুরতে (অবস্থায়) দেখা হবে যে—যদি কমপক্ষে তিন দিন পর্যন্ত রক্ত আসে এবং এর আগে একটি পূর্ণ পবিত্রতার মেয়াদও (কমপক্ষে ১৫ দিন) অতিবাহিত হয়ে থাকে, তবে এটি হায়েজের (মাসিক) রক্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি গর্ভপাতের পর তিন দিনের কম রক্ত আসে, তবে এই রক্ত হায়েজও গণ্য হবে না, বরং এটি ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হবে।
*ঋতুমতি বা অসুস্থদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ*
* বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। মূলত তাওয়াফে জেয়ারতের পর যেই তাওয়াফই করা হবে সেটাই বিদায়ী তাওয়াফ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো নারী যদি পিরিয়ডের কারণে বিদায় তাওয়াফ না করেই দেশে চলে আসে তাহলে তার কারণে কোনো দম/জরিমানা দিতে হবে না।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «أُمِرَ النَّاسُ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِمْ بِالْبَيْتِ، إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الحَائِضِ»
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুবতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৬৪৪ আন্তর্জাতিক নং: ১৭৫৫)
* এছাড়া অন্যান্য হাজ্বীদের ক্ষেত্রে বিদায়ী তাওয়াফ আবশ্যক। তবে যদি কেউ এতই অসুস্থ হয় যে, পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে সক্ষম নয় তাহলে হুইল চেয়ারে চলার মত সুস্থ হলে হুইল চেয়ারে চড়িয়ে বিদায় তাওয়াফ করিয়ে নিবে। যদি সম্ভব না হয় এবং তার আগেই তাকে দেশে চলে আসতে হয় তাহলে এর কারণে হারামের সীমার মধ্যে একটি দম আদায় করতে হবে।
(দারুল উলুম দেওবন্দ: ফতোয়া নং ১৬৬৭৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৭(দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যহ), গুনইয়াতুন নাসিক পৃ.৩০৪ (ইদারাতুল কুরআন))
* প্রশ্নোক্ত সুরতে, যেহেতু আপনার স্ত্রীর গর্ভের বয়স মাত্র দেড় মাস ছিল এবং বাচ্চার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয়নি, তাই শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী এই রক্তস্রাব কোনোভাবেই 'নিফাস' (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে না।
* ২ তারিখে অপারেশনের পর থেকে যদি রক্তস্রাব কমপক্ষে ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয়, তবে উনার পূর্বের অভ্যাসের দিন অনুযায়ী প্রথম ৭ দিন (২ থেকে ৮ বা ৯ তারিখ পর্যন্ত) 'হায়েজ' হিসেবে গণ্য হবে।
এই দিনগুলোতে উনার জন্য নামাজ পড়া বা কাবা শরীফ তাওয়াফ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ৭ দিন পর যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে উনি ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে স্বাভাবিকভাবে বিদায়ী তাওয়াফ করতে পারবেন।
* ৭ দিন পার হওয়ার পরও যদি রক্ত চালু থাকে, তবে সর্বোচ্চ ১০ দিন (১২ তারিখ) পর্যন্ত হায়েজ হিসেবেই ধরা হবে। ১২ তারিখ পার হওয়ার পর বাকি দিনগুলোর রক্তস্রাব 'ইস্তিহাজা' বা অসুস্থতা হিসেবে গণ্য হবে।
১২ তারিখ পার হওয়ার পর উনি ফরজ গোসল করে নেবেন। এরপর প্রতি ওয়াক্তের নামাজের সময় আলাদা আলাদা নতুন অজু করে পবিত্র নারীদের মতোই স্বাভাবিকভাবে কাবা শরীফে গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করতে পারবেন। ইস্তিহাজা অবস্থায় তাওয়াফ করার কারণে কোনো 'দম' বা জরিমানা লাগবে না।
(فتاوی شامی : كتاب الطهارات، باب الحيض والاستحاضة، فصل في النفاس، ج:1، ص:187، ط: سعيد)
"(والسقط الذي استبان بعض خلقه ولد)."
"(قوله والسقط الذي استبان بعض خلقه) كأصبع أو ظفر (ولد) فلو لم يستبن منه شيء لم يكن ولدا فإن أمكن جعله حيضا بأن امتد جعل إياه وإلا فاستحاضة."
(وفیہ ایضاً : كتاب الطهارة، باب الحيض، ج:1، ص:302، ط: سعيد)
"(ظهر بعض خلقه كيد أو رجل) أو أصبع أو ظفر أو شعر، ولا يستبين خلقه إلا بعد مائة وعشرين يوما (ولد) حكما (فتصير) المرأة (به نفساء والأمة أم ولد ويحنث به) في تعليقه وتنقضي به العدة، فإن لم يظهر له شيء فليس بشيء، والمرئي حيض إن دام ثلاثا وتقدمه طهر تام وإلا استحاضة، ولو لم يدر حاله ولا عدد أيام حملها ودام الدم تدع الصلاة أيام حيضها بيقين ثم تغتسل ثم تصلي كمعذور."
(وفیہ ایضاً : كتاب الطهارة، باب الحيض، ج:1، ص:285، ط: سعيد)
"أما المعتادة فما زاد على عادتها ويجاوز العشرة في الحيض والأربعين في النفاس يكون استحاضة."
(وفیہ ایضاً : كتاب الطهارة، باب الحيض، ج:1، ص:302، ط: سعيد)
"(ظهر بعض خلقه كيد أو رجل) أو أصبع أو ظفر أو شعر، ولا يستبين خلقه إلا بعد مائة وعشرين يوما (ولد) حكما (فتصير) المرأة (به نفساء والأمة أم ولد ويحنث به) في تعليقه وتنقضي به العدة، فإن لم يظهر له شيء فليس بشيء، والمرئي حيض إن دام ثلاثا وتقدمه طهر تام وإلا استحاضة، ولو لم يدر حاله ولا عدد أيام حملها ودام الدم تدع الصلاة أيام حيضها بيقين ثم تغتسل ثم تصلي كمعذور."
(وفیہ ایضاً: كتاب الطهارة، باب الحيض، ج:1، ص:285، ط: سعيد)
"أما المعتادة فما زاد على عادتها ويجاوز العشرة في الحيض والأربعين في النفاس يكون استحاضة."
(وفیہ ایضاً: كتاب الطهارة، باب الحيض، ج:1، ص:298، ط: سعيد)
"(ودم استحاضة) حكمه (كرعاف دائم) وقتا كاملا (لا يمنع صوما وصلاة) ولو نفلا (وجماعا) لحديث توضئي وصلي وإن قطر الدم على الحصير."
"(قوله لا يمنع صوما إلخ) أي ولا قراءة ومس مصحف ودخول مسجد وكذا لا تمنع عن الطواف إذا أمنت من اللوث قهستاني عن الخزانة ."
(فتاوی ہندیہ: كتاب الطهارة، الباب السادس، الفصل الأول في الحيض، ج:1، ص:36، ط:رشيدية)
"الفصل الأول في الحيض) وهو دم من الرحم لا لولادة. كذا في فتح القدير .... (ومنها) النصاب أقل الحيض ثلاثة أيام وثلاث ليال في ظاهر الرواية. هكذا في التبيين وأكثره عشرة أيام ولياليها. كذا في الخلاصة."
(وفیہ ایضاً : كتاب الطهارة، الباب السادس، الفصل الرابع في أحكام الحيض، ج:1، ص:38، ط: رشيدية)
"(الأحكام التي يشترك فيها الحيض والنفاس ثمانية) (منها) أن يسقط عن الحائض والنفساء الصلاة فلا تقضي. هكذا في الكفاية إذا رأت المرأة الدم تترك الصلاة من أول ما رأت قال الفقيه وبه نأخذ. كذا في التتارخانية ناقلا عن النوازل وهو الصحيح. كذا في التبيين. إذا حاضت في الوقت أو نفست سقط فرضه بقي من الوقت ما يمكن أن تصلي فيه أو لا. هكذا في الذخيرة .... (ومنها) أن يحرم عليهما الصوم فتقضيانه هكذا في الكفاية إذا شرعت في صوم النفل ثم حاضت يلزمها القضاء احتياطا. هكذا في الظهيرية."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১