ঈদের খুতবা একটি না দুইটি হবে?
প্রশ্নঃ ১৫৫৪৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ঈদের খুৎবা দুইটি পড়ার কোনো হাদিস আছে কি?
৯ জুন, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
ঈদের নামাজের খুতবার ব্যাপারে সহীহ বুখারীর হাদিসে যা পাওয়া যায় তা হলো, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে গমন করে সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল নামায। আর নামায শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তারা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাদের নসীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারি করতেন। তারপর তিনি ফিরে যেতেন।
সহীহ বুখারী
১২- দুই ঈদের অধ্যায়
হাদীস নংঃ ৯০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯৫৬
পুরো হাদিস দেখুন:https://muslimbangla.com/hadith/908
এই হাদিসে খুতবা একটি হবে না দুইটি হবে সেব্যাপারে কোনো আলোচনা নাই।
কিন্তু সুনান ইবনে মাজায় বর্ণিত ১২৮৯ হাদিসে হযরত জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন অথবা ঈদুল আযহার দিন বের হন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দেন, তারপর কিছুক্ষণ বসে পুনরায় দাঁড়িয়ে খুতবা দেন।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ فِطْرٍ أَوْ أَضْحًى فَخَطَبَ قَائِمًا ثُمَّ قَعَدَ قَعْدَةً ثُمَّ قَامَ
https://muslimbangla.com/hadith/26580
সনদের বিচারে হাদিসটিকে কোনো কোনো মুহাদ্দিস দুর্বল বললেও জুমার ন্যায় ঈদের নামাজেও দুই খুতবা প্রদানের বিষয়টি সাহাবা-তাবেঈন যুগ থেকে আজ পর্যন্ত তাওয়াতুরান (অবিচ্ছিন্ন পরম্পরায়) চলে আসছে। সকল যুগের সকল আলেম, ফকীহ ও মুহাদ্দিস এবং হাদিসের ব্যাখ্যাকারগণ এ বিষয়ে একমত। এব্যাপারে কেউ দ্বিমত করেননি। সকলের মতেই দুই খুতবা দেওয়া সুন্নাহ। এক খুতবার কথাও কেউ বলেননি। দেখুন ইমাম ইবনে নুজাইম মিসরী রহ. কি বলেন
البحر الرائق شرح كنز الدقائق :
"(قوله: و يخطب بعدها خطبتين) اقتداء بفعله عليه الصلاة والسلام بخلاف الجمعة فإنه يخطب قبلها؛ لأن الخطبة فيها شرط والشرط متقدم أو مقارن، وفي العيد ليست بشرط؛ ولهذا إذا خطب قبلها صح وكره؛ لأنه خالف السنة كما لو تركها أصلاً."
(کتاب الصلوۃ، باب العیدین، وقت صلوۃ العید، ج:2، ص:175، ط:دارالکتاب الاسلامی)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১