সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কুরবানি আদায়ের বিকল্প উপায় ও ইসলামি বিধান
প্রশ্নঃ ১৫৩৫৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বর্তমানে দেশের সরকার যদি কুরবানীতে বাধা প্রদান করে তাহলে করণীয় কি ?
১৮ মে, ২০২৬
West Bengal ৭৪৩৩৫১
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, মুসলমান যে দেশেরই অধিবাসী হোক না কেন, বৈধ (জায়েজ) বিষয়সমূহে সমকালীন সরকারের আনুগত্য করা তার ওপর আবশ্যক; আর অবৈধ (নাজায়েজ) বিষয়ে আনুগত্য করা নাজায়েজ, বরং সাধ্যানুযায়ী এসব শরীয়ত পরিপন্থী বিষয়ের সংশোধন করা আবশ্যক। তবে এই সংশোধন প্রত্যেক মানুষের সামর্থ্য ও পদমর্যাদার ওপর সীমাবদ্ধ, অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী এসব শরীয়ত পরিপন্থী বিষয় সংশোধনের দায়িত্ব পালন করবে।
* উক্ত ভূমিকার পর (মূল কথা হলো), যদি কোন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে কোরবানির ঈদের দিনগুলোতে পশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকে, অর্থাৎ— না ঘরে জবাই করার অনুমতি থাকে আর না কোনো নির্দিষ্ট স্থান যেমন: কসাইখানা ইত্যাদিতে জবাইয়ের অনুমতি থাকে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে উক্ত নিষেধাজ্ঞা সঠিক নয়।
* সেখানে অবস্থানরত মুসলমানদের যদি এতটুকু শক্তি সামর্থ্য থাকে যে, তারা উক্ত আইনে উপযুক্ত সংশোধন করে তা শরীয়তের গণ্ডির ভেতর আনতে পারবে, তবে তাদের ওপর আবশ্যক হলো এই আইন সংশোধনের চেষ্টা করা এবং উক্ত আইনে শরীয়তসম্মত সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা।
* অন্যথায় অন্য কোনো দেশে (যেখানে পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই) কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে উকিল বা প্রতিনিধি বানিয়ে নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করিয়ে নেবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো অবস্থাতেই কোরবানির বিধান রহিত হবে না।
* আর যদি সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থান ও কসাইখানাতেই পশু জবাইয়ের অনুমতি থাকে (যেমনটি আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে কসাইখানাগুলোতে বাহ্যিকভাবে ইসলামি পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে) এবং এগুলো ছাড়া বাকি জায়গাগুলোতে প্রশাসনিক কল্যাণার্থে আইনগতভাবে পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে ওই নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই শরয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী পশু জবাই করে নিবে। বিনা কারণে নিষিদ্ধ স্থানে পশু জবাই করে নিজেদের জন্য সমস্যার কারণ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও, সেখানকার অধিবাসীরা যদি গোপনে কোরবানি করে নেয় অথবা নিষিদ্ধ স্থানে কোরবানি করে নেয়, তবে কোরবানি সর্বাবস্থায় শুদ্ধ হয়ে যাবে।
(صحيح مسلم - 1839)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ إِلاَّ أَنْ يُؤْمَرَ بِمَعْصِيَةٍ فَإِنْ أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ " .
(مشکاۃ المصابیح - 3664)
"وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «السمع والطاعة على المرء المسلم فيما أحب وأكره ما لم يؤمر بمعصية فإذا أمر بمعصية فلا سمع ولا طاعة».
وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا طاعة في معصية إنما الطاعة في المعروف»."
(بدائع الصنائع، كتاب السير،فصل في بيان ما يندب إليه الإمام عند بعث الجيش أو السرية إلى الجهاد، 99،100/7،ط:دار الكتب العلمية)
"إلا أن يأمرهم بمعصية فلا تجوز طاعتهم إياه فيها؛ لقوله - عليه الصلاة والسلام -: «لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق» ولو أمرهم بشيء لا يدرون أينتفعون به أم لا، فينبغي لهم أن يطيعوه فيه إذا لم يعلموا كونه معصية."
(الفقہ الاسلامی وادلتہ، القسم الخامس: الفقه العام، الباب السادس: نظام الحكم في الإسلام، الفصل الثاني: سلطة التنفيذ العليا ـ الإمامة، المبحث السابع ـ حقوق الإمام الحاكم، حق الطاعة، ج:8، ص:6191،92، ط: دار الفكر)
"وإذا أخطأ الحاكم خطأ غير أساسي لا يمس أصول الشريعة وجب على الرعية تقديم النصح له باللين والحكمة والموعظة الحسنة.
"لا تجب الطاعة عند ظهور معصية تتنافى مع تعاليم الإسلام القطعية الثابتة، لقوله عليه الصلاة والسلام: «لا طاعة لأحد في معصية الله، إنما الطاعة في المعروف» «لا طاعة لمن لم يطع الله»."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১