হরিণ খাওয়া জায়েজ
প্রশ্নঃ ১৪৭০৬৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিন মুফতি সাহেব,আমি দুটি প্রশ্নের উত্তর অনেক খুজাঁখুজি করে পাইনি, তাই প্রশ্ন করছি।১. তিমি মাছ খাওয়ার বিধান কী? ২.হরিণের মাংস এবং তার দুধ খাওয়া কি জায়েজ?
৩১ মার্চ, ২০২৬
Sylhet
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
জলজ প্রাণীসমূহের মধ্যে শুধু মাছ খাওয়া জায়েজ, অন্যান্য জলজ প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। হানাফিদের দলিল হলো, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন,
ويحرم عليهم الخبائثতাদের জন্য খাবায়েস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (সুরা আরাফ: ১৫৭)
হানাফি আলেমরা সমুদ্রের মাছ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীগুলো খাবায়েসের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করে হারাম বলেন। আম্বর বা শুক্রাণু তিমি খাওয়া বৈধ হবে কি না এ নিয়ে হানাফি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে দুটি মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটি মাছ হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও মূলত মাছ নয় বরং স্তন্যপায়ী প্রাণী। তাই এটি মাছ নয় এমন জলজ প্রাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং খাওয়া হারাম হবে।
তবে অনেক হানাফি আলেমের মতে সামুদ্রিক অন্যান্য মাছের মতো আম্বর মাছ খাওয়াও বৈধ। তারা হাদিসে বর্ণিত একটি ঘটনা দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন, যে ঘটনায় সাহাবিদের একটি দল আম্বর মাছ খেয়েছিলেন এবং রাসুল (সা.) তা অনুমোদন করেছিলেন। ঘটনাটি হলো, রাসুল সা. একবার আবু উবায়দার (রা.) নেতৃত্বে তিনশত সাহাবির একটি দলকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। তাদেরকে এমন এক অঞ্চলে অবস্থান করতে হচ্ছিল যেখানে খাবার-পানীয় নেই। তাদের সাথে নিয়ে যাওয়া খাবার-পানীয়ও শেষ হয়ে যায়। দলনেতা আবু ওবায়দা রা. তখন যার কাছে যা খাবার আছে সব একত্র করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সব জমা করার পরও মাত্র দুই ব্যাগ খেজুর হয়। আবু উবায়দা (রা.) ওই খেজুরগুলোই প্রতিদিন একটি একটি করে ভাগ করে দিতেন। এক সময় তাও শেষ হয়ে গেলো এবং ক্ষুধার যন্ত্রণায় সাহাবিরা গাছের পাতা খাওয়া শুরু করলেন।
এই অবস্থায় একদিন তারা দেখেলেন সমুদ্রের তীরে বড় কোনো প্রাণী পড়ে আছে। প্রাণীটি এত বড় যে দূর থেকে দেখে পাহাড় বলে ভ্রম হয়। কাছে গিয়ে দেখা গেলো সেটি একটি আম্বর মাছ। ওই মাছটি সাহাবিরা আঠারো দিন ধরে খান। মদিনায় ফিরে যাওয়ার পরও তাদের কাছে মাছটির কিছু অংশ রয়ে গিয়েছিল।
মদিনায় পৌঁছে তারা যখন আল্লাহর রাসুলকে (সা.) এই ঘটনা শোনালেন, তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য রিজিক হিসেবে এটি দান করেছিলেন। তোমরা খাও, আমাকেও খাওয়াও।
সাহাবিরা মাছের কিছু অংশ রাসুলকে (সা.) দিয়েছিলেন এবং রাসুল (সা.) তা খেয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি)
হরিণের মাংস এবং তার দুধ খাওয়া জায়েজ আছে। কারণ, হরিণ কোনো হিংস্র প্রাণী নয়। হরিণ একটি নিরীহ প্রাণী এবং এটি খাওয়ার ব্যাপারে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
শরিয়তের মূল বক্তব্যই হলো, যেকোনো জিনিসের মৌলিকত্ব হচ্ছে সেটি হালাল, তার বিপরীতে হারাম সাব্যস্ত হয় এমন দলিল যদি পাওয়া না যায়, তাহলে সেটিকে হালাল হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। আমরা জানি, সৃষ্টি জগতের সবকিছুই মোবাহ, যদি না সেটা হারাম হয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১