বিনিয়োগে প্রকৃত লাভের অংশ বৈধ; তবে নির্দিষ্ট অংকের লাভ নির্ধারণ করা বৈধ নয়
প্রশ্নঃ ১৪৬০১৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আরিফ নামে একজন ব্যক্তি সায়েম নামের একজনের সাথে বাইয়ে মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যবসা করে। ১ লক্ষ টাকার পন্য আরিফ সাহেব সায়েম সাহেবের কাছে বিক্রি করলো ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় এই শর্তে যে, প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে কিস্তি প্রদান করবে ১২ মাস এবং সর্বশেষ মাসে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধ করবে। অন্যদিকে আরিফ সাহেব জুনায়েদ সাহেবের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছে এই মর্মে যে, ৫০ হাজার টাকা জুনায়েদ সাহেব আরিফ সাহেবের সাথে কাছে বিনিয়োগ করেছে লাভ লস যা হবে তার ৫০/৫০ ভাগাভাগি হবে। সেক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকায় ১৫০০০ হাজার টাকা বাতসরিক লাভ হয়। তাকে ১২৫০ টাকা প্রতি মাসে দিবে এবং ৫০ হাজার টাকা ১ বছর পরে দিবে। কোনো কারণে প্রথম পক্ষ টাকা দিতে পারুক অথবা না পারুক বা দেরি করুক, আরিফ সাহেব সময় মতো লভাংশ এবং মূল টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। এই ২য় লেনদেন কি সঠিক হবে??? যদি না হয় সেক্ষেত্রে কিভাবে চুক্তি করা যেতে পারে, অনুগ্রহ পূর্বক জানাবেন
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথম লেনদেন :
প্রশ্নোক্ত বিবরণ মোতাবেক প্রথম লেনদেনে যদি বাস্তবেই যথাযথ নিয়মে কোন পণ্য ক্রয় বিক্রয় হয় তাহলে উক্ত লেনদেন জায়েয। অর্থাৎ যদি বাস্তবেই আরিফ সাহেব প্রথমে পণ্য কিনে নিজ মালিকানায় (রিস্কে) নিয়ে তারপর নির্দিষ্ট লাভে সায়েম সাহেবের নিকট পণ্যটি বিক্রি করে থাকে তাহলে এ লেনদেন জায়েয আছে। এক্ষেত্রে কিস্তি পরিশোধের মেয়াদের মধ্যে আগে পরে হলে নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে কোন প্রকার কম বেশি করা যাবে না। সহজ কথায় কিস্তি পরিশোধ মেয়াদের আগে বা পরে করলেও নির্ধারিত মূল্য এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার আদান প্রদান হবে। এর মধ্যে কম বেশি করার কোন সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় লেনদেন :
প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারণে দু’টি পয়েন্টে উত্তর দিচ্ছি-
১. দ্বিতীয় লেনদেন যদি প্রথম লেনদেনের মধ্যে শরিকানা ভিত্তিতে হয়ে থাকে তাহলে তো জায়েয। অর্থাৎ জুনায়েদ সাহেব আরিফ সাহেবকে ৫০ হাজার টাকা প্রথম লেনদেনের এক লক্ষ টাকার মধ্যে শরিকানা ভিত্তিতে দিয়েছে যে, উভয়ের ৫০ হাজার করে মোট এক লক্ষ টাকায় পণ্য কিনে তারপর এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে লেনদেনটি মৌলিকভাবে জায়েয আছে। ফলে উভয়ই চুক্তি মোতাবেক লভ্যাংশের অধিকারী হবে। তবে প্রথম পক্ষ (সায়েম সাহেব) কিস্তি দিতে না পারলে বা দেরি করলেও আরিফ সাহেব জুনায়েদ সাহেবকে টাকা দিতে বাধ্য থাকবে- এ শর্ত সহীহ নয়। অর্থাৎ এ শর্ত বাতিল বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে প্রথম পক্ষ টাকা দিলেই কেবল জুনায়েদ সাহেব টাকা পাবে, অন্যথায় নয়।
২. আর যদি দ্বিতীয় লেনদেনটি সম্পূর্ণ পৃথক হয়, তাহলে বিধান ভিন্ন হবে। তা হলো, যদি শুধু ৫০ হাজার টাকা দেয় (ব্যবসার কথা বলে বা না বলে) আর বাৎসরিক সুনির্দিষ্ট অংকে (যেমন এখানে ১৫০০০/-) অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার চুক্তি করে, তাহলে মৌলিকভাবেই এ চুক্তি জায়েয নাই। বরং এটা সুদি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে, যা নাজায়েয ও হারাম।
সেক্ষেত্রে বৈধভাবে চুক্তি করতে চাইলে আরিফ সাহেব ও জুনায়েদ সাহেব নতুন কোন বৈধ চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে। আর নতুন কোন বৈধ চুক্তি করতে চাইলে মুশারাকা তথা শরিকানা ব্যবসার চুক্তি করতে পারে।
(খ) মুশারাকা তথা শরিকানা ব্যবসার পদ্ধতি হলো, যেখানে উভয়েরই পূঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করা হবে। যেমন জুনায়েদ সাহেবের ৫০ হাজারের (অথবা যে কোন পরিমাণ) সাথে আরিফ সাহেবেরও পুঁজি থাকবে।
এই শরিকানা ব্যবসায় কোন ক্ষতি হয়ে গেলে তা উভয়ের পূঁজি অনুপাতে বহন করতে হবে। অর্থাৎ শতকরা হারে যার যতটুকু পূঁজি থাকবে, সে ততটুকু ক্ষতির দায় বহন করবে। আর লভ্যাংশ পরস্পরের সম্মতিতে চুক্তিকৃত হার অনুযায়ী ভাগ করে নিবে।
** ﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ﴾ [النساء: 29]
** ﴿وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ﴾ [البقرة: 275]
** رد المحتار : (5/ 111):
«قَالَ فِي جَامِعِ الْفُصُولَيْنِ: شَرَاهُ وَلَمْ يَقْبِضْهُ حَتَّى بَاعَهُ الْبَائِعُ مِنْ آخَرَ بِأَكْثَرَ فَأَجَازَهُ الْمُشْتَرِي لَمْ يَجُزْ؛ لِأَنَّهُ بَيْعُ مَا لَمْ يَقْبِضْ.»
** مجلة الأحكام العدلية» (ص50):
«الفصل الثاني: في بيان المسائل المتعلقة بالنسيئة والتأجيل
(الْمَادَّةُ 245) الْبَيْعُ مَعَ تَأْجِيلِ الثَّمَنِ وَتَقْسِيطِهِ صَحِيحٌ
(الْمَادَّةُ 246) يَلْزَمُ أَنْ تَكُونَ الْمُدَّةُ مَعْلُومَةً فِي الْبَيْعِ بِالتَّأْجِيلِ وَالتَّقْسِيطِ
(الْمَادَّةُ 247) إذَا عُقِدَ الْبَيْعُ عَلَى تَأْجِيلِ الثَّمَنِ إلَى كَذَا يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً أَوْ إلَى وَقْتٍ مَعْلُومٍ عِنْدَ الْعَاقِدَيْنِ كَيَوْمِ قَاسِمَ أَوْ النَّيْرُوزَ صَحَّ الْبَيْعُ»
** «مجلة الأحكام العدلية» (ص262):
«الْمَادَّةُ (1365) لَا يُشْتَرَطُ فِي الشَّرِيكَيْنِ شَرِكَةَ عِنَانٍ أَنْ يَكُونَ رَأْسُ مَالِهِمَا مُتَسَاوِيًا فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَأْسُ مَالِ أَحَدِهِمَا أَزْيَدَ مِنْ رَأْسِ مَالِ الْآخَرِ ،
«الْمَادَّةُ (1367) عَلَى أَيِّ وَجْهٍ شُرِطَ تَقْسِيمُ الرِّبْحِ فِي الشَّرِكَةِ الصَّحِيحَةِ يُرَاعَى ذَلِكَ الشَّرْطُ عَلَى كُلِّ حَالٍ إذَا كَانَ مُوَافِقًا لِلشَّرْعِ.»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন