সালাতুত তাওবাহ ভিত্তিহীন/বিদআত নয়।
প্রশ্নঃ ১৪২১৯৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি সৌদি প্রবাসি হুজুর সালাতুল তাওবাহ নামাজের বিধান কি সৌদি একজন আলেম বলেন তাওবাহ নামাজ বিদাহ যা পড়া শিরিক দায়া করে জানাবেন
৪ মার্চ, ২০২৬
RCSD২৮৮২، ২৮৮২ ابن أبي المجد، ৬৮৩৭، حي المرقب، الرياض ১২৬৪৫، السعودية (SA)
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নাকরী দ্বীনি ভাই! উক্ত আলেমের কথা সঠিক নয়।
আল্লাহ না করুন, যদি কোনো ব্যক্তির দ্বারা কোনো কবীরা গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়, তবে মুস্তাহাব হলো, সে ভালোভাবে অযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ তওবার নিয়তে আদায় করবে। এ নামাজকে ‘সালাতুত তওবা’ বলা হয়। এরপর সে তার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ভবিষ্যতে আর গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করবে, সঙ্গে সঙ্গে সেই গুনাহ পরিত্যাগ করবে এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
হযরত আলী (রাযি.) বলেন, আমীরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.) আমাকে বলেছেন, আর তিনি সত্যই বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে, তারপর সেই গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায়, অযু করে, নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এই আয়াত তিলাওয়াত করেন“আর তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।”
(সূরা আলে ইমরান: ১৩৫)
(বায়ানুল কুরআন)
সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত আছে,
আসমা ইবনে হাকাম আল-ফাযারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল (ﷺ) থেকে যখন কোন হাদীস শুনতাম তখন আল্লাহ্ যতটুকু চেয়েছেন আমি এ দ্বারা ততটুকু উপকৃত হয়েছি। তাঁর কোন সাহাবী যখন আমার কাছে কোন হাদীস বর্ণনা করেন আমি তাকে কসম করে বলতে বলি। তিনি কসম করলে আমি তা সত্য বলে গ্রহণ করে নেই। এখন যে হাদীসটি বলছি, সেটি আমাকে আবু বকর বর্ণনা করেছেন। আর আবু বকর অবশ্যই সত্য বলেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যদি কোন গুনাহ করে বসে, এরপর সে উযু করে এবং নামায আদায় করে ও আল্লাহর নিকট মাফ চায়, তবে আল্লাহ্ তাআলা অবশ্যই তার গুনাহ মাফ করে দেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
আর যারা মন্দকাজ করে ফেলে বা নিজের প্রতি যুলুম করে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়, (তারাও মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত)। আল্লাহ্ ব্যতীত কে গুনাহ মাফ করবে?’’ (৩ঃ১৩৫)
সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং: ৪০৬)
মিশকাতুল মাসাবীহ, (কিতাবুস সালাত, বাবুত তাতাওউ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১৬, আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত)
তবে এ নামাজের পদ্ধতি সাধারণ নফল নামাজের মতোই। এটি একাকী পড়ার নামাজ। তওবার নামাজের কোনো বিশেষ পদ্ধতি শরিয়তে বর্ণিত হয়নি। অতএব, এটিকে কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে পড়াকে মুস্তাহাব মনে করা বা জামাতে আদায় করা জায়েয নয়। আর এ নামাজের দ্বারা ফরজ নামাজ বা রোজা মাফ হয়ে যায় না।
সুতরাং সালাতুত তাওবাহ একদম ভিত্তিহীন নয়। বরং নফল সালাত। এবং এটি বিদআত নয় ; এর দ্বারা শিরকেরও আশংকা নেই।
حضرت علی کرم اللہ وجہہ فرماتے ہیں کہ امیرالمومنین حضرت ابوبکر صدیق ؓ نے مجھ سے فرمایا اور حضرت ابوبکر ؓ نے بالکل سچ فرمایا کہ میں نے رسول اللہ ﷺ سے یہ ارشاد سنا ہے: " جو آدمی گناہ کرتا ہے اور گناہ پر ندامت ہونے کی وجہ سے، اٹھ کر وضو کرتا ہے اور نماز پڑھتا ہے اور پروردگار سے اپنے گناہ کی مغفرت چاہتا ہے تو اللہ تعالیٰ اس کا گناہ معاف فرما دیتا ہے، پھر آپ ﷺ نے یہ آیت تلاوت فرمائی:
"{وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ}."
ترجمہ:" اور ایسے لوگ کہ جب کوئی ایسا کام کر گزرتے ہیں جس میں زیادتی ہو یا اپنی ذات پر ظلم کرتے ہیں تو اللہ تعالیٰ کو (یعنی اس کے عذاب کو) یاد کر لیتے ہیں پھر اپنے گناہوں کی معافی چاہنے لگتے ہیں“(بیان القرآن)
المشكاة المصابيح:
"وعن علي رضي الله عنه قال: حدثني أبو بكر وصدق أبو بكر. قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " ما من رجل يذنب ذنبا ثم يقوم فيتطهر ثم يصلي ثم يستغفر الله إلا غفر الله له ثم قرأ هذه الاية: (والذين إذا فعلوا فاحشة أو ظلموا أنفسهم ذكروا الله فاستغفروا لذنوبهم)."
(کتاب الصلاۃ، باب التطوع، الفصل الثانی، ج:1، ص:416، ط:المکتب الاسلامی بیروت)
حاشیۃ الطحطاوی علی مراقی الفلاح شرح نور الایضاح :
ومنه صلاة الإستغفار لمعصية وقعت منه لما عن علي عن أبي بكر الصديق رضي الله تعالى عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما من عبد يذنب ذنبا فيتوضأ ويحسن الوضوء ثم يصلي ركعتين فيستغفر الله إلا غفر له" كذا في القهستاني."
(کتاب الصلاۃ، فصل فی تحیۃ المسجد وصلاۃ الضحی واحیاء اللیالی، ص:401، ط:دار الکتب العلمیہ بیروت)
https://muslimbangla.com/hadith/30038
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১