তারাবীতে দ্রুত তিলাওয়াত
প্রশ্নঃ ১৪১৬৬০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি এক মসজিদের ইমাম,আমার মসজিদের জন্য রমজানে এলাকার কিছু লোক ক্ষমতা খাটিয়ে হাফেজ রাখেন, হাফেজরা তারাবির মধ্যে এত দ্রুত তেলাওয়াত করেন, বেশিরভাগ সময় কিছুই বুঝা যায়না,আমি কিছু বললে এখানে বড় ধরনের ফেতনা হবে,তাদের তেলাওয়াত এমন হয় যে মাঝে মাঝে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
থোল্লাকান্দি
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনে কারীম তাড়াহুড়া করে পড়া উচিত নয়। আর যদি তিলাওয়াত বুঝাই না যায়, কিংবা অর্থ পাল্টে যায়, তাহলে এভাবে তিলাওয়াত করা পরিস্কার হারাম। এটি আমাদের দেশের আম রোগ হয়ে গেছে। তারাবীতে খতম করতেই হবে। আর কুরআন খতমের নামে হাফিজ সাহেবরা পুরো কুরআনকেই খতম করে দেয়ার দুঃসাহসিক অভিযানে নেমে পড়েন। যা পড়েন তা কোনভাবেই কুরআন তিলাওয়াত বলে মনে হয় না। যেন কোন মন্ত্র পড়ছেন। এভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা কোনভাবেই জায়েজ নয়। বরং হারাম। হারাম। হারাম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতি বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেনঃ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا [٧٣:٤ এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। [সূরা মুজ্জাম্মিল ৭৩: ৪] যেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই তার কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিচ্ছেন স্পষ্ট ও তারতীলের সাথে। সেখানে এভাবে তাড়াহুড়া করে মন্ত্র পড়া কিভাবে বৈধ হতে পারে? এটি কুরআনের সাথে ঠাট্টা ছাড়া আর কিছু নয়। عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالقُرْآنِ হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, সে আমাদের দলভূক্ত নয়, যে সুন্দর সূরে কুরআন তিলাওয়াত করে না। [বুখারী, হাদীস নং-৭৫২৭] যদি তারতীলের সাথে পড়লে দাঁড়িয়ে থাকা অসহনীয় কষ্টকরই হয়ে যায়, তাহলে খতমে তারাবীহ পড়ার দরকার কি? সূরা তারাবীহ পড়লেই হয়। এখন প্রশ্ন হল, যদি কোথাও তাড়াহুড়া করে খতমে তারাবীহ পড়া হয়, তাহলে এক্ষেত্রে সচেতন মুসল্লিদের করণীয় কী? ১) সম্ভব হলে ইমাম সাহেবকে বলে তাড়াহুড়া বন্ধ করে ধীরস্থীরভাবে বা স্পষ্ট শব্দে তিলাওয়াতের জন্য অনুরোধ করবে। যদি ইমাম বা মসজিদ কমিটি তা মেনে নেয়, তাহলে উক্ত মসজিদেই নামায পড়তে হবে। যদি ইমাম সাহেব না মানেন, বা মসজিদ কর্তৃপক্ষ তা করতে না দেয়, তাহলে দুই সূরত। যথা- ক) ইমাম সাহেবের দ্রুত তিলাওয়াতের ফলে কুরআানের অর্থ বিকৃতি ঘটে। খ) অর্থ বিকৃতি ঘটে না, বরং শব্দ স্পষ্টই হয়, কিন্তু পড়েন দ্রুত। এ দুই সূরতের প্রথম সূরতে উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়েজ হবে না। বরং অন্যত্র নামাযের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি দ্বিতীয় সূরত হয়, তাহলে কাছাকাছি কোথাও ধীরস্থীরভাবে তিলাওয়াতকারী মসজিদের ইমাম না থাকলে উক্ত ইমামের পিছনেই নামায পড়তে হবে। আলাদা সূরা তারাবীহ পড়বে না। কারণ, সূরা তারাবীহ পড়ার দ্বারা খতমে কুরআনের সুন্নত আদায় হবে না। তারাবীতে খতমে কুরআন করা সুন্নত। আর শব্দ স্পষ্ট তথা অর্থবিকৃতি হয় না, কিন্তু দ্রুত তিলাওয়াত করে, তাহলে একাজটি অনুত্তম হলেও নাজায়েজ বা হারাম নয়। এ কারণে নামায ভঙ্গ হয় না। তাই খতমে তারাবীহের সুন্নত বাদ দিয়ে আলাদাভাবে সূরা তারাবীহ পড়া উচিত হবে না। وفى الدر المختار: (وَالْخَتْمُ) مَرَّةً سُنَّةٌ وَمَرَّتَيْنِ فَضِيلَةٌ وَثَلَاثًا أَفْضَلُ. (وَلَا يُتْرَكُ) الْخَتْمُ (لِكَسَلِ الْقَوْمِ) لَكِنْ فِي الِاخْتِيَارِ: الْأَفْضَلُ فِي زَمَانِنَا قَدْرُ مَا لَا يَثْقُلُ عَلَيْهِمْ، وَأَقَرَّهُ الْمُصَنِّفُ وَغَيْرُهُ. وَفِي الْمُجْتَبَى عَنْ الْإِمَامِ: لَوْ قَرَأَ ثَلَاثًا قِصَارًا أَوْ آيَةً طَوِيلَةً فِي الْفَرْضِ فَقَدْ أَحْسَنَ وَلَمْ يُسِئْ، فَمَا ظَنُّك بِالتَّرَاوِيحِ؟ وَفِي فَضَائِلِ رَمَضَانَ لِلزَّاهِدِيِّ: أَفْتَى أَبُو الْفَضْلِ الْكَرْمَانِيُّ وَالْوَبَرِيُّ أَنَّهُ إذَا قَرَأَ فِي التَّرَاوِيحِ الْفَاتِحَةَ وَآيَةً أَوْ آيَتَيْنِ لَا يُكْرَهُ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عَالِمًا بِأَهْلِ زَمَانِهِ فَهُوَ جَاهِلٌ. وفى رد المحتار:فَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمُصَحَّحَ فِي الْمَذْهَبِ أَنَّ الْخَتْمَ سُنَّةٌ لَكِنْ لَا يَلْزَمُ مِنْهُ عَدَمُ تَرْكِهِ إذَا لَزِمَ مِنْهُ تَنْفِيرُ الْقَوْمِ وَتَعْطِيلُ كَثِيرٍ مِنْ الْمَسَاجِدِ خُصُوصًا فِي زَمَانِنَا فَالظَّاهِرُ اخْتِيَارُ الْأَخَفِّ عَلَى الْقَوْمِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل-2/497-498، مبحث صلاة التراويح) وفى الدر المختار: وَيَجْتَنِبُ الْمُنْكَرَاتِ هَذْرَمَةَ الْقِرَاءَةِ، وَتَرْكَ تَعَوُّذٍ وَتَسْمِيَةٍ، وَطُمَأْنِينَةٍ، وَتَسْبِيحٍ، وَاسْتِرَاحَةٍ وقال ابن عابدين: (قَوْلُهُ هَذْرَمَةَ) بِفَتْحِ الْهَاءِ وَسُكُونِ الذَّالِ الْمُعْجَمَةِ وَفَتْحِ الرَّاءِ: سُرْعَةُ الْكَلَامِ وَالْقِرَاءَةِ قَامُوسٌ، وَهُوَ مَنْصُوبٌ عَلَى الْبَدَلِيَّةِ مِنْ الْمُنْكَرَاتِ، )رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر، مبحث التراويح-2/499، حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-415) فى مراقى الفلاح: ويحذر من الهذرمة، وترك الترتيل، وترك تعديل الأركان، وغيرها كما فعله من لا خشية له وفى حاشيته: قوله: “ويحذر من الهدرمة” الموجود في النسخ التي بأيدينا بالدال المهملة والذي في الدر بالذال المعجمة وفسرها في القاموس بسرعة الكلام والقراءة قوله: “وترك الترتيل” في القاموس رتل الكلام ترتيلا أحسن تأليفه اهـ والمراد أن لا يعطي التلاوة وحقها (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح، كتاب الصلاة، فصل فى صلاة التراويح-416) লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১