যেসব কারণে তিনদিনের বেশি সময় কথা না বলা জায়েজ
প্রশ্নঃ ১৪৮০৩০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি শুনেছি যে একজন মুসলিম আরেক জন মুসলিমের সাতে কথা না বলে তিন দিনের বেশি। থাকা যায়না। একজন আমাকে হিংসা করে। তাই তার সাথে কথা বলি না। আমার কি গুনাহ হবে?
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
হাদীস শরীফে এসেছে, কোনো মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা জায়েজ নাই।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ: فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ "
৫৬৪৮। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে সাক্ষাত হলেও একজন এদিকে আর অপরজন সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যক্তি।
আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ (সহীহ বুখারী)
হাদীস নং: ৫৬৪৮ আন্তর্জাতিক নং: ৬০৭৭
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/5648
کما فی عمدة القاري: باب في بيان ما يجوز من الهجران لمن عصى، وقال المهلب: غرض البخاري من هذا الباب أن يبين صفة الهجران الجائز وأن ذلك متنوع على قدر الإجرام، فمن كان جرمه كثيرا فينبغي هجرانه واجتنابه وترك مكالمته، كما جاء في كعب بن مالك وصاحبيه، وما كان من المغاضبة بين الأهل والإخوان فالهجران الجائز فيها ترك التحية والتسمية وبسط الوجه، كما فعلت عائشة في مغاضبتها مع رسول الله ﷺ. وقال كعب، حين تخلف عن النبيﷺ: ونهى النبيﷺ المسلمين عن كلامنا، وذكر خمسين ليلة۔الحدیث (22/ 143)
উপরিউক্ত হাদিস এবং উমদাতুল কারী এর ব্যাখ্যা আলোকে মুহাদ্দিস এবং ফুকাহায়ে কেরাম বলেন যদি কারো দ্বারা দ্বিনী কিংবা দুনিয়াবী কোনো ক্ষতির আশঙ্কা করা হয় তাহলে তার ইসলাহের নিয়তে তার সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকা জায়েজ।
এমনিভাবে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির মন্দ ও নিষ্ঠুরতা এড়ানোর জন্য তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াকে সম্পর্ক ছিন্ন করার আওতায় ফেলা যায় না। একইভাবে, কোনো মাহরাম আত্মীয়ের মন্দ কাজ এড়ানোর জন্য তার সাথে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কথোপকথন বন্ধ করাও জায়েজ, তবে এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি উভয় পক্ষের শরীয়তের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ না করে।
কাজেই যদি সম্ভব হয় আপনি তার ইসলাহের ফিকির করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করবেন। আর সম্ভব না হলে তার সাথে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কথোপকথন বন্ধ রাখুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পারস্পরিক হক বুঝার এবং সেই হক রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১