পাত্রী দেখার বিধান
প্রশ্নঃ ১৪১৪০৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একজন মেয়ে বিবাহের জন্য কয়জন পুরুষের সামনে যেতে পারবে? কীভাবে যাবে? বিস্তারিত বর্ণনা।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Gohala
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বিয়ের পূর্বে পাত্রী দেখার শারয়ী বিধান অনুযায়ী, ইসলামি শরিয়ত কেবল হবু বরের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে পাত্রীকে দেখার অনুমতি দিয়েছে। এটি মূলত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার জন্য একটি বিশেষ ছাড়। তবে এক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মেনে চলা আবশ্যক। সুতরাং সে ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষ ব্যক্তি আপনাকে দেখতে পারবে না, যদিও হবু বরের বাবা হয়।
পাত্রী দেখার শর্তাবলি
১. পাত্রের একক অধিকার: পাত্রী দেখার সময় পাত্রের সাথে তার বাবা, ভাই, বন্ধু বা অন্য কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ থাকতে পারবে না। তাদের জন্য বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গুনাহের কাজ।
২. দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা: পাত্র কেবল পাত্রীর মুখমণ্ডল, কবজি পর্যন্ত দুই হাত এবং টাখনু পর্যন্ত দুই পা দেখতে পারবেন। এর বাইরে শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ আবরণহীন অবস্থায় দেখা পাত্রের জন্য বৈধ নয়।
৩. নির্জনতা পরিহার: পাত্র এবং পাত্রী নির্জনে বা একান্তে একত্রিত হতে পারবেন না। সেখানে অবশ্যই পাত্রীর কোনো মাহরাম অভিভাবকের উপস্থিতি থাকতে হবে।
৪. কথোপকথন: বিয়ের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে কথা বলা বৈধ, তবে কোনোভাবেই একে অপরকে স্পর্শ করা যাবে না।
আর এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই যে, বিয়ের উদ্দেশ্যে কতজন পুরুষের সামনে যাওয়া যাবে। তবে হ্যা, সামান্য আলোচনাতেই দেখাদেখিতে না যাওয়া। বরঞ্চ প্রাথমিকভাবে আপনার অভিভাবকদের মাধ্যমে ছেলে এবং তার ফ্যামিলির ব্যাপারে যথা সম্ভব ভালো করে খোঁজ-খবর নিনি। তারপর প্রাথমিক বিষয়গুলোি ঠিকঠাক মনে হলে তারপর দেখার বিষয়ে আগাবেন। আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য একজন দ্বীনদার পাত্রের ব্যবস্থা করে দিন।
আয়াতঃ حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَبَنٰتُکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ وَعَمّٰتُکُمۡ وَخٰلٰتُکُمۡ وَبَنٰتُ الۡاَخِ وَبَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَاُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَاُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَرَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَحَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ وَاَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۙ
অর্থঃ তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাতিজী, ভাগ্নি, তোমাদের সেই সকল মা, যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, তোমাদের দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের প্রতিপালনাধীন তোমাদের সৎ কন্যা, যারা তোমাদের এমন স্ত্রীদের গর্ভজাত, যাদের সাথে তোমরা নিভৃতে মিলিত হয়েছ। তোমরা যদি তাদের সাথে নিভৃত-মিলন না করে থাক (এবং তাদেরকে তালাক দিয়ে দাও বা তাদের মৃত্যু হয়ে যায়), তবে (তাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করাতে) তোমাদের কোন গুনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণও (তোমাদের জন্য হারাম) এবং এটাও (হারাম) যে, তোমরা দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করবে। তবে পূর্বে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরাঃ আন নিসা - আয়াত নংঃ 23
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১