সাহরি করার সঠিক সময় ও কখন খাওয়া বন্ধ করতে হবে
প্রশ্নঃ ১৪০৯৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সাহরির শেষ সময় বলা হয় কিন্তু শুরুর সময় কেউ বলে না কেন?
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
VWXW+৩G৯
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সাহরির শুরু সময় আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না, কারণ এর শুরু তো রাত আরম্ভ হওয়ার সাথেই হয়ে যায়। অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর থেকেই খাওয়া-দাওয়া বৈধ হয়ে যায় এবং সারা রাতই সাহরির সময় হিসেবে গণ্য হয়। তাই “শুরুর সময়” নির্দিষ্ট করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু “শেষ সময়” নির্দিষ্ট করে বলা জরুরি, কারণ সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজা শুরু হয়ে যায় এবং তখন খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এজন্যই সাহরির শেষ সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, যাতে কেউ ভুলবশত ফজরের সময় শুরু হয়ে যাওয়ার পরও পানাহার না করে ফেলে।
এ কারণেই শরিয়তে সাহরির শেষ সময় নির্ধারণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর শুরুর সময় আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন দেখা দেয়নি।
উল্লেখ্য, সাহরীর মুস্তাহাব সময় বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরাম লিখেছেন, রাতকে যদি ছয় ভাগে ভাগ করা হয়, তাহলে শেষ ষষ্ঠাংশে সাহরি করা সুন্নত (মুস্তাহাব)। উদাহরণস্বরূপ, যদি রাত বারো ঘণ্টার হয়, তাহলে সুবহে সাদিকের আগের শেষ দুই ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় সাহরি করলে মুস্তাহাবের উপর আমল আদায় হয়ে যাবে। তবে সুবহে সাদিকের আরও নিকটবর্তী শেষ সময়ে সাহরি করা অধিক উত্তম।
তবে আজান পর্যন্ত খেতে থাকা উচিত নয়; নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুযায়ী সাহরির শেষ সময় (ইন্তিহায়ে সাহর) হওয়ার দুই-চার মিনিট আগেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
সহীহ বুখারীতে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সাথে সাহরি করেছি, তারপর তিনি নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যান। হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু, হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, (রাসূলুল্লাহ ﷺ ও আপনারা যখন সাহরি করলেন) তখন সাহরি ও আজানের মধ্যে কতটুকু বিরতি ছিল? তিনি উত্তরে বললেন: পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ সময়।
এ থেকে বোঝা যায় যে, সাহরির শেষ সময় হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই সাহরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ আজানের এতটুকু সময় আগে সাহরি শেষ করেছিলেন, যত সময় পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে লাগে। আর রমযানুল মুবারকে সুবহে সাদিক হতেই ফজরের আজান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘‘মুসলিম বাংলা’’ প্রকাশিত সময়সূচি আলহামদুলিল্লাহ ব্যাপক তাহকীক ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত এবং নির্ভরযোগ্য। আপনি মুসলিম বাংলায় নিজের লোকেশন সিলেক্ট করে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি দেখতে ও অনুসরণ করতে পারেন। সেখানে সতর্কতাসহ (এহতিয়াতের সময় যুক্ত করে) এবং সতর্কতা ছাড়া—দুই ধরনের সময়ই আলাদাভাবে দেওয়া থাকে, ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনোটি গ্রহণ করা সহজ হয়।
শরঈ দলীল:
صحيح البخاری :
"عن قتادة، عن أنس بن مالك: «أن نبي الله صلى الله عليه وسلم وزيد بن ثابت تسحرا، فلما فرغا من سحورهما، قام نبي الله صلى الله عليه وسلم إلى الصلاة فصلى، قلنا لأنس: كم كان بين فراغهما من سحورهما ودخولهما في الصلاة؟ قال: قدر ما يقرأ الرجل خمسين آية."
(كتاب مواقيت الصلوة، باب وقت الفجر،ج:1، ص: 120، ط: السلطانية۔مصر)
بدائع الصنائع :
"والسنة فيها هو التأخير لأن معنى الاستعانة فيه أبلغ. وقد روي عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أنه قال: «ثلاث من سنن المرسلين: تأخير السحور، وتعجيل الإفطار، ووضع اليمين على الشمال تحت السرة في الصلاة»."
(کتاب الصوم، فصل بيان ما يسن وما يستحب للصائم وما يكره له أن يفعله، ج2، ص105، ط: سعید)
رد المحتار :
"(قوله: ويستحب السحور)...جمع سحر ...وهو اسم للمأكول في السحر وهو السدس الأخير من الليل."
(کتاب الصوم، باب مايفسد الصوم وما لا يفسده،ج 2، ص419، ط: سعید)
فتاوی ہندیہ :
"التسحر مستحب، ووقته آخر الليل قال الفقيه أبو الليث، وهو السدس الأخير هكذا في السراج الوهاج."
(کتاب الصوم، الباب الثالث فيما يكره للصائم وما لا يكره، ج1، ص200، ط: رشيدية)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১